Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনে নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর আত্মহনন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের গণধোলাইয়ের শিকার স্বঘোষিত লায়ন বিজনেসম্যান এবং কাঠগড়ায় শিক্ষাব্যবস্থা

ছাব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ শিক্ষকের কাজ আলো ছড়ানো অপমান করা নয় দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চরম অপমান আর মানসিক নির্যাতন করার যে নোংরা চর্চা এক স্কুলের চেয়ারম্যান নামের শিক্ষক করে আসছিলেন আজ তা একজন নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর প্রাণ কেড়ে নিল এই আত্মহননকে প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আজ ওই শিক্ষককে চরম গণধোলাই দিয়েছেন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয় আজকের এই গণবিস্ফোরণ তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ  

ছাব্বিশে মে বিশ ছাব্বিশ

একটি সমাজের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক পেশা হলো শিক্ষকতা একজন শিক্ষক কেবল বইয়ের জ্ঞান দান করেন না তিনি একটি শিশুর চরিত্র গঠন করেন তার মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলেন এবং তাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পথ দেখান শিক্ষকের কাজ হলো সমাজের অন্ধকার দূর করে আলো ছড়ানো কোনোভাবেই একজন শিক্ষার্থীকে অপমান করা বা তাকে মানসিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া নয় কিন্তু আজ আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষার নামে যে চরম বাণিজ্যিকীকরণ এবং অমানবিকতার কালো ছায়া নেমে এসেছে তার এক অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং ভয়ংকর বাস্তব চিত্র আজ আমাদের চোখের সামনে উন্মোচিত হলো দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চরম অপমান আর মানসিক নির্যাতন করার যে নোংরা চর্চা একটি নামকরা স্কুলের চেয়ারম্যান নামের এক শিক্ষক করে আসছিলেন আজ তা একজন নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে একজন শিক্ষার্থীর এই আত্মহনন কোনো সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা নয় এটি হলো আক্ষরিক অর্থেই একটি সুপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড আর এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটল তা মূলত দীর্ঘদিনের জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ আর আক্ষেপেরই এক অনিবার্য বিস্ফোরণ

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ওই ব্যক্তি নিজেকে একসময় শিক্ষক বলে দাবি করলেও বহু আগেই তিনি শিক্ষকতার মহান আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে একজন পুরোদস্তুর এবং নির্মম ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছিলেন তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে দ্য লায়ন বিজনেসম্যান বা সিংহ হৃদয় ব্যবসায়ী বলে দাবি করতে গর্ববোধ করতেন তার কাছে স্কুল কোনো বিদ্যাপিঠ ছিল না সেটি ছিল কেবল তার মুনাফা লোটার এবং ক্ষমতার দম্ভ দেখানোর একটি কারখানা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো কর্পোরেট অফিস নয় এবং শিক্ষার্থীরা কোনো পণ্য নয় তার এই স্বঘোষিত লায়ন বিজনেসম্যান রূপটি আসলে তার ভেতরের চরম অহংকার নিষ্ঠুরতা এবং অমানবিকতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল তিনি মনে করতেন টাকার জোর এবং পদের ক্ষমতা দিয়ে তিনি যেকোনো মানুষকে পায়ের তলায় চেপে রাখতে পারেন তার স্কুলের প্রতিটি দেওয়াল যেন তার এই স্বৈরাচারী মানসিকতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছিল যেখানে শিক্ষার আলো নয় বরং ভয়ের এক হিমশীতল অন্ধকার রাজত্ব করত

