Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মোহনবাগানের ভক্ত প্রেয়সীকে ঘরণি করার আগে গোটা বাড়ি সবুজ-মেরুনে রাঙালেন প্রেমিক, প্রেমদিবসের উপহার

সলজ্জ শুভজিৎ বলেন, ‘‘বৈদ্যবাটি হাতিশালা ঘাটে ওর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। আলাপ থেকে প্রেম হতে বেশি সময় লাগেনি। আমাদের পছন্দগুলো খুব মেলে। শ্রমণাও মোহনবাগান-প্রেমী। দু’জনে একসঙ্গে মাঠে বসে খেলা দেখি।’’লাল নয়, তাঁদের কাছে প্রেমের রং মানে সবুজ-মেরুন। প্রেমিক-প্রেমিকা দু’জনেই ফুটবল অন্ত প্রাণ, দু’জনেই মোহনবাগান ক্লাবের অন্ধ সমর্থক। তাই প্রেমদিবসের আগে প্রেমিকাকে উপহার দিতে নিজের বাড়ির রং সবুজ-মেরুনে রাঙালেন প্রেমিক। তিনি জানালেন, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রেমদিবসের আগেই প্রেমিকার জন্য উপহার তৈরি করে ফেলেছেন।

হুগলির বৈদ্যবাটির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শুভজিৎ ঘোষদের দোতলা বাড়ি। সেই বাড়িতে নতুন রঙের কাজ দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন। ধরে নেওয়া যায়, পথচারীরাও ফুটবল তথা মোহনবাগান-ভক্ত। কারণ, শুভজিতদের গোটা বাড়ি রাঙানো হয়েছে মোহনবাগানের পতাকা বা জার্সির রঙে। বাড়ির প্রবেশপথে ঠিক উপরেই লাগানো রয়েছে সবুজ-মেরুন দলের লোগো পাল তোলা নৌকা। এলাকাবাসীর কাছে এই বাড়ি এখন ‘মোহনবাগান বাড়ি’ বলে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

শুভজিতের বাড়ির সকলেই মোহনবাগান-ভক্ত। শুভজিতের বাবা সুব্রত ঘোষ সরকারি চাকরি করেন। ২০০৬ সাল থেকে বাবার সঙ্গে মোহনবাগানের খেলা দেখা শুরু শুভজিতের। তখন থেকেই ফুটবল দলের ‘ফ্যান’ তিনি। ঘটনাচক্রে যুবক যাঁকে মন দিয়েছেন, সেই তন্বীও মোহনবাগান-ভক্ত।

এক পাড়াতেই দু’জনের বাড়ি। তবে পড়াশোনার সূত্রে শ্রমণা নন্দীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল শুভজিতের। সলজ্জ যুবক বলেন, ‘‘বৈদ্যবাটি হাতিশালা ঘাটে ওর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। আলাপ থেকে প্রেম হতে বেশি সময় লাগেনি। আমাদের পছন্দগুলো খুব মেলে। তার পর শ্রমণাও মোহনবাগান-প্রেমী। দু’জনে একসঙ্গে মাঠে বসে খেলা দেখি।’’

আর কিছু দিন পরে প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চলেছেন শুভজিৎ। তোড়জোড় চলছে দুই বাড়িতেই। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে যে বাড়িতে তাঁরা থাকবেন, সেই বাড়ি ‘মোহনবাগান রঙে’ রাঙিয়েছেন বৈদ্যবাটির যুবক। তাঁর কথায়, ‘‘আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল, বাড়িটা মোহনবাগানের জার্সির রঙে রঙে করব। হয়ে উঠছিল না। শ্রমণাও ওর একই ইচ্ছার কথা বলে। তাই ঠিক করলাম বিয়ের আগে বাড়ির রঙটা করেই ফেলি। বাড়ির সকলেই খুশি।’’

সামনেই প্রেমদিবস। একে অপরকে উপহার দেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। শুভজিৎ আর ‘সারপ্রাইজ়’ রাখলেন না। শ্রমণার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করলেন সবুজ-মেরুনে।

পুত্রের ‘কীর্তি’ নিয়ে শুভজিতের বাবা বলেন, ‘‘আমার পরিবারের সকলেই তো মোহনবাগানের সদস্য। অন্য বাড়ির মহিলারা অবসর সময়ে টিভিতে সিরিয়াল দেখেন। আমাদের বাড়িতে সকলেই দেখি ফুটবল ম্যাচ। বাড়িতে যিনি আসছেন, আমার হবু বৌমা, তিনিও মোহনবাগানের ভক্ত। ছেলের কাজে আনন্দই পেলাম।’’

