পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ই সি-র কাছে একটি দ্রুত ও সঙ্কুচিত-সময়ে
চালানো নির্বাচনী ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়ন-অভিযানের (Special Intensive Revision বা SIR)
কাজ তৎক্ষণাৎ বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সঙ্কীর্ণ সময়ের মধ্যে চালানো এই
রিভিশন কার্যক্রম “পরিকল্পিত নয়, বিশৃঙ্খল এবং বিপজ্জনক” পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
এই নিবন্ধে আমরা বিষয়টি বিশ্লেষণ করব—কেন এই চিঠি লেখা হলো, SIR-এর প্রেক্ষাপট কি, মুখ্যমন্ত্রীর
অভিযোগগুলি কি, কি পরিণতি হতে পারে, এবং নির্বাচন ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব।
SIR বা নির্বাচনী তালিকা রিভিশনের প্রেক্ষাপট
“Special Intensive Revision” (SIR) হলো ভোটার তালিকা (electoral roll) পুনর্মূল্যায়ন বা আপডেট করার
একটি প্রক্রিয়া।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ অনেক রাজ্যে নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে এই কাজ করা হয়, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে
ভোটার তালিকা আপ-টু-ডেট রয়েছে, অবৈধ বা মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন
যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
তবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বর্তমান সময়ে এই রিভিশন প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক
দ্রুততায় পরিচালিত হচ্ছে — এমনকি পূর্ববর্তী সময়ে যে পরিমাণ সময় নিয়ে হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক
কম সময়েই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ, তিনি বলছেন, গত দেখার রূপে এই রিভিশন কাজ ২০০২ সালে প্রায় তিন বছর সময় নিয়েছিল, কিন্তু এখন মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এই অবস্থার মধ্যে, তিনি উদ্বিগ্ন যে, কাজের মান কম হতে পারে, বিতর্ক ও ত্রুটি বাড়তে পারে, এবং ভোটারদের ভোটাধিক্য ক্ষুন্ন হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির মূল বিষয় ও অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ই সি-র চেয়ারম্যানকে লিখিত চিঠিতে বেশ কয়েকটি গুরুতর বিষয় উল্লেখ করেছেন। প্রধান অভিযোগগুলি হলো:
- প্রস্তুতির অভাব
তিনি দাবি করেছেন যে, এই রিভিশন প্রক্রিয়া “শূন্য” বা নগন্য প্রস্তুতির মধ্যে শুরু হয়েছে — যথাযথ পরিকল্পনা নেই, সুযোগ–সুবিধা নেই, যোগাযোগ পরিষ্কারভাবে হয়নি।
“The manner in which this exercise is being forced upon officials and citizens is not only unplanned and chaotic but also dangerous.” — মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
- আপেক্ষিক সময়সীমা ও অতিরিক্ত চাপ
তিনি উল্লেখ করেছেন, ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়নকে সময়সাপেক্ষ কাজ হলেও এখন তা মাত্র কয়েক মাসে শেষ করার চাপে ধরা হয়েছে। ফলে স্থানীয় ভোটদাতা, বুথ লেভেল কর্মকর্তারা (BLOs) ও অন্যান্য কর্মীরা ‘মানবসীমার বাইরে’ কাজ করছেন।
- BLO-দের মানসিক ও শারীরিক ভোগান্ত
চিঠিত উল্লেখ আছ, মালবাজার (জলপাইগুড়) এলাকায় একট বুথ লেভেল অফিসার আত্মহত্য করেছেন; তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছ এই আত্মহত্যার পেছন SIR-সংক্রান্ত কাজের চাপ কাজ করেছে।
- এছাড়, এখনও মোট ২৮ জনের মৃত্যুর সঙ্গ এই রিভিশন কাজের চাপের সংযোগ ঘটেছ বলেও উল্লেখ রয়েছে। ভোটারদের প্রত ভয় ও অনিশ্চয়ত
তিন সতর্ক করেছেন য, ভুল অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণ অনেক প্রকৃত ভোটদাত ভোটার তালিক থেকবাদ পড়ত পারেন, ফল ভোটাধিক্য (franchise) ক্ষতির আশঙ্ক রয়েছে।
- সাধারণ মানুষের জীবিকা ও সময়সূচির সঙ্গে সংঘাত
প্রক্রিয়া এমন সময়ে চলেছে যখন অনেক মানুষ জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত—ধান কাটার সময়, রবি বপনের সময়। এই সময়ে হলে তাদের জন্য সময় বের করা কঠিন হতো। মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