ওই স্বঘোষিত লায়ন বিজনেসম্যানের সবচেয়ে বড় এবং নোংরা চর্চা ছিল সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং গরিব পরিবারের অভিভাবকদের চরম অপমান করা যখনই কোনো অভিভাবক তাদের সন্তানের পড়াশোনা বা স্কুলের কোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতেন তখনই তিনি অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় তাদের আক্রমণ করতেন কোনো শিক্ষার্থীর বেতন দিতে সামান্য দেরি হলে বা পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে ওই শিক্ষার্থীকে পুরো ক্লাসের সামনে দাঁড় করিয়ে তার বাবা মায়ের আর্থিক অবস্থা এবং সামাজিক মর্যাদা নিয়ে এমন সব কথা বলা হতো যা একটি শিশুর কচি মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করত তিনি কথায় কথায় অভিভাবকদের বলতেন আপনাদের যখন ক্ষমতা নেই তখন এত বড় স্কুলে ছেলেমেয়েদের পড়াতে এসেছেন কেন এই ধরনের মানসিক নির্যাতন একজন মানুষের আত্মসম্মানকে কতটা চরমভাবে আঘাত করতে পারে তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন দিনের পর দিন এই অপমান সহ্য করতে না পেরে অনেক অভিভাবক নীরবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতেন কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা মুখ বুজে সব অপমান হজম করে নিতেন

কিন্তু এই নীরব সহ্য করার সীমা আজ চিরতরে পার হয়ে গেছে স্কুলের এক অত্যন্ত মেধাবী এবং শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থীর আত্মহননের ঘটনা সমগ্র এলাকায় এক প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের জন্ম দিয়েছে ওই শিক্ষার্থীটি বিগত কয়েক দিন ধরে স্কুলের চেয়ারম্যানের দ্বারা অত্যন্ত জঘন্য মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল তুচ্ছ একটি কারণে ওই চেয়ারম্যান তাকে সবার সামনে চরম অপমান করেন এবং তার বাবা মাকে স্কুলে ডেকে এনে অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন নিজের বাবা মাকে এইভাবে অপমানিত হতে দেখে ওই নিষ্পাপ শিশুটির মানসিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে সে বুঝতে পারে যে এই অপমান এবং গ্লানি নিয়ে তার পক্ষে আর বেঁচে থাকা সম্ভব নয় সমাজ এবং ব্যবস্থার প্রতি চরম অভিমান নিয়ে সে আত্মহননের মতো ভয়ংকর পথ বেছে নেয় একটি ফুটফুটে প্রাণ অকালে ঝরে যায় কেবল একজন ক্ষমতাশালী মানুষের অহংকার এবং নিষ্ঠুরতার কারণে এই মৃত্যু কোনোভাবেই একটি সাধারণ মৃত্যু নয় এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড যেখানে স্কুলের পরিবেশ এবং শিক্ষকের অমানবিকতা সরাসরি একটি শিশুকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আজ সকালে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সমগ্র এলাকায় শোক এবং ক্ষোভের এক বিশাল আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ে বছরের পর বছর ধরে যে অভিভাবকরা এবং শিক্ষার্থীরা মুখ বুজে ওই লায়ন বিজনেসম্যানের অত্যাচার সহ্য করে আসছিলেন আজ তাদের সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আক্ষরিক অর্থেই এক বিশাল গণবিস্ফোরণের রূপ নেয় সকাল থেকেই শত শত ক্ষুব্ধ অভিভাবক বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাধারণ মানুষ এবং এলাকার যুবসমাজ স্কুলের সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন তাদের চোখে মুখে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা এবং চরম প্রতিহিংসার আগুন তারা স্লোগান দিতে থাকেন যে একজন খুনি শিক্ষকের কোনো ক্ষমা নেই তাকে আজই চরম শাস্তি পেতে হবে যখন পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তখন ওই চেয়ারম্যান স্কুল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতার বিশাল ঘেরাটোপ ভেঙে বের হওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না

জনতার ক্ষোভ তখন সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেছে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয় আজ সেটাই প্রমাণ হলো উন্মত্ত জনতা ওই চেয়ারম্যানকে হাতের কাছে পেয়ে চরম গণধোলাই দিতে শুরু করে লাথি ঘুষি এবং চড় থাপ্পড়ের বন্যায় ওই স্বঘোষিত লায়ন বিজনেসম্যানের সমস্ত দম্ভ মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে মিশে যায় যে মানুষটি এতদিন নিজের চেয়ারে বসে সিংহ হয়ে গর্জন করতেন এবং সাধারণ মানুষকে পায়ের ভৃত্য মনে করতেন আজ সেই মানুষটিই প্রাণভয়ে সাধারণ জনতার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে প্রাণভিক্ষা চাইছিলেন জনতার এই রুদ্রমূর্তি প্রমাণ করে দিল যে ক্ষমতার অহংকার চিরকাল টেকে না মানুষের নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবলে তার পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তা আজকের এই গণধোলাইয়ের দৃশ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যদিও একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় কিন্তু যখন প্রশাসন এবং ব্যবস্থা দিনের পর দিন নীরব থাকে এবং অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় তখন সাধারণ মানুষের কাছে আর কোনো বিকল্প রাস্তা খোলা থাকে না

