Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তেলঙ্গানায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: ২০ জন নিহত, বহু আহত

তেলঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলার মির্জাগুড়ায় হায়দ্রাবাদ-চেভেলা হাইওয়ে সংঘটিত একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯–২০ জন নিহত এবং বহু আহত হয়েছেন। হায়দ্রাবাদ-তান্দুর রুটের একটি যাত্রীবাহী বাস ও ওভারলোডেড ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসের সামনের অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। দুর্ঘটনার মূল কারণ বাস ও ট্রাকের ওভারলোডিং এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তার অবকাঠামো। তেলঙ্গানা সরকার ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্ত শুরু করেছে এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

 

তেলঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলার মির্জাগুড়ায় আজ সকালে সংঘটিত এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ থেকে ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হায়দ্রাবাদ-চেভেলা হাইওয়ের এই দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ওভারলোডেড ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রের খবর, হায়দ্রাবাদ থেকে তান্দুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা বাসটিতে প্রায় ৭০ থেকে ৭২ জন যাত্রী ছিলেন, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। সকালবেলায় এই ব্যস্ত রুটে বাসটি চলার সময় বালির ভারে বোঝাই একটি ট্রাক বাসটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সরাসরি বাসের সামনের অংশে ধাক্কা মারে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বাসের সামনের কয়েকটি সারি সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে যায়। সামনের আসনে বসা যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন নারী এবং মাত্র ১০ মাসের এক শিশুও রয়েছে, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। উভয় গাড়ির চালকও ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দলগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে অনেক যাত্রীকে গাড়ির ভগ্নাবশেষ থেকে বের করে আনতে উদ্ধারকারীদের বেশ কিছুটা সময় লেগেছে।বিশেষজ্ঞরা জানান, এই দুর্ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাস এবং ট্রাক উভয়েরই ওভারলোডিং ছিল প্রধান কারণ। বাসটি তার ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ২০ জন বেশি যাত্রী বহন করছিল, যা নিরাপত্তা নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। অন্যদিকে, ট্রাকটিও বালির অতিরিক্ত বোঝাই ছিল, যা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অন্যতম কারণ।দ্বিতীয়ত, রাস্তার অবকাঠামোও এই দুর্ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মির্জাগুড়ার এই অংশটি সংকীর্ণ এবং বাঁকা, যা স্থানীয়দের কাছে 'মরণকর' হিসেবে পরিচিত। রাস্তায় পর্যাপ্ত ক্র্যাশ ব্যারিয়ার বা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।তেলঙ্গানা সরকার এই দুর্ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী একটি ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরিবহন বিভাগ একটি বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে। নিহতদের পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার প্রতি পরিবারকে ৫ লাখ টাকা এবং TSRTC থেকে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।এই দুর্ঘটনা তেলঙ্গানার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ওভারলোডিং এবং অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে আসছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন এত মানুষের প্রাণ যাওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তায় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। তবে আজকের মতো এত বড় দুর্ঘটনা বিরল। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যাতে রাস্তার প্রশস্তকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে সড়ক নিরাপত্তা শুধু আইনের বিষয় নয়, বরং এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। যাত্রীদের উচিত ওভারলোডেড গাড়িতে উঠতে অস্বীকার করা, চালকদের উচিত নিয়ম মেনে চলা এবং সরকারের উচিত অবকাঠামো উন্নয়নে আরও জোর দেওয়া। কেবলমাত্র সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

news image
আরও খবর
Preview image