এই চিঠি শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়—এর পেছনে রাজনৈতিক বিশ্লেষণও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই রিভিশন কার্যক্রমকে “ভোট বান্ডি” (votebandi) হিসেবে উল্লেখ করেছেন—যেমন ২০১৬ সালের নোটবন্দি সময়ে যুক্ত হয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের এবং ই সি-র সহায়তায় এই রিভিশন ত্বরান্বিত করা হয়েছে যাতে ভোটার তালিকা সংক্ষেপিত সময়ের মধ্যে আপডেট হয়, যা রাজনৈতিক ভাবে ভবিষ্যতে ভোটের ফল পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
অন্য দিকে, বিরোধী দল বলছে—এই রিভিশন প্রক্রিয়া হରেক ধরনের ভুল সংশোধন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করার জন্য। কিন্তু বিরোধী দল এবং রাজ্যের সরকার একে একাধিকভাবেই দেখছেন।
সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পরিণতি
মুখ্যমন্ত্রী যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন—তাতে নিচের ধরনের পরিণতি আসতে পারে:
- ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস
যদি সময় সংকুচিত ও প্রস্তুতি কম হয়, তাহলে তথ্য হালনাগাদ সঠিকভাবে করা নাও হতে পারে। ভুল তথ্যের কারণে আইনগত ভোটা বাদ পড়া, ঠিকাদারিত্ব হারানো বা অবৈধভাবে যুক্ত হওয়া লোকের সংখ্যা বাড়তে পারে।
- ভোটাধিক্যের ক্ষতি
প্রকৃত ভোটার যদি নাম থেকে বাদ পড়ে যান অথবা তথ্য ভুল হওয়ার কারণে ভোটাধিকার হারান, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রী এই দিকটি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।
- মানবতার ও কর্মচারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি
BLO-সহ অন্যান্য যে কর্মকর্তারা কাজ করছেন, তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে—শারীরিক ও মানসিকভাবে ঝুঁকিতে। মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও সরকারি অভিযোগ উঠেছে।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা
এ ধরনের বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে—বিরোধী দল ও সমর্থক দল মধ্যে বিভাজন বেড়ে যাবে। নির্বাচনের আগে এমন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ হলে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনবিশ্বাস কমে যেতে পারে।
- আইনি চ্যালেঞ্জ ও বিবাদ
ভুল বা অসম্পূর্ণ রেকর্ড থাকলে পরবর্তী সময়ে মামলা বা হাইকোর্ট ইহার খণ্ডন করতে পারে। যা প্রশাসনিক ঝামেলা বাড়াবে।
সুনির্দ্দিষ্ট ধরনের প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ
চিঠিতে যেসব ‘গ্যাপ’ বা ফাঁক উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলো হলো:
- কেন রিভিশন কাজ এত দ্রুত চালানো হলো? — সময়সীমা কেন সংকুচিত?
- কি ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে BLO-দের?
- কাজের জন্য কি পর্যাপ্ত প্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ডেটা এন্ট্রি সুবিধা ছিল? — মুখ্যমন্ত্রী বলছেন “অনলাইন ডেটা এন্ট্রি সহ সহায়ক ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত” ছিল।
- অধিকাংশ ভোটদাতাদের জীবিকা বা সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কি কাজ করা হয়েছে?
- পুনর্মূল্যায়ন কাজের সময় কৃষি মৌসুম—ধান কাটার সময়, রবি বপনের সময়—এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে কি না?
- মৃত্যুর ঘটনা শুধুই এক-দুইটা নয়—২৮ জনেরও বেশি মৃত্যুর সঙ্গে এই কাজের চাপের সংযোগ নির্দেশ করা হয়েছে।
- BLO-দের নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা, বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত সামর্থ্য ছিল কি না?
- ভোটার তথ্য ভুল হলে কোথায় সংশোধন হবে, তাতে সময়সাপেক্ষ ঘটনা রয়েছে কি না?
প্রশাসন ও ই সি-র দায়িত্ব
একদিকে ই সি-র দায়িত্ব হলো স্বচ্ছ, বিভ্রান্তিমুক্ত ও সময়োপযোগী ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের ভূমিকা হলো এলাকা ভিত্তিক কার্যকর সহায়তা দেওয়া, কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ভোটদাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা।
যেসব প্রশ্ন ওঠে, সেগুলি হলো–
- প্রশাসনিক লজিস্টিক (সাধন-সুবিধা, তথ্যপ্রবেশ, পর্যবেক্ষণ) কি ঠিক আছে?
- কর্মীদের (BLO ও অন্য) জন্য সুবিধাজনক সময়সূচি ও বিশ্রামের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না?