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলেও বিশাল জনরোষের সামনে তারা প্রথমদিকে রীতিমতো অসহায় বোধ করতে থাকে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং প্রশ্ন তোলে যে দিনের পর দিন যখন এই চেয়ারম্যান ছাত্রছাত্রীদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন তখন প্রশাসন কোথায় ছিল পুলিশ কেন আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে কোনো কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি আজ যখন একটি প্রাণ চলে গেল তখন পুলিশ এসেছে ওই খুনিকে বাঁচাতে সাধারণ মানুষের এই যৌক্তিক প্রশ্নের সামনে পুলিশ কর্তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই চরম উত্তেজনার পর পুলিশ অত্যন্ত বেগতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ওই চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় কিন্তু জনতার ক্ষোভ তখনও প্রশমিত হয়নি তারা স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং ওই চেয়ারম্যানের ফাঁসির দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে

news image
আরও খবর

এই ঘটনা আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার এক অত্যন্ত অন্ধকার এবং পচনশীল দিককে নগ্ন করে দিয়েছে শিক্ষা আজ আর কোনো ব্রত বা সেবা নয় এটি এক বিশাল লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এই সমস্ত বেসরকারি স্কুলগুলো আক্ষরিক অর্থেই এক একটি কর্পোরেট মানি মেকিং মেশিন বা টাকা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে যেখানে পুঁজিবাদের চরম রূপ দেখতে পাওয়া যায় এই স্কুলগুলোর মালিক বা চেয়ারম্যানরা নিজেদের শিক্ষাবিদ না ভেবে এক একজন শিল্পপতি মনে করেন তারা ভুলে যান যে তারা কোনো পণ্য উৎপাদন করছেন না তারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তৈরি করছেন একটি শিশুর মানসিক বিকাশ তার আবেগ এবং তার সংবেদনশীলতার প্রতি এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো স্কুলের গ্ল্যামার বাড়িয়ে অভিভাবকদের পকেট কাটা এবং নিজেদের মুনাফা বৃদ্ধি করা এই বাণিজ্যিকীকরণের যাঁতাকলে পড়ে পিষ্ট হচ্ছে আমাদের আগামী প্রজন্ম

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আজও সবচেয়ে বেশি অবহেলিত একটি শিশু যখন স্কুলে যায় তখন সে কেবল বইয়ের পড়া শিখতে যায় না সে শিখতে যায় কীভাবে সমাজের সাথে মানিয়ে চলতে হয় কীভাবে বিপদের মোকাবিলা করতে হয় কিন্তু স্কুলগুলো যদি এমন এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে যেখানে শিশুরা শিক্ষকের ভয়ে তটস্থ থাকে তবে সেই শিশুদের মানসিক বিকাশ কখনোই সম্পূর্ণ হতে পারে না শিশু মনোবিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন যে ছোটবেলায় পাওয়া যেকোনো মানসিক আঘাত বা ট্রমা একটি শিশুর সারাজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ওই লায়ন বিজনেসম্যানের মতো শিক্ষকরা শিশুদের মনে যে ভয়ের বীজ বপন করেন তা অনেক সময় শিশুদের চরম হতাশা এবং আত্মহননের দিকে ঠেলে দেয় প্রশাসন এবং শিক্ষা দপ্তরের উচিত প্রতিটি স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলরের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষকদের মানসিকতার নিয়মিত মূল্যায়ন করা