সামনেই প্রেমদিবস। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এলেই শহরজুড়ে বদলে যায় হাওয়ার রং। ফুলের দোকানে লাল গোলাপের ভিড়, চকলেট আর কেকের সাজ, উপহারের বাক্সে মোড়া আবেগ। প্রেমিক–প্রেমিকারা এই দিনে নিজেদের মতো করে ভালবাসা প্রকাশ করেন—কেউ দামি উপহারে, কেউ চিঠিতে, কেউ আবার নিছক একসঙ্গে সময় কাটিয়ে। তবে শুভজিৎ ও শ্রমণার প্রেমদিবসের প্রস্তুতি একটু আলাদা। এখানে কোনও গোপন সারপ্রাইজ় নেই, কোনও চকচকে মোড়কও নয়। এখানে ভালবাসা প্রকাশ পেয়েছে সবুজ-মেরুনে—মোহনবাগানের রঙে।

শুভজিৎ ‘সারপ্রাইজ়’ রাখেননি ঠিকই, কিন্তু যা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে আলাদা করে নজর কেড়েছে। শ্রমণার প্রতি তাঁর ভালবাসা প্রকাশ পেয়েছে এমন এক আবেগের মাধ্যমে, যা শুধুই দু’জনের সম্পর্ক নয়, বরং একটি পরিবারের, একটি প্রজন্মের এবং একটি ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গভীর অনুভূতির প্রতিফলন। মোহনবাগান শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়—বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য এবং পরিচয়ের অংশ। আর সেই আবেগকে প্রেমের ভাষায় প্রকাশ করাই যেন শুভজিতের সবচেয়ে বড় উপহার।

এই গল্পে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল—এখানে প্রেম ব্যক্তিগত পরিসর ছাড়িয়ে পারিবারিক আবেগের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। শুভজিতের বাবার কথাতেই তা স্পষ্ট। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমার পরিবারের সকলেই তো মোহনবাগানের সদস্য।” এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে একটি বংশপরম্পরার ছবি। অনেক বাড়িতে যেমন রবিবার মানে পারিবারিক ভোজ, সিরিয়াল বা সিনেমা দেখা—তেমনই এই পরিবারে অবসর মানেই ফুটবল ম্যাচ। সবুজ-মেরুন যেন তাঁদের রক্তে মিশে আছে।

শুভজিতের বাবা আরও বলেন, “অন্য বাড়ির মহিলারা অবসর সময়ে টিভিতে সিরিয়াল দেখেন। আমাদের বাড়িতে সকলেই দেখি ফুটবল ম্যাচ।” এই মন্তব্য শুধুই তুলনা নয়, বরং একটি জীবনধারার স্বীকৃতি। এখানে ফুটবল পুরুষদের একচেটিয়া আবেগ নয়। পরিবারে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মাঠের খবর রাখেন, দলের জয়-পরাজয়ে আবেগে ভাসেন। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হয়ে উঠেছেন শ্রমণা—যিনি শুধু শুভজিতের প্রেমিকা নন, ভবিষ্যতের ‘বৌমা’, এবং একই সঙ্গে একজন মোহনবাগান-ভক্ত।

এই জায়গাতেই গল্পটি আর পাঁচটা প্রেমদিবসের গল্প থেকে আলাদা হয়ে যায়। অনেক সময় প্রেম মানে দুই মানুষের ব্যক্তিগত জগৎ। কিন্তু এখানে প্রেমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবার, ক্লাব এবং ঐতিহ্য। শুভজিতের বাবা যে আনন্দ পেয়েছেন ছেলের ‘কীর্তি’ দেখে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট—“ছেলের কাজে আনন্দই পেলাম।” সাধারণত প্রেমদিবস ঘিরে বাবা-মায়ের মনোভাব মিশ্র থাকে। কেউ চিন্তিত হন, কেউ উদাসীন। কিন্তু এখানে গর্ব, সম্মতি এবং খোলা হাসি—সব একসঙ্গে।

