Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হাড়কাঁপানো ঠান্ডা থেকে সাময়িক মুক্তি কিছুটা বাড়ল তাপমাত্রা থাকবে কুয়াশার দাপট ফের ঠান্ডা বাড়বে কবে জেনে নিন

কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে সাময়িকভাবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ফের তাপমাত্রা কমবে। ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে এবং শীতের অনুভূতি আবার বাড়তে পারে।

কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে শীতের মরশুমে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। সাম্প্রতিক দিনে রাজ্যের আবহাওয়ায় এক অদ্ভুত ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছিল শহর থেকে জেলা, সেখানে হঠাৎ করেই রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেকেই। তবে এই স্বস্তি যে খুব বেশি দিনের নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাময়িক উষ্ণতার পর ফের তাপমাত্রা নামতে শুরু করবে এবং শীতের প্রভাব আবারও জোরালো হয়ে উঠবে।

ডিসেম্বরের শেষ ভাগ ও জানুয়ারির শুরুতে সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে শীত তার পূর্ণতা পায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাতের জেরে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে এসে রাজ্যের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। সকালে ঘন কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস আর সারাদিনের হালকা শীতল অনুভূতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে পড়ুয়া, সকলকেই বাড়তি শীতের পোশাকের উপর নির্ভর করতে হচ্ছিল।

তবে গত কয়েক দিনে আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়। রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। কলকাতায় ভোরের দিকে আগের মতো কনকনে ঠান্ডা না থাকলেও কুয়াশার দাপট বজায় ছিল। সকালের সময় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় রাস্তায় চলাচলকারী মানুষজনকে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে কুয়াশার প্রভাব বেশি দেখা গেছে, যার জেরে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাময়িক তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ হল উত্তর ভারতের শীতল হাওয়ার প্রবাহে সামান্য দুর্বলতা। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের উপর দিয়ে আসা ঠান্ডা হাওয়ার গতি কিছুটা কমে যায়। এর ফলেই রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যায় এবং শীতের দাপট কিছুটা হালকা মনে হয়। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর ভারতের পার্বত্য এলাকায় ফের তুষারপাত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে শক্তিশালী হবে উত্তর-পশ্চিম দিকের ঠান্ডা হাওয়া। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায়। ধীরে ধীরে রাতের তাপমাত্রা আবারও কমতে শুরু করবে এবং শীতের অনুভূতি বাড়বে। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে শীত ফের জাঁকিয়ে বসতে পারে।

শুধু তাপমাত্রা নয়, আগামী কয়েক দিন কুয়াশার দাপটও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। ভোর ও সকালের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা আরও কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে রেল ও সড়ক যোগাযোগে। ট্রেন চলাচলে বিলম্ব, বাস ও গাড়ি চলাচলে ধীরগতি দেখা যেতে পারে। বিমানবন্দর এলাকাতেও কুয়াশার কারণে উড়ান পরিষেবায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শীতের এই ওঠানামা স্বাস্থ্যের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা বাড়া ও কমার ফলে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সকালে ও রাতে ঠান্ডা বেশি থাকায় গরম পোশাক ব্যবহার করা এবং কুয়াশার সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরের দিকে মাঠে ঘন কুয়াশার চাদর পড়ে থাকায় কৃষকদের কাজে প্রভাব পড়ছে। অনেক জায়গায় সকালের কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। যদিও দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললে কিছুটা উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে, তবে সন্ধ্যা নামলেই আবার ঠান্ডা বাড়ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবহাওয়া কিছু ফসলের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কুয়াশা ফসলের ক্ষতির কারণও হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আরও শীতল। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। সেখানে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। পর্যটকদের জন্য যদিও এই শীত উপভোগ্য, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তা কিছুটা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া এখন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাময়িক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর ফের শীতের কামব্যাক প্রায় নিশ্চিত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শীতের দাপট বাড়বে এবং কুয়াশার প্রভাবও জোরালো হবে। তাই সাধারণ মানুষকে আগাম সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শীতের এই ওঠানামার মধ্যেই রাজ্যবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে আগামী দিনের আরও ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য।

