শীতের দাপট অব্যাহত থাকছে রাজ্য জুড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করবে। উত্তরের হাওয়ার প্রভাবেই মূলত এই শীতের অনুভূতি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। সকালের দিকে কুয়াশা ও হালকা ঠান্ডা বাতাসে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে প্রভাব। ভোরের দিকে শহর ও শহরতলির রাস্তায় কুয়াশার চাদর দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সকালবেলা স্কুল কলেজগামী পড়ুয়া ও অফিসযাত্রীদের গরম পোশাক ছাড়া বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডার অনুভূতি পুরোপুরি কাটছে না। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফের তাপমাত্রা দ্রুত নামতে শুরু করছে, ফলে শীতের দাপট আরও বাড়ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতের দিকে একটি উচ্চচাপ বলয় সক্রিয় রয়েছে। তার জেরেই উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস রাজ্যে প্রবেশ করছে। এই বাতাসের কারণেই পারদ স্বাভাবিকের কাছাকাছি বা কিছুটা নিচে নামছে। রাতের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও কোনও কোনও জেলায় তা আরও কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শীতের দাপট অব্যাহত রয়েছে রাজ্য জুড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী বেশ কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করবে। উত্তরের হাওয়ার জোরে ঠান্ডার অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত এই সময়টাতেই সাধারণত বাংলায় শীত তার পূর্ণতা পায়, আর সেই চেনা ছবিই এবারও ধরা পড়ছে প্রকৃতিতে ও দৈনন্দিন জীবনে।
ভোরের দিকে ঘুম ভাঙলেই ঠান্ডা হাওয়ার কামড় টের পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শহর হোক বা গ্রাম, সর্বত্রই সকালবেলা কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। স্কুলপড়ুয়া শিশু থেকে শুরু করে অফিসযাত্রী, সকলেই এখন গরম পোশাক ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না। সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল, মাফলার হয়ে উঠেছে নিত্যসঙ্গী। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও সেই উষ্ণতা খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারছে না। রোদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঠান্ডা বাতাস শরীরে কাঁপুনি ধরাচ্ছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয়েছে। এই বলয়ের প্রভাবে সেখানকার ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস উত্তর দিক থেকে বয়ে এসে পূর্ব ভারতের দিকে ঢুকছে। বাংলার উপর এই ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করায় রাতের তাপমাত্রা দ্রুত নামছে এবং দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের কাছাকাছি বা কিছুটা নিচে অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আপাতত এই পরিস্থিতিতে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী কয়েক দিন শীতের দাপট একইভাবে বজায় থাকবে বলেই অনুমান।
কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও রাজ্যের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় পারদ আরও নিচে নামতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ও সংলগ্ন এলাকায় তো শীতের কামড় আরও প্রবল। দার্জিলিং, কালিম্পং ও সংলগ্ন অঞ্চলে ভোরের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডা হাওয়া মিলিয়ে প্রকৃত শীতল আবহাওয়া বিরাজ করছে। সেখানে পর্যটকেরাও শীতের আমেজ উপভোগ করছেন, যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে।
শীতের এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। সকালের দিকে রাস্তায় যানবাহনের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে যাচ্ছে কুয়াশার কারণে। বিশেষ করে জাতীয় সড়ক ও হাইওয়েতে ভোরবেলা গাড়ি চালানোর সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ট্রেন চলাচলেও কোথাও কোথাও দেরি হচ্ছে ঘন কুয়াশার জেরে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রেও সকালের দিকের কিছু ফ্লাইটে সময়সূচি সামান্য বদলাতে দেখা যাচ্ছে।
শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও বয়স্কদের উপর। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় ঠান্ডাজনিত সমস্যা যেমন সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, গাঁটে ব্যথা ও ত্বকের নানা সমস্যা বেড়ে যায়। তাই শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। গরম পোশাক পরানো, ঠান্ডা হাওয়া থেকে দূরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম খাবার ও তরল গ্রহণ করার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে শীতের আবহাওয়া যেন আরও স্পষ্টভাবে ধরা দিচ্ছে। ভোরের দিকে মাঠঘাটে শিশিরে ভিজে যাচ্ছে ফসলের পাতা। খোলা আকাশের নিচে থাকা গাছপালা, ঘাসের উপর জমে থাকছে জলকণা। এই দৃশ্য একদিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলছে, অন্যদিকে তেমনই কৃষকদের মনে বাড়াচ্ছে দুশ্চিন্তা। শীতকালীন কিছু ফসলের জন্য এই ঠান্ডা আবহাওয়া উপকারী হলেও অতিরিক্ত কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস ফসলের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে আলু, সর্ষে ও সবজি চাষে কুয়াশাজনিত রোগের আশঙ্কা থাকে। তাই আবহাওয়ার দিকে নজর রেখে জমিতে সেচ ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
সকালের শুরুতেই ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শে দিন শুরু হচ্ছে। ভোরের দিকে জানালা খুললেই শরীরে কাঁপুনি ধরিয়ে দেওয়া ঠান্ডা বাতাস জানান দিচ্ছে, শীত এখন পুরোপুরি নিজের জায়গা দখল করে নিয়েছে। শহরের উঁচু বাড়ি থেকে গ্রামাঞ্চলের খোলা মাঠ, সর্বত্রই একই ছবি। কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়ছে চারপাশের দৃশ্য, দূরের কিছুই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। রাস্তার আলো, গাছপালা, বাড়িঘর সবকিছুই যেন ধোঁয়াটে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে। এই পরিবেশ একদিকে যেমন মনোরম, তেমনই অন্যদিকে দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন তৈরি করছে।
শীত মানেই বাংলার জীবনে এক বিশেষ উৎসবের আমেজ। ঠান্ডার এই দিনে শহর ও গ্রামে বাড়ছে গরম চা, কফি ও নানা ধরনের শীতকালীন খাবারের চাহিদা। রাস্তার ধারে ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকানে ভিড় বাড়ছে সকাল থেকেই। পিঠে-পুলি, ভাপা পিঠে, পাটিসাপটা, দুধের পায়েসের মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে। শীতের এই আবহাওয়া বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতেও এনে দিচ্ছে আলাদা স্বাদ ও আনন্দ।
শহুরে জীবনে শীতের প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন রুটিনেও। অনেকেই সকালে হাঁটতে বেরোনোর সময় একটু দেরি করছেন ঠান্ডার কারণে। আবার কেউ কেউ শীতের এই পরিবেশকেই উপভোগ করছেন, কুয়াশার মধ্যে হাঁটা কিংবা সকালের রোদ পোহানোর আনন্দ নিচ্ছেন। পার্ক ও ময়দানে সকালবেলা মানুষের ভিড় থাকলেও সকলেই গরম পোশাকে মোড়া। খেলাধুলা, শরীরচর্চা সবকিছুই চলছে, তবে ঠান্ডার কথা মাথায় রেখে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে, তবে ভোর ও রাতের দিকে কুয়াশা দেখা যেতে পারে। বাতাস থাকবে শুষ্ক, যার ফলে ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়বে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও তা খুব বেশি স্বস্তি দেবে না। রাত নামলেই ফের শীতের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও শীতের আমেজ স্পষ্ট। ভোরের দিকে খোলা মাঠে শিশির পড়ছে, গাছের পাতায় জমছে জলকণা। শীতের এই পরিবেশে একদিকে যেমন বেড়েছে গরম চা, কফি ও পিঠে-পুলির চাহিদা, তেমনই অন্যদিকে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি। চিকিৎসকেরা শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
শীত তার পুরো রূপেই হাজির হয়েছে রাজ্যে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তাই শীতের হাত থেকে বাঁচতে গরম পোশাক ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এই সময়ে পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও নজরে আসছে। শীতকালে বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ফলে শহরের বাতাসে দূষণের মাত্রা কিছুটা বাড়তে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যাঁদের শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই সময় আরও সাবধান থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার ও খোলা জায়গায় দীর্ঘক্ষণ থাকার বিষয়টি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীত তার স্বাভাবিক ছন্দেই রাজ্যে বিরাজ করছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশেই থাকবে এবং বড় কোনও আবহাওয়াগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত নেই। ফলে শীতের এই সময়টুকুতে গরম পোশাক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শীতের এই আবহাওয়া যেমন একদিকে কিছুটা কষ্টের, তেমনই অন্যদিকে বাংলার জীবনে নিয়ে আসে আলাদা এক আনন্দ ও অনুভূতি, যা প্রতি বছরই মানুষ অপেক্ষা করে উপভোগ করার জন্য।