Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

২ বছরের অপেক্ষার পর প্রভাসের ছবিতে হইচই! দরজা ভাঙতে চাইলেন ভক্তরা, প্রেক্ষাগৃহে অভূতপূর্ব ভিড় !

প্রভাস অভিনীত নতুন চলচ্চিত্রের মুক্তি দুই বছর পর প্রেক্ষাগৃহে ফেরার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে অভূতপূর্ব উন্মাদনা। দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহগুলিতে ভক্তদের উত্তাল ভিড় দেখা যাচ্ছে যেখানে টিকিট কেটে সিনেমা দেখার জন্য ভক্তরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনেক জায়গায় টিকিট পাওয়ার আশায় ভক্তরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করেছেন এবং প্রেক্ষাগৃহের বাইরে বিশাল লাইন তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারীর পর এই প্রথম এত বড় আকারে দর্শকদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। প্রভাসের জনপ্রিয়তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে এই অভূতপূর্ব সাড়ার মাধ্যমে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটির প্রচার এবং ভক্তদের উৎসাহ দেখে স্পষ্ট যে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার এই মেগাস্টার এখনও দর্শকদের হৃদয়ে অপ্রতিরোধ্য অবস্থানে রয়েছেন। প্রেক্ষাগৃহগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এই বিশাল ভিড় সামলানোর জন্য

দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষার পর যখন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার প্রভাস তার নতুন চলচ্চিত্র নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ফিরে এলেন তখন সারা দেশজুড়ে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য যা সিনেমা জগতে বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে আগামী দিনগুলিতে। করোনা মহামারীর কারণে যখন সিনেমা হল বন্ধ ছিল এবং মানুষ ঘরে বসে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল তখন অনেকেই ভেবেছিলেন যে হয়তো প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার সেই পুরনো ঐতিহ্য আর ফিরে আসবে না কিন্তু প্রভাসের এই নতুন ছবি মুক্তি পেতেই সেই ধারণা সম্পূর্ণভাবে ভুল প্রমাণিত হয়ে গেল

প্রেক্ষাগৃহগুলিতে যে দৃশ্য দেখা গেল তা ছিল রীতিমতো চমকপ্রদ এবং কিছুটা উদ্বেগজনকও বটে। ভোরবেলা থেকেই হাজার হাজার ভক্ত লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন টিকিট কাটার জন্য যেখানে অনেক জায়গায় টিকিট কাউন্টার খোলার আগেই ভিড় এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। কিছু কিছু প্রেক্ষাগৃহে ভক্তরা এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন যে তারা দরজা ভাঙার চেষ্টা করেছেন শুধুমাত্র টিকিট পাওয়ার আশায়। এই ঘটনাগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে দেরি হয়নি এবং দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে

প্রভাসের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয় তবে এবারের এই উন্মাদনা তার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলা যায়। বাহুবলি সিরিজের মাধ্যমে যিনি সারা ভারত তথা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছিলেন সেই প্রভাস এখন শুধুমাত্র দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার তারকা নন বরং সর্বভারতীয় স্তরের একজন সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তার ভক্তকুল শুধু তেলেগু ভাষাভাষী অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই বরং উত্তর ভারত থেকে শুরু করে পূর্ব এবং পশ্চিম ভারতেও তার বিশাল ভক্তসমাজ রয়েছে যারা তার প্রতিটি ছবির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন

করোনা মহামারী সিনেমা শিল্পকে যেভাবে আঘাত করেছিল তাতে অনেকেই ভেবেছিলেন যে মানুষ হয়তো আর আগের মতো প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করবেন না কারণ ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলি ঘরে বসে সিনেমা দেখার সুবিধা দিয়েছে এবং মানুষ সেই সুবিধায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রভাসের এই ছবি মুক্তি পেতেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে বড় পর্দায় সিনেমা দেখার যে আনন্দ এবং অভিজ্ঞতা তা কোনো ছোট পর্দা বা মোবাইল স্ক্রিনে পাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে যখন প্রিয় তারকার ছবি হয় তখন ভক্তরা সেই সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে অন্য ভক্তদের সাথে একসাথে দেখতে চান যেখানে তারা উল্লাস করতে পারেন শিস দিতে পারেন এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন

প্রেক্ষাগৃহগুলিতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা সামলাতে পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে অনেক জায়গায়। কিছু কিছু প্রেক্ষাগৃহ অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সাময়িকভাবে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ভক্তদের উৎসাহ এতটাই ছিল যে অনেক জায়গায় মধ্যরাত থেকেই লাইন শুরু হয়ে গিয়েছিল এবং মানুষ রাতভর দাঁড়িয়ে থেকেছেন শুধুমাত্র প্রথম দিন প্রথম শো দেখার জন্য টিকিট পাওয়ার আশায়

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটির প্রচার এবং ট্রেলার রিলিজের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল কিন্তু মুক্তির দিন যা দেখা গেল তা সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। টুইটার ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম সব জায়গায় প্রভাসের ছবি নিয়ে আলোচনা ট্রেন্ডিং করছিল এবং ভক্তরা তাদের উত্তেজনা শেয়ার করছিলেন বিভিন্ন পোস্ট এবং ভিডিওর মাধ্যমে। অনেক ভক্ত প্রেক্ষাগৃহের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার সময়ের ভিডিও এবং ছবি শেয়ার করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের ভিড় এবং সেই ভিড়ে সবার মুখে একটাই নাম প্রভাস

প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা এই অভূতপূর্ব সাড়া দেখে অবাক হয়েছেন এবং খুশিও হয়েছেন কারণ দীর্ঘদিন পর তারা এত বড় আকারের দর্শক সমাগম দেখছেন। অনেক প্রেক্ষাগৃহ অতিরিক্ত শো যোগ করতে বাধ্য হয়েছে চাহিদা মেটানোর জন্য এবং তারপরও টিকিট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনলাইন টিকিট বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলিতেও সার্ভার ক্রাশ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে কারণ একসাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ টিকিট কাটার চেষ্টা করছিলেন

এই ঘটনাটি সিনেমা শিল্পের জন্য একটি বড় সংকেত যে সঠিক কন্টেন্ট এবং সঠিক তারকা থাকলে দর্শকরা এখনও প্রেক্ষাগৃহমুখী হন এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যতই জনপ্রিয় হোক না কেন বড় পর্দার অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। প্রভাসের এই ছবি প্রমাণ করে দিয়েছে যে স্টার পাওয়ার এখনও একটি বড় ফ্যাক্টর বক্স অফিসে এবং যখন একজন সত্যিকারের সুপারস্টারের ছবি আসে তখন দর্শকরা সব বাধা পেরিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ছুটে আসেন

অনেক ফিল্ম ক্রিটিক এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট এই ঘটনাকে পোস্ট প্যান্ডেমিক যুগে সিনেমা শিল্পের পুনরুত্থানের একটি প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন যে এই ধরনের সাড়া দেখে বোঝা যাচ্ছে যে মানুষ এখনও সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন এবং সঠিক ছবি থাকলে তারা প্রেক্ষাগৃহে যেতে দ্বিধা করেন না। তবে তারা এটাও বলছেন যে এই ধরনের ভিড় এবং উন্মাদনা সামলানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহগুলিকে আরও ভালো ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে

ভক্তদের এই উন্মাদনার পেছনে শুধু প্রভাসের জনপ্রিয়তাই নয় বরং ছবিটির কন্টেন্ট এবং প্রোডাকশন ভ্যালুও একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। ছবিটি একটি বড় বাজেটের প্রোডাকশন যেখানে দুর্দান্ত ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং একটি শক্তিশালী গল্প রয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছে। ট্রেলার এবং টিজারগুলিতে যা দেখানো হয়েছে তা দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সেই প্রত্যাশা পূরণ করতেই ভক্তরা প্রেক্ষাগৃহে ছুটে গিয়েছেন

