ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। এই জুটি এখন ঠিক ততগুলো ম্যাচ খেলেছেন, যতগুলো একসময় খেলেছিলেন কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকর ও রাহুল দ্রাবিড়। দুই প্রজন্মের দুই সেরা জুটি — এক মঞ্চে, এক ইতিহাসে যুক্ত হলো আজ।
দুই প্রজন্ম, এক ইতিহাস — কোহলি-রোহিত এখন শচীন-দ্রাবিড়ের সমান পথযাত্রী
মুম্বাই/নয়াদিল্লি, ২৫ অক্টোবর: ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে আবারও লেখা হলো এক অনন্য অধ্যায়। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা — আধুনিক যুগের দুই স্তম্ভ — এখন এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন। এই দুই ব্যাটসম্যান একসঙ্গে ভারতের হয়ে ঠিক ততগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, যতগুলো একসময় একসঙ্গে খেলেছিলেন কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়। তিন ফর্ম্যাট মিলিয়ে কোহলি-রোহিতের যুগল পথচলা এখন ২৬০+ ম্যাচে পৌঁছেছে — ঠিক যতটা শচীন-দ্রাবিড়ের ছিল তাঁদের যৌথ ক্যারিয়ারে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
শচীন ও দ্রাবিড় ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালি যুগের প্রতীক। ১৯৯০-এর দশকের শেষ থেকে ২০০০-এর দশক জুড়ে তাঁদের জুটি বহু ম্যাচে ভারতের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। একসঙ্গে তাঁরা মাঠে নেমেছিলেন অসংখ্য স্মরণীয় জয়ে, গড়েছিলেন এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন — বিশেষত টেস্ট ক্রিকেটে যেখানে তাঁদের পার্টনারশিপ ছিল ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের মূল ভিত্তি।
আজ, সেই সংখ্যায় এসে দাঁড়ালেন কোহলি ও রোহিত — দুই ভিন্ন প্রজন্ম, কিন্তু একই উত্তরাধিকার বহনকারী দুই মহান ব্যাটসম্যান। ২০১৩ সাল থেকে একসঙ্গে খেলতে শুরু করা এই জুটি ভারতীয় ক্রিকেটের আধুনিকতম অধ্যায়ের সাক্ষী।
নতুন যুগের সোনালি জুটি
বিরাট কোহলির আগ্রাসী মনোভাব ও রোহিত শর্মার শান্ত, কৌশলী ব্যাটিং স্টাইল — এই বৈপরীত্যই ভারতীয় দলে তৈরি করেছে নিখুঁত ভারসাম্য। একদিকে যেখানে কোহলি আবেগ ও তীব্র প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী এক যোদ্ধা, অন্যদিকে রোহিত হলেন ঠান্ডা মাথার কৌশলবিদ, যিনি জানেন কখন আক্রমণাত্মক হতে হয়, কখন ধৈর্য ধরতে হয়।
তাঁদের যুগল পারফরম্যান্সে ভারত জিতেছে অসংখ্য ম্যাচ — হোক তা ২০১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চে বা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো কঠিন বিদেশি মাঠে। বিশেষত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে এই দুই ওপেনার ও মিডল অর্ডারের সমন্বয় ভারতকে এনে দিয়েছে বহু ঐতিহাসিক জয়।
ক্রিকেট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া
এই রেকর্ড ছোঁয়ার পর থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে প্রশংসার বন্যা। প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ ভক্ত — সকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন এই অর্জনের মুহূর্ত। অনেকেই বলছেন, "শচীন-দ্রাবিড় যেমন ভারতীয় ক্রিকেটকে বিশ্বমানে তুলে ধরেছিলেন, তেমনই কোহলি-রোহিতও আধুনিক ক্রিকেটে ভারতের গর্বের প্রতীক।"
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, "এই দুই খেলোয়াড় শুধু রেকর্ড নয়, তাঁরা একটি যুগ তৈরি করেছেন। তাঁদের একসঙ্গে খেলা প্রতিটি ম্যাচ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য সম্পদ।"
এক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রসিকতা করে বলেন, "যদি শচীন-দ্রাবিড় ছিলেন ২০০০ দশকের ভিত্তি, তবে কোহলি-রোহিত ২০২০ দশকের ছাদ — আর এই দালান খুব মজবুত।"
?? ভারতীয় ক্রিকেটের ধারাবাহিকতার প্রতীক
ভারতীয় ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই — প্রতিটি প্রজন্ম আগের প্রজন্মের উত্তরাধিকারকে সম্মান করে এগিয়ে নিয়ে যায়। শচীন ও দ্রাবিড়ের পর যেমন এসেছিলেন ধোনি, সেহওয়াগ, যুবরাজ সিং — ঠিক তেমনই আজ ভারতের নেতৃত্বে আছেন রোহিত, আর অভিজ্ঞতার অকল্পনীয় ভাণ্ডার নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে আছেন কোহলি।
এই ধারাবাহিকতাই ভারতীয় ক্রিকেটকে বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি করেছে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত।
পরিসংখ্যানের আলোকে
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, শুধুমাত্র সংখ্যায় নয়, প্রভাবেও তাঁরা শচীন-দ্রাবিড়ের উত্তরসূরি।
শেষ কথা
আজ যখন সিডনি বা মুম্বাইয়ের গ্যালারিতে "কোহলি... রোহিত..." স্লোগান ওঠে, তখন অনিবার্যভাবে মনে পড়ে যায় একসময়ের "শচীন... দ্রাবিড়..." ধ্বনি। দুই প্রজন্ম, দুই ভিন্ন সময়ের পটভূমি — কিন্তু এক অভিন্ন লক্ষ্য: ভারতের ক্রিকেট গৌরবকে বিশ্বের দরবারে আরও উজ্জ্বল করে তোলা।
এই রেকর্ড তাই শুধু সংখ্যার মাইলফলক নয়, এটি ভারতের ক্রিকেট ঐতিহ্যের প্রতীক — যেখানে মুখগুলো বদলায়, যুগ বদলায়, কিন্তু জাতীয় গর্ব ও উৎকর্ষতার ধারা অব্যাহত থাকে চিরকাল।