নয়াদিল্লি, ২২ অক্টোবর: বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে।” এই মন্তব্যেই আগুন ধরেছে কূটনৈতিক অঙ্গনে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে —
আপনি এমন কথা কীভাবে বললেন, ট্রাম্প?”
“ভারত কোনও দেশের সামনে মাথা নোয়ায় না, এবং তার জ্বালানি নীতি নিজের স্বার্থে নির্ধারিত হয়।”
ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য —
“আমরা কারও চাপে নয়, দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনব। রাশিয়ান ক্রুড অয়েল হোক বা অন্য দেশের।”
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি,
“আমি মোদীর সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি বলেছেন ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে।”
এর পরেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন —
“যদি ভারত এই প্রতিশ্রুতি না রাখে, তাহলে ভারতীয় পণ্যের উপর আমরা massive tariff চালিয়ে যাব।”
এই মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। বহু বিশেষজ্ঞ বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কূটনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে —
“দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক কোনও কথোপকথন হয়নি। আমাদের তেল আমদানির নীতি কেবল জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভর করে।”
এমনকি সরকারি মহল থেকে বলা হয়েছে —
“ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবভিত্তিক নয় এবং একে রাজনৈতিক প্রচারণা বলেই মনে হচ্ছে।”
ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে ১.৯ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন তেল আমদানি করছে।
এটি দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ।
ট্রাম্পের মন্তব্য আমেরিকার কূটনৈতিক ভাষা ভঙ্গ করেছে।
ভারত ও হাঙ্গেরি উভয়েই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে — তাদের জাতীয় স্বার্থই প্রথম।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ বাড়ছে, কিন্তু বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো এখন নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।