চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগে ভারতের সেনাপ্রধান, জেনারেল বিপিন রাওয়াত, একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি ভারতের নিরাপত্তা নীতি এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশটির কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। এই ডায়ালগে, তিনি বলেন যে, ভারত যদি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য আরেকটি সুযোগ দেয়, তবে ভারত তাদের এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেবে। ডিফেন্স ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেনারেল রাওয়াত বলেন, “আমরা জানি, সন্ত্রাসবাদ একটি গোপন যুদ্ধের অংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা ছাড়িয়ে একে সংঘটিত করা হয়। এবং এমনকি রাষ্ট্রও তাদের সহযোগী হিসেবে থাকে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ভারত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সাড়া দিতে কখনোই পিছপা হবে না, এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমাদের প্রস্তুত।”
ভারতের "অপারেশন সিন্ডুর" একটি সামরিক অভিযান যা ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিল। এই অভিযানটি বিশেষত পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিরোধ এবং সীমান্তে সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য ছিল। অপারেশন সিন্ডুরের মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়ানো। সেনাবাহিনী এবং BSF যৌথভাবে সীমান্ত অঞ্চলে বিশেষ নজরদারি, অভিযান এবং একাধিক আটক অভিযান পরিচালনা করে, যাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ লেনদেনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এর ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কমেছে। চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগে ভারতের সেনাপ্রধান, জেনারেল বিপিন রাওয়াত, একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি ভারতের নিরাপত্তা নীতি এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশটির কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। এই ডায়ালগে, তিনি বলেন যে, ভারত যদি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য আরেকটি সুযোগ দেয়, তবে ভারত তাদের এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেবে।
ডিফেন্স ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেনারেল রাওয়াত বলেন, “আমরা জানি, সন্ত্রাসবাদ একটি গোপন যুদ্ধের অংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা ছাড়িয়ে একে সংঘটিত করা হয়। এবং এমনকি রাষ্ট্রও তাদের সহযোগী হিসেবে থাকে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ভারত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সাড়া দিতে কখনোই পিছপা হবে না, এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমাদের প্রস্তুত।”
বিশেষ করে, পাকিস্তান সম্পর্কে সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে বলেন যে, দেশটি সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক মহলে কখনো তা স্বীকার করেনি। তিনি আরও বলেন, “যদি পাকিস্তান আবারও ভারতকে একটি নতুন বিপদে ফেলতে চায়, তবে ভারতের সেনা জবাব দেবার জন্য প্রস্তুত থাকবে।” ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, শান্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি দেশের সংকল্পকে চ্যালেঞ্জ করার প্রবণতা পাকিস্তানের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ।
এর আগে, সেনাপ্রধান ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের যে কোনো অপকর্মের প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান সুস্পষ্ট করেন। "আমরা প্রতিক্রিয়া জানাতে কখনোই দেরি করব না," বলেন তিনি। "অপারেশন সিন্ধূর" নামক ভারতের সাম্প্রতিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এটি শুধুমাত্র শুরু ছিল এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপগুলোও একইভাবে নির্ধারিত হবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবস্থান
জেনারেল রাওয়াত বলেছেন, "যদি পাকিস্তান আমাদের উপর আক্রমণ করতে চাই, তবে আমরা তাদের আগ্রাসনের মোকাবিলা করব এবং এর ফলাফল তাদের জন্য খুবই কঠিন হবে।" ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তি এবং দক্ষতার প্রতি তার বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি, এবং তিনি দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে সেনা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদা প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়া, চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগে সেনাপ্রধান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত যখনই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মুখোমুখি হয়, তখন তার প্রতিবাদে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রদান করতে থাকে।” একদিকে যেমন ভারত আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে, তেমনি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করবে না। তিনি জানান, ভারতের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নীতির অন্যতম মূল ভিত্তি হলো আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত থাকা এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
