Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অভিষেকের হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি দিল DGCA রামপুরহাটে সভায় ‘বিলম্ব বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি পেতে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি হওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। DGCA শেষমেশ ছাড়পত্র দিলেও, এই বিলম্ব নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি পেতে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি হওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। DGCA শেষমেশ ছাড়পত্র দিলেও, এই বিলম্ব নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার উড়ান ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার নির্ধারিত সময়ে উড়তে না পারায় শুরু হয় এই বিতর্ক। অভিযোগ, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা DGCA-এর কাছ থেকে অনুমতি পেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই বিলম্বের জেরে তাঁর নির্ধারিত সভা ও কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটে, যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঘটনার দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে জানানো হয় যে প্রয়োজনীয় অনুমতি এখনও মেলেনি। প্রথমে বিষয়টিকে একটি সাধারণ প্রশাসনিক বিলম্ব হিসেবেই ধরা হয়। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, তখনই তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। অবশেষে DGCA অনুমতি দিলে হেলিকপ্টারটি উড়তে পারে, কিন্তু ততক্ষণে রাজনৈতিক মহলে এই বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের দাবি, এই বিলম্ব কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। দলের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের কাজে বাধা দেওয়া নতুন কিছু নয়। তাঁদের মতে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই একটি উদাহরণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাজের মধ্যে এইভাবে বাধা সৃষ্টি করা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।

এই ঘটনার পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। দলের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট এবং একাধিক নেতার ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, কেন একটি নির্ধারিত উড়ানের জন্য এতটা সময় লাগল। তাঁদের দাবি, যদি সব নথিপত্র ও নিয়ম মেনে আগেই আবেদন করা হয়ে থাকে, তাহলে শেষ মুহূর্তে এই ধরনের বিলম্বের কোনও যুক্তি নেই। অনেকেই এটিকে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, উড়ান সংক্রান্ত অনুমতির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে চলাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনওরকম কারিগরি বা নিরাপত্তাজনিত বিষয় থাকলে অনুমতি দিতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। তবে এই যুক্তি তৃণমূল কংগ্রেস মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে এতটা বিলম্ব হয় না। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিল।

এই ঘটনার জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্ধারিত সভায় পৌঁছাতে দেরি হয়। সভাস্থলে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি সেখানে পৌঁছান। সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি এই ঘটনার উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে, কোনও বাধাই দলের লড়াই থামাতে পারবে না। তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকেই হেলিকপ্টার বিতর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাড়তি প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ বলে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রশ্ন উঠছেই যে, একজন সাংসদের সরকারি অনুমতি পেতে এতটা সময় লাগা কি সত্যিই স্বাভাবিক।

এই বিতর্ক নতুন করে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্নভাবে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল নেতৃত্বকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। এই ঘটনাকে সেই অভিযোগের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র একটি উড়ান অনুমতির বিষয় নয়, বরং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস অহেতুক বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে। তাঁদের মতে, উড়ান সংক্রান্ত নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠোর এবং শেষ মুহূর্তে কোনও কারিগরি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ধরা পড়লে অনুমতি দিতে দেরি হতেই পারে। তবে এই ব্যাখ্যা তৃণমূলের অভিযোগের আগুন পুরোপুরি নেভাতে পারেনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদমাধ্যমেও তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। টেলিভিশন বিতর্ক থেকে শুরু করে সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার বিতর্ক। বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন মত উঠে আসে। কেউ একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলছেন, কেউ আবার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার উড়ান নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি দিনের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। আগামী দিনে এই বিষয়টি নিয়ে আরও রাজনৈতিক তরজা চলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তৃণমূল কংগ্রেস যেমন এই ঘটনাকে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবে, তেমনই প্রশাসনের তরফে নিয়ম ও নিরাপত্তার যুক্তি দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

news image
আরও খবর

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার উড়ান ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার নির্ধারিত সময়ে উড়তে না পারায় শুরু হয় এই বিতর্ক। অভিযোগ, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা DGCA-এর কাছ থেকে অনুমতি পেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই বিলম্বের জেরে তাঁর নির্ধারিত সভা ও কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটে, যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঘটনার দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। দলীয় সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে জানানো হয় যে প্রয়োজনীয় অনুমতি এখনও মেলেনি। প্রথমে বিষয়টিকে একটি সাধারণ প্রশাসনিক বিলম্ব হিসেবেই ধরা হয়। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, তখনই তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। অবশেষে DGCA অনুমতি দিলে হেলিকপ্টারটি উড়তে পারে, কিন্তু ততক্ষণে রাজনৈতিক মহলে এই বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের দাবি, এই বিলম্ব কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। দলের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের কাজে বাধা দেওয়া নতুন কিছু নয়। তাঁদের মতে, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই একটি উদাহরণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাজের মধ্যে এইভাবে বাধা সৃষ্টি করা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।

এই ঘটনার পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। দলের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট এবং একাধিক নেতার ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, কেন একটি নির্ধারিত উড়ানের জন্য এতটা সময় লাগল। তাঁদের দাবি, যদি সব নথিপত্র ও নিয়ম মেনে আগেই আবেদন করা হয়ে থাকে, তাহলে শেষ মুহূর্তে এই ধরনের বিলম্বের কোনও যুক্তি নেই। অনেকেই এটিকে কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, উড়ান সংক্রান্ত অনুমতির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনে চলাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনওরকম কারিগরি বা নিরাপত্তাজনিত বিষয় থাকলে অনুমতি দিতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। তবে এই যুক্তি তৃণমূল কংগ্রেস মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে এতটা বিলম্ব হয় না। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিল।

এই ঘটনার জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্ধারিত সভায় পৌঁছাতে দেরি হয়। সভাস্থলে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি সেখানে পৌঁছান। সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি এই ঘটনার উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে, কোনও বাধাই দলের লড়াই থামাতে পারবে না। তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকেই হেলিকপ্টার বিতর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাড়তি প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ বলে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রশ্ন উঠছেই যে, একজন সাংসদের সরকারি অনুমতি পেতে এতটা সময় লাগা কি সত্যিই স্বাভাবিক।

এই বিতর্ক নতুন করে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্নভাবে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল নেতৃত্বকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। এই ঘটনাকে সেই অভিযোগের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র একটি উড়ান অনুমতির বিষয় নয়, বরং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস অহেতুক বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে। তাঁদের মতে, উড়ান সংক্রান্ত নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠোর এবং শেষ মুহূর্তে কোনও কারিগরি বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা ধরা পড়লে অনুমতি দিতে দেরি হতেই পারে। তবে এই ব্যাখ্যা তৃণমূলের অভিযোগের আগুন পুরোপুরি নেভাতে পারেনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদমাধ্যমেও তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। টেলিভিশন বিতর্ক থেকে শুরু করে সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার বিতর্ক। বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন মত উঠে আসে। কেউ একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলছেন, কেউ আবার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার উড়ান নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি দিনের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। আগামী দিনে এই বিষয়টি নিয়ে আরও রাজনৈতিক তরজা চলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তৃণমূল কংগ্রেস যেমন এই ঘটনাকে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবে, তেমনই প্রশাসনের তরফে নিয়ম ও নিরাপত্তার যুক্তি দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Preview image