Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভাল স্বামী হওয়ার আসল মন্ত্র কী প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার স্বামী নিক জোনাসের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

এক সাক্ষাৎকারে ভাল স্বামী হওয়ার গুণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন নিক জোনাস  প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার স্বামীর সোজাসাপটা উত্তরই মন জিতে নেয় অনুরাগীদের।

? নিক জোনাস–প্রিয়ঙ্কা চোপড়া: ভালবাসা, দায়িত্ব আর আদর্শ দাম্পত্যের গল্প

নিক জোনাস ও প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার জমাটি রসায়ন অনুরাগীদের কাছে নতুন কিছু নয়। বয়সের ব্যবধান, দেশ-সংস্কৃতির পার্থক্য কিংবা কাজের ব্যস্ততা—সব কিছুকে ছাপিয়ে তাঁদের সম্পর্ক আজও সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রে। সমাজমাধ্যমে যুগলের খুনসুটি, একে অপরের কাজে পাশে থাকা কিংবা পারিবারিক মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া—সবটাই যেন প্রমাণ করে দেয়, এই সম্পর্ক শুধুই তারকাদের নয়, বরং দু’জন মানুষের আন্তরিক বন্ধন।

কখনও নিকের কনসার্টে দর্শকাসনে বসে প্রিয়ঙ্কার উদ্দাম নাচ ভাইরাল হয়, আবার কখনও প্রিয়ঙ্কার ফটোশুটে ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর ছবি তুলতে দেখা যায় নিককে। এই ছোট ছোট মুহূর্তই অনুরাগীদের মনে জায়গা করে নেয়। তবে সম্প্রতি এই সম্পর্ক ঘিরে আরও গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্বয়ং নিক জোনাস।


? ‘ভাল স্বামী হওয়া মানে কী?’—সোজাসাপটা নিক জোনাস

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিক জোনাসকে প্রশ্ন করা হয়—কোন কোন গুণ তাঁকে একজন ভাল স্বামী হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে? কোনও ঘুরপথে না গিয়ে নিকের সোজাসাপটা জবাব মন ছুঁয়ে যায় অনুরাগীদের।

নিক বলেন,

“আমার কাছে একজন ভাল স্বামী হওয়ার অর্থ হল নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত হওয়া।”

এই একটি বাক্যেই যেন দাম্পত্য সম্পর্কের মূল সুর বেঁধে দেন নিক। তাঁর মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় বড় কথা বা জাঁকজমক নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট দায়িত্ব পালনই সবচেয়ে জরুরি।


?‍?‍? মেয়ে মালতির জন্য আদর্শ বাবা হওয়ার চেষ্টা

নিক ও প্রিয়ঙ্কার জীবনে তাঁদের কন্যা মালতি মারির আগমন এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। কাজের সূত্রে প্রিয়ঙ্কা যখন ভারতে বা অন্য দেশে ব্যস্ত থাকেন, তখন আমেরিকায় মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব সামলান নিকই। প্রিয়ঙ্কা নিজেও একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন—নিক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেন।

নিকের কথায়,

“আমি আর প্রিয়ঙ্কা একে অপরের সঙ্গে কেমন আচরণ করি, সেটা আমাদের মেয়ে প্রতিদিন দেখছে। ওর চোখের সামনেই আমরা সম্পর্কের মানে তৈরি করছি।”

নিক চান, ভবিষ্যতে তাঁর মেয়ে যেন এমন একজন জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারে, যে তাকে সম্মান করবে, ভালোবাসবে এবং নিরাপদ রাখবে। আর সেই শিক্ষাটা মালতি যেন ছোটবেলা থেকেই পায়—বাবা-মায়ের ব্যবহার দেখেই।


❤️ ‘প্রিয়ঙ্কাকে খুশি রাখা আর নিরাপদ রাখা আমার দায়িত্ব’

সাক্ষাৎকারে নিক আরও বলেন,

“আমি মনে করি, প্রিয়ঙ্কাকে খুশি রাখা, ওকে নিরাপদ রাখাই আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

এই বক্তব্য শুধু একজন স্বামী হিসেবে নয়, একজন পরিণত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে। সম্পর্কের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নিরাপত্তা আর সম্মান—এই তিনটি বিষয়কেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

