Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মঙ্গলের প্রাচীন জলপথে অপ্রত্যাশিত এক ধাতু পেলেন বিজ্ঞানীরা অতীতে প্রাণ ছিল লাল গ্রহে আরও জোরালো ধারণা

পৃথিবীর পড়শি গ্রহটিতে এই বিশেষ ধাতুর অস্তিত্ব কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়। তবে কৌতূহলের বিষয় হল, এ বার যেখানে তা পাওয়া গিয়েছে, যে পরিমাণে এবং যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, সেটি অপ্রত্যাশিত।

মঙ্গলের প্রাচীন জলপথে অপ্রত্যাশিত এক ধাতু পেলেন বিজ্ঞানীরা অতীতে প্রাণ ছিল লাল গ্রহে আরও জোরালো ধারণা
Planetary Science

পৃথিবীর পড়শি লাল গ্রহ মঙ্গলকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল বহু শতাব্দী পুরোনো। আকাশে লালচে রঙের এই গ্রহটি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের নজর কেড়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলগ্রহকে নিয়ে গবেষণা আরও গভীর হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক দশকে মহাকাশযান, রোভার এবং স্যাটেলাইট পাঠিয়ে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের মাটি, জলবায়ু, ভূতত্ত্ব এবং রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য একটাই—মঙ্গলগ্রহে কখনও প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, অথবা ভবিষ্যতে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব তৈরি করা সম্ভব কি না।

সম্প্রতি মঙ্গলগ্রহের একটি প্রাচীন জলপথে বিপুল পরিমাণ নিকেল আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই আবিষ্কারকে ঘিরে গবেষকদের আগ্রহ বেড়েছে কয়েকগুণ। কারণ, মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এই ধাতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি মঙ্গলে অতীতের পরিবেশ, জলপ্রবাহ এবং সম্ভাব্য প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সন্ধান: দীর্ঘ দিনের গবেষণা

মঙ্গলগ্রহকে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি ‘বাসযোগ্য’ গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। পৃথিবীর মতোই মঙ্গলগ্রহে একসময় জল ছিল, নদী ছিল, হ্রদ ছিল—এমন প্রমাণ ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন মহাকাশ মিশনের মাধ্যমে দেখা গেছে, মঙ্গলের পৃষ্ঠে এমন অনেক চিহ্ন রয়েছে যা প্রাচীন জলপ্রবাহের অস্তিত্বের কথা বলে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলগ্রহের পরিবেশ বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ ও আর্দ্র ছিল। সেই সময় সেখানে তরল জল প্রবাহিত হত এবং হয়তো অণুজীবের মতো প্রাথমিক প্রাণের অস্তিত্বও থাকতে পারত। পৃথিবীতে যেমন অণুজীবের মাধ্যমে জীবনের সূচনা হয়েছিল, তেমনই মঙ্গলেও কোনও এক সময় জীবনের সূচনা হতে পারে—এই ধারণাই বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

নেরেতভা উপত্যকার গুরুত্ব

মঙ্গলগ্রহের নেরেতভা উপত্যকা বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এটি প্রাচীন একটি জলপথ, যা একসময় জেজ়েরো ক্রেটার অঞ্চলে জল বয়ে নিয়ে যেত। জেজ়েরো ক্রেটারকে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন, কারণ এই অঞ্চলটিকে একসময় প্রাচীন হ্রদ বা নদীর ডেল্টা বলে মনে করা হয়।

এই অঞ্চলে আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও শিলার সন্ধান মিলেছিল, যা জলপ্রবাহের প্রমাণ বহন করে। কিন্তু এবার যে পরিমাণে নিকেল পাওয়া গিয়েছে, তা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। কারণ, নিকেল সাধারণত আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, উল্কাপিণ্ডের আঘাত অথবা গভীর রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জমা হয়।

এই কারণে নেরেতভা উপত্যকায় নিকেলের উচ্চ ঘনত্ব পাওয়া যাওয়া মঙ্গলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নিকেলের উপস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ

নিকেল একটি ধাতু, যা পৃথিবীতে নানা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। আগ্নেয়গিরির লাভা, উল্কাপিণ্ডের আঘাত, বা গভীর ভূগর্ভস্থ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে নিকেলের জমা হতে পারে।

মঙ্গলগ্রহে নিকেলের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন অঞ্চলে নিকেলের সন্ধান মিলেছে। কিন্তু এবার যে বিষয়টি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছে, তা হল—নিকেলের অবস্থান এবং ঘনত্ব।

প্রাচীন জলপথের মধ্যে এত বেশি পরিমাণ নিকেল পাওয়া যাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, ওই অঞ্চলে একসময় জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলেছিল। জল, খনিজ এবং শিলার মধ্যে পারস্পরিক বিক্রিয়ার ফলে নিকেল জমা হতে পারে। এই ধরনের পরিবেশ পৃথিবীতে অণুজীবের জন্মের জন্য সহায়ক বলে মনে করা হয়।

