Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস: ‘সুপার ঈগলস’ নাইজেরিয়া—কিন্তু জানেন কোন দেশকে ডাকা হয় বিলুপ্তপ্রায় প্রাচীন মাছের নামে ‘কোয়েলাক্যান্থস’?

আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আফ্রিকার নানা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের গল্প। যেমন নাইজেরিয়ার জাতীয় ফুটবল দল পরিচিত সুপার ঈগলস নামে যা শক্তি, গর্ব ও আকাশছোঁয়া স্বপ্নের প্রতীক। কিন্তু আফ্রিকার ফুটবলে এমন একটি দলও রয়েছে, যার ডাকনাম শুনলে চমকে উঠতে হয়। সেই দলটির নাম ‘কোয়েলাক্যান্থস’, যা আদতে একটি প্রাচীন মাছের নাম। এই মাছটি এক সময় পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত বলে মনে করা হত। লক্ষ লক্ষ বছর আগে ডাইনোসরের যুগে এই মাছের অস্তিত্ব ছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালে আচমকাই দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে এই মাছের সন্ধান মেলে, যা বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দেয়। সেই বিস্ময়কর ইতিহাস থেকেই আফ্রিকার এক দেশের ফুটবল দল নিজেদের নামকরণ করেছে কোয়েলাক্যান্থস। এই ডাকনামটি শুধু অভিনব নয়, বরং সেই দেশের সংগ্রাম, টিকে থাকার মানসিকতা এবং ইতিহাসের সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসার প্রতীকও বটে। আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের মঞ্চে যখন এই দল নামে, তখন তাদের নামের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে হারিয়ে যাওয়া থেকে আবার ফিরে আসার এক অনন্য গল্প।

 

১. ডাকনামের বৈচিত্র্য: আফ্রিকার সাংস্কৃতিক দর্পণ

আফ্রিকান ফুটবলে প্রতিটি দলের ডাকনাম যেন এক একটি জাতীয় পরিচয়পত্র। নাইজেরিয়ার ‘সুপার ঈগলস’ আকাশ জয়ের স্বপ্নের কথা বলে, ক্যামেরুনের ‘ইনডোমিটেবল লায়ন্স’ বা অপরাজেয় সিংহরা বনের রাজকীয় দাপট মাঠে নিয়ে আসে। সেনেগালের ‘লায়ন্স অফ তেরাঙ্গা’ তাদের আতিথেয়তা ও সাহসের সংমিশ্রণ। কিন্তু কোমোরোস যখন নিজেদের ‘কোয়্যালাক্যান্থস’ বলে পরিচয় দেয়, তখন তারা শুধু একটি প্রাণীর নাম নেয় না, বরং তারা নিজেদের ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ হিসেবে দাবি করে। এটি এমন এক নাম যা বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং ফুটবলের রোমাঞ্চকে এক সুতোয় গেঁথেছে।

২. কোয়্যালাক্যান্থ: ফিরে আসার এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক উপাখ্যান

কোয়্যালাক্যান্থ কোনো সাধারণ মাছ নয়। এটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘পুনরুত্থান’ বা ‘ফিরে আসা’র গল্প। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল বিশ্বাস করতেন যে, এই মাছটি ডাইনোসরদের সাথেই প্রায় ৬৫ মিলিয়ন (সাড়ে ৬ কোটি) বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পৃথিবীর কোনো জীবন্ত কোয়্যালাক্যান্থ নেই—এমনটাই লেখা ছিল পাঠ্যবইতে।

কিন্তু ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে মাছটি যখন প্রথম জ্যান্ত ধরা পড়ল, তখন গোটা বিশ্ব হতবাক হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশের গভীর সমুদ্রে এই মাছের বিশাল এক বিচরণক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। যাকে বিলুপ্ত মনে করা হয়েছিল, সে মহাসাগরের অতল গভীরে নিভৃতে টিকে ছিল লক্ষ লক্ষ বছর। এই ‘লিভিং ফসিল’ বা জীবন্ত জীবাশ্ম আজ কোমোরোসের জাতীয় গর্ব। তাদের ফুটবল দল যখন মাঠে নামে, তখন তারা এই মাছটির মতোই প্রমাণ করতে চায় যে—যাকে সবাই মৃত বা তুচ্ছ মনে করে, সে-ও প্রবল প্রতাপে ফিরে আসতে পারে।

৩. কোমোরোস: অবজ্ঞা আর লড়াইয়ের ইতিহাস

ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ক্ষুদ্র এক দ্বীপপুঞ্জ কোমোরোস। আয়তনে ছোট, জনসংখ্যায় নগণ্য। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি অসংখ্য রাজনৈতিক অভ্যুত্থান, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বঞ্চনার শিকার হয়েছে। বিশ্ব মানচিত্রে বা খবরের হেডলাইনে কোমোরোস খুব কমই জায়গা পেত। ফুটবলের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়েও তারা ছিল তলানির দিকে। ফিফা বা ক্যাফ (CAF)-এর পূর্ণ সদস্যপদ পেতেই তাদের বহু সময় লেগেছে (২০০৫ সালে ফিফার সদস্য হয়)।

কোমোরোসের মানুষ যখন তাদের ফুটবল দলের জন্য ‘কোয়্যালাক্যান্থস’ নাম বেছে নেয়, তখন তার পেছনে ছিল গভীর রূপক। তারা বলতে চেয়েছিল:

  • আমরা ছোট হতে পারি, কিন্তু আমাদের শিকড় অনেক গভীরে।

  • আমাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না।

  • আমরাও ফিরে আসতে জানি।

৪. রূপকথার উত্থান: ফুটবল মানচিত্রে ‘কোয়্যালাক্যান্থস’

দীর্ঘদিন ধরে কোমোরোস ফুটবল ছিল এক নিভৃতচারী শক্তি। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাদের স্বপ্ন ছিল বিশাল। তাদের এই স্বপ্নের সলতে পাকানোর কারিগর ছিলেন সাবেক কোচ আমির আবদু। তিনি প্রবাসী কোমোরান খেলোয়াড়দের একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলেন। ২০২১ সালের আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসে (AFCON) কোমোরোসের প্রথমবার যোগ্যতা অর্জন ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে যখন তারা ঘানার মতো চারবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিদায় করে দেয়, তখন ফুটবল বিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছিল। নকআউট পর্বে ক্যামেরুনের বিপক্ষে কোনো গোলকিপার ছাড়াই (করোনার কারণে) একজন ডিফেন্ডারকে গোলপোস্টে দাঁড় করিয়ে তারা যে লড়াই করেছিল, তা ফুটবলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই ম্যাচে কোমোরোস হেরেছিল ঠিকই, কিন্তু তারা প্রমাণ করেছিল যে ‘কোয়্যালাক্যান্থস’রা মরতে জানে না।

৫. ডাকনাম যখন লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা

একটি দলের ডাকনাম খেলোয়াড়দের মনস্তত্ত্বে বিশাল প্রভাব ফেলে। কোমোরোসের খেলোয়াড়রা যখন তাদের জার্সিতে কোয়্যালাক্যান্থের প্রতীক নিয়ে মাঠে নামে, তারা তখন জানে তারা কোনো সাধারণ দল নয়। তারা এমন এক দেশের প্রতিনিধি যাকে এক সময় ফুটবল মানচিত্রে ‘অস্তিত্বহীন’ মনে করা হতো। তাদের প্রতিটি ড্রিবল এবং প্রতিটি ট্যাকল যেন সেই প্রাগৈতিহাসিক মাছের মতোই টিকে থাকার এক নিরন্তর চেষ্টা।

আজকের আধুনিক ফুটবলে যেখানে টাকার খেলা আর বড় বড় ক্লাবের আধিপত্য, সেখানে কোমোরোস যেন এক রোমান্টিক ব্যতিক্রম। তাদের গল্পটি কেবল ৯০ মিনিটের ম্যাচের নয়, এটি লক্ষ লক্ষ বছরের টিকে থাকার জেদ।


উপসংহার: কেন কোমোরোস আমাদের অনুপ্রেরণা?

আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস আজ আর কেবল ঘাস আর বলের খেলা নয়। এটি এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। কোমোরোসের উত্থান আমাদের শেখায় যে, আকার বা সম্পদ বড় কথা নয়; বড় হলো পরিচয় আর নিজের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান। ‘কোয়্যালাক্যান্থস’ নামটি আজ কেবল একটি বিরল মাছের নাম নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের এক অদম্য যোদ্ধার নাম।

যতক্ষণ পর্যন্ত সমুদ্রে কোয়্যালাক্যান্থ মাছ সাঁতরে বেড়াবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোমোরোসের ফুটবলও বিশ্বমঞ্চে বুক টান টান করে দাঁড়িয়ে থাকবে। কারণ তারা জানে, ইতিহাস তাদের ভুলে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা বারবার ফিরে আসতে জানে। এই অদম্য জেদই হলো আফ্রিকান ফুটবলের আসল সৌন্দর্য।

আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস (AFCON) কেবলমাত্র একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি গোটা আফ্রিকা মহাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগ্রাম ও পরিচয়ের এক বিশাল মঞ্চ। ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের মতো এখানে শুধু ক্লাব বা তারকাদের আধিপত্য নয়, বরং প্রতিটি জাতীয় দলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি দেশের আত্মপরিচয়, রাজনৈতিক ইতিহাস, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের আবেগ। এই কারণেই আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের দলগুলোর ডাকনামগুলোও অত্যন্ত অর্থবহ ও ব্যতিক্রমী।

নাইজেরিয়ার জাতীয় ফুটবল দল পরিচিত ‘সুপার ঈগলস’ নামে। এই নাম শক্তি, সাহস, স্বাধীনতা ও গর্বের প্রতীক। আবার ক্যামেরুন হলো ‘ইনডোমিটেবল লায়ন্স’, সেনেগাল ‘লায়ন্স অফ তেরাঙ্গা’, ঘানা ‘ব্ল্যাক স্টারস’। কিন্তু এই পরিচিত নামগুলোর আড়ালে এমন একটি দলও রয়েছে, যার ডাকনাম শুনলে ফুটবলপ্রেমীর পাশাপাশি বিজ্ঞান ও ইতিহাসপ্রেমীরাও চমকে ওঠেন। সেই দলটি হলো কোমোরোস (Comoros) জাতীয় ফুটবল দল, যাদের ডাকনাম ‘কোয়েলাক্যান্থস’ (Coelacanths)।

news image
আরও খবর

এই ডাকনামটির পেছনের গল্প শুধু ফুটবল নয়, বরং কোটি কোটি বছরের প্রাচীন ইতিহাসে গাঁথা।

কোয়েলাক্যান্থ: এক বিস্ময়কর প্রাচীন প্রাণী

কোয়েলাক্যান্থ হলো একটি প্রাচীন প্রজাতির মাছ, যা বিজ্ঞানীদের মতে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বাস করত। ডাইনোসরের যুগেরও বহু আগে এই মাছের অস্তিত্ব ছিল। দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হতো, এই মাছটি প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিজ্ঞান বইয়ে কোয়েলাক্যান্থের নাম লেখা ছিল “extinct species” হিসেবে।

কিন্তু ১৯৩৮ সালে ঘটে যায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে এক জেলের জালে ধরা পড়ে একটি অদ্ভুত ধরনের মাছ। পরে গবেষণায় জানা যায়, সেটিই সেই হারিয়ে যাওয়া কোয়েলাক্যান্থ। বিজ্ঞানী মহলে তখন আলোড়ন পড়ে যায়। যাকে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিলুপ্ত বলে ধরা হচ্ছিল, সে আবার জীবিত অবস্থায় ধরা দিয়েছে মানুষের সামনে। এই ঘটনাকে বলা হয় “living fossil” আবিষ্কার।

পরবর্তীতে দেখা যায়, আফ্রিকার পূর্ব উপকূল এবং বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের কিছু দ্বীপ অঞ্চলে, যেমন কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশের গভীর সমুদ্রে, এই কোয়েলাক্যান্থ মাছ এখনও টিকে আছে।

কোমোরোস ও কোয়েলাক্যান্থের যোগসূত্র

কোমোরোস হলো ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র। আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের তুলনায় দেশটি আকারে ছোট, জনসংখ্যাও কম। দীর্ঘদিন ধরে এই দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপেক্ষার শিকার হয়েছে।

কিন্তু কোমোরোসের সমুদ্র অঞ্চলে কোয়েলাক্যান্থ মাছের উপস্থিতি দেশটির জন্য একটি বিশেষ গর্বের বিষয়। এই মাছ শুধু বৈজ্ঞানিক বিস্ময় নয়, বরং কোমোরোসের পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। তাই যখন দেশটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলে, তখন তারা বেছে নেয় এই ব্যতিক্রমী নাম—‘কোয়েলাক্যান্থস’।

এই ডাকনামটির অর্থ শুধু একটি মাছ নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া থেকেও ফিরে আসার গল্প।

ফুটবলে কোমোরোসের উত্থান

এক সময় পর্যন্ত কোমোরোস আফ্রিকান ফুটবলে প্রায় অচেনা একটি নাম ছিল। বড় বড় দলগুলোর পাশে তাদের উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ত না। অবকাঠামোর অভাব, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে ছিল।

কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। স্থানীয় প্রতিভা, প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংযুক্তি এবং সংগঠিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কোমোরোস ফুটবল নতুন প্রাণ পায়। এর চূড়ান্ত প্রকাশ দেখা যায় আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের মঞ্চে।

২০২১ সালের আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসে কোমোরোস প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই গোটা আফ্রিকাকে চমকে দেয়। শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে তারা সাহসী ফুটবল খেলে এবং গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছে যায়। এই সাফল্য শুধু একটি দলের জয় নয়, বরং একটি ছোট দেশের স্বপ্নপূরণের গল্প।

ঠিক যেমন কোয়েলাক্যান্থ মাছকে এক সময় বিলুপ্ত মনে করা হয়েছিল, তেমনই ফুটবল মানচিত্রে কোমোরোসও ছিল প্রায় অদৃশ্য। কিন্তু তারা ফিরে এসেছে—জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে।

ডাকনামের প্রতীকী অর্থ

‘কোয়েলাক্যান্থস’ ডাকনামটি কোমোরোস দলের মানসিকতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এটি লড়াইয়ের প্রতীক, টিকে থাকার প্রতীক এবং ইতিহাসকে অতিক্রম করার প্রতীক। বড় দলগুলোর বিপক্ষে নামার সময় এই ডাকনাম খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেয়—তারা এমন এক জাতির প্রতিনিধি, যারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।

এই নামটি আরও একটি বার্তা দেয়: শক্তি সবসময় আকারে বড় হওয়ার মধ্যে থাকে না। কখনও কখনও সবচেয়ে অবহেলিত বা হারিয়ে যাওয়া জিনিসই সবচেয়ে বড় চমক উপহার দেয়।

আফ্রিকান ফুটবলে ডাকনামের গুরুত্ব

আফ্রিকান ফুটবলে ডাকনাম কেবল আলংকারিক নয়। এগুলো দেশের ইতিহাস, প্রাণীজগত, সংস্কৃতি বা স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। নাইজেরিয়ার ‘সুপার ঈগলস’ আকাশে ওড়ার সাহসের প্রতীক। ক্যামেরুনের ‘ইনডোমিটেবল লায়ন্স’ অদম্য মানসিকতার প্রতিফলন। আর কোমোরোসের ‘কোয়েলাক্যান্থস’ হলো ইতিহাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার গল্প।

এই কারণেই আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস অন্যান্য মহাদেশের টুর্নামেন্টের থেকে আলাদা। এখানে প্রতিটি ম্যাচ মানে শুধু গোলের লড়াই নয়, বরং পরিচয়ের লড়াই।

উপসংহার

আফ্রিকান কাপ অফ নেশনসের মঞ্চে যখন নাইজেরিয়ার ‘সুপার ঈগলস’ নামছে, তখন শক্তির প্রদর্শন প্রত্যাশিত। কিন্তু যখন মাঠে নামে কোমোরোসের ‘কোয়েলাক্যান্থস’, তখন সেই ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে এক গভীর বার্তা—হারিয়ে যাওয়া বলে কিছু নেই, যদি লড়াই করার মানসিকতা থাকে।

প্রাচীন এক মাছের নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কোমোরোস ফুটবল দল আজ আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ঠিক যেমন কোয়েলাক্যান্থ লক্ষ লক্ষ বছর পর আবার ফিরে এসেছিল, তেমনই এই ছোট দেশটি প্রমাণ করেছে—অসম্ভব বলে কিছু নেই। আফ্রিকান ফুটবলের এই গল্পই AFCON-কে করে তোলে এতটা জীবন্ত, আবেগঘন এবং অনন্য।

Preview image