আজকের দিনে যখন সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর প্রায় নিত্যদিনের শিরোনাম, সেখানে নিকের এই ভাবনা অনুরাগীদের মনে নতুন করে বিশ্বাস জাগায় দাম্পত্য সম্পর্কের উপর।


? বলিউড থেকে হলিউড—ভালবাসার পথচলা

এক সময় হিন্দি সিনেমার দুনিয়ায় নিজের শক্ত জমি তৈরি করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নে তিনি পা রাখেন হলিউডে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ নিক জোনাসের।

দু’জনের বয়সের ব্যবধান প্রায় ১১ বছর। শুরুতে এই বিষয়টি নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়—বয়স নয়, মানসিক মিল আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাই তাঁদের সম্পর্কের আসল ভিত্তি।

নিক নিজেই জানিয়েছেন, মাত্র তিন মাসের আলাপেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন—প্রিয়ঙ্কাই তাঁর জীবনের সঠিক মানুষ। আর সেই সিদ্ধান্তেই কোনও দ্বিধা রাখেননি তিনি।


তিন মাসের সম্পর্কের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত—শুনতে অনেকের কাছেই হয়তো হঠকারী মনে হতে পারে। বিশেষ করে যখন দুই মানুষ দু’টি আলাদা দেশ, সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের প্রতিনিধি। কিন্তু নিক জোনাস ও প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত মোটেই আবেগের বশে নেওয়া কোনও তাড়াহুড়ো ছিল না। বরং তাঁদের সম্পর্কের শুরু থেকেই যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছিল, তা হল খোলামেলা যোগাযোগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা।

নিক ও প্রিয়ঙ্কা দু’জনেই একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সম্পর্কের শুরু থেকেই তাঁরা নিজেদের অনুভূতি, ভয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছু নিয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলেছেন। কোনও কিছু লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি। এই স্বচ্ছতাই তাঁদের সম্পর্ককে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গভীরতা দিয়েছে।

news image
আরও খবর

বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বয়সের ব্যবধান, সংস্কৃতিগত পার্থক্য বা পেশাগত চাপ—এই বিষয়গুলো তাঁদের মাথায় আসেনি, এমন নয়। কিন্তু সেগুলিকে বাধা হিসেবে না দেখে তাঁরা দেখেছিলেন একে অপরের মানুষ হিসেবে কেমন—এই প্রশ্নটাই ছিল তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


❤️ বিয়ের পর সম্পর্কের গভীরতা

বিয়ের পর বহু তারকা দম্পতির সম্পর্ক ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়ার খবর সামনে আসে। কিন্তু নিক ও প্রিয়ঙ্কার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। বিয়ের পর তাঁদের সম্পর্ক আরও পরিণত হয়েছে, আরও দৃঢ় হয়েছে।

ব্যস্ত শিডিউল, আলাদা আলাদা দেশে কাজ—সবকিছুর মধ্যেও তাঁরা সময় বের করে একে অপরের পাশে থেকেছেন। কখনও প্রিয়ঙ্কার শুটিং সেটে হাজির নিক, কখনও আবার নিকের কনসার্টে দর্শকাসনে বসে প্রিয়ঙ্কার উচ্ছ্বাস—এই ছোট ছোট মুহূর্তই তাঁদের দাম্পত্যকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, উৎসব একসঙ্গে উদযাপন করা কিংবা নিছক বাড়িতে বসে সাধারণ দিন উপভোগ করা—এই সবকিছুকেই তাঁরা সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের দাম্পত্যে কোনও কৃত্রিমতা নেই, বরং রয়েছে বাস্তব জীবনের ছোঁয়া।


?‍?‍? বাবা-মা হিসেবে নতুন অধ্যায়

মেয়ে মালতি মারির জন্মের পর নিক ও প্রিয়ঙ্কার জীবন নতুন অর্থ পেয়েছে। বাবা-মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। কাজের সূত্রে প্রিয়ঙ্কা যখন ভারতে বা অন্য দেশে থাকেন, তখন মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব একাই সামলান নিক।

প্রিয়ঙ্কা নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, নিক খুব স্বাভাবিক ও দক্ষ হাতে বাবার দায়িত্ব পালন করেন। মেয়ের স্কুল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন রুটিন—সবকিছুর দিকে সমান নজর রাখেন তিনি।

নিকের মতে, সন্তান বড় করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বাবা-মায়ের সম্পর্ক। তিনি বিশ্বাস করেন, মালতি প্রতিদিন দেখছে তাঁর বাবা-মা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, কীভাবে আচরণ করেন। আর সেখান থেকেই সে ভবিষ্যতের সম্পর্ক সম্পর্কে ধারণা তৈরি করবে।


? সমাজমাধ্যমে বাস্তব দাম্পত্যের ছবি

নিক–প্রিয়ঙ্কা দম্পতির আরেকটি আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে সমাজমাধ্যমে। তাঁরা কখনওই নিখুঁত, সাজানো সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করেননি। বরং বাস্তব জীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ-উদযাপন—সবটাই অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

কখনও প্রিয়ঙ্কার কাজের সাফল্যে নিকের গর্বিত পোস্ট, কখনও আবার নিকের মিউজিক্যাল জার্নিতে প্রিয়ঙ্কার উৎসাহ—এই আন্তরিক মুহূর্তগুলিই তাঁদের সম্পর্ককে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

অনুরাগীরা তাঁদের শুধু তারকা হিসেবে দেখেন না, বরং একজন স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা হিসেবেও আপন করে নেন। এই স্বাভাবিকতাই তাঁদের জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় কারণ।


? দাম্পত্যে সম্মান ও বোঝাপড়ার গুরুত্ব

নিক জোনাসের বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে একটি শব্দ—সম্মান। তাঁর মতে, ভাল স্বামী হওয়া মানে শুধু ভালোবাসা প্রকাশ করা নয়, বরং নিজের সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, তাঁর কাজকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকা।

প্রিয়ঙ্কার আন্তর্জাতিক কেরিয়ার অত্যন্ত ব্যস্ত। কখনও শুটিং, কখনও প্রোমোশন, কখনও আবার নতুন প্রজেক্ট—এই চাপের মধ্যেও নিক কখনও তাঁর স্বাধীনতায় বাধা হয়ে দাঁড়াননি। বরং সবসময় পাশে থেকে তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন।

নিক মনে করেন, সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া না থাকলে ভালোবাসা টিকে থাকে না। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাঁরা একে অপরের কথা শোনেন, আলোচনা করেন এবং তারপর এগোন।


? সংস্কৃতি ও পার্থক্যকে শক্তিতে রূপান্তর

নিক ও প্রিয়ঙ্কার সম্পর্কের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল সাংস্কৃতিক পার্থক্য। ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে ওঠা দু’জন মানুষ কীভাবে নিজেদের জীবনে ভারসাম্য এনেছেন, তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে উৎসব পালন—সব ক্ষেত্রেই তাঁরা দু’জনের সংস্কৃতিকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে তাঁদের সম্পর্ক আরও সমৃদ্ধ হয়েছে, আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।


✨ উপসংহার: আধুনিক দাম্পত্যের বাস্তব উদাহরণ

নিক জোনাস ও প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার দাম্পত্য শুধুই তারকাদের প্রেমকাহিনি নয়। এটি আধুনিক সম্পর্কের এক বাস্তব, পরিণত ও অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ। নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা, সম্মান আর দায়িত্ববোধ—এই কয়েকটি গুণ যে কোনও সম্পর্ককে শক্ত ভিত দেয়, তা তাঁদের জীবন থেকেই স্পষ্ট।

একজন স্বামী হিসেবে প্রিয়ঙ্কার পাশে থাকা, একজন বাবা হিসেবে মালতির জন্য আদর্শ হয়ে ওঠার চেষ্টা—সব মিলিয়ে নিক জোনাস আজ শুধু একজন সফল শিল্পী নন, বরং অনেকের চোখে একজন আদর্শ জীবনসঙ্গী।

এই দম্পতির গল্প মনে করিয়ে দেয়—ভালবাসা মানে শুধু অনুভূতি নয়, বরং প্রতিদিনের দায়িত্ব, সম্মান আর একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি।

Preview image