শুভমন গিল, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচ খেলতে নামার আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি ২০১১ সালের পর এক দিনের বিশ্বকাপ জয় না করার কথা মনে করিয়ে দেন, যা তাঁর দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের সিরিজ শুরু হওয়ার আগে, ভারতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার শুভমন গিল প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে সহ-অধিনায়ক থাকলেও, বিশ্বকাপের জন্য তাঁর নাম নির্বাচকদের তালিকায় ছিল না। এই বিষয়টি নিয়ে শুভমন গিল খুবই শান্ত মনোভাব নিয়ে কথা বলেছেন, যা তার পরিপক্কতা এবং পেশাদারিত্বের প্রতিফলন।
শুভমন গিল জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি যেখানে আছেন, সেখানেই তিনি সন্তুষ্ট এবং তাঁর ভাগ্যেই যা আছে, সেটাই হবে। তার মতে, একজন খেলোয়াড়ের দলে থাকা কিংবা না থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তিনি বলেছেন, "আমি যেখানে থাকতে চাই, সেখানেই রয়েছি। আমার ভাগ্যে যা আছে তা-ই হবে। কেউ বদলাতে পারবে না।" এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নিজে কোনো চাপ বা নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ে কাজ করতে চান না, বরং তিনি দলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রস্তুত।
শুভমন আরও বলেন, "খেলোয়াড় হিসেবে সবসময় আশা করি, দলে থাকব এবং দলকে জেতানোর চেষ্টা করব। তবে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি।" তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, সে শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, বরং দল এবং দেশের জন্যও খেলতে চান। দলের সফলতার জন্য তার লক্ষ্য স্পষ্ট, এবং তিনি বুঝতে পারেন যে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার সুযোগ পাওয়া বা না পাওয়া এক ধরনের নিয়তি, কিন্তু আসল বিষয় হলো, সেই সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো।
তবে, শুভমন গিল শুধুমাত্র নিজের দলে না থাকা নিয়ে নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১১ সালের পর ভারত এক দিনের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি এবং এই লক্ষ্য পূরণে তাদের আরও কঠিন কাজ করতে হবে। "২০১১-র পর আমরা এক দিনের বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। ভালো ফল করতে হলে ভালো খেলতে হবে," শুভমন বলেন। তার এই মন্তব্যটি ভারতের ক্রিকেট দলের সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি জানান, দলের সবার একাগ্রতা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই তারা এক দিনের ক্রিকেটে সফলতা অর্জন করতে পারবে।
বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়ার পর শুভমনের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি দলের অন্য সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "আমাদের দলকে বিশ্বকাপের জন্য শুভেচ্ছা।" তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দলের মধ্যে রয়েছে এক দুর্দান্ত পরিবেশ, এবং এই পরিবেশেই তিনি খেলতে চান। "রোহিতভাই এবং কোহলিভাই দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, তাদের উপস্থিতি আমার জন্য সুবিধাজনক," শুভমন আরও বলেন।
এছাড়া, শুভমন গিল টেস্ট দলের ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেছেন। তার মতে, টেস্ট সিরিজের জন্য যথাযথ প্রস্তুতির অভাবই ভারতের পারফরম্যান্সকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। "আমরা টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুতির সময়ই পাইনি। সাদা বলের সিরিজের পরই টেস্ট সিরিজ খেলতে হয়েছে," শুভমন জানান। তিনি বিশ্বাস করেন যে, একটি টেস্ট সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স করতে হলে টিমকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিতে হবে।
এইভাবেই, শুভমন গিল একজন পরিপক্ক এবং দায়িত্বশীল ক্রিকেটার হিসেবে তার অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত হতাশা বা ক্ষোভের জায়গায় থাকেন না, বরং পুরো দল এবং দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে চান। তার এই পেশাদারিত্ব এবং দূরদৃষ্টি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যখন তারা বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে।
।
এটা যে শুভমনের জন্য একটা বড় মুহূর্ত ছিল, তা স্পষ্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক থাকা সত্ত্বেও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে শুভমন গিল এই বিষয়টি নিয়ে কোনো নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং, তিনি নিজের জায়গায় থাকা এবং নিজের ভাগ্যকে সম্মান জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা প্রকাশ করেছেন।
শুভমন বলেন, "আমি যেখানে থাকতে চাই, সেখানেই রয়েছি। আমার ভাগ্যে যা আছে তা-ই হবে। কেউ বদলাতে পারবে না। খেলোয়াড় হিসেবে সবসময় আশা করি, দলে থাকব এবং দলকে জেতানোর চেষ্টা করব। তবে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি। আমাদের দলকে বিশ্বকাপের জন্য শুভেচ্ছা।"