প্রভাসের ভক্তদের মধ্যে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের অসীম আনুগত্য এবং উৎসর্গ। তারা শুধু ছবি দেখতেই যান না বরং একটি উৎসবের মতো করে ছবিটি উদযাপন করেন। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে ব্যানার পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে ঢোল বাজানো এবং মিষ্টি বিতরণ পর্যন্ত সব কিছুই তারা করে থাকেন প্রিয় তারকার ছবি মুক্তির দিন। এবারও সেই ঐতিহ্য বজায় ছিল এবং অনেক জায়গায় দেখা গেছে ভক্তরা প্রেক্ষাগৃহের বাইরে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছেন

তবে এই উন্মাদনার নেতিবাচক দিকও রয়েছে যা উপেক্ষা করা যায় না। দরজা ভাঙার চেষ্টা এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু কিছু জায়গায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয় এবং প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আরও সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক পরিকল্পনা থাকা অত্যন্ত জরুরি যাতে ভক্তরা নিরাপদে তাদের প্রিয় তারকার ছবি উপভোগ করতে পারেন

অনেক সমাজসেবক এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এই ঘটনার পর মন্তব্য করেছেন যে সিনেমা হলগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত যেমন অনলাইন টিকিটিং বাধ্যতামূলক করা কিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা। তারা বলছেন যে ভক্তদের উৎসাহ স্বাভাবিক এবং প্রশংসনীয় কিন্তু সেই উৎসাহ যেন কারো ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার

news image
আরও খবর

প্রভাসের এই ছবির সফলতা শুধু তার নিজের জন্যই নয় বরং পুরো তেলেগু সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক সিনেমা এখন শুধু আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই বরং সর্বভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমান জনপ্রিয় হতে পারে যদি সঠিক কন্টেন্ট এবং তারকা থাকে। বাহুবলির পর দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে

বক্স অফিস বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে এই ছবি সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে এবং একটি নতুন মাইলফলক তৈরি করবে। প্রথম দিনের কালেকশন থেকে শুরু করে প্রথম সপ্তাহান্তের কালেকশন সব ক্ষেত্রেই ছবিটি নতুন রেকর্ড গড়বে বলে তারা আশা করছেন। এই সফলতা শুধু ভারতেই নয় বরং বিদেশেও বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকায় যেখানে বড় ভারতীয় ডায়াস্পোরা রয়েছে সেখানেও ব্যাপক সাড়া ফেলবে

প্রভাস নিজে এই ভক্তপ্রীতি দেখে অভিভূত হয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি তার ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে এই ভালোবাসা এবং সমর্থনই তাকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে এবং তিনি সবসময় তার ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করবেন। তিনি এটাও বলেছেন যে ভক্তদের উচিত নিরাপদ থাকা এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত উৎসাহ দেখিয়ে নিজেদের বা অন্যদের ক্ষতি না করা

এই পুরো ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারতীয় সিনেমায় স্টারডম এবং ভক্তি কালচার এখনও খুবই শক্তিশালী এবং প্রাসঙ্গিক। ডিজিটাল যুগে এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও মানুষ এখনও তাদের প্রিয় তারকাদের বড় পর্দায় দেখতে চান এবং সেই অভিজ্ঞতার জন্য তারা যে কোনো কষ্ট স্বীকার করতে প্রস্তুত। প্রভাসের এই ছবির সফলতা নতুন প্রজন্মের ফিল্মমেকার এবং অভিনেতাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হবে যারা বুঝবেন যে মানসম্মত কন্টেন্ট এবং দর্শকদের সাথে সংযোগ তৈরি করতে পারলে সফলতা অবশ্যম্ভাবী

 

 

 

 

 

 

 

 

Preview image