বলিউডে গুঞ্জন ধুম ৪ এ কি খলচরিত্রে রণবীর কপূর ভিলেনদের ঐতিহ্যেই কি নতুন চমক আনছে যশরাজ।
বলিউডের ইতিহাসে খুব কম ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে, যেখানে নায়কের থেকেও বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন খলনায়করা। ‘ধুম’ ঠিক তেমনই একটি সিরিজ। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি থেকেই দর্শক বুঝে গিয়েছিলেন—এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রাণ লুকিয়ে আছে এর স্টাইলিশ, বুদ্ধিদীপ্ত ও রহস্যময় খলচরিত্রগুলির মধ্যেই।
যদিও প্রতিটি ছবিতেই অভিষেক বচ্চনের পুলিশ চরিত্র ছিল কেন্দ্রীয়, তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ধুম’ মানেই হয়ে উঠেছে দুর্ধর্ষ ভিলেন, চোখধাঁধানো স্টান্ট আর স্মরণীয় উপস্থিতি।
২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধুম’-এ খলনায়কের চরিত্রে জন আব্রাহামের অভিনয় ছিল একেবারে আলাদা মাত্রার। স্টাইলিশ বাইক, লেদার জ্যাকেট, নীরব অথচ ভয়ংকর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে জন তৈরি করেছিলেন এমন এক ভিলেন, যিনি নায়কের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
বক্সঅফিসে ছবিটি বিপুল সাফল্য পায় এবং ‘ধুম’ হয়ে ওঠে যশরাজ ফিল্মসের অন্যতম আইকনিক ব্র্যান্ড। সেই সঙ্গে বলিউডে শুরু হয় “স্টাইলিশ ভিলেন” ট্রেন্ড।
২০০৬ সালে মুক্তি পায় ‘ধুম ২’। এই ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে হৃতিক রোশনের অভিনয় ‘ধুম’ সিরিজকে একেবারে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। আরিয়ান চরিত্রে হৃতিকের ফিজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন, ক্যারিশমা এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টান্ট দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এই ছবির আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল হৃতিক ও ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের রসায়ন। বলিউডে খুব কম ছবিতেই খলনায়ক ও তার সঙ্গীর সম্পর্ক এতটা স্টাইলিশভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বক্সঅফিসে ‘ধুম ২’ শুধুই সফল নয়, বরং সুপারহিটে পরিণত হয়।
২০১৩ সালে আসে ‘ধুম ৩’। দীর্ঘ অপেক্ষার পর খলনায়কের চরিত্রে দেখা যায় আমির খানকে। যমজ চরিত্র, আবেগ, সার্কাসের পটভূমি—সব মিলিয়ে ছবি তৈরির পরিসর ছিল বিশাল।
বক্সঅফিসে ছবিটি ভালো ব্যবসা করলেও, সমালোচকদের মতে—
চিত্রনাট্য দুর্বল ছিল
ভিলেন চরিত্রটি আগের মতো আইকনিক হয়ে উঠতে পারেনি
‘ধুম’ ব্র্যান্ডের স্টাইলিশ ধারাটা কিছুটা হারিয়ে গিয়েছিল
এই কারণেই ‘ধুম ৩’ আগের দুই ছবির মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারেনি।
‘ধুম ৩’-এর পর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৩ বছর। এত বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির চতুর্থ কিস্তি এখনও আলোর মুখ দেখেনি—এটাই অনেকের কাছে প্রশ্ন।
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের দাবি অনুযায়ী—
যশরাজ ফিল্মস এই সময়ের মধ্যে ৯টি চিত্রনাট্য বাতিল করেছে
আদিত্য চোপড়া কোনও ভাবেই গড়পড়তা গল্পে সিলমোহর দিতে রাজি নন
আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন ও শক্তিশালী ভিলেন ছাড়া ‘ধুম ৪’ বানাতে চান না নির্মাতারা
এই কারণেই এত দীর্ঘ সময় ধরে ছবিটি শুধু পরিকল্পনার স্তরেই রয়ে গিয়েছে।
বলিউডে এখন যে ক’জন অভিনেতা চরিত্রের গভীরতা, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং নেগেটিভ শেড অনায়াসে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, রণবীর কপূর তাঁদের অন্যতম।
‘রকস্টার’, ‘বারফি’, ‘সঞ্জু’, ‘অ্যানিম্যাল’—এই ছবিগুলিতে তিনি প্রমাণ করেছেন, শুধুমাত্র নায়ক নয়, জটিল চরিত্রেও তিনি অনবদ্য।
ইন্ডাস্ট্রির কানাঘুষো বলছে—
