Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘অমিতজি এ বার রেখাজিকে বিয়ে করে নিয়ে আসুন, দুটো বউ থাকতেই পারে’, জয়াকে নিয়েও প্রকাশ্যে খোঁচা!

১৯৭৩ সালের ৩ জুন বিয়ে হয়েছিল অমিতাভ ও জয়ার। ১৯৭৬ সালে ‘দো অনজানে’ ছবির সেটে অমিতাভ ও রেখার আলাপ এবং শোনা যায় তাঁরা সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন।অনেক হয়েছে, এ বার রেখাকেও নিজের কাছে নিয়ে আসা উচিত অমিতাভ বচ্চনের! এমনই ‘অদ্ভুত’ দাবি করলেন রাখি সাওয়ন্ত। জয়া বচ্চনের সঙ্গে বিগ বি-কে একেবারেই মানায় না, এমন মন্তব্যও করলেন তিনি। কিন্তু কেন?

১৯৭৩ সালের ৩ জুন বিয়ে হয়েছিল অমিতাভ ও জয়ার। ১৯৭৬ সালে ‘দো অনজানে’ ছবির সেটে অমিতাভ ও রেখার আলাপ এবং শোনা যায় তাঁরা সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। তবে প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা তাঁরা স্বীকার করেননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাখি বলেন, “রেখাজির ভাগ্যে অমিতজি ছিলেনই না। কিন্তু উনি এখনও অমিতজির নামে সিঁদুর পরেন। অমিতাভজি কেন যে জয়াজিকে বেছে নিলেন, আমি বুঝি না। উনি কী ঝগড়া করেন! রেখাজি কী সুন্দর ও মার্জিত।”

অমিতাভের মতো তারকাকে বিয়ে করেও কেন সাজগোজ করেন না জয়া? সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিতর্কিত অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “জয়াজি একটি ভাল সালোয়ার কামিজ় পর্যন্ত পরেন না।” রাখির বক্তব্য, জন্মদিনে তাঁকে জয়া বচ্চনের নিমন্ত্রণ করা উচিত। তা হলে তিনি একটি ভাল সালোয়ার কামিজ় উপহার দেবেন। জয়াকে ধূসর চুলে রং করার এবং মুখে বোটক্স করার পরামর্শও দিয়েছেন রাখি। অমিতাভের কাছে তাঁর আর্জি, “অমিতজি, আপনি রেখাজিকে এ বার নিজের কাছে নিয়ে আসুন। আজকাল সবার দুটো করে বউ। একটাই তো জীবন। আপনি কেন আমাদের রেখাজিকে একা ছেড়ে দিলেন?”

রাখির চোখে, অমিতাভ ও রেখাকে নাকি রাজা-রানির মতো দেখতে লাগে। জয়াকে নাকি মানায়ই না সেখানে। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা রাজনীতিবিদকে একেবারেই পছন্দ করেন না বলেও জানিয়ে দেন রাখি। তবে এই সব মন্তব্যে কান দেন না অমিতাভ, জয়া বা রেখা কেউই। নেটাগরিকও রাখির মন্তব্য নিয়ে বলেছেন, “বরাবরের মতো দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন উনি। পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই।”

বলিউডে বিতর্ক যেন রাখি সাওয়ান্তের নিত্যসঙ্গী। কখনও ব্যক্তিগত জীবন, কখনও সহকর্মী, কখনও আবার সিনিয়র তারকাদের নিয়েও মন্তব্য করে বারবার শিরোনামে উঠে আসেন তিনি। সম্প্রতি আবারও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—এ বার তাঁর মন্তব্যের নিশানায় বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জয়া বচ্চন এবং সেই সূত্রেই উঠে এসেছে অমিতাভ বচ্চন ও রেখার বহু পুরনো সম্পর্কের গুঞ্জন।

অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন এবং রেখা—এই তিন নাম বলিউড ইতিহাসে এক বিশেষ আবেগ, কৌতূহল এবং বিতর্কের জায়গা দখল করে আছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বিতর্ক স্তিমিত হয়েছে, তবু মাঝেমধ্যে তা আবার উসকে ওঠে বিভিন্ন মন্তব্যে, গুঞ্জনে বা মিডিয়ার আলোচনায়। রাখি সাওয়ান্তের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো আগুনেই যেন নতুন করে ঘি ঢেলেছে।

