মাত্র সাত বছরের ছোট্ট মেয়েটি ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। আজ সেই শিশুই স্বপ্ন দেখছে পুলিশ হওয়ার— যাতে অন্য কোনও মেয়ে যেন এমন যন্ত্রণা না পায়, আর কেউ যেন ভয়ে কাঁপতে না হয়।
কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাত ঘিরে গড়ে উঠেছে এক অনন্য আশার গল্প রামধনু বাড়ি। এখানেই আশ্রয় পেয়েছে সমাজের প্রান্তিক, নির্যাতিত, অবহেলিত শিশুদের একদল মেয়ে, যারা ফুটপাতের ঘর থেকে আজ সাতরঙা আশার পথে হাঁটছে। সাত বছরের এক নির্যাতিতা শিশুর কাহিনি দিয়েই যেন শুরু এই আলোর গল্প। একদিন রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরে ফিরে মাকে বলেছিল ব্যথা করছে মা।সেই ঘটনার পর বদলে যায় তার জীবন। থানায় গিয়ে প্রথমবার পুলিশের সাহচর্যেই জন্ম নেয় নতুন স্বপ্ন বড় হয়ে সে পুলিশ হবে, যাতে অন্য কেউ যেন এমন ভয়াবহতার শিকার না হয়।
আজ সে আর একা নয়। তার মতো আরও ৩০ জন মেয়ে প্রতিদিন আসে ‘রামধনু বাড়ি’-তে। কেউ টিনা, কেউ শান্তা, কেউ বা মিমি নাম আলাদা, কিন্তু গল্প একই। কেউ রাস্তায় কাগজ কুড়োনো ঠাকুমার সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়, কেউ ফুটপাতে রাত কাটায়। তবু, সকাল হলেই বই-খাতা হাতে স্কুলে যায়, শেখে নাচ, আঁকে ছবি, খেলে দাবা। এই আশ্রয় শুধু চার দেওয়ালের নয়, এটি তাদের নিরাপত্তা, আত্মবিশ্বাস আর ভবিষ্যতের আলো।
এই সব কিছুর পিছনে রয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার সমাজকর্মী মিত্রবৃন্দা ঘোষ। ২০১৯ সালে ফুটপাতবাসী শিশুদের নিয়ে শুরু করেছিলেন উদ্যোগটি। প্রথমে ফুটপাতেই পড়ানো হত, পরে বন্ধুদের সহায়তায় তিনি ভাড়া নেন একটি ছোট বাড়ি—‘রামধনু বাড়ি’। এখন সেখানে সারাদিনের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। দেওয়ালে টাঙানো ‘ভাল ছোঁয়া–খারাপ ছোঁয়া’র বার্তা, ঋতুস্রাব সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি— সব মিলিয়ে এটি এক আশ্রয়ের চেয়ে অনেক বেশি, এটি জীবনের পাঠশালা।
প্রতিদিন ভোরে যখন খুলে যায় রামধনুর দরজা, হাসি-গান-আলোয় ভরে ওঠে ঘর। ওরা জানে, ফুটপাতেই জন্ম হলেও ভবিষ্যৎটা সাদা কাগজের মতো নতুন করে লেখা যায়।