তীব্র দাবদাহ এবং গরম পড়ার সাথে সাথেই সমগ্র পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল রক্ত সংকট। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে জীবন আমাদের রক্তে গড়া রক্তে গড়া প্রাণ রক্ত দিয়ে বাঁচাবো মোরা শত শত প্রাণ এই মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে এবং শক্তিগড়ের মসজিদ পাড়া সংলগ্ন ভাঁড়পল্লী ক্লাবের সহযোগিতায় আয়োজিত হলো এক বিশাল রক্তদান এবং পরিবেশ সচেতনতা শিবির।
প্রকৃতির নিয়ম মেনে চৈত্র মাসের শেষ লগ্নে এবং বৈশাখের প্রাক্কালে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ সহ পূর্ব বর্ধমান জেলায় আছড়ে পড়েছে তীব্র দাবদাহ এবং গ্রীষ্মের প্রখর তাপপ্রবাহ। রোদের তীব্রতা এবং অসহনীয় গরমের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত ঠিক তখনই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে আরেক চরম এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট যার নাম রক্ত সংকট। প্রতি বছর গ্রীষ্মকাল এলেই স্কুল কলেজের ছুটি অতিরিক্ত গরম এবং সাধারণ মানুষের বাইরে বেরোনোর অনীহার কারণে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর ফলে ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রক্তের মজুত প্রায় তলানিতে এসে ঠেকে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী যাদের প্রতি পনেরো থেকে কুড়ি দিন অন্তর রক্তের প্রয়োজন হয় গর্ভবতী মহিলা এবং পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মুমূর্ষু রোগীরা রক্তের অভাবে কার্যত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে বাধ্য হন। এই ভয়াবহ এবং হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং সমাজের প্রতি নিজেদের চূড়ান্ত দায়বদ্ধতা পালন করতে আজ পূর্ব বর্ধমান জেলার শক্তিগড় এলাকায় এক অনন্য এবং ঐতিহাসিক রক্তদান ও পরিবেশ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হলো।
জীবন আমাদের রক্তে গড়া রক্তে গড়া প্রাণ রক্ত দিয়ে বাঁচাবো মোরা শত শত প্রাণ এই অত্যন্ত আবেগপূর্ণ এবং শক্তিশালী স্লোগান বা লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই মেগা শিবিরের আয়োজন করেছিল বর্ধমানের স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। তাদের এই মহৎ এবং জীবনদায়ী উদ্যোগে সর্বতোভাবে সাহায্য করতে এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে এগিয়ে আসে শক্তিগড়ের মসজিদ পাড়া সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ভাঁড়পল্লী ক্লাব। ল্যাংচার জন্য বিখ্যাত শক্তিগড় আজ সমগ্র রাজ্যের সামনে মানবিকতা সমাজসেবা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। একদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার শৃঙ্খলা এবং অন্যদিকে স্থানীয় ক্লাবের সদস্যদের অদম্য উৎসাহ এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আজকের এই শিবির এক বিশাল সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছিল। সকাল থেকেই মসজিদ পাড়া এবং ভাঁড়পল্লী ক্লাবের আশেপাশের এলাকা উৎসবের মেজাজে সেজে উঠেছিল এবং এলাকার যুব সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মহতী যজ্ঞে অংশগ্রহণ করার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন।
রক্তদান হলো মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ দান বা মহাদান কারণ মানুষের তৈরি কোনো কারখানায় বা ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে রক্ত তৈরি করা সম্ভব নয়। একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে কেবল আরেকজন মানুষের শরীর থেকে দেওয়া উষ্ণ রক্ত। এই চরম সত্যটিকে এলাকার সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে দেওয়ার জন্য বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যরা গত কয়েকদিন ধরে শক্তিগড় এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বুঝিয়েছিলেন যে গ্রীষ্মকালের এই চরম রক্ত সংকটের সময় এক ফোঁটা রক্ত একজন মুমূর্ষু রোগীর কাছে অমৃতের সমান। তাদের এই নিরলস প্রচারের ফলস্বরূপ আজ সকাল আটটা বাজতে না বাজতেই ভাঁড়পল্লী ক্লাবের মাঠে তৈরি করা অস্থায়ী রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং স্থানীয় ব্লাড ব্যাংকের অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি প্রতিনিধি দল অত্যন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এই শিবিরে উপস্থিত হয়েছিলেন। রক্তদাতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা রক্তচাপ পরিমাপ এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা যাচাই করার পর অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশে রক্ত সংগ্রহের কাজ শুরু হয়।