আইনি দিক থেকে বিচার করলে একজন শিক্ষার্থীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং জামিন অযোগ্য অপরাধ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে এছাড়া শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য তৈরি হওয়া জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট এবং রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা শিক্ষার অধিকার আইনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা সম্পূর্ণ বেআইনি কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের দেশে এই আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না প্রভাবশালী স্কুল মালিকরা টাকার জোরে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যান যার ফলে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আজকের এই ঘটনায় প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে যে আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাকে কঠোরতম শাস্তি পেতেই হবে

আজকের এই গণধোলাইয়ের ঘটনাটি সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যখন কোনো সমাজের বিচার ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে উঠে যায় তখনই মব জাস্টিস বা গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটে মানুষ তখন বুঝতে পারে যে আইনি পথে হেঁটে তারা কোনোদিন ন্যায়বিচার পাবে না তাই তারা তাৎক্ষণিক বিচারের আশায় আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয় এই প্রবণতা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক কিন্তু এর দায় সাধারণ মানুষের চেয়েও প্রশাসনের অনেক বেশি প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে যে কোনো অপরাধ ঘটলে তার দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচার হবে তবেই সমাজ থেকে এই ধরনের গণপিটুনির ঘটনা দূর করা সম্ভব

যে নিষ্পাপ শিশুটি আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেল তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সমগ্র সমাজের গালে এক চরম সপাটে চড় আমাদের সকলের উচিত নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করা যে আমরা কেমন সমাজ তৈরি করছি যেখানে একটি শিশুকে অপমানের জ্বালা সইতে না পেরে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হয় আমরা কি এতটাই অনুভূতিহীন হয়ে গেছি যে চোখের সামনে দিনের পর দিন ঘটে চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা মুখ খুলতে ভয় পাই আজ ওই শিশুটির বাবা মায়ের বুকফাটা কান্না আমাদের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে তাদের এই শূন্যতা কোনো সান্ত্বনার বাণী দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয় কিন্তু আমরা যদি আজ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াই তবে হয়তো আগামী দিনে অন্য কোনো মায়ের কোল এইভাবে খালি হবে না

এই ঘটনার পর শিক্ষা দপ্তর এবং প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে নড়েচড়ে বসার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ওই স্কুলের অনুমোদন বাতিল করার এবং ওই চেয়ারম্যানের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করার দাবি উঠেছে জোরালোভাবে সাধারণ নাগরিক সমাজ বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো আজ রাস্তায় নেমে এই প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা বলছেন যে কেবল ওই চেয়ারম্যানকে শাস্তি দিলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে বেসরকারি স্কুলগুলোর ওপর সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো অভিভাবকদের হয়রানি করতে না পারে স্কুলের ফি থেকে শুরু করে শিক্ষকদের আচরণ প্রতিটি বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি

পরিশেষে এটা অত্যন্ত বেদনার এবং ক্ষোভের সাথে বলতে হচ্ছে যে আজকের এই ঘটনা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছে শিক্ষকের কাজ আলো ছড়ানো অপমান করা নয় এই চরম সত্যটি ওই স্বঘোষিত লায়ন বিজনেসম্যান ভুলে গিয়েছিলেন বলে আজ তাকে জনতার রোষানলে পড়ে চরম মূল্য চোকাতেও হলো দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয় আজকের এই গণবিস্ফোরণ তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ আমরা লেন্সপেডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি এবং ওই নিষ্পাপ শিক্ষার্থীর আত্মার শান্তি কামনা করছি আমরা প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করছি যে অবিলম্বে ওই খুনি শিক্ষককে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক যাতে আগামী দিনে কোনো স্কুল মালিক বা শিক্ষক কোনো শিক্ষার্থীর ওপর মানসিক নির্যাতন করার আগে হাজারবার চিন্তা করে আসুন আমরা সবাই মিলে এক মানবিক সংবেদনশীল এবং প্রকৃত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার শপথ নিই যেখানে আমাদের শিশুরা নির্ভয়ে এবং আনন্দে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই মর্মান্তিক ঘটনার লেটেস্ট গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বাস্তব চিত্র দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায় সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আমাদের এই লড়াই অবিরাম চলতে থাকবে

Preview image