Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বন্যায় ভেসে গিয়েছিল মঙ্গল কত দিন প্রাণ ছিল পৃথিবীর পড়শি গ্রহে নিশ্চিহ্ন হল কবে

মঙ্গলের অতীত নিয়ে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা করছেন। ৩৭০ থেকে ৪২০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের নদী, খাল, হ্রদ এবং সমুদ্র শুকিয়ে যেতে শুরু করেছিল এবং এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছিল।

পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গল, যা আমাদের সোলার সিস্টেমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ হিসেবে পরিচিত, তার অতীত সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কোনো দিনও শেষ হয় না কৌতূহল। মঙ্গলের অতীতে কী হয়েছিল, সেখানে কি কোনো সময় প্রাণ ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরেই খুঁজছেন। কিছু গবেষণা বলছে, একসময় মঙ্গলে প্রাণ ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেখানকার পরিবেশ এতটাই পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল যে, প্রাণী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় একেবারে অন্য রকম ধারণার জন্ম দিয়েছে যা সম্ভবত মঙ্গলের অতীত সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দেবে।

মঙ্গলের অতীত নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানা ধরনের মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, জল ও নদী নিয়ে নানা গবেষণা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করতেন, মঙ্গলে কোটি কোটি বছর আগে জল ছিল, নদী ছিল, এবং সেখানে প্রাণের অস্তিত্বও ছিল। কিন্তু এই ধারণা একেবারে নতুন আঙ্গিকে আসছে। কিছু নতুন তথ্য বিজ্ঞানীদের সামনে এসেছে যা এই পুরনো ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

এই গবেষণা মূলত নাসার কিউরিওসিটি রোভার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। গেইল ক্রেটার, যা মঙ্গলের একটি বিশাল অববাহিকা, সেটি বিজ্ঞানীদের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। গেইল ক্রেটারের মধ্যে রয়েছে একটি বিশাল পর্বত, মাউন্ট শার্প, যা মঙ্গলের অতীতের অনেক অজানা তথ্য সামনে আনার সুযোগ তৈরি করেছে।

গেইল ক্রেটার মঙ্গলের বুকে একটি বিশাল অববাহিকা, যার ব্যাস প্রায় ১৫৪ কিলোমিটার। এই অঞ্চলের মধ্যে একটি বিশাল পর্বত মাউন্ট শার্প রয়েছে। এই অঞ্চলে অনেক দিন ধরে গবেষণা চলছে এবং নাসা সেখানে কিউরিওসিটি রোভার পাঠিয়েছে। রোভারটি মঙ্গলের মাটির পাথর এবং প্রাচীন বালিয়াড়ির নমুনা সংগ্রহ করে এবং তা বিশ্লেষণ করে নতুন ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে।

গবেষকদের দাবি, গেইল ক্রেটারের প্রাচীন বালিয়াড়িগুলি একসময় ভূগর্ভস্থ জল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং জলবদ্ধ হয়ে পাথরে পরিণত হয়েছিল। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া ছিল যা মঙ্গলের অতীতের জলীয় ক্রিয়াকে এবং সেখানে কতদিন পর্যন্ত জল ছিল তার সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করেছে।

গেইল ক্রেটারের বালি এবং পাললিক শিলার প্রকৃতি পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, মঙ্গলের অতীতে জলীয় কর্মকাণ্ড ছিল যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বালি ও পলি পাথরে পরিণত হয়েছিল প্রাচীন নোয়াচিয়ান যুগে, যা ৪১০ থেকে ৩৭০ কোটি বছর আগে হয়েছিল। এই সময়ে মঙ্গলে প্রবল বন্যা হয়েছিল এবং গেইল ক্রেটারের নদীগুলোও ফুঁসে উঠেছিল। এসব প্রমাণ মঙ্গলে দীর্ঘকাল ধরে জল থাকার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে।

যতটা মনে করা হয়েছিল, ততটা দ্রুত মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নিঃশেষ হয়নি, বরং এটি অনেক বেশি সময় ধরে ছিল বলে দাবি করেছে নতুন গবেষণা। বিশেষভাবে গেইল ক্রেটারের পাথরের নমুনায় এই দাবির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলের পরিবেশ সম্ভবত বহু সময় প্রাণীদের বসবাসের জন্য অনুকূল ছিল, তারপরেই ধীরে ধীরে মঙ্গল শুকিয়ে গিয়েছিল এবং জলাশয়গুলো শুকিয়ে যায়।

এখন, বিজ্ঞানীরা এই নতুন তথ্যের উপর ভিত্তি করে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা আশাবাদী যে, এই তথ্য মঙ্গলের অতীত সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা প্রদান করবে। যদি গেইল ক্রেটারের পাথরে প্রাচীন ব্যাকটেরিয়ার হদিস পাওয়া যায়, তবে মঙ্গলের অতীতে প্রাণের অস্তিত্বের আরও এক স্তরের প্রমাণ পাওয়া যাবে, যা প্রমাণ করবে মঙ্গলে আরও অনেক দীর্ঘ সময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল।

গবেষকরা মনে করছেন, মঙ্গলের অতীতের জলীয় কর্মকাণ্ড এবং জীবনের নিশ্চিহ্ন হওয়ার পেছনে সৌরবায়ুর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌরবায়ু মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে শুষে নিয়েছিল এবং এর ফলে জল দ্রুত শুকিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ার ফলে মঙ্গল তার প্রাণের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে এবং শীতল, শুষ্ক সৌরগ্রহে পরিণত হয়।