প্রাচীন জলপথের রাসায়নিক ইতিহাস

নেরেতভা উপত্যকার আবিষ্কার মঙ্গলের প্রাচীন রাসায়নিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই অঞ্চলে একসময় জলপ্রবাহ ছিল, যা বিভিন্ন খনিজ ও ধাতুকে এক জায়গায় জমা করেছিল।

জল যখন শিলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা বিভিন্ন খনিজকে দ্রবীভূত করে এবং অন্য জায়গায় জমা করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিকেল এবং অন্যান্য ধাতু জমা হতে পারে।

এই ধরনের রাসায়নিক পরিবর্তন পৃথিবীতেও দেখা যায়, বিশেষ করে সমুদ্রের তলদেশে বা আগ্নেয়গিরির আশেপাশে। সেখানে অণুজীব জন্মানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে মঙ্গলেও এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে।

প্রাণের ইঙ্গিত কি সত্যিই মিলছে?

নিকেল পাওয়া মানেই যে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল, তা কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জীবনের জন্য তিনটি প্রধান উপাদান দরকার—জল, শক্তির উৎস এবং রাসায়নিক উপাদান। মঙ্গলগ্রহে জল ছিল, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ ছিল এবং বিভিন্ন ধাতু ও খনিজও রয়েছে।

এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে থাকলে অণুজীবের জন্ম হতে পারে। পৃথিবীতে গভীর সমুদ্রের নিচে, আগ্নেয়গিরির আশেপাশে এমন পরিবেশে অণুজীবের অস্তিত্ব দেখা গেছে।

তাই নিকেলের উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের আশা জাগাচ্ছে যে, মঙ্গলের ওই অঞ্চলে একসময় জীবনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে পারে।

জেজ়েরো ক্রেটার: গবেষণার কেন্দ্র

জেজ়েরো ক্রেটার মঙ্গলগ্রহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার কেন্দ্র। এই অঞ্চলটি একটি প্রাচীন হ্রদের তলদেশ বলে মনে করা হয়। এখানে নদীর ডেল্টার মতো গঠন দেখা গেছে, যা প্রমাণ করে যে একসময় এখানে জল প্রবাহিত হত।

এই কারণে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বিশেষ নজর রাখছেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের শিলা, খনিজ এবং রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গিয়েছে, যা প্রাচীন পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে।

নেরেতভা উপত্যকার নিকেল আবিষ্কার এই অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

news image
আরও খবর

ভবিষ্যতের গবেষণার সম্ভাবনা

এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের গবেষণার নতুন পথ খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন আরও বিস্তারিতভাবে ওই অঞ্চলের শিলা ও খনিজ পরীক্ষা করতে চান।

সম্ভব হলে ভবিষ্যতে মঙ্গলের ওই অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে এনে পরীক্ষা করা হবে। এতে করে আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে, নিকেলের উৎস কী এবং তা কীভাবে জমা হয়েছে।

এছাড়া, নিকেলের সঙ্গে অন্য কোনও জৈব উপাদান বা রাসায়নিক যৌগ রয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।

মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত

মঙ্গলগ্রহে এই ধরনের আবিষ্কার মহাকাশ গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া বিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

যদি কখনও মঙ্গলগ্রহে প্রাচীন অণুজীবের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি বড় আবিষ্কার হয়ে থাকবে।

এতে করে শুধু মঙ্গলগ্রহ নয়, বরং সৌরজগতের অন্য গ্রহ ও উপগ্রহেও প্রাণের সন্ধান আরও জোরদার হবে।

মানব বসতির সম্ভাবনা

মঙ্গলগ্রহে জল, খনিজ এবং ধাতুর উপস্থিতি ভবিষ্যতে মানব বসতির সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দেয়। নিকেলের মতো ধাতু থাকলে তা ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মঙ্গলগ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা এবং বেসরকারি কোম্পানি গ্রহণ করেছে। এই ধরনের আবিষ্কার সেই পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

উপসংহার (দীর্ঘ)