প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও এলাকার তরুণ তরুণী এবং প্রথমবারের রক্তদাতাদের মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ এবং উদ্দীপনা দেখা গেছে তা সত্যিই অভাবনীয়। অনেক তরুণ যারা আগে কখনো সূঁচের ভয়ে রক্ত দেননি তারাও আজ মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেদের ভয় জয় করে হাসিমুখে রক্তদান করেছেন। মহিলাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো যা প্রমাণ করে যে সমাজসেবার কাজে নারীরাও আজ সমানভাবে সামনের সারিতে এগিয়ে এসেছেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার একটানা এবং সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার পর এই শিবির থেকে মোট চল্লিশ প্যাকেট বা চল্লিশ ইউনিট অমূল্য রক্ত সংগৃহীত হয়। গ্রীষ্মকালের এই চরম সংকটের দিনে একটি স্থানীয় ক্লাবের শিবির থেকে চল্লিশ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা এক বিশাল এবং অভূতপূর্ব সাফল্য যা বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকের রক্তের ভাঁড়ারকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করবে এবং অন্তত একশো কুড়ি জন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে। রক্তদানের পর প্রত্যেক রক্তদাতাকে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে পুষ্টিকর খাবার ফলের রস ডিম এবং মিষ্টি প্রদান করা হয় এবং তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় রক্তদানের প্রশংসাপত্র যা তাদের আগামী দিনে আরও বেশি করে সমাজসেবায় যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।
তবে আজকের এই মেগা শিবিরের আকর্ষণ এবং সমাজসেবার পরিধি কেবল রক্তদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এবং ভাঁড়পল্লী ক্লাব প্রমাণ করে দিয়েছে যে তারা কেবল মানুষের বর্তমান জীবনের সুরক্ষাই নয় বরং আগামী প্রজন্মের সুস্থ ভবিষ্যৎ এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সমানভাবে চিন্তাশীল। রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি আজ একই মঞ্চ থেকে এক অত্যন্ত অভিনব যুগান্তকারী এবং বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশ সচেতনতার বার্তা প্রচার করা হয় যা সমগ্র জেলায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার এক ভয়াবহ ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে টিফিন দেওয়ার জন্য বেশিরভাগ অভিভাবকই প্লাস্টিকের টিফিন বাক্স ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং পরিবেশবিদদের মতে গরম খাবার প্লাস্টিকের বাক্সে রাখলে প্লাস্টিকের ভেতরের ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ বা মাইক্রো প্লাস্টিক এবং বিসফেনল এ বা বিপিএ নামক বিষাক্ত উপাদান গলে গিয়ে সরাসরি খাবারের সাথে মিশে যায়।
এই বিষাক্ত প্লাস্টিক মিশ্রিত খাবার প্রতিদিন গ্রহণ করার ফলে শিশুদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং ভবিষ্যতে ক্যান্সার এবং স্নায়ুর মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। এছাড়া এই প্লাস্টিকের বাক্সগুলো কিছুদিন ব্যবহারের পর যখন ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় তখন তা পরিবেশের মাটিতে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং ভয়াবহ দূষণ ছড়ায়। শিশুদের স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের এই চরম বিপদের দিকটি বিবেচনা করে বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আজ এক ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে। এলাকার যে সমস্ত শিশু স্কুলে প্রতিদিন প্লাস্টিকের টিফিন বাক্স নিয়ে যায় উদ্যোক্তারা সেই সমস্ত শিশুদের অভিভাবকদের আজ বিশেষ সম্মানের সাথে এই শিবিরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা হিসেবে এবং শিশুদের সুরক্ষিত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সেই সমস্ত অভিভাবকদের হাত থেকে প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক টিফিন বাক্সগুলো চিরতরে সরিয়ে ফেলার অঙ্গীকার নেওয়া হয় এবং তাদের প্রত্যেকের হাতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি করে অত্যন্ত উন্নত মানের টেকসই এবং স্বাস্থ্যকর স্টিলের টিফিন কৌটো তুলে দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তাদের হাত থেকে এই ঝকঝকে স্টিলের টিফিন কৌটো উপহার হিসেবে পেয়ে অভিভাবক এবং শিশুদের মুখে এক অনাবিল আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে। প্লাস্টিকের বদলে স্টিলের পাত্র ব্যবহার করার এই উদ্যোগ একাধারে যেমন শিশুদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করবে ঠিক তেমনি অন্যদিকে পরিবেশকে প্লাস্টিকের ভয়াবহ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করবে। স্টিলের পাত্রে গরম খাবার রাখলে তা যেমন দীর্ঘক্ষণ গরম থাকে তেমনি খাবারের কোনো পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না বা কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ খাবারের সাথে মেশে না। এটি আমাদের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির এক আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত প্রত্যাবর্তন যেখানে আগেকার দিনে কাঁসা পিতল বা স্টিলের পাত্রেই খাবার পরিবেশন করা হতো। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই পরিবেশবান্ধব এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বীজ বপন করার জন্য বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য এবং সমগ্র রাজ্যের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর কাছে এক বিরাট অনুকরণীয় মডেল।