সবুজ-মেরুনে ভালবাসা প্রকাশ করার অর্থ কী? এটা শুধুই একটি জার্সি উপহার দেওয়া নয়। এটা এক ধরনের প্রতিশ্রুতি—আমি যেটা ভালোবাসি, আমার জীবনযাপনের যে অংশটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটার মধ্যেই তোমাকে স্বাগত। শ্রমণার ক্ষেত্রেও বিষয়টা একতরফা নয়। তিনি নিজেও মোহনবাগানের ভক্ত। ফলে এই উপহার বা এই প্রকাশ কোনও চাপিয়ে দেওয়া পরিচয় নয়, বরং মিলেমিশে তৈরি হওয়া এক আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

আজকের দিনে প্রেমদিবস অনেক সময়ই হয়ে ওঠে বাজারনির্ভর। কে কত দামি উপহার দিল, কার ডিনার কতটা জমকালো—এই সব দিয়েই ভালবাসার মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শুভজিৎ-শ্রমণার গল্প মনে করিয়ে দেয়, ভালবাসার প্রকাশ আসলে ব্যক্তিত্বনির্ভর। কারও কাছে সেটা গোলাপ, কারও কাছে কবিতা, আবার কারও কাছে ফুটবল ক্লাবের রঙ।

মোহনবাগানকে কেন্দ্র করে প্রেমের গল্প নতুন নয়। এই ক্লাবের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অগণিত ব্যক্তিগত স্মৃতি—প্রথম ম্যাচ দেখা, বাবার হাত ধরে মাঠে যাওয়া, রেডিওতে খেলা শোনা, কিংবা হারের রাতে নীরব কান্না। সেই সব স্মৃতির ভাঁজে ভাঁজে অনেক প্রেমের গল্পও তৈরি হয়েছে। কেউ মাঠে আলাপ করেছেন, কেউ খেলার তর্ক থেকে বন্ধুত্ব, আর সেখান থেকে প্রেম। শুভজিৎ ও শ্রমণার গল্পও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

news image
আরও খবর

এখানে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—শ্রমণাকে নিয়ে শুভজিতের পরিবারের গ্রহণযোগ্যতা। “বাড়িতে যিনি আসছেন, আমার হবু বৌমা”—এই কথাটুকুতে যে উষ্ণতা আছে, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রেম থেকে বিয়ের পথে এগোনোর ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থন অনেক সময় সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। সেই জায়গায় শুভজিৎ ও শ্রমণা যে সৌভাগ্যবান, তা বলাই যায়।

সবুজ-মেরুনে প্রেমের প্রকাশ আসলে একটি বৃহত্তর সামাজিক বার্তাও দেয়। ভালবাসা মানে শুধু ব্যক্তিগত সুখ নয়, বরং একে অপরের জগৎকে বুঝে নেওয়া, গ্রহণ করা। শ্রমণা শুধু শুভজিতকে নয়, তাঁর আবেগকেও ভালবাসছেন। আর শুভজিৎও তাঁর প্রেমিকাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—মোহনবাগানের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন।

প্রেমদিবস ঘিরে যখন নানা রকম উপহার আর সারপ্রাইজ়ের গল্প শোনা যায়, তখন এই গল্প একটু অন্য রকম। এখানে কোনও চমক নেই, কিন্তু আছে গভীরতা। আছে শিকড়ের টান। আছে এমন এক ভালবাসা, যা রঙিন মোড়কে নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে লালিত আবেগে মোড়া।

সবশেষে বলা যায়, শুভজিৎ ও শ্রমণার গল্প মনে করিয়ে দেয়—ভালবাসার ভাষা একেক জনের কাছে একেক রকম। কারও কাছে তা কবিতায়, কারও কাছে গানেই, আবার কারও কাছে ফুটবলের সবুজ মাঠে। আর সেই ভালবাসা যখন পরিবার ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়, তখন তা শুধু প্রেমদিবসের গল্প হয়ে থাকে না—তা হয়ে ওঠে জীবনের গল্প।

এই প্রসঙ্গে আরও একটি দিক আলাদা করে চোখে পড়ে—প্রেমদিবসকে কেন্দ্র করে শুভজিৎ ও শ্রমণার ভালবাসা কোনও দিনক্ষণনির্ভর আবেগ নয়। সবুজ-মেরুন শুধু একটি দিনের সাজ নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে মিশে থাকা পরিচয়। অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়, বিশেষ দিন এলেই আবেগ উথলে ওঠে, উপহারের বন্যা বইয়ে যায়, কিন্তু দিনের শেষে সেই আবেগ ম্লান হয়ে যায়। এখানে ঠিক তার উল্টো ছবি—ফুটবল মরসুম এলেই তাঁদের উত্তেজনা, ম্যাচের আগে আলোচনা, হারের পর মনখারাপ, জয়ের রাতে হাসি—সবটাই ভাগ করে নেওয়া।

