Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে টিউমার ধ্বংস: ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতির দাবি

ব্যাক্টেরিয়াই যখন অস্ত্র—ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়, শরীরে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত ব্যাক্টেরিয়া প্রবেশ করিয়ে ক্যানসার কোষ ধ্বংসের নতুন উপায় খুঁজে পাওয়ার দাবি বিজ্ঞানীদের।

ব্যাক্টেরিয়ার নাম শুনলেই সাধারণত আতঙ্ক জন্মায়। মনে হয়, এই বুঝি কোনও জটিল সংক্রমণ হানা দিল। রোগজীবাণু থেকে দূরে থাকার চেষ্টাই করেন সকলে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার সেই ব্যাক্টেরিয়াকেই কাজে লাগিয়ে মারণ রোগ ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন উপায় খুঁজছেন। বিষয়টা অনেকটা ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র মতোই—সংক্রামক জীবাণুকেই অস্ত্র বানিয়ে টিউমার কোষ ধ্বংসের কৌশল।

কানাডার University of Waterloo-এর গবেষকেরা দাবি করেছেন, তাঁরা এমন এক ব্যাক্টেরিয়াকে জিনগত প্রযুক্তির সাহায্যে পরিবর্তিত করেছেন, যা শরীরে প্রবেশ করে সুস্থ কোষে আঘাত না করে সরাসরি টিউমার কোষে হামলা চালাতে সক্ষম। এই গবেষণায় সহযোগিতা করেছেন Harvard University-এর বিজ্ঞানীরাও।

কেন ব্যাক্টেরিয়া?

ক্যানসার মানেই যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপি, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়। তাই কেমোথেরাপির বিকল্প খুঁজতে বিশ্ব জুড়ে গবেষণা চলছে। মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, ইমিউনোথেরাপি, ক্যানসারের টিকা—বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ হচ্ছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতিও। মূল উদ্দেশ্য, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা।

তবে এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল নিয়ন্ত্রণ। ব্যাক্টেরিয়া স্বভাবতই স্বাধীনচেতা—তাই তাকে এমন ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, যাতে সে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই আঘাত হানে।

কোন ব্যাক্টেরিয়া?

গবেষকেরা বেছে নিয়েছেন Clostridium sporogenes নামের এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়াকে। এই জীবাণু সাধারণত মাটিতে জন্মায় এবং অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে বংশবিস্তার করে। টিউমার কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল—তার ভেতরের অংশে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব থাকে (হাইপক্সিক পরিবেশ)। ঠিক এই বৈশিষ্ট্যকেই কাজে লাগিয়েছেন গবেষকেরা।

প্রথমে পরীক্ষাগারে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাক্টেরিয়াগুলিকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। জিনগত প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তারা আর স্বাভাবিক রোগ সৃষ্টি করতে পারে না। এরপর বিশেষ প্রক্রিয়ায় সেই পরিবর্তিত ব্যাক্টেরিয়াকে শরীরে প্রবেশ করানো হলে দেখা যায়, তারা সুস্থ কোষ এড়িয়ে সরাসরি অক্সিজেনস্বল্প টিউমার অঞ্চলে গিয়ে জমা হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে?

Clostridium sporogenes-এর স্বভাবই হল অক্সিজেনবিহীন পরিবেশ খুঁজে নেওয়া। টিউমারের অভ্যন্তরে এমন পরিবেশ থাকায় ব্যাক্টেরিয়া সেখানে সক্রিয় হয় এবং গবেষকদের নির্ধারিত জৈব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিউমার কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। ফলে কোষের গঠন ভেঙে যায়, অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন বন্ধ হয় এবং ধীরে ধীরে টিউমার কোষ ধ্বংস হতে শুরু করে।

সহজ ভাষায় বললে, ব্যাক্টেরিয়া টিউমার কোষের ভিতরেই ঢুকে তাকে ভেঙে দেয়।

কতটা এগিয়েছে গবেষণা?