এই বিশাল এবং সফল শিবিরের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্মানীয় সম্পাদক প্রলয় মজুমদার তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সমাজসেবার লক্ষ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দেন। তিনি বলেন আজকের এই চল্লিশ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ এবং শিশুদের মধ্যে স্টিলের টিফিন বাক্স বিতরণের কাজ আমাদের এই বিশাল যাত্রার একটি ছোট পদক্ষেপ মাত্র। গ্রীষ্মকাল সবে শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে রক্তের অভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। মানুষের জীবন বাঁচানোর এই তাগিদ থেকে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও সরে আসব না। প্রলয় বাবু অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে এবং গ্রামে গ্রামে তাদের সংস্থার তরফ থেকে এমন আরও অসংখ্য রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আবেদন রাখেন তারা যেন এই চরম সংকটের সময় নিজেদের ভয় দূরে সরিয়ে রেখে মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসেন। একই সাথে তিনি জানান যে প্লাস্টিক মুক্ত সমাজ গড়ার এই আন্দোলনকে তারা জেলার প্রতিটি স্কুলে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর এবং আগামী দিনে আরও অসংখ্য শিশুকে প্লাস্টিকের বিষ থেকে মুক্ত করে তাদের হাতে স্টিলের টিফিন কৌটো তুলে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে এই মেগা শিবিরের অন্যতম প্রধান সহযোগী ভাঁড়পল্লী ক্লাবের সম্মানীয় সদস্য তপণবাবু আজকের এই সমগ্র আয়োজন এবং সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন একটি ক্লাবের আসল দায়িত্ব কেবল পাড়ার মধ্যে পুজো করা বা খেলাধুলার আয়োজন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের যেকোনো বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোই হলো ক্লাবের আসল ধর্ম। বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মতো একটি নিবেদিতপ্রাণ সংস্থার সাথে কাজ করতে পেরে ভাঁড়পল্লী ক্লাব অত্যন্ত গর্বিত। তপণবাবু বলেন রক্তদান করে যেমন আমরা আজ বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কাজে অংশগ্রহণ করলাম ঠিক তেমনি প্লাস্টিকের টিফিন বাক্স সরিয়ে শিশুদের হাতে স্টিলের কৌটো তুলে দিয়ে আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এক সুস্থ এবং দূষণমুক্ত পৃথিবীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে তাদের ক্লাবের এই উদ্যোগ দেখে আশেপাশের অন্যান্য ক্লাবগুলোও অনুপ্রাণিত হবে এবং তারাও সমাজসেবার কাজে এইভাবেই ব্রতী হবে।
শক্তিগড়ের মসজিদ পাড়ার এই রক্তদান শিবির আমাদের সমাজে সম্প্রীতি এবং ঐক্যের এক অনবদ্য বার্তা দিয়ে গেল। রক্তের কোনো ধর্ম হয় না রক্তের কোনো জাত হয় না। একজন হিন্দু মানুষের রক্ত যেমন একজন মুসলিম মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারে ঠিক তেমনি একজন মুসলিম দাতার রক্ত একজন হিন্দু রোগীর শরীরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে। আজ ভাঁড়পল্লী ক্লাবের মাঠে যে চল্লিশ জন রক্তদাতা নিজেদের রক্তদান করলেন তাদের একটাই পরিচয় তারা মানুষ এবং তারা মানবতার সেবক। সমাজসেবার এই যজ্ঞে যখন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং স্থানীয় পাড়ার ক্লাব একসাথে হাত মেলায় তখন যে কোনো অসাধ্য সাধন করা যায় তা আজকের এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিল।
পরিশেষে বলা যায় পূর্ব বর্ধমানের বুকে বর্ধমান সদর প্যায়ারা নিউট্রিশন ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এবং ভাঁড়পল্লী ক্লাব আজ যে মানবিকতা স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং পরিবেশ রক্ষার বীজ বপন করল তা আগামী দিনে এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হবে। তাদের এই মহৎ কাজের সুবাস সমগ্র জেলায় ছড়িয়ে পড়বে এবং হাজার হাজার মানুষকে সমাজসেবার কাজে অনুপ্রাণিত করবে। যারা নিজেদের মূল্যবান সময় এবং রক্ত দিয়ে আজকের এই শিবিরকে সফল করে তুলেছেন সেই সমস্ত রক্তদাতা চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আমরা আন্তরিক কুর্নিশ জানাই। সমাজ তখনই সুন্দর হয়ে ওঠে যখন সমাজের সাধারণ মানুষ একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং বিপদের সময় নিঃস্বার্থভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আমরা আশা করি পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে এই রক্তদানের পুণ্য প্রবাহ এভাবেই চলতে থাকবে এবং বর্ধমানের কোনো মুমূর্ষু রোগীকে আর কখনো এক ফোঁটা রক্তের অভাবে প্রাণ হারাতে হবে না। একই সাথে প্লাস্টিক মুক্ত সুস্থ পরিবেশ গড়ার যে অঙ্গীকার আজ এখান থেকে নেওয়া হলো তা খুব শীঘ্রই এক ব্যাপক গণআন্দোলনের রূপ নেবে এবং আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করবে।