এখানে শুভমনের কথায় প্রতিফলিত হয় তাঁর ইতিবাচক মনোভাব এবং দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা। তিনি জানিয়ে দেন যে তিনি কোনো পরিস্থিতিতে পরাজয় বা সুযোগ হারানোর জন্য কষ্ট পছন্দ করেন না, বরং তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের শক্তি এবং মনোযোগ বজায় রেখে আরও ভালো করতে চান। এটি তার পেশাদারী মনোভাবকে প্রতিফলিত করে।
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে শুভমন গিল যে মনোযোগী, তা তার কথায় স্পষ্টভাবে উঠে আসে। "সব সিরিজই আলাদা, গুরুত্বপূর্ণও," তিনি বলেন। "নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময় উপভোগ করি। কোন পরিস্থিতিতে কোন ক্রিকেটার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে, সেটা ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুযায়ী প্রথম একাদশ তৈরি করতে হয়। কোনও ফরম্যাটই সহজ নয়। নিউ জ়িল্যান্ড যথেষ্ট শক্তিশালী দল। মাথায় রাখতে হবে, ২০১১-র পর আমরা এক দিনের বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। ভালো ফল করতে হলে ভালো খেলতে হবে। একাগ্রতা বজায় রাখতে হবে।"
শুভমনের কথাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি শুধুমাত্র নিজের দলে জায়গা পাওয়ার কথা চিন্তা করছেন না, বরং তিনি দলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এবং অর্জন নিয়ে ভাবছেন। তার এই দৃষ্টিকোণ ভবিষ্যতে ভারতের ক্রিকেট দলের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। তিনি আরও বলেন যে, এক দিনের বিশ্বকাপের জন্য তাদের দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব রয়েছে, কারণ ২০১১ সালের পর তারা আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এটাই তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই, এবারের সিরিজে ভালো ফল করতে হলে, প্রত্যেকটি খেলোয়াড়কে যথাযথ মনোযোগ ও প্রফেশনালিজমের সাথে মাঠে নামতে হবে।
তবে, তার বক্তব্যে সেরা দিক ছিল রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা। শুভমন গিল বলেছিলেন, "রোহিতভাই এক দিনের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার। কোহলিভাই এক দিনের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার। দু'জনের প্রচুর অভিজ্ঞতা। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে ওরা এগিয়ে এসে পরামর্শ দেয়। ওরা দলে থাকলে চাপ তো হয়ই না, বরং আমার সুবিধাই হয়। কাজ সহজ হয়ে যায়। তা ছাড়া আমাদের দলের পরিবেশ দুর্দান্ত।"
শুভমন গিলের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি কোনো চাপ অনুভব করছেন না, বরং তিনি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের থেকে অনুপ্রেরণা এবং পরামর্শ পাচ্ছেন। দলের মধ্যে একটি দুর্দান্ত পরিবেশ এবং অভিজ্ঞ অধিনায়কদের উপস্থিতি তার জন্য চাপের বদলে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।
এছাড়া, ভারতীয় টেস্ট দলের ব্যর্থতা নিয়ে শুভমন গিল জানিয়েছেন, প্রস্তুতির অভাবের কারণে টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স ভালো হয়নি। তিনি জানিয়ে দেন, "শেষ দুটো টেস্ট সিরিজের আগে আমরা চার দিন করে সময় পেয়েছি। সাদা বলের সিরিজের পরই টেস্ট সিরিজ খেলতে হয়েছে। তা-ও এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে। পিচ, পরিবেশের সঙ্গে এত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুতির সময়ই পাইনি। এভাবে ভালো করা কঠিন। টেস্ট সিরিজের আগে প্রস্তুতি শিবির দরকার। বিশেষ করে সাদা বলের সিরিজের পর টেস্ট খেলতে হলে অন্তত ১০ দিন সময় দরকার বিশ্রাম এবং প্রস্তুতির জন্য।"
এটা প্রমাণ করে যে শুভমন গিল কেবল একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারই নন, তিনি একজন দায়িত্বশীল এবং বিবেকবান নেতা। দলের সমস্যা সমাধান করতে তিনি তার অভিজ্ঞতা ও বাস্তব অভিজ্ঞান থেকে মতামত প্রদান করছেন। তার এই খোলামেলা এবং সৎ মনোভাব দলকে নতুন দিশা দিতে সাহায্য করতে পারে।
এছাড়া, বডোদরার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক এক দিনের ম্যাচ খেলা নিয়ে শুভমন গিল কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, "পিচের চরিত্র বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পরে ব্যাট করতে চাইব, তবে তাতেও চাপ থাকে। রান তাড়া করার চাপ। তবে আমরা সেরা দল নিয়েই খেলব। নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।"
এই মন্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, শুভমন গিল চাপের পরিস্থিতি ম্যানেজ করতে জানেন এবং কিভাবে ক্রিকেট ম্যাচের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়, সেটা তিনি ভালোভাবে বুঝে থাকেন।
বর্তমানে শুভমন গিলের মনোযোগ পুরোপুরি নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজে। অতীতের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে তিনি ভাবতে চান না, বরং তিনি তার বর্তমান পরিস্থিতি এবং দলের জন্য সেরাটা দেওয়ার ব্যাপারে মনোযোগী। তাঁর এই পেশাদারিত্ব এবং দলের প্রতি আস্থা ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ফলপ্রসূ হতে পারে