২৭শে এপ্রিল ২০২৬ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে পূর্ব বর্ধমান শহরের রাস্তা থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গেছেন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পৌরসভার ট্রাফিক কর্মীরা এর ফলে শহরের ব্যস্ততম মোড়গুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং এই ভয়াবহ দাবদাহের মধ্যে একা হাতে ট্রাফিক সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন বর্ধমান জেলা ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা এবং কনস্টেবলরা
বর্ধমান ২৭শে এপ্রিল ২০২৬
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে এবং এই হাই ভোল্টেজ নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবাধ শান্তিপূর্ণ এবং ত্রুটিমুক্ত করার জন্য ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন বা ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া একের পর এক অত্যন্ত কড়া এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে শাসক দল নির্বাচনের সময় সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীদের ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা পুলিশের উর্দি পরে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায় এই সমস্ত অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন এবার অত্যন্ত কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনের দিনগুলোতে এবং নির্বাচনের আগের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রচারের সময়কালে কোনোভাবেই কোনো সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রিন পুলিশ বা পৌরসভার অস্থায়ী ট্রাফিক কর্মীকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা যাবে না তাদের সম্পূর্ণভাবে এই সমস্ত ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখতে হবে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া নির্দেশের প্রভাব আজ সকাল থেকেই পূর্ব বর্ধমান শহরের রাস্তাঘাটে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে
বর্ধমান শহর হলো পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর দপ্তর এবং সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্র প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিজেদের রুজি রুটির সন্ধানে পড়াশোনার জন্য বা চিকিৎসার কারণে এই শহরে আসেন শহরের বুক চিরে চলে গেছে ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা জিটি রোড এবং শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক যার ফলে শহরের ভেতরের রাস্তাগুলোতে সারাদিন ধরে বাস লরি ছোট গাড়ি এবং হাজার হাজার টোটোর এক বিপুল চাপ থাকে গত কয়েক বছর ধরে বর্ধমান শহরের এই বিশাল ট্রাফিক ব্যবস্থা মূলত সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পৌরসভার ট্রাফিক কর্মীদের ওপরই নির্ভরশীল ছিল শহরের প্রতিটি ছোট বড় মোড়ে এই সিভিক ভলান্টিয়াররা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সাধারণ ট্রাফিক পুলিশ আধিকারিকদের সাহায্য করতেন কিন্তু আজ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তারা রাস্তা থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যাওয়ার ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পুরো চাপটাই এসে পড়েছে মুষ্টিমেয় কয়েকজন নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ আধিকারিক এবং কনস্টেবলের কাঁধে লোকবলের এই চরম অভাবের কারণে আজ সকাল থেকেই বর্ধমান শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে এক ভয়াবহ এবং দমবন্ধ করা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে
শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কার্জন গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আজ ট্রাফিক পুলিশের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড় কলেজ মোড় এলাকায় এই মোড়ের একদিকে রয়েছে বর্ধমান রাজ কলেজ অন্যদিকে রয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রচুর স্কুল ও সরকারি অফিস সকালের দিকে যখন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এবং সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় বেরোন তখন এই কলেজ মোড়ে মানুষের এবং গাড়ির ঢল নামে অন্যান্য দিন এই মোড়ে চার থেকে পাঁচজন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ মিলে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যানজট সামলান কিন্তু আজ সেখানে মাত্র দুজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মীকে একা হাতে এই বিপুল গাড়ির চাপ সামলাতে দেখা গেছে হাজার হাজার টোটো যখন নিয়ম না মেনে রাস্তার মাঝখান দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছে তখন সেই দুজন পুলিশ কর্মীকে রীতিমতো দৌড়াদৌড়ি করে গাড়ি থামাতে হচ্ছে এবং ঘামে ভিজে একাকার হয়ে যেতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তা পার করে দেওয়া থেকে শুরু করে সিগন্যাল অমান্য করা বাইক আরোহীদের আটকানো সব কাজ তাদের একাই করতে হচ্ছে যার ফলে গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগছে
একই রকম এবং তার চেয়েও বেশি উৎকণ্ঠাপূর্ণ চিত্র দেখা গেছে বর্ধমান শহরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র সিটি মোড় এলাকায় সিটি মোড় হলো এমন একটি জায়গা যেখান থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার রাস্তা ভাগ হয়ে গেছে এবং এখানে প্রচুর শপিং মল বাজার এবং বাসস্ট্যান্ড রয়েছে সারাদিন ধরে এই মোড়ে সরকারি এবং বেসরকারি বাসের এক বিশাল আনাগোনা থাকে বাসগুলো যখন প্যাসেঞ্জার তোলার জন্য রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে তখন পেছনের গাড়িগুলোর লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে অন্যান্য দিন পৌরসভার ট্রাফিক কর্মীরা বাঁশি বাজিয়ে এবং তাড়া করে এই বাসগুলোকে সরিয়ে দিতেন কিন্তু আজ তাদের অনুপস্থিতিতে বাস চালকরা চরম স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেছেন তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছেন এবং ট্রাফিক পুলিশের একজন বা দুজন কর্মীর পক্ষে এত বড় মোড়ের চারদিকের গাড়ি সামলানো আক্ষরিক অর্থেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে সিটি মোড়ের যানজট সামলাতে গিয়ে পুলিশ কর্মীদের রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে এবং অনেক সময় তারা গাড়ির চালকদের সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়ছেন কারণ চালকরা অধৈর্য হয়ে ক্রমাগত হর্ন বাজিয়ে এক চরম শব্দদূষণ এবং মানসিক চাপের সৃষ্টি করছেন
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস সংলগ্ন গোলাপ বাগ মোড় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তারাবাগ এলাকার রাস্তাতেও আজ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের একই ভগ্নদশা চোখে পড়েছে গোলাপ বাগ মোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা যাতায়াত করেন এই রাস্তাটি অত্যন্ত প্রশান্ত হলেও এখানে টোটো এবং রিকশার এক বিশাল চাপ থাকে আজ সিভিক ভলান্টিয়ার না থাকার কারণে টোটো চালকরা রাস্তার মোড়েই নিজেদের গাড়ি পার্ক করে প্যাসেঞ্জারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন যার ফলে মূল রাস্তাটি অত্যন্ত সরু হয়ে গিয়েছিল এবং পেছনের দিক থেকে আসা গাড়িগুলোর যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা একদিকের গাড়ি ছাড়তে গেলে অন্যদিকের গাড়িগুলো সিগন্যাল ভেঙে এগিয়ে আসছিল গোলাপ বাগ মোড়ের এই বিশৃঙ্খলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে এবং অনেকেই সঠিক সময়ে নিজেদের ক্লাসে বা পরীক্ষায় পৌঁছাতে পারেননি শিক্ষার এই পবিত্র প্রাঙ্গণের সামনে এমন যানজট এবং বিশৃঙ্খলা সত্যিই অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি প্রমাণ করে যে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল
শহরের বাইরের দিকে এবং জাতীয় সড়ক সংলগ্ন নবাবহাট মোড় এবং সারাইটিকর মোড় এলাকার পরিস্থিতি আজ সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল নবাবহাট মোড় হলো বর্ধমান শহরের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার যেখান থেকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক বা পুরনো ২ নম্বর জাতীয় সড়ক জিটি রোডের সাথে এসে মিশেছে এই মোড় দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার দশ চাকা এবং বারো চাকার বিশাল মালবাহী লরি দূরপাল্লার সরকারি ও বেসরকারি বাস এবং প্রচুর পরিমাণে চার চাকার গাড়ি অত্যন্ত প্রবল বেগে যাতায়াত করে এই বিশাল এবং ভারী যানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কঠিন কাজ অন্যান্য দিন এই মোড়ে পুলিশ আধিকারিকদের সাথে অন্তত দশ বারোজন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকতেন যারা দূর থেকে আসা লরিগুলোকে সিগন্যাল দেখিয়ে থামাতেন এবং ছোট গাড়িগুলোকে নিরাপদে পার করে দিতেন কিন্তু আজ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তারা না থাকায় এই বিশাল মোড় সামলানোর দায়িত্ব এসে পড়ে মাত্র কয়েকজন নিয়মিত পুলিশ কনস্টেবলের ওপর লরির বিশাল চাকার সামনে দাঁড়িয়ে একা হাতে সিগন্যাল দেওয়া এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা এক অত্যন্ত সাহসিকতার কাজ কিন্তু লোকবলের অভাবে আজ নবাবহাট মোড়ে মাইলের পর মাইল গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়ে গিয়েছিল এবং হাইওয়েতে এক ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়েছিল লরি চালকরা গরমে অধৈর্য হয়ে নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করছিলেন এবং পুলিশ কর্মীদের নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই বিশাল গাড়িগুলোকে আটকাতে হচ্ছিল সারাইটিকর মোড়েও একই রকম যানজটের কারণে সাধারণ বাস যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে
এই বিপুল ট্রাফিক এবং গাড়ির চাপের সাথে দোসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে প্রকৃতির চরম রোষ চৈত্র মাসের শেষ এবং বৈশাখের শুরুতে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে এক ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ বা হিটওয়েভ চলছে আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী আজ বর্ধমান শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তেতাল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে এবং রিয়েল ফিল বা অনুভবের তাপমাত্রা প্রায় পঁয়তাল্লিশ থেকে ছেচল্লিশ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই পিচের রাস্তা গরম হয়ে আক্ষরিক অর্থেই আগুন ঝরছে এই ভয়াবহ এবং অসহনীয় গরমের মধ্যে কালো পিচের রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ইউনিফর্ম পরে এবং মাথায় পুলিশের ভারী টুপি পরে টানা আট থেকে দশ ঘণ্টা ডিউটি করা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে কতটা অমানবিক এবং কষ্টকর তা কেবল সেই পুলিশ কর্মীরাই বুঝতে পারছেন ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকদের আজ রীতিমতো ঘামে ভিজে স্নান করে যেতে দেখা গেছে মাথার ওপর গনগনে সূর্য এবং পায়ের নিচে ফুটন্ত পিচের রাস্তা দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের কর্তব্য পালন করে চলেছেন গরমের কারণে অনেক পুলিশ কর্মী ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার শিকার হচ্ছেন এবং তাদের চোখেমুখে চরম ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে
তীব্র দাবদাহে ট্রাফিক সামলাতে গিয়ে যাতে কোনো পুলিশ কর্মী হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোকের শিকার না হন তার জন্য বর্ধমান জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে জলের বোতল ওআরএস এবং গ্লুকোজের ব্যবস্থা করেছেন সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পুলিশ কর্মীদের এই কষ্ট দেখে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই বাড়ি থেকে ঠান্ডা জল বরফ এবং লেবুর জল এনে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের খেতে দিচ্ছেন যা চরম বিপদের দিনে মানবিকতার এক অত্যন্ত উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কিন্তু তা সত্ত্বেও লোকবলের এই বিপুল শূন্যতা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না একজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মীকে এখন তিনজন সিভিক ভলান্টিয়ারের সমান কাজ করতে হচ্ছে তাদের বিশ্রামের কোনো সময় নেই এক শিফটের ডিউটি শেষ হতে না হতেই তাদের আবার অন্য মোড়ে গিয়ে ডিউটি করতে হচ্ছে কারণ নির্বাচন সামনে আসায় প্রচুর পুলিশ কর্মীকে ভোটের ডিউটিতে এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তার কাজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যার ফলে ট্রাফিক বিভাগে পুলিশের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেছে
ভোটের পারদ এবং রাজনৈতিক প্রচারের উত্তাপ এই ট্রাফিক সমস্যাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে একদিকে যেমন প্রখর রোদ অন্যদিকে ঠিক তেমনি প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিছিল পথসভা এবং রোড শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ যখন শহরের রাস্তা যানজটে এমনিতেই অবরুদ্ধ তখন একটি বড় রাজনৈতিক দলের বিশাল বাইক রেলি জিটি রোডের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে পুলিশ কর্মীদের একা হাতে সেই রাজনৈতিক মিছিলের ভিড় সামলাতে এবং সাধারণ যাত্রীদের গাড়িগুলোকে অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দিতে গিয়ে কালঘাম ছুটে যায় নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের কনভয় পার করে দেওয়ার জন্য অনেক সময় সিগন্যাল বন্ধ করে রাখতে হয় যার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া নির্দেশের কারণে নির্বাচন হয়তো অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হবে কিন্তু এই কটা দিন শহরের সাধারণ মানুষ এবং নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের যে কী ভয়াবহ অমানবিক কষ্ট সহ্য করতে হবে তা আজকের এই চিত্র দেখলেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বোঝা যায়
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বর্ধমান শহরের সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে অন্তত শহরের ব্যস্ততম মোড়গুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অস্থায়ীভাবে এনসিসি ক্যাডেট বা অন্য কোনো অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হোক যাতে নিয়মিত পুলিশ কর্মীদের ওপর থেকে চাপ কিছুটা হলেও কমে সাধারণ নাগরিকদেরও এই চরম বিপদের সময় পুলিশকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে গাড়ি চালানোর সময় সিগন্যাল মেনে চলা যত্রতত্র গাড়ি বা টোটো পার্ক না করা এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ অমান্য না করার মতো সাধারণ নাগরিক দায়িত্বগুলো যদি আমরা সকলে পালন করি তবে এই যানজটের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসব এবং এই উৎসবকে সফল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবন যাতে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত না হয়ে পড়ে সেদিকে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন উভয়েরই সমানভাবে নজর দেওয়া উচিত আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এই তাপপ্রবাহ এবং নির্বাচনের পারদ এভাবেই চড়তে থাকবে এবং বর্ধমান শহরের ট্রাফিক পুলিশকে এই চরম অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়েই নিজেদের কর্তব্য পালন করতে হবে আমরা আশা করি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং পুলিশের অদম্য মানসিকতার জোরে আমরা এই কঠিন সময় পার করতে সক্ষম হব এবং নির্বাচনের পর শহর আবার তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে বিস্তারিত খবরের জন্য কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে ক্লিক করুন