এখনও পর্যন্ত এই পদ্ধতির পরীক্ষা পশুর শরীরে হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক বলেই দাবি গবেষকদের। তবে মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা প্রয়োজন।

যদি ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়, তা হলে ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে—যেখানে ব্যাক্টেরিয়াই হয়ে উঠবে চিকিৎসার হাতিয়ার।

অক্সিজেনহীন টিউমারে ব্যাক্টেরিয়ার নিশানা

Clostridium sporogenes-এর একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হল—এটি অ্যানেরোবিক, অর্থাৎ অক্সিজেনবিহীন বা অক্সিজেনস্বল্প পরিবেশে বংশবিস্তার করতে সক্ষম। মানবদেহের অধিকাংশ সুস্থ টিস্যুতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ থাকে। কিন্তু ক্যানসার টিউমার দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে ওঠার ফলে তার অভ্যন্তরীণ অংশে রক্তনালির জালিকা পর্যাপ্তভাবে গড়ে উঠতে পারে না। এর ফলে টিউমারের গভীরে তৈরি হয় হাইপক্সিক (অক্সিজেনস্বল্প) পরিবেশ।

এই বৈশিষ্ট্যকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করছেন গবেষকেরা। ধারণাটি সহজ—যে জীবাণু অক্সিজেন সহ্য করতে পারে না, সে শরীরে ঢুকলে স্বাভাবিক অক্সিজেনসমৃদ্ধ টিস্যুতে টিকে থাকতে পারবে না; বরং সে খুঁজে নেবে সেই সব অঞ্চল, যেখানে অক্সিজেন কম। আর ঠিক সেই ধরনের পরিবেশই পাওয়া যায় টিউমারের অভ্যন্তরে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রক্রিয়া?

পরিবর্তিত বা জিনগতভাবে নিয়ন্ত্রিত Clostridium sporogenes শরীরে প্রবেশ করার পর রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন টিস্যুতে পৌঁছয়। কিন্তু অক্সিজেনসমৃদ্ধ পরিবেশে তা সক্রিয় থাকতে পারে না। ফলে স্বাভাবিক কোষ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। অন্যদিকে টিউমারের গভীরে, যেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে ব্যাক্টেরিয়াটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

গবেষকদের পরিকল্পিত জৈব-প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে এই ব্যাক্টেরিয়া:

  • টিউমার টিস্যুতে গিয়ে বৃদ্ধি পায়

  • টিউমার কোষের ভিতরে বা আশপাশে বংশবিস্তার করে

  • নির্দিষ্ট প্রোটিন বা এনজাইম উৎপন্ন করে, যা ক্যানসার কোষের গঠন ভেঙে দেয়

  • কোষ বিভাজনের অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়

ফলে টিউমার কোষের ভেতরে কাঠামোগত ভাঙন শুরু হয়। কোষঝিল্লি দুর্বল হয়, অভ্যন্তরীণ অঙ্গাণু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং শেষ পর্যন্ত কোষমৃত্যু (cell death) ঘটে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে—ব্যাক্টেরিয়া টিউমারের ভেতরেই ঢুকে সেই কোষকে ভিতর থেকে ধ্বংস করতে শুরু করে।


টিউমার হাইপক্সিয়া: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

ক্যানসার চিকিৎসায় টিউমারের হাইপক্সিক অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি অনেক সময় টিউমারের বাইরের অংশে কার্যকর হলেও গভীর, অক্সিজেনস্বল্প অংশে পৌঁছতে পারে না। কারণ:

  1. সেখানে রক্তপ্রবাহ কম

  2. ওষুধের ঘনত্ব পর্যাপ্ত মাত্রায় পৌঁছায় না

  3. রেডিওথেরাপির কার্যকারিতা অক্সিজেনের উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল

ফলে টিউমারের ভেতরের অংশ অনেক সময় চিকিৎসা এড়িয়ে যায় এবং পরে আবার বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই জায়গাতেই অ্যানেরোবিক ব্যাক্টেরিয়া একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে। যেহেতু তারা অক্সিজেনবিহীন পরিবেশেই সক্রিয়, তাই টিউমারের গভীর অংশে গিয়ে সরাসরি কাজ করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।


জিনগত পরিবর্তন: নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি

ব্যাক্টেরিয়া স্বভাবতই সংক্রমণ ঘটাতে পারে—এই আশঙ্কা অমূলক নয়। তাই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল এই জীবাণুকে নিরাপদ করে তোলা।

জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে:

  • রোগ সৃষ্টিকারী জিন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে

  • অনিয়ন্ত্রিত সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা কমানো হয়েছে

  • নির্দিষ্ট পরিবেশ ছাড়া সক্রিয় না হওয়ার বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে

ফলে ব্যাক্টেরিয়াটি একপ্রকার “প্রোগ্রামড মাইক্রোঅর্গানিজম”-এ পরিণত হয়েছে—যার লক্ষ্য কেবল টিউমার টিস্যু।

এ ধরনের কৌশলকে অনকোলাইটিক ব্যাক্টেরিয়া থেরাপি বলা হয়, যেখানে জীবাণুকেই ক্যানসার কোষ ধ্বংসের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভূমিকা

এই চিকিৎসা পদ্ধতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইমিউন সিস্টেমের সক্রিয়তা। যখন ব্যাক্টেরিয়া টিউমারের ভিতরে কাজ শুরু করে, তখন:

news image
আরও খবর
  • টিউমার কোষ ভেঙে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন মুক্ত হয়

  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষ (যেমন টি-সেল) সেই অ্যান্টিজেন শনাক্ত করে

  • টিউমারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া গড়ে ওঠে

অর্থাৎ, ব্যাক্টেরিয়া শুধু সরাসরি কোষ ধ্বংসই করে না, বরং শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও সক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা গেলে কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


কতটা এগিয়েছে গবেষণা?

এখনও পর্যন্ত এই পদ্ধতির পরীক্ষা মূলত প্রাণী মডেলে সীমাবদ্ধ। ইঁদুরের শরীরে টিউমার তৈরি করে সেখানে পরিবর্তিত Clostridium sporogenes প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে:

  • ব্যাক্টেরিয়া টিউমার টিস্যুতে গিয়ে জমা হচ্ছে

  • সুস্থ টিস্যুতে উল্লেখযোগ্য সংক্রমণ ঘটাচ্ছে না

  • টিউমারের আকার কিছু ক্ষেত্রে কমছে

প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও, প্রাণী-পরীক্ষা থেকে সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। মানুষের শরীর অনেক বেশি জটিল, এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা একটি বড় প্রশ্ন।


মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগের আগে কী কী ধাপ প্রয়োজন?

মানুষের শরীরে প্রয়োগ শুরু করার আগে সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করা হয়:

১. প্রাক-ক্লিনিক্যাল স্টাডি

  • বিভিন্ন প্রাণী মডেলে পরীক্ষা

  • বিষক্রিয়া (toxicity) মূল্যায়ন

  • ডোজ নির্ধারণ

২. ফেজ ১ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

  • অল্পসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবীর উপর নিরাপত্তা পরীক্ষা

  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ

৩. ফেজ ২ ট্রায়াল

  • কার্যকারিতা যাচাই

  • উপযুক্ত ডোজ ও প্রোটোকল নির্ধারণ

৪. ফেজ ৩ ট্রায়াল

  • বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপর পরীক্ষা

  • বিদ্যমান চিকিৎসার সঙ্গে তুলনা

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নতুন চিকিৎসাকে নিরাপদ বলা যায় না।


সম্ভাব্য ঝুঁকি কী?

যদিও ব্যাক্টেরিয়াকে জিনগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, তবু কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে:

  • অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ

  • অতিরিক্ত ইমিউন প্রতিক্রিয়া

  • সেপসিসের আশঙ্কা

  • জিনগত পরিবর্তনের অপ্রত্যাশিত প্রভাব

তাই নিরাপত্তা পরীক্ষাই এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

যদি ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়, তা হলে ক্যানসার চিকিৎসায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। সম্ভাব্য সুবিধাগুলি হতে পারে:

  • টিউমারের গভীর অংশে সরাসরি আঘাত

  • কেমোথেরাপির তুলনায় কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে সমন্বিত প্রয়োগ

  • নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসা একক পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে না; বরং সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং অনকোলাইটিক ব্যাক্টেরিয়া—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত চিকিৎসা কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।


উপসংহার

অক্সিজেনস্বল্প টিউমার অঞ্চলে সক্রিয় হতে সক্ষম Clostridium sporogenes-কে ব্যবহার করে ক্যানসার কোষ ধ্বংসের এই গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি সাহসী পদক্ষেপ। এখনও পথ দীর্ঘ, এবং মানুষের শরীরে নিরাপদ প্রয়োগ প্রমাণিত হতে সময় লাগবে। তবু ধারণাগতভাবে এটি ক্যানসার চিকিৎসায় এক অভিনব দিশা দেখাচ্ছে—যেখানে ভয়ঙ্কর বলে পরিচিত ব্যাক্টেরিয়াই একদিন হয়ে উঠতে পারে জীবনরক্ষাকারী অস্ত্র।

Preview image