‘ধুম’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পোক্ত অভিনয় ক্ষমতা প্রয়োজন
খলচরিত্রটিকে হতে হবে ক্যারিশমাটিক অথচ ভয়ংকর
রণবীর এই দুই দিকই সামলাতে পারেন
তাই নির্মাতাদের ভাবনায় তাঁর নাম উঠে আসছে।
এখনও পর্যন্ত সবটাই সূত্রের দাবি। যশরাজ ফিল্মস বা রণবীর—কেউই আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু ঘোষণা করেননি।
এছাড়াও বাস্তব কিছু সমস্যা রয়েছে—
রণবীর বর্তমানে ব্যস্ত সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘লভ অ্যান্ড ওয়ার’
নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’
পরে রয়েছে সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গার ‘অ্যানিম্যাল পার্ক’
এই ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যে ‘ধুম ৪’ যুক্ত করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
রণবীর ও যশরাজের সম্পর্ক নতুন নয়। ‘শামশেরা’ ছবিতে তিনি যশরাজ ব্যানারে কাজ করেছিলেন। কিন্তু সেই ছবি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।
ইন্ডাস্ট্রি মহলের একাংশের মতে—
যশরাজ নতুন করে ঝুঁকি নিতে চাইছে না
‘ধুম ৪’-এর মতো বড় প্রজেক্টে অতীতের ব্যর্থতা মাথায় রাখতেই হবে
এই কারণেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় লাগছে।
‘ধুম’ মানেই স্টাইলিশ খলনায়ক—এই ঐতিহ্য ভাঙতে নারাজ যশরাজ ফিল্মস। জন আব্রাহাম থেকে হৃতিক রোশন, আমির খান—প্রতিটি অধ্যায়েই ভিলেনরাই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে।
১৩ বছর ধরে চিত্রনাট্য ঘষেমেজে তৈরি করার পেছনে একটাই লক্ষ্য—‘ধুম ৪’-কে আগের গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া।
রণবীর কপূর সেই খলনায়ক হবেন কি না, তা এখনও সময়ই বলবে। তবে বলিউডে যে এই জল্পনা ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
এই মুহূর্তে ‘ধুম ৪’ ঘিরে যত জল্পনা, তার কেন্দ্রে রয়েছেন রণবীর কপূর। তবে প্রশ্ন একটাই—এই খবর কতটা নিশ্চিত? বাস্তবতা হল, এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। যশরাজ ফিল্মস বা রণবীর কপূর—দু’পক্ষের কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফলে গোটা বিষয়টাই আপাতত ইন্ডাস্ট্রির সূত্রনির্ভর গুঞ্জনের পর্যায়ে রয়েছে।
বলিউডে এই ধরনের বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে সাধারণত চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্মাতারা মুখ খোলেন না। বিশেষ করে যশরাজ ফিল্মসের মতো প্রযোজনা সংস্থা খুব পরিকল্পিতভাবেই তথ্য প্রকাশ করে। তাই নিশ্চিত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত রণবীর কপূরের নামকে সম্ভাব্য তালিকার বাইরে বা ভেতরে—কোনও ভাবেই ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না।
রণবীর কপূরের কেরিয়ারের এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একের পর এক বড় বাজেটের, উচ্চাভিলাষী ছবিতে তিনি যুক্ত। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই ব্যস্ততার মাঝে ‘ধুম ৪’-এর মতো একটি বিশাল প্রজেক্ট আদৌ জায়গা পাবে কি না।
বর্তমানে রণবীর যে ছবিগুলিতে ব্যস্ত—
ভন্সালীর ছবি মানেই দীর্ঘ শুটিং, নিখুঁত পারফরম্যান্স আর কঠোর সময়সীমা। এই প্রজেক্টে যুক্ত থাকা মানে শারীরিক ও মানসিক—দু’দিক থেকেই বড় প্রস্তুতি।
এই ছবি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি মেগা ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে পরিকল্পিত। চরিত্র প্রস্তুতি, ভিএফএক্স শিডিউল, আন্তর্জাতিক মানের কাজ—সব মিলিয়ে সময়সাপেক্ষ প্রজেক্ট।
‘অ্যানিম্যাল’-এর সাফল্যের পর এই সিক্যুয়েল নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। রণবীর নিজেও এই চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান বলে খবর।
এই তিনটি ছবির মধ্যেই তাঁর ক্যালেন্ডার কার্যত ভর্তি। এমন পরিস্থিতিতে ‘ধুম ৪’-এর মতো শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং ও দীর্ঘ শুটিংয়ের ছবিতে যুক্ত হওয়া বাস্তবিকই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