জেনারেল রাওয়াত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের নিরাপত্তা নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন। "বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ," বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, "ভারত জানে যে, শুধুমাত্র এককভাবে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এবং এই কারণে আমাদের আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সহযোগিতা অপরিহার্য।" তিনি যোগ করেন যে, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়া, তিনি মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান, ভুটান, নেপাল এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার গুরুত্বকেও তুলে ধরেন। "এই দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র নিরাপত্তার বিষয়ে নয়, বরং অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ," বলেন সেনাপ্রধান।
সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের প্রভাব
জেনারেল রাওয়াত সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের বিপদ ও এর দেশের জনগণের উপর যে বিশাল প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করেন। তিনি জানান, "সন্ত্রাসবাদের একটি বড় সমস্যা হলো, এটি শুধু রাজনৈতিক বা সামরিকভাবে নয়, বরং মানবিকভাবে একটি বিশাল ক্ষতি তৈরি করে।" তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদী হামলা দেশের নাগরিকদের জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, “ভারত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করতে শুধু সামরিক শক্তির উপর নির্ভরশীল নয়, বরং আইনি, কূটনৈতিক এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে এটি মোকাবিলা করতে চায়।” সেনাপ্রধান সরকারের এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, এককভাবে কোনও দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করতে পারে না।
সন্ত্রাসবাদ ও ভারতের যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি
সেনাপ্রধান তার বক্তৃতায় ভারতের সামরিক প্রস্তুতি এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ভারত প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনী বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী হুমকির মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত। তিনি আরো বলেন, "ভারত তার সেনাবাহিনীকে সর্বদা আধুনিক এবং সক্ষম রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়।"
চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগে সেনাপ্রধানের বক্তব্যটি একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারত কোনো অবস্থাতেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে সহ্য করবে না এবং প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাকিস্তান এবং অন্যান্য যে কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারত তার শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত, এবং কোনো ধরনের আপস করবে না। ভারতের নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতি অত্যন্ত দৃঢ়, এবং তা সব সময় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থিত হবে।
সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান
আর্মি চিফ আরও বলেন যে ভারত সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে সমানভাবে দৃঢ় অবস্থান নেবে। "আমরা সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের একসঙ্গে দেখব। যারা সন্ত্রাসবাদীদের উত্সাহিত করে, তাদের আমরা জবাব দেব," তিনি বলেন। ভারতের আত্মবিশ্বাস এবং কৌশলগত শক্তি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশ এখন যথেষ্ট সক্ষম এবং "কোনো ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা নিয়ে ভয় পায় না"।
চীনের সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য
আর্মি চিফ ভারত-চীন সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গত এক বছরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এবং উন্নতি হয়েছে। দুই দেশের নেতারা আলোচনা করেছেন এবং গত ১ অক্টোবরের পর থেকে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওই অঞ্চলে সফর করেছিলেন, তিনি বরফ গলে কিনা তা নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। দুই পক্ষই একমত হয়েছে যে সীমান্তে আরও বেশি আলোচনা হওয়া উপকারী হবে।
জম্মু ও কাশ্মীর স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
জেনারেল দ্বিবেদি বলেন যে, এখন জম্মু ও কাশ্মীরে মানুষ সারা ভারতে ভ্রমণ করতে এবং দেশব্যাপী সুযোগে অংশগ্রহণ করতে চায়। তিনি আরও বলেন যে, যারা আগের পরিস্থিতির কারণে সেখানে চলে গিয়েছিল, তারা এখন ফিরতে এবং দায়িত্বশীলভাবে অবদান রাখতে ইচ্ছুক। "ভারতও অঞ্চলটির সাথে তার সংযোগ শক্তিশালী করতে চায়," তিনি যোগ করেন।
ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা
ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে আর্মি চিফ বলেন, দেশের সামরিক শক্তি ক্রমাগত বাড়ছে এবং ভারতের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে। তিনি ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কাশ্মীরে পরিবর্তনগুলির কথা উল্লেখ করেন, এবং বলেন যে রাজনৈতিক স্পষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেমন কলেজ, আইআইটি এবং আইআইএম দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং স্কুলের সংখ্যা ২১ শতাংশ বেড়েছে।
জেনারেল দ্বিবেদি আরও বলেন যে, এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, ৩১ জন সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিকে নিধন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ জন পাকিস্তানি। তিনি যোগ করেন যে, পাহালগাম ঘটনার পরেও, অমরনাথ যাত্রা এক শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়েছে। "জম্মু ও কাশ্মীরে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে। পাথর ছোঁড়ার ঘটনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ভারত প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে এবং পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ কমছে," জেনারেল দ্বিবেদি বলেন।