Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাজ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে নজিরবিহীন ছাত্রবিক্ষোভ উপাচার্যকে তালাবন্ধ করে রাখল পড়ুয়ারা তীব্র গরমে অসুস্থ একাধিক শিক্ষার্থী

ছাব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ রাজ্যের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ এক অভূতপূর্ব এবং বিশাল ছাত্রবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে আকস্মিক এবং অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করেছেন হাজার হাজার পড়ুয়া দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উপাচার্য এবং অধ্যাপকরা ভেতরে আটকে রয়েছেন তীব্র দাবদাহের মধ্যে আন্দোলনরত একাধিক ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় দমকল এবং অ্যাম্বুলেন্স এসে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা  

আগরতলা ছাব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে আজ এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর নাটকীয় এবং অভূতপূর্ব ছাত্রবিক্ষোভের সাক্ষী হয়ে রইল সমগ্র রাজ্য রাজ্যের অন্যতম প্রধান এবং স্বনামধন্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে এক প্রলয়ঙ্করী আন্দোলন যা সমগ্র প্রশাসন এবং শিক্ষা দপ্তরের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে কোনো রকম পূর্ব আলোচনা বা নোটিশ ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সেমিস্টার ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি প্রায় তিনশো শতাংশ বৃদ্ধি করার এক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ আক্ষরিক অর্থেই ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ ছাত্রছাত্রী সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্লাস বয়কট করে পড়ুয়ারা মূল প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশদ্বারে বিশাল তালা ঝুলিয়ে দিয়ে এক চরম এবং আপোষহীন অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের এই বিশাল জনরোষ এবং রুদ্রমূর্তি প্রমাণ করে দিয়েছে যে শিক্ষাকে যখন বাণিজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করা হয় তখন ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই তা নীরবে মেনে নেয় না

এই বিশাল এবং নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এক চরম অচলাবস্থা এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এবং প্রশাসনিক ভবনের গেট বাইরে থেকে সম্পূর্ণভাবে তালাবন্ধ করে দেওয়ার ফলে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা ভাইস চ্যান্সেলর তার নিজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেম্বারে আক্ষরিক অর্থেই বন্দি হয়ে পড়েছেন শুধু উপাচার্যই নন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিভিন্ন বিভাগের ডিন অন্যান্য সমস্ত অধ্যাপক অধ্যাপিকা এবং শিক্ষাকর্মীরাও ক্যাম্পাসের ভেতরে আটকা পড়ে গেছেন কেউ বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং ভেতর থেকেও কেউ বাইরে আসতে পারছেন না ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী গেটের সামনে মানব শৃঙ্খল তৈরি করে বসে আছেন এবং তাদের স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে উঠছে গোটা ক্যাম্পাস এলাকা পড়ুয়াদের অত্যন্ত স্পষ্ট এবং জোরালো দাবি হলো যতক্ষণ না পর্যন্ত এই বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের সরকারি এবং লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই তালা খোলা হবে না এবং উপাচার্যকে তার চেম্বার থেকে বের হতে দেওয়া হবে না ছাত্রছাত্রীদের এই অদম্য জেদ এবং আপোষহীন মনোভাব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এক চরম সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে

এই ছাত্রবিক্ষোভের মূল কারণ হলো গত কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা এক অত্যন্ত অমানবিক এবং অযৌক্তিক নির্দেশিকা যেখানে বলা হয়েছে যে আগামী সেমিস্টার থেকে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে টিউশন ফি ল্যাবরেটরি ফি এবং লাইব্রেরি ফি বাবদ প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে রাজ্যের যে সমস্ত সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা এই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসেন তাদের কাছে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা একপ্রকার অসম্ভব ব্যাপার অনেক ছাত্রছাত্রী আছেন যারা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসেছেন এবং যাদের বাবা মা দিনমজুরি করে বা সামান্য চাষবাস করে বহু কষ্টে তাদের সন্তানদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করছেন এই আকস্মিক ফি বৃদ্ধি সেই সমস্ত গরিব পরিবারের স্বপ্নের ওপর এক চরম এবং নিষ্ঠুর আঘাত হেনেছে ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণভাবে শিক্ষামন্ত্রীর অঙ্গুলি হেলনে কাজ করছে এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বেসরকারি মুনাফা লুঠকারী সংস্থায় পরিণত করার চক্রান্ত করছে এই চরম বৈষম্য এবং অবিচারের বিরুদ্ধেই আজ ছাত্রসমাজ একজোট হয়ে রাজপথে নেমেছে

আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কারণ পড়ুয়াদের অভিযোগ যে খোদ শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশেই এই বিশাল ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে দাঁড়িয়ে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিচ্ছেন এবং তার পদত্যাগের দাবি তুলছেন পড়ুয়াদের বক্তব্য যে সরকার নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে রাজ্যের প্রতিটি গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে বা অত্যন্ত কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে কিন্তু নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর সেই একই সরকার সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে উচ্চশিক্ষা কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয় এটি তাদের মৌলিক অধিকার এবং কোনো স্বৈরাচারী মন্ত্রী বা উপাচার্য তাদের সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারেন না তারা শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে নিজেদের চরম ক্ষোভ এবং ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন

তবে এই বিশাল আন্দোলনের সবচেয়ে মর্মান্তিক এবং ভয়ংকর দিকটি হলো তীব্র গরমে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক অসুস্থতা মে মাসের এই কাঠফাটা রোদ এবং অসহনীয় দাবদাহের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে পিচ ঢালা রাস্তার ওপর বসে টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এই তরুণ পড়ুয়ারা মাথার ওপর গনগনে সূর্য এবং চারপাশের চরম আর্দ্রতার কারণে পরিস্থিতি এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এই তীব্র গরম এবং জলশূন্যতার কারণে একের পর এক ছাত্রছাত্রী আন্দোলনস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়তে শুরু করেন চার ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি রীতিমতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে আট থেকে দশ জন ছাত্রছাত্রী যারা সকাল থেকে কিছু না খেয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন তারা হিটস্ট্রোক এবং চরম ক্লান্তির শিকার হয়ে অজ্ঞান হয়ে যান এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অন্যান্য পড়ুয়াদের মধ্যে এক চরম আতঙ্ক এবং হুড়োহুড়ি পড়ে যায় তারা নিজেদের বোতলের জল দিয়ে অসুস্থ বন্ধুদের সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকেন

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে স্থানীয় মানুষেরা তৎক্ষণাৎ দমকল বাহিনী এবং অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন কিছুক্ষণের মধ্যেই সাইরেন বাজিয়ে দমকলের ইঞ্জিন এবং বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে এসে উপস্থিত হয় দমকলকর্মীরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে স্ট্রেচার নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া পড়ুয়াদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিকটবর্তী জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এই উদ্ধারকাজের সময় এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয় যখন জ্ঞান হারানো ছাত্রছাত্রীদের বন্ধুরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং প্রশাসনের এই চরম অমানবিকতার বিরুদ্ধে আরও বেশি সোচ্চার হয়ে ওঠেন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে যে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তাদের স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে প্রশাসন কীভাবে এতগুলো তরুণ প্রাণকে বিপদের মুখে ঠেলে দিল তা নিয়ে সমগ্র নাগরিক সমাজ আজ তীব্র প্রশ্ন তুলছে

সবচেয়ে আশ্চর্যের এবং ক্ষোভের বিষয় হলো আন্দোলন পাঁচ ঘণ্টা অতিক্রম করে যাওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের কোনো প্রতিনিধি আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলার জন্য একবারের জন্যও গেটের বাইরে আসেননি উপাচার্য এবং অন্যান্য আধিকারিকরা নিজেদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে পুলিশ প্রশাসনকে ফোন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু একবারও তারা ছাত্রদের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য এগিয়ে আসার নূন্যতম মানবিকতা দেখাননি প্রশাসনের এই চরম উদাসীনতা এবং অহংকারী মনোভাব আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভের আগুনে আক্ষরিক অর্থেই ঘি ঢেলে দিয়েছে পড়ুয়ারা বলছেন যে উপাচার্য যদি আমাদের সাথে সরাসরি কথা বলে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন তবে পরিস্থিতি এতটা ভয়ংকর হতো না কিন্তু তিনি আমাদের সাধারণ ছাত্রছাত্রী বলে অবজ্ঞা করছেন যার ফলশ্রুতিতে আজ আমাদের সহপাঠীদের হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়তে হচ্ছে

news image
আরও খবর

বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র‍্যাফ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে কিন্তু হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিশাল জমায়েতের সামনে পুলিশও রীতিমতো অসহায় বোধ করছে পুলিশ আধিকারিকরা বারবার মাইকিং করে ছাত্রছাত্রীদের গেটের তালা খুলে দেওয়ার এবং আন্দোলন তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন কিন্তু পড়ুয়ারা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় তারা পুলিশের মুখোমুখি বসে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়বেন না পুলিশও বুঝতে পারছে যে এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যে যদি ছাত্রছাত্রীদের ওপর কোনো রকম লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগ করা হয় তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং এক বিশাল বড় আইনশৃঙ্খলা জনিত বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে তাই পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তার দিকে নজর রাখছে