‘ধুম ৩’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৩ সালে। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৩ বছর। এই দীর্ঘ অপেক্ষার কারণ শুধুই অভিনেতা নির্বাচন নয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যশরাজ ফিল্মস এখনও পর্যন্ত ৯টি চিত্রনাট্য প্রত্যাখ্যান করেছে।
আদিত্য চোপড়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আর পাঁচটা সিক্যুয়েলের মতো দেখতে চান না। তাঁর লক্ষ্য—
আন্তর্জাতিক মানের গল্প
আগের অংশগুলিকে ছাপিয়ে যাওয়া ভিলেন
স্টাইল ও অ্যাকশনের নতুন ভাষা
এই উচ্চ মানদণ্ডের কারণেই চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করতে এত সময় লাগছে। এমন অবস্থায় অভিনেতা নির্বাচনও পিছিয়ে যাচ্ছে।
রণবীর কপূর ও যশরাজ ফিল্মসের সম্পর্ক নতুন নয়। ‘শামশেরা’ ছবিতে এই দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করেছিল। তবে ছবিটি বক্সঅফিসে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি। বরং তা যশরাজের সাম্প্রতিক বড় ব্যর্থতার তালিকায় জায়গা করে নেয়।
এই ব্যর্থতা কি ‘ধুম ৪’-এর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে?
ইন্ডাস্ট্রি মহলের একাংশের মতে—
যশরাজ এখন ঝুঁকি নিতে অত্যন্ত সতর্ক
‘ধুম ৪’-এর মতো আইকনিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কোনও রকম পরীক্ষানিরীক্ষা করতে চাইছে না প্রযোজনা সংস্থা
অতীতের বক্সঅফিস পারফরম্যান্সও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে
তবে অন্য একটি মতও রয়েছে। অনেকেই বলছেন, ‘শামশেরা’ ব্যর্থ হলেও রণবীরের অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। বরং ছবির চিত্রনাট্য ও উপস্থাপনই দায়ী ছিল। ফলে শুধুমাত্র একটি ব্যর্থ ছবির কারণে রণবীরকে ‘ধুম ৪’ থেকে বাদ দেওয়া হবে—এমনটা ভাবাও ঠিক নয়।
‘ধুম’ সিরিজের ইতিহাস বলছে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আসল নায়ক খলনায়কই। জন আব্রাহাম, হৃতিক রোশন বা আমির খান—প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে ভিলেন চরিত্রকে আইকনিক করে তুলেছেন।
এই কারণেই ‘ধুম ৪’-এর ক্ষেত্রে যশরাজ এমন একজন অভিনেতাকে খুঁজছে—
যিনি স্টাইলিশ
শারীরিকভাবে ফিট
মানসিকভাবে জটিল চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম
রণবীর কপূর এই মানদণ্ডে কতটা উপযুক্ত? তাঁর সাম্প্রতিক কাজ দেখলে বলা যায়, তিনি যে কোনও ছাঁচ ভাঙতে সক্ষম। ‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো চরিত্রে তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন। ফলে ‘ধুম ৪’-এর খলনায়ক হিসেবে তাঁর নাম ওঠা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।
সব মিলিয়ে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট—
চিত্রনাট্য এখনও চূড়ান্ত নয়
রণবীরের শিডিউল অত্যন্ত ব্যস্ত
যশরাজ ফিল্মস কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না
‘ধুম’ ব্র্যান্ডের গৌরব বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য
এই সমস্ত কারণ একসঙ্গে কাজ করায় সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় লাগছে।
‘ধুম’ মানেই স্টাইলিশ খলনায়ক—এই ঐতিহ্য ভাঙতে নারাজ যশরাজ ফিল্মস। জন আব্রাহাম থেকে হৃতিক রোশন, আমির খান—প্রতিটি অধ্যায়েই ভিলেনরাই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে।
১৩ বছর ধরে চিত্রনাট্য ঘষেমেজে তৈরি করার পেছনে একটাই লক্ষ্য—‘ধুম ৪’-কে তার পুরনো গৌরবে ফিরিয়ে আনা। সেই যাত্রায় রণবীর কপূর কি শেষ পর্যন্ত খলনায়কের ভূমিকায় থাকবেন, না কি অন্য কোনও চমক অপেক্ষা করছে—তা এখনও সময়ই বলবে।
তবে এক কথা নিশ্চিত, বলিউডে ‘ধুম ৪’ নিয়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিচ্ছে—এই ফ্র্যাঞ্চাইজির আবেদন আজও অটুট।