- নির্বাচনী জীবিকার মানুষের সময়সূচি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে কি না?
- তথ্য এন্ট্রিতে গুণগত মান (data quality) নিশ্চিত করার জন্য কি পর্যাপ্ত তদারকি করা হয়েছে?
- অতিরিক্ত চাপ বা মানবসীমার ওপরে কাজ করার ক্ষেত্রে কি মনোবল সাপোর্ট বা মানসিক স্বাস্থ্য-সুবিধা দেওয়া হয়েছে?
- ভুল হলে সংশোধনের জন্য যথেষ্ট সময় ও রাখ-প্রক্রিয়া রয়েছে কি না?
- সাধারণ মানুষ, ভোটকারী-সমাজকে এই কাজের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া বিষয়ে যথাযথ তথ্য দেয়া হয়েছে কি না?
পশ্চিমবঙ্গ-এর বিশিষ্ট প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভৌগোলিক অবস্থানে এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:
- এখানে কৃষিকাজের মৌসুম, ধানকাটা, রবি বপন ইত্যাদি জীবিকার মূল অংশ। একদিকে সাধারণ মানুষের সময়সূচি এই মতো, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের দ্রুত প্রয়াস—এ দুইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
- রাজনৈতিক ভাবে যেহেতু রাজ্যে আগামী ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচন দেখেই প্রস্তুতি চলছে, তাই ভোটার উৎস বা তালিকা পরিবর্তনের বিষয়ে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও ইতিমধ্যে এই প্রসঙ্গ “ভোট বান্ডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- বুথ লেভেলে কাজ করার কর্মকর্তারা প্রায়শই সাংগঠনিক চাপ, সময়সীমার চাপে, প্রযুক্তিগত বা লজিস্টিক সমস্যায় পড়ছেন—রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় এসব সমস্যা আরও বেশি।
কি করণীয় হতে পারে?
মুখ্যমন্ত্রী যে চিঠি দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
- রিভিশন কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা: সাধারণ মানুষের, কর্মীদের ও প্রশাসনিক যন্ত্রণার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রিভিশনের সময়সীমা বাড়ানো উচিত।
- মেজর কাজের পুনর্মূল্যায়ন: রিভিশনের পরিধি, সময়সীমা, প্রয়োজনীয় কর্মী-সংখ্যা, দল সময়সূচি ইত্যাদি পুনরায় মূল্যায়ন করা।
- BLO-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা: পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, বিশ্রামের সময়, মানসিক সাপোর্ট, প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া।
- ভোটার-শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধि: সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে এই রিভিশনের উদ্দেশ্য, সময়সূচি, তাদের করণীয় কি—সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
- ভোটার তালিকার তথ্যের মান (data integrity) নিশ্চিত করা: ভুল এন্ট্রি, অসম্পূর্ণ তথ্য হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া।
- নিয়মিত তদারকি ও সমন্বয়: রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, স্থানীয় ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া।
- মানবিক দৃষ্টিকোণ: কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া, মানবসীমা ও জীবনযাত্রার সময়সূচি বিবেচনায় নেওয়া।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি শুধু একটি প্রশাসনিক আবেদন নয়—এটি একধরনের সতর্কবার্তা যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুধুই যান্ত্রিক নয়, মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত। ভোটার তালিকা রিভিশন
যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনি তা করার সময় ও পদ্ধতি সঠিক হেতেই হবে। কারণ ভোটাধিক্য (franchise)
হোক বা নির্বাচন-নির্ভরতার মূল্য হোক—সবকিছু নির্ভর করে একাধিক স্তরে সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও মানবমুখী প্রক্রিয়ার উপরে।
যদি এই রিভিশন-কার্যক্রম হয় সঙ্কীর্ণ সময়ের মধ্যে প্রস্তুতিহীনভাবে, অতিরিক্ত চাপের মধ্য দিয়ে, তো ভোটার-বিচ্ছিন্নতা, ভুল তথ্য, নির্বাচন-বিশ্বাস হ্রাস—এসবের ভয় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেই দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই নিবন্ধে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে দেখেছি—প্রেক্ষাপট, অভিযোগ, ঝুঁকি ও করণীয়। ভবিষ্যতে দেখা যাবে এই চিঠি কতটা কার্যকর হয়, ই সি কি প্রত্যুত্তর দেয় এবং রাজ্য–কেন্দ্রীয় সমন্বয় কী রুপ নেয়।
আপনি চাইলে আমি এই বিষয়ে ভবিষ্যতের করণীয় বা রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণও করতে পারি—চাইলে সেটাও প্রস্তুত করতে পারি।