news image
আরও খবর

কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে শীতের মরশুমে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। সাম্প্রতিক দিনে রাজ্যের আবহাওয়ায় এক অদ্ভুত ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছিল শহর থেকে জেলা, সেখানে হঠাৎ করেই রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেকেই। তবে এই স্বস্তি যে খুব বেশি দিনের নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাময়িক উষ্ণতার পর ফের তাপমাত্রা নামতে শুরু করবে এবং শীতের প্রভাব আবারও জোরালো হয়ে উঠবে।

ডিসেম্বরের শেষ ভাগ ও জানুয়ারির শুরুতে সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে শীত তার পূর্ণতা পায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাতের জেরে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে এসে রাজ্যের আবহাওয়ায় বড় প্রভাব ফেলেছে। এর ফলেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। সকালে ঘন কুয়াশা, ঠান্ডা বাতাস আর সারাদিনের হালকা শীতল অনুভূতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে পড়ুয়া, সকলকেই বাড়তি শীতের পোশাকের উপর নির্ভর করতে হচ্ছিল।

তবে গত কয়েক দিনে আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন দেখা যায়। রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। কলকাতায় ভোরের দিকে আগের মতো কনকনে ঠান্ডা না থাকলেও কুয়াশার দাপট বজায় ছিল। সকালের সময় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় রাস্তায় চলাচলকারী মানুষজনকে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে কুয়াশার প্রভাব বেশি দেখা গেছে, যার জেরে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাময়িক তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ হল উত্তর ভারতের শীতল হাওয়ার প্রবাহে সামান্য দুর্বলতা। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের উপর দিয়ে আসা ঠান্ডা হাওয়ার গতি কিছুটা কমে যায়। এর ফলেই রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যায় এবং শীতের দাপট কিছুটা হালকা মনে হয়। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর ভারতের পার্বত্য এলাকায় ফের তুষারপাত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে শক্তিশালী হবে উত্তর-পশ্চিম দিকের ঠান্ডা হাওয়া। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায়। ধীরে ধীরে রাতের তাপমাত্রা আবারও কমতে শুরু করবে এবং শীতের অনুভূতি বাড়বে। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে শীত ফের জাঁকিয়ে বসতে পারে।

শুধু তাপমাত্রা নয়, আগামী কয়েক দিন কুয়াশার দাপটও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। ভোর ও সকালের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা আরও কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে রেল ও সড়ক যোগাযোগে। ট্রেন চলাচলে বিলম্ব, বাস ও গাড়ি চলাচলে ধীরগতি দেখা যেতে পারে। বিমানবন্দর এলাকাতেও কুয়াশার কারণে উড়ান পরিষেবায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শীতের এই ওঠানামা স্বাস্থ্যের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা বাড়া ও কমার ফলে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সকালে ও রাতে ঠান্ডা বেশি থাকায় গরম পোশাক ব্যবহার করা এবং কুয়াশার সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরের দিকে মাঠে ঘন কুয়াশার চাদর পড়ে থাকায় কৃষকদের কাজে প্রভাব পড়ছে। অনেক জায়গায় সকালের কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। যদিও দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললে কিছুটা উষ্ণতা অনুভূত হচ্ছে, তবে সন্ধ্যা নামলেই আবার ঠান্ডা বাড়ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবহাওয়া কিছু ফসলের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কুয়াশা ফসলের ক্ষতির কারণও হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আরও শীতল। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। সেখানে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। পর্যটকদের জন্য যদিও এই শীত উপভোগ্য, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তা কিছুটা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া এখন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাময়িক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর ফের শীতের কামব্যাক প্রায় নিশ্চিত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শীতের দাপট বাড়বে এবং কুয়াশার প্রভাবও জোরালো হবে। তাই সাধারণ মানুষকে আগাম সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শীতের এই ওঠানামার মধ্যেই রাজ্যবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে আগামী দিনের আরও ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য।

Preview image