তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন — নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের হুমকি দিয়ে জানালেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী দেবেন। তাঁর মন্তব্যে জোর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
হুমায়ুন কবিরের নতুন দল গঠনের ঘোষণা, তৃণমূলে উত্তেজনা
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি শীঘ্রই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, "আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করি, দলের জন্য নয়। প্রয়োজনে নিজের দল গড়ে মানুষের পাশে দাঁড়াব।"
পঞ্চাশ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা
হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ৫০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী নামাতে পারেন। "মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে। আমরা সেই বিকল্প হব," বলেন এই জনপ্রিয় বিধায়ক। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এখনও তৃণমূল ত্যাগ করেননি, কিন্তু "মানুষের স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।"
তৃণমূলে অস্বস্তি, শোকজের সম্ভাবনা
হুমায়ুন কবিরের এই বক্তব্যে তৃণমূল নেতৃত্ব উদ্বিগ্ন। দলের একাংশ মনে করছে, একজন অভিজ্ঞ বিধায়কের এই ধরনের মন্তব্য দলবিরোধী। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তাঁকে শোকজ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আঞ্চলিক প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হুমায়ুন কবিরের এই পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও বীরভূমের কিছু এলাকায় তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে, যা ভোট রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিরোধী শিবিরও তাঁর এই পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য করছে। সূত্র জানাচ্ছে, বিজেপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যদিও তিনি এখনও নিজের ভবিষ্যৎ পথ স্পষ্ট করেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, "তৃণমূলের জন্য এটি সতর্কবার্তা। দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ছে এবং প্রভাবশালী নেতারা স্বাধীন পথের কথা বলছেন। ২০২৬ নির্বাচনের আগে এটি রাজ্যের ভোট রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।"
মূল পয়েন্টসমূহ: