Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আমরাই শুধু জিতে যাচ্ছি, এটা ঠিক হচ্ছে না! মেক্সিকোয় ‘মাদক সম্রাট’ মেঞ্চোর মৃত্যুর পর ট্রাম্প নিশানা করলেন পাচারকারীদের

আমেরিকায় দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় মাদক চোরাচালান হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তালিকায় ছিল মেক্সিকোও।মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ‘মাদক সম্রাট’ নেমেসিয়ো ওসেগুয়েরার বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিল মেক্সিকো। এমনটাই দাবি মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষের। এ বার সেই দাবিকেই মান্যতা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওসেগুয়েরা ওরফে এল মেঞ্চোর মৃত্যুর পরেই সমাজমাধ্যমে হেঁয়ালি মিশিয়ে লেখেন, “শুধু আমরাই জিতে যাচ্ছি। এমনটা হলে কী ভাবে চলবে।”

আমরাই শুধু জিতে যাচ্ছি, এটা ঠিক হচ্ছে না! মেক্সিকোয় ‘মাদক সম্রাট’ মেঞ্চোর মৃত্যুর পর ট্রাম্প নিশানা করলেন পাচারকারীদের
International Affairs

সরাসরি কারও নামোল্লেখ না করলেও ট্রাম্প যে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রকেই নিশানা করেছেন, তা স্পষ্ট। হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিটও জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্য নিয়েই ওই অভিযান চালিয়েছে মেক্সিকো। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুবই স্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছেন— আমেরিকায় যারা মাদক পাচার করছে, সেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।”

আমেরিকায় দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় মাদক চোরাচালান হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এমনকি ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের অভিযানের সময়েও এই একই অভিযোগ করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন সরকারের ২০২৪ সালের এক রিপোর্ট বলছে, আমেরিকায় যে দু’টি দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মাদক আসে, তার মধ্যে একটি মেক্সিকো। অন্যটি কলম্বিয়া।

সরকারি ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়েই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মাদক চোরাচালান হয় আমেরিকায়। কখনও জলপথে, কখনও সুড়ঙ্গ খুঁড়ে, কখনও আবার মার্কিন এজেন্টদের ব্যবহার করে এই চোরাচালান চলে বলে অভিযোগ। মাদুরোকে বন্দি করার পরে মেক্সিকোকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, মাদকপাচার এবং অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে আমেরিকা কোনও আপসের পথে হাঁটবে না।

মাদুরো অপহরণ পরবর্তী পর্যায়ে মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘মাদক সন্ত্রাস রুখতে যদি ওই অঞ্চলে আমেরিকাকে পা রাখতে হয়, প্রয়োজনে সেটাও করতে প্রস্তুত। আর এর জন্য কারও চোখরাঙানিও মেনে নেব না।’’ বস্তুত, ট্রাম্প বার বারই অবৈধ অভিবাসন এবং দক্ষিণাঞ্চলে মাদকের কারবার নিয়ে মেক্সিকোকে সতর্ক করেছেন। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল। এক সংবাদসংস্থাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘‘আমরা খুব ভাল বন্ধু। পার্ডো (মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবম পার্ডো) ভাল মানুষ। মেক্সিকোকে উনি পরিচালনা করছেন না। মেক্সিকোকে পরিচালনা করছে মাদক ব্যবসা।’’

আপনার দেওয়া অংশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। “মাদুরো অপহরণ” সংক্রান্ত যে দাবি করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনও যাচাইকৃত ঘটনার সঙ্গে মেলে না। তবে বাস্তব প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বহুবার লাতিন আমেরিকা, বিশেষ করে মেক্সিকো ও দক্ষিণ সীমান্ত নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। একইভাবে Nicolás Maduro-র নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন কড়া নীতি গ্রহণ করেছিল। আর মেক্সিকোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট Claudia Sheinbaum-কে ঘিরেও মার্কিন রাজনৈতিক বক্তব্য আলোচনায় এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত, মাদক চোরাচালান, অভিবাসন সংকট এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে একটি বিশদ আলোচনা নিচে উপস্থাপন করা হল।

আমেরিকা ও মেক্সিকোর মধ্যে প্রায় ৩,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত কেবল ভৌগোলিক বিভাজন নয়; এটি অর্থনীতি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক জটিল সংযোগস্থল। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ডলার মূল্যের পণ্য বৈধভাবে প্রবেশ করে, আবার একই সঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাদক, অস্ত্র এবং মানব পাচারের শিকার মানুষ।

দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ—মেক্সিকো সীমান্ত দিয়েই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কোকেন, মেথামফেটামিন, হেরোইন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ফেন্টানিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। জলপথ, মরুভূমি অঞ্চল, গোপন সুড়ঙ্গ এবং এমনকি বৈধ বাণিজ্যিক ট্রাকের আড়ালেও এই চোরাচালান হয়ে থাকে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই “বর্ডার সিকিউরিটি” এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি জোরালোভাবে সামনে আনেন। তাঁর দাবি ছিল, অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি যুক্তি দেন, দক্ষিণ সীমান্ত সুরক্ষিত না করলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতি হুমকির মুখে পড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেয়। তাঁর ভাষণে বারবার উঠে আসে—মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অপরাধী, মাদক কারবারি এবং মানব পাচারকারীরা প্রবেশ করছে। যদিও এই বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়, তবুও রাজনৈতিকভাবে এটি তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

মেক্সিকোর বিভিন্ন শক্তিশালী কার্টেল—যেমন সিনালোয়া কার্টেল—দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এই কার্টেলগুলি কেবল মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রয়েছে কলম্বিয়া, মধ্য আমেরিকা, এমনকি এশিয়া ও ইউরোপ পর্যন্ত।

কলম্বিয়া দীর্ঘদিন কোকেন উৎপাদনের জন্য পরিচিত। সেখানে উৎপাদিত কোকেন মেক্সিকোর কার্টেলদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। কিউবা সরাসরি মাদক উৎপাদনের জন্য পরিচিত না হলেও, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন প্রশাসন প্রায়শই ওই অঞ্চলকে নজরে রেখেছে।


ভেনেজুয়েলা ও মাদুরো প্রসঙ্গ

Nicolás Maduro-র নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত। যদিও সরাসরি “অপহরণ” প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়, তবে রাজনৈতিক সংঘাত ও কূটনৈতিক উত্তেজনা ছিল প্রবল।

ট্রাম্প একাধিকবার লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বজায় রাখার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই উঠে এসেছে—মাদক সন্ত্রাস রুখতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

news image
আরও খবর

মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক: দ্বৈত বার্তা

Claudia Sheinbaum-এর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো বলে দাবি করলেও ট্রাম্প বারবার বলেছেন, মেক্সিকো সরকার পুরোপুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্য ছিল—“মেক্সিকোকে পরিচালনা করছে মাদক ব্যবসা।”

এই মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। কারণ, মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের অর্থনীতি গভীরভাবে পরস্পর নির্ভরশীল। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাস্তব কূটনীতির মধ্যে প্রায়শই দ্বন্দ্ব দেখা যায়।


অভিবাসন সংকট ও মানবিক দিক

মাদক পাচারের পাশাপাশি অভিবাসন প্রশ্নটিও বড় ইস্যু। মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ—হন্ডুরাস, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা—থেকে মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ও দারিদ্র্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রবাহকে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে।

তবে সমালোচকরা বলেন, অভিবাসীদের সবাই অপরাধী নয়; বরং তারা অনেক সময় সহিংসতা ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসে। সীমান্তে শিশু বিচ্ছিন্নকরণ নীতি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।


কূটনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক হস্তক্ষেপের প্রশ্ন

ট্রাম্পের বক্তব্যে কখনও কখনও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণাঞ্চলে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে। যদিও বাস্তবে সামরিক হস্তক্ষেপ হয়নি, তবুও এই ধরনের মন্তব্য লাতিন আমেরিকার দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।

মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার মতো দেশগুলি সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপমূলক ইতিহাস রয়েছে এই অঞ্চলে, যা আজও রাজনৈতিক স্মৃতিতে রয়ে গেছে।


বাস্তবতা বনাম রাজনৈতিক বক্তব্য

রাজনৈতিক বক্তব্য অনেক সময় অতিরঞ্জিত হয়। মাদক পাচার একটি জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যা, যার পেছনে রয়েছে চাহিদা ও জোগানের অর্থনীতি। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাদক ভোক্তা বাজার। ফলে কেবল সীমান্ত বন্ধ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়—এমন মতও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাধান হতে পারে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আর্থিক নেটওয়ার্ক ভাঙা, এবং অভ্যন্তরীণ মাদক পুনর্বাসন কর্মসূচি জোরদার করা।


উপসংহার

আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত ইস্যু কেবল একটি সীমান্তরেখা নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের মিলিত ক্ষেত্র। Donald Trump-এর কঠোর অবস্থান একদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। Claudia Sheinbaum ও অন্যান্য লাতিন আমেরিকান নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক এক জটিল ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে।

মাদক সন্ত্রাস ও অবৈধ অভিবাসন রোধে কার্যকর নীতি প্রয়োজন—কিন্তু সেই নীতিতে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একতরফা হুঁশিয়ারি নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বিত উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল সমাধানের পথ দেখাতে পারে।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—মাদক সন্ত্রাস এবং সীমান্ত নিরাপত্তা প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কতটা প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দক্ষিণ সীমান্ত ইস্যু প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই শিবিরের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষ কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, প্রাচীর নির্মাণ ও দ্রুত বহিষ্কারের পক্ষে, অন্য পক্ষ মানবাধিকার, আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কারের কথা বলে।

মাদক পাচারের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেন্টানিল বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যন্ত শক্তিশালী এই সিন্থেটিক ড্রাগ অল্প পরিমাণেই প্রাণঘাতী হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ—এটি মূলত মেক্সিকোর কার্টেলদের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করছে, যদিও কাঁচামাল অনেক সময় এশিয়া থেকে আসে। ফলে সমস্যাটি কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত।

অন্যদিকে, মেক্সিকোও যুক্তি দেয় যে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের অবাধ প্রাপ্যতা কার্টেল শক্তিকে বাড়িয়ে তুলছে। সীমান্তের উল্টো দিক দিয়ে যে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মেক্সিকোতে প্রবেশ করে, তা অপরাধচক্রকে আরও শক্তিশালী করে। ফলে দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করলেও বাস্তবে সমস্যাটি পারস্পরিক।

এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের সমাধান হতে পারে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তি, আর্থিক লেনদেনের নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। একই সঙ্গে দরকার মাদকাসক্তদের জন্য পুনর্বাসন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে চাহিদা কমে। কূটনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

Preview image