বিজ্ঞানীরা এখন গেইল ক্রেটারের নতুন তথ্যের উপর আরো গভীর গবেষণা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। তারা আরও প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য মঙ্গলের বালি, পাথর এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে লুকানো তথ্য বের করার চেষ্টা করছেন। এটি মঙ্গলের অতীতের সব রহস্য উন্মোচন করতে সাহায্য করবে।

news image
আরও খবর

এছাড়া, বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের ভূগোল এবং তার জলীয় ইতিহাসের বিষয়ে আরও গবেষণা করতে চাইছেন, কারণ তারা জানেন যে, মঙ্গলের অতীতের এই তথ্য পৃথিবীর প্রাণের ইতিহাসের রহস্যকে আরও পরিষ্কার করবে।

মঙ্গলের অতীত নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল যেন কখনো শেষ হয় না। পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গল, যা মহাকাশের এক অমীমাংসিত রহস্য, তার অতীত নিয়ে বিজ্ঞানীরা নানা অনুমান করে চলেছেন। মঙ্গলের ভূগোল, তার বায়ুমণ্ডল, জল, এবং সেখানে কখনও প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা, এই সব প্রশ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীরা দিনের পর দিন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন গবেষণায় মঙ্গলের অতীতের অনেক অজানা তথ্য সামনে এসেছে এবং তা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহটির প্রতি বিজ্ঞানীদের কৌতূহলকে আরো তীব্র করেছে।

প্রথম থেকেই বিজ্ঞানীরা মনে করতেন মঙ্গলে একসময় জল ছিল, নদী ছিল, এবং জীবনের অস্তিত্বও ছিল। কিন্তু এই ধারণা কতটা সঠিক ছিল, তা নিয়ে সময়ের সাথে সাথে নানা মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। নতুন গবেষণা প্রমাণিত করেছে যে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভবত আরও অনেক বেশি সময় ছিল, যা আগে মনে করা হয়েছিল।

গেইল ক্রেটার, যা মঙ্গলের এক বিশাল অববাহিকা, সেখানে নতুন গবেষণা চালানোর ফলে বিজ্ঞানীরা আরো গভীর তথ্য পেয়েছেন। গেইল ক্রেটারের প্রাচীন বালিয়াড়ি, পাথর এবং শিলার নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এটি প্রমাণ করেছেন যে মঙ্গলে এক সময় জল ছিল, এবং তার সাথে সেখানে জীবনের অস্তিত্বও ছিল।

গেইল ক্রেটারে রোভার পাঠানো তথ্য অনুসারে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, মঙ্গলে একসময় জল প্রবাহিত হতো এবং সেখানে নদী, হ্রদ ও সমুদ্র ছিল। তবে সৌরবায়ুর প্রভাবে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল শুকিয়ে গিয়েছিল এবং জলও দ্রুত হারিয়ে যায়। এর ফলে মঙ্গল তার প্রাণের অস্তিত্ব হারায় এবং এক শুষ্ক, শীতল সৌরগ্রহে পরিণত হয়।

নতুন গবেষণা অনুযায়ী, মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব ততটাও তাড়াতাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়নি, যতটা আগে মনে করা হয়েছিল। গেইল ক্রেটারে প্রাচীন বালিয়াড়ি এবং পাথরের ভিতরে জলীয় উপাদান পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের ধারণা শক্তিশালী করেছে যে মঙ্গলে আরও অনেক বেশি সময় জল এবং জীবনের অস্তিত্ব ছিল।

এছাড়া, মঙ্গলের ভূগোল এবং পাথরের ধরণ বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে। বিশেষ করে গেইল ক্রেটারের পাথর এবং বালি যা একসময় ভূগর্ভস্থ জলের সংস্পর্শে এসেছিল, তা এখন পাথরে পরিণত হয়েছে। এই ধরনের পাথরের মধ্যে জীবনযাত্রার চিহ্ন পাওয়া যেতে পারে, যেমন পৃথিবীতে প্রাচীন জীববিজ্ঞানের প্রমাণ বালির মধ্যে লুকানো থাকে।

বিজ্ঞানীরা এখন আরও গভীরভাবে এই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ তারা জানেন, মঙ্গলের অতীতের রহস্য উন্মোচন হলে তা পৃথিবী এবং অন্য গ্রহের মধ্যে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ধারণা আরও পরিষ্কার করবে। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে মঙ্গলের এই গবেষণার মাধ্যমে হয়তো নতুন নতুন তথ্য খুঁজে পাবেন যা এই গ্রহের অতীতের অনেক অজানা দিককে আলোকিত করবে।

আজ থেকে কিছু বছর পরেই হয়তো আমরা জানতে পারবো, মঙ্গলের অতীতে কী হয়েছিল এবং সেখানে কিভাবে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। এটি শুধু মঙ্গলের জন্যই নয়, পৃথিবীর ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ এটি আমাদের মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান দিতে সাহায্য করতে পারে।

বিজ্ঞানীদের আশা, মঙ্গলের অতীতের এই গবেষণার মাধ্যমে তারা এমন তথ্য পেতে সক্ষম হবেন যা পৃথিবীর প্রাণের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন ধারণা তৈরি করবে। মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, এবং যদি ছিল, তা কত দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা জানতে পারব।

Preview image