শুভজিতের বাবার বক্তব্যে আর একটি সামাজিক দিক উঠে আসে। তিনি যখন বলেন, তাঁদের বাড়ির মহিলারাও সিরিয়ালের বদলে ফুটবল দেখেন, তখন তা নিছক গর্ব নয়, বরং একটি মানসিকতার পরিচয়। এখানে খেলাধুলাকে লিঙ্গভিত্তিক আগ্রহ হিসেবে দেখা হয় না। শ্রমণাও সেই পরিসরে নিজেকে স্বচ্ছন্দ ভাবেই খুঁজে পেয়েছেন। ফলে তাঁর ভালবাসা শুধু শুভজিতের প্রতি নয়, গোটা পরিবারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও বটে।

এছাড়া এই প্রেমকাহিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি বার্তা দেয়—ভালবাসা মানে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখা নয়, বরং সেটাকে সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। শুভজিৎ যেমন মোহনবাগানপ্রেম লুকোননি, তেমনই শ্রমণাও সেই আবেগকে আপন করে নিয়েছেন। এর ফলে তাঁদের সম্পর্ক আরও স্বচ্ছ ও দৃঢ় হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সবুজ-মেরুনে মোড়া এই প্রেমের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভালবাসা সবচেয়ে সুন্দর তখনই, যখন তা জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে মিশে যায়। বিশেষ দিনের আলাদা সাজ ছাড়াই, প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তেই তখন প্রেমের রং গাঢ় হয়ে ওঠে।

এই প্রসঙ্গে আরও একটি দিক আলাদা করে চোখে পড়ে—প্রেমদিবসকে কেন্দ্র করে শুভজিৎ ও শ্রমণার ভালবাসা কোনও দিনক্ষণনির্ভর আবেগ নয়। সবুজ-মেরুন শুধু একটি দিনের সাজ নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনে মিশে থাকা পরিচয়। অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়, বিশেষ দিন এলেই আবেগ উথলে ওঠে, উপহারের বন্যা বইয়ে যায়, কিন্তু দিনের শেষে সেই আবেগ ম্লান হয়ে যায়। এখানে ঠিক তার উল্টো ছবি—ফুটবল মরসুম এলেই তাঁদের উত্তেজনা, ম্যাচের আগে আলোচনা, হারের পর মনখারাপ, জয়ের রাতে হাসি—সবটাই ভাগ করে নেওয়া।

শুভজিতের বাবার বক্তব্যে আর একটি সামাজিক দিক উঠে আসে। তিনি যখন বলেন, তাঁদের বাড়ির মহিলারাও সিরিয়ালের বদলে ফুটবল দেখেন, তখন তা নিছক গর্ব নয়, বরং একটি মানসিকতার পরিচয়। এখানে খেলাধুলাকে লিঙ্গভিত্তিক আগ্রহ হিসেবে দেখা হয় না। শ্রমণাও সেই পরিসরে নিজেকে স্বচ্ছন্দ ভাবেই খুঁজে পেয়েছেন। ফলে তাঁর ভালবাসা শুধু শুভজিতের প্রতি নয়, গোটা পরিবারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও বটে।

এছাড়া এই প্রেমকাহিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি বার্তা দেয়—ভালবাসা মানে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখা নয়, বরং সেটাকে সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। শুভজিৎ যেমন মোহনবাগানপ্রেম লুকোননি, তেমনই শ্রমণাও সেই আবেগকে আপন করে নিয়েছেন। এর ফলে তাঁদের সম্পর্ক আরও স্বচ্ছ ও দৃঢ় হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সবুজ-মেরুনে মোড়া এই প্রেমের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভালবাসা সবচেয়ে সুন্দর তখনই, যখন তা জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহের সঙ্গে মিশে যায়। বিশেষ দিনের আলাদা সাজ ছাড়াই, প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তেই তখন প্রেমের রং গাঢ় হয়ে ওঠে।

 

Preview image