রাখির বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল জয়া বচ্চনের ব্যক্তিত্ব, জীবনযাপন ও সাজগোজ। তাঁর কথায়, অমিতাভ বচ্চনের মতো একজন সুপারস্টারকে বিয়ে করার পরও জয়া নাকি নিজেকে সেইভাবে উপস্থাপন করেন না, যেমনটা একজন তারকা-স্ত্রীর ক্ষেত্রে অনেকেই প্রত্যাশা করেন। তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন—
“জয়াজি একটি ভাল সালোয়ার কামিজ় পর্যন্ত পরেন না।”

এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে অনেকের কাছেই অসম্মানজনক বলে মনে হয়েছে। কারণ জয়া বচ্চন বরাবরই পরিচিত তাঁর সরল, মার্জিত ও সংযত ব্যক্তিত্বের জন্য। তিনি কখনও অতিরিক্ত গ্ল্যামার, জাঁকজমক বা প্রদর্শনীর মধ্যে নিজেকে মেলে ধরতে চাননি। বরং শাড়ি, হালকা অলংকার, প্রাকৃতিক চুল—এই স্বাভাবিক রূপেই তাঁকে দেখা যায় অধিকাংশ সময়।

কিন্তু রাখি সাওয়ান্তের মতে, এই সরলতাই নাকি সমস্যার। তিনি আরও বলেন, জয়া বচ্চনের জন্মদিনে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত। কেন? কারণ তিনি নাকি উপহার হিসেবে একটি “ভাল সালোয়ার কামিজ়” দেবেন, যাতে জয়া নিজেকে আরও “সাজিয়ে” তুলতে পারেন।

শুধু পোশাকেই থামেননি রাখি। তিনি জয়ার ধূসর চুল নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর পরামর্শ—জয়া বচ্চনের চুলে রং করা উচিত, এবং প্রয়োজনে মুখে বোটক্সও করা উচিত। অর্থাৎ বয়সের ছাপ ঢাকতে কসমেটিক প্রক্রিয়ার সাহায্য নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এই মন্তব্য আরও বিতর্ক উসকে দেয়। কারণ অনেকেই মনে করেন—জয়া বচ্চন ইচ্ছে করেই নিজের স্বাভাবিক বয়স, চুলের রং, চেহারা—সবকিছুকেই গ্রহণ করেছেন। তিনি কখনও “চিরযৌবনা” ইমেজ তৈরির চেষ্টা করেননি। বরং তাঁর ব্যক্তিত্বের শক্তি, অভিজ্ঞতা ও মর্যাদাই তাঁকে আলাদা করে।

কিন্তু রাখির বক্তব্য এখানেই থামেনি। তিনি প্রসঙ্গ টেনে আনেন অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সম্পর্কের পুরনো গুঞ্জন। একসময় বলিউডে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। যদিও কেউই প্রকাশ্যে সে বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি, তবু জনমনে সেই জল্পনা আজও রয়ে গেছে।

রাখি সরাসরি অমিতাভ বচ্চনের উদ্দেশে বলেন—
“অমিতজি, আপনি রেখাজিকে এ বার নিজের কাছে নিয়ে আসুন। আজকাল সবার দুটো করে বউ। একটাই তো জীবন। আপনি কেন আমাদের রেখাজিকে একা ছেড়ে দিলেন?”

এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও বিতর্কিত। কারণ এটি শুধু একটি পুরনো গুঞ্জনকে উসকে দেয় না, বরং তিনজন বর্ষীয়ান শিল্পীর ব্যক্তিগত মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

রাখির চোখে নাকি অমিতাভ ও রেখাকে “রাজা-রানির মতো” দেখতে লাগে। তাঁদের জুটি নাকি পর্দায় যেমন মানাত, বাস্তবেও তেমন মানায়। সেই তুলনায় জয়া বচ্চনকে নাকি মানায় না—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এই বক্তব্য অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর লেগেছে। কারণ জয়া বচ্চন শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি একজন সাংসদ, একজন প্রবীণ শিল্পী, এবং বচ্চন পরিবারের স্তম্ভস্বরূপ ব্যক্তিত্ব। তাঁকে এভাবে তুলনা করা বা হেয় করা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—এই সমস্ত মন্তব্যের কোনও জবাব দেননি অমিতাভ, জয়া বা রেখা—তিনজনের কেউই।