সব মিলিয়ে মঙ্গলগ্রহের নেরেতভা উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ নিকেলের আবিষ্কার বিজ্ঞান জগতে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। এই আবিষ্কার শুধুমাত্র একটি ধাতুর সন্ধান নয়, বরং মঙ্গলগ্রহের অতীত পরিবেশ, রাসায়নিক গঠন, জলপ্রবাহ এবং সম্ভাব্য প্রাণের ইতিহাস সম্পর্কে আরও গভীরভাবে ভাবার সুযোগ এনে দিয়েছে। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন—মঙ্গলগ্রহে কখনও প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না—এই আবিষ্কার সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাচীন জলপথের মধ্যে নিকেলের উপস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, মঙ্গলগ্রহ এক সময় একেবারেই মৃত ও শুষ্ক ছিল না। সেখানে জল ছিল, রাসায়নিক বিক্রিয়া ছিল, এবং ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনও ঘটেছিল। এই সমস্ত উপাদান একত্রিত হলে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হওয়া অসম্ভব নয়। পৃথিবীতেও জীবনের সূচনা হয়েছিল জল, খনিজ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। তাই মঙ্গলেও একই ধরনের প্রক্রিয়া ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সাহায্য করছে—মঙ্গলগ্রহের ইতিহাস বহু স্তরে গঠিত। একসময় সেখানে নদী বইত, হ্রদ ছিল, সম্ভবত বৃষ্টিও হত। সেই জলপ্রবাহ শিলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন ধাতু ও খনিজ জমা করেছে। নেরেতভা উপত্যকার নিকেল সেই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে, মঙ্গলগ্রহের পরিবেশ একসময় অনেক বেশি সক্রিয় ছিল এবং সেখানে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটার মতো পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই নিকেল কি শুধুই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফল, নাকি এর সঙ্গে কোনও জৈব প্রক্রিয়ার সম্পর্ক রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে এনে পরীক্ষা করা গেলে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। সেই পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যেতে পারে, নিকেলের সঙ্গে কোনও জৈব যৌগ বা অণুজীবের চিহ্ন রয়েছে কি না।

মঙ্গলগ্রহ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এতদিন পর্যন্ত জল এবং শিলার গঠন নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও, এখন ধাতু এবং রাসায়নিক উপাদানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা হচ্ছে। নিকেলের মতো ধাতু জীবনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পৃথিবীতে যেমন কিছু অণুজীব ধাতব উপাদানের সাহায্যে বেঁচে থাকে, তেমনই মঙ্গলেও কোনও এক সময় এমন অণুজীব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার পথও আরও পরিষ্কার করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন আরও নির্দিষ্ট অঞ্চল বেছে নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন। কোথায় জল ছিল, কোথায় খনিজ বেশি, কোথায় রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটেছিল—এই সমস্ত তথ্য একত্রিত করে মঙ্গলগ্রহের সম্ভাব্য বাসযোগ্য অঞ্চল নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন মিশন পরিকল্পনা করা সহজ হবে এবং প্রাণের সন্ধান আরও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে করা যাবে।

এছাড়া, এই আবিষ্কার মানব সভ্যতার ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত। মানুষ এখন শুধু মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সন্ধান করছে না, বরং ভবিষ্যতে সেখানে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে। যদি মঙ্গলগ্রহে জল, খনিজ এবং ধাতুর পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকে, তাহলে সেখানে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। নিকেলের মতো ধাতু ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মঙ্গলগ্রহে বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই আবিষ্কার আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এতদিন আমরা মনে করতাম, পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলগ্রহের মতো একটি শুষ্ক ও নির্জন গ্রহেও যদি জীবনের সম্ভাবনা থাকে, তাহলে মহাবিশ্বে আরও কত গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে, তা কল্পনাও করা যায় না। এই ভাবনাই বিজ্ঞানীদের আরও উৎসাহিত করছে নতুন নতুন গবেষণা চালিয়ে যেতে।

প্রতিটি নতুন আবিষ্কার মঙ্গলগ্রহকে আরও রহস্যময় করে তুলছে। নেরেতভা উপত্যকার নিকেল সেই রহস্যের আরেকটি স্তর খুলে দিয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতে আরও বড় কোনও আবিষ্কার অপেক্ষা করছে, যা প্রমাণ করে দেবে যে মঙ্গলগ্রহ একসময় জীবনের স্পন্দনে ভরপুর ছিল। আবার এটাও সম্ভব, এই গবেষণা দেখাবে যে সেখানে প্রাণের জন্য পরিবেশ ছিল, কিন্তু কোনও কারণে তা টিকে থাকতে পারেনি।

যাই হোক না কেন, এই আবিষ্কার একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—মঙ্গলগ্রহকে নিয়ে গবেষণা এখনও শেষ হয়নি, বরং এখনই তার আসল অধ্যায় শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছেন, নতুন তথ্য সংগ্রহ করছেন, নতুন প্রশ্ন তুলছেন এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন।

অতএব বলা যায়, নেরেতভা উপত্যকায় নিকেলের সন্ধান শুধুমাত্র একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, বরং এটি মানুষের চিরন্তন কৌতূহলের প্রতিফলন। পৃথিবীর বাইরে জীবনের সন্ধান পাওয়ার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল এই গবেষণা। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি, নতুন মহাকাশ মিশন এবং গভীর গবেষণার মাধ্যমে হয়তো একদিন আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারব—লাল গ্রহের বুকে সত্যিই কি কোনও এক সময় জীবনের অস্তিত্ব ছিল। আর সেই দিনটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করবে

Preview image