এই ছাত্রবিক্ষোভ আমাদের সমাজের এক অত্যন্ত গভীর এবং রূঢ় বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা মায়েরা নিজেদের পেটে গামছা বেঁধে নিজেদের সামান্য সঞ্চয়টুকু শেষ করে ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান তারা স্বপ্ন দেখেন যে তাদের সন্তানরা একদিন ভালো চাকরি পেয়ে পরিবারের দুঃখ ঘুচাবে কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সেই স্বপ্নকে আক্ষরিক অর্থেই একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে একদিকে হু হু করে বেড়ে চলা শিক্ষার খরচ আর অন্যদিকে পড়াশোনা শেষ করার পর চরম বেকারত্ব এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে আজ তরুণ প্রজন্মের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে তারা বুঝতে পারছে না যে তারা কোথায় যাবে আজ যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছে তারা কোনো সন্ত্রাসী নয় তারা হলো আমাদের সমাজের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কিন্তু প্রশাসন যদি তাদের এই ন্যায়ের দাবিকে পুলিশ দিয়ে বা গায়ের জোরে দমন করার চেষ্টা করে তবে তা সমাজের জন্য এক অত্যন্ত ভয়ংকর ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়

রাজ্যের অন্যান্য কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীরাও এই আন্দোলনের খবর পেয়ে চরমভাবে আলোড়িত হয়েছেন অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আন্দোলনের ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের প্রতি নিজেদের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যদি আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তি জারি না করা হয় এবং উপাচার্য যদি ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা না চান তবে সমগ্র রাজ্য জুড়ে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে রাজ্যের সমস্ত কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে বলে তারা কড়া বার্তা দিয়েছেন এই হুঁশিয়ারির পর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহলে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে তার দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে

শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তারা বলছেন যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মেধার বিকাশ ঘটানো টাকার পাহাড় তৈরি করা নয় যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কেবল টাকার বিনিময়ে শিক্ষা প্রদান করার নীতি গ্রহণ করে তবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো সামাজিক বা নৈতিক ভিত্তি থাকে না উপাচার্যের মতো একটি সম্মানজনক পদে বসে একজন ব্যক্তি কীভাবে এতগুলো ছাত্রছাত্রীর জীবনের সাথে ছিনিমিনি খেলতে পারেন তা ভেবে অনেকেই বিস্মিত তারা অবিলম্বে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন যিনি পদাধিকার বলে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপালকে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে এই ফি বৃদ্ধির পেছনের আসল কারণ অনুসন্ধান করার এবং দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদের বাবা মায়েরা খবর পেয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন নিজেদের সন্তানদের হাসপাতালের বিছানায় স্যালাইন লাগানো অবস্থায় দেখে অনেক মা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক ছাত্রের বাবা যিনি পেশায় একজন সামান্য কৃষক তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেন আমি অনেক কষ্ট করে ধার দেনা করে ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে পাঠিয়েছিলাম ভেবেছিলাম ছেলে বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে কিন্তু আজ আমার ছেলে এই গরমে রাস্তায় পড়ে মরে যেতে বসেছে সরকার কেন গরিব মানুষের সাথে এমন অবিচার করছে আমরা তো কারও কাছে ভিক্ষে চাইনি আমরা কেবল আমাদের সন্তানদের পড়ার সুযোগ চেয়েছিলাম এই বাবা মায়ের চোখের জল এবং তাদের হাহাকার আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার এক চরম ব্যর্থতাকেই প্রমাণ করে

এই আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পঠনপাঠন এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে গেছে সামনেই সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এই অচলাবস্থার কারণে সেই পরীক্ষাও এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে অনেক ছাত্রছাত্রী যারা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে অত্যন্ত সচেতন তারাও আজ বাধ্য হয়ে এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন কারণ তারা জানেন যে আজ যদি তারা এই ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ না করেন তবে আগামী দিনে তাদের পড়াশোনা মাঝপথেই ছেড়ে দিতে হবে এই আন্দোলন কেবল কিছু টাকার আন্দোলন নয় এটি হলো শিক্ষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন মেধার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আন্দোলন

পরিশেষে এটা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে ছাব্বিশে মে তারিখের আজকের এই ছাত্রবিক্ষোভ আমাদের রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং সতর্কতামূলক অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে প্রশাসনকে বুঝতে হবে যে ছাত্রসমাজ হলো যেকোনো সমাজের সবচেয়ে জাগ্রত এবং শক্তিশালী অংশ তাদের দাবিকে উপহাস করলে বা গায়ের জোরে দমন করার চেষ্টা করলে তার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না আমরা আশা করব সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে নিজেদের অহংকার দূরে সরিয়ে রেখে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসবেন এবং এই বর্ধিত ফি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে ক্যাম্পাসে পুনরায় পড়াশোনার এক সুস্থ এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন অসুস্থ ছাত্রছাত্রীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক এবং শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সুনিশ্চিত হোক এটাই আজ আমাদের সকলের প্রার্থনা বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনের লেটেস্ট লাইভ আপডেট ও হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায় সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আমাদের এই সংবাদ পরিবেশনা অবিরাম চলতে থাকবে

Preview image