এটাই তাঁদের ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক বলেই মনে করেন অনেকেই। দীর্ঘদিনের তারকাজীবনে তাঁরা অসংখ্য বিতর্ক, গুঞ্জন, সমালোচনা দেখেছেন। তাই অপ্রয়োজনীয় মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া না দেওয়াকেই তাঁরা শ্রেয় মনে করেন।

নেটাগরিকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ রাখির মন্তব্যের সমালোচনা করেন। কেউ লেখেন—
“বরাবরের মতো দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা।”
আবার কেউ বলেন—
“সম্মান করতে শিখুন সিনিয়রদের।”

news image
আরও খবর

অনেকেই মনে করেন, রাখি ইচ্ছাকৃতভাবেই বিতর্ক তৈরি করেন মিডিয়ার নজরে থাকার জন্য। কারণ বিতর্ক মানেই শিরোনাম, আর শিরোনাম মানেই দৃশ্যমানতা।

তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও রয়েছে। বলিউডে নারীর সাজগোজ, বয়স, সৌন্দর্য—এসব নিয়ে সমাজের প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। একজন অভিনেত্রী বয়স বাড়ার পর কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন—তা নিয়েও বিচার হয়।

এই প্রেক্ষিতে জয়া বচ্চন একটি আলাদা উদাহরণ। তিনি বয়স লুকোন না, গ্ল্যামার চাপিয়ে দেন না, নিজেকে বদলান না। তাঁর কাছে স্বাভাবিকতা ও মর্যাদাই প্রধান।

অনেকেই মনে করেন—এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে আরও সম্মানীয় করে তোলে।

অন্যদিকে রেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারা। তিনি আজও গ্ল্যামারাস, সেজে ওঠেন, চিরসবুজ ইমেজ ধরে রেখেছেন। দু’জনের জীবনদর্শন আলাদা—কিন্তু দু’জনই নিজ নিজ জায়গায় সফল।

সমস্যা হয় তখনই, যখন তুলনা শুরু হয়।

রাখির মন্তব্য সেই তুলনাকেই উসকে দিয়েছে। যেন একজনকে উঁচুতে তুলতে গিয়ে অন্যজনকে ছোট করা হয়েছে।

অমিতাভ বচ্চনের অবস্থানও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কখনও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেন না। তাঁর পেশাদারিত্ব, নীরবতা ও সংযমই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

এই ঘটনার পর অনেকেই লিখেছেন—
“বচ্চন পরিবার নীরব থেকেও সম্মান রক্ষা করতে জানে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি মত উঠে এসেছে—
“জয়া বচ্চনের সরলতা ইচ্ছাকৃত। সেটাই তাঁর শক্তি।”

আসলে বলিউডে গ্ল্যামারই সব নয়। ব্যক্তিত্ব, কাজ, মর্যাদা—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জয়া বচ্চনের দীর্ঘ অভিনয়জীবন, জাতীয় পুরস্কার, সাংসদ হিসেবে ভূমিকা—এসব তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ।

রাখির মন্তব্য সেই পরিচয়কে আঘাত করেছে বলেই মনে করেন অনেকে।

তবে রাখি সাওয়ান্তের চরিত্রটাই এমন—তিনি চুপ থাকেন না। তিনি যা ভাবেন, তা বলেন—ফিল্টার ছাড়া। কেউ এটাকে সাহস বলেন, কেউ বলেন প্রচারের কৌশল।

কিন্তু এও সত্যি—এমন মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করে, আবেগে আঘাত দেয়, এবং অপ্রয়োজনীয় তুলনা বাড়ায়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকে যায়—
একজন নারীর সাজগোজ কি তাঁর মর্যাদার মাপকাঠি?
বয়সকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা কি ভুল?
নাকি সমাজ এখনও নারীদের “চিরযৌবনা” দেখতেই বেশি স্বচ্ছন্দ?

এই বিতর্ক শুধু ব্যক্তিগত নয়—সামাজিকও।

রাখির মন্তব্য হয়তো সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যাবে।
কিন্তু জয়া বচ্চনের ব্যক্তিত্ব, সংযম, মর্যাদা—তা থেকেই যাবে।

আর সেই কারণেই হয়তো—
সমালোচনার জবাব না দিয়েও
তিনি নিজের জায়গায় অটল থাকেন।

Preview image