Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সুধু সরকার বদলায়নি দোকান কাচরা সব সরিয়ে দিয়ে বদলে গেল এলাকা

সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় শুরু হয়েছে জোরদার উচ্ছেদ অভিযান। রাস্তার ধারের দোকান, অবৈধ দখল ও কাচরা সরিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগে প্রশাসনের তৎপরতা ঘিরে চর্চা তুঙ্গে।  

political developments

সরকার বদলের পর শুধু প্রশাসনিক চেয়ারেই পরিবর্তন আসেনি, বদলে যেতে শুরু করেছে এলাকার চেনা ছবিও। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে গজিয়ে ওঠা ছোট-বড় দোকান, অবৈধ দখল, ফুটপাত জুড়ে ব্যবসা, জমে থাকা কাচরা ও নোংরা পরিবেশ—সবকিছুর বিরুদ্ধে এবার একযোগে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সকাল হতেই বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে বুলডোজার, জেসিবি এবং পুরসভার কর্মীদের তৎপরতা। কোথাও রাস্তার ধারের অবৈধ দোকান সরানো হচ্ছে, কোথাও আবার বছরের পর বছর জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। আর এই দৃশ্য ঘিরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা—“সুধু সরকার বদলায়নি, বদলে যাচ্ছে এলাকার চেহারাও।”

অনেকেই দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও বাজার সংলগ্ন জায়গাগুলি দখল হয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। প্রতিদিন যানজট, নোংরা পরিবেশ এবং দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ ছিল, একাধিক জায়গায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে দোকান গড়ে উঠেছিল। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরই সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে মত অনেকের।

সকালের প্রথম আলো ফোটার আগেই প্রশাসনের আধিকারিক, পুলিশ বাহিনী এবং পুরসভার কর্মীরা এলাকায় পৌঁছে যান। এরপর শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। জেসিবির সাহায্যে ভাঙা হয় অবৈধ নির্মাণ। রাস্তার উপর পড়ে থাকা টিন, কাঠ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে পরিষ্কার করা হয় গোটা এলাকা। অনেক জায়গায় দেখা যায়, দোকানদাররা নিজেরাই দোকানের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, অন্যদিকে বহু সাধারণ মানুষ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এতদিন ধরে ফুটপাত বলে কিছু ছিল না। হাঁটার জায়গা পুরো দখল হয়ে গিয়েছিল। এখন অন্তত সাধারণ মানুষ একটু স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারবে।” আরেকজনের কথায়, “শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এবার বাস্তবেও পরিবর্তন চোখে পড়ছে। রাস্তা পরিষ্কার হচ্ছে, কাচরা সরছে, অবৈধ দখলমুক্ত হচ্ছে এলাকা।”

তবে এই অভিযান ঘিরে বিতর্কও কম নেই। বহু ছোট ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, হঠাৎ করেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, আগে পর্যাপ্ত সময় বা বিকল্প ব্যবস্থা দেওয়া উচিত ছিল। কারণ এই ছোট দোকানগুলির উপরই বহু পরিবারের রুজি-রোজগার নির্ভর করে। এক দোকানদার আক্ষেপের সুরে বলেন, “বছরের পর বছর এখানে ব্যবসা করেছি। হঠাৎ করে সব ভেঙে দিলে আমরা কোথায় যাব? পরিবার চালাব কীভাবে?”

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাস্তা দখল, নোংরা পরিবেশ এবং অবৈধ নির্মাণের কারণে শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই আইন মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “যেখানে অবৈধ দখল থাকবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য। কেউ ব্যক্তিগতভাবে দখল করে রাখতে পারে না।”

শুধু দোকান উচ্ছেদই নয়, একইসঙ্গে শুরু হয়েছে বড়সড় পরিষ্কার অভিযানও। বহু এলাকায় বছরের পর বছর জমে থাকা আবর্জনা সরাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরসভার তরফে অতিরিক্ত সাফাইকর্মী নামানো হয়েছে রাস্তায়। নর্দমা পরিষ্কার, ড্রেন সংস্কার এবং ময়লা অপসারণের কাজ চলছে জোরকদমে। অনেক জায়গায় জীবাণুনাশক স্প্রে করতেও দেখা গিয়েছে পুরকর্মীদের।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, এই ধরনের অভিযান অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কারণ অবৈধ দখল ও কাচরার কারণে পরিবেশ দূষণ যেমন বাড়ছিল, তেমনই বাড়ছিল দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। বিশেষ করে বাজার ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পথচলতি মানুষকে নিত্যদিন সমস্যার মুখে পড়তে হতো। রাস্তার দুই ধারে অবৈধ দোকান থাকায় যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছিল।

অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই অভিযানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু এলাকা বা গোষ্ঠীকে টার্গেট করেই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। যদিও প্রশাসন সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী সবার ক্ষেত্রেই সমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন, “এটাই আসল পরিবর্তন”, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন গরিব মানুষের জীবিকা নিয়ে। বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছেন কিছু দোকানদার, আবার অন্যদিকে স্থানীয় মানুষ হাততালি দিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন জানাচ্ছেন।

news image
আরও খবর

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হলে অবৈধ দখলমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ শহরের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নির্ভর করে এই ছোট ব্যবসাগুলির উপর। তাই উন্নয়ন ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি বলেই মত তাঁদের।

পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনকে চোখে দেখতে চাইছেন। শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা বা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবের রাস্তাঘাট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সুবিধার উন্নয়নই এখন মানুষের কাছে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই এই ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

প্রশাসনের দাবি, এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। শুধুমাত্র এক-দু’দিনের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে তারা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, বাজার এলাকা, স্টেশন চত্বর এবং জনবহুল জায়গাগুলিকে দখলমুক্ত ও পরিষ্কার রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে পুনরায় রাস্তা দখল বা কাচরা ফেলার প্রবণতা না বাড়ে।

এই পুরো ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে মানুষের মানসিকতা। বহু মানুষ এখন চাইছেন পরিষ্কার, সুন্দর এবং দখলমুক্ত শহর। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আবার অন্যদিকে জীবিকার প্রশ্ন তুলে অনেকে মানবিক সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নয়, সামাজিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, “সুধু সরকার বদলায়নি, দোকান-কাচরা সব সরিয়ে দিয়ে বদলে যাচ্ছে এলাকার ছবিও”—এই মন্তব্য এখন অনেকের মুখে মুখে। কোথাও স্বস্তি, কোথাও ক্ষোভ, কোথাও আবার নতুন আশার আলো—সব মিলিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এখন পরিবর্তনের এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী থাকছেন সাধারণ মানুষ
 

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাস্তা দখল, নোংরা পরিবেশ এবং অবৈধ নির্মাণের কারণে শহরের সৌন্দর্য ও নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই আইন মেনেই এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, “যেখানে অবৈধ দখল থাকবে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য। কেউ ব্যক্তিগতভাবে দখল করে রাখতে পারে না।”

শুধু দোকান উচ্ছেদই নয়, একইসঙ্গে শুরু হয়েছে বড়সড় পরিষ্কার অভিযানও। বহু এলাকায় বছরের পর বছর জমে থাকা আবর্জনা সরাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরসভার তরফে অতিরিক্ত সাফাইকর্মী নামানো হয়েছে রাস্তায়। নর্দমা পরিষ্কার, ড্রেন সংস্কার এবং ময়লা অপসারণের কাজ চলছে জোরকদমে। অনেক জায়গায় জীবাণুনাশক স্প্রে করতেও দেখা গিয়েছে পুরকর্মীদের।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, এই ধরনের অভিযান অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কারণ অবৈধ দখল ও কাচরার কারণে পরিবেশ দূষণ যেমন বাড়ছিল, তেমনই বাড়ছিল দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। বিশেষ করে বাজার ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পথচলতি মানুষকে নিত্যদিন সমস্যার মুখে পড়তে হতো। রাস্তার দুই ধারে অবৈধ দোকান থাকায় যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছিলপ্রশাসনিক চেয়ারেই পরিবর্তন আসেনি, বদলে যেতে শুরু করেছে এলাকার বহুদিনের চেনা ছবিও। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে গজিয়ে ওঠা ছোট-বড় দোকান, অবৈধ দখল, ফুটপাত জুড়ে ব্যবসা, জমে থাকা কাচরা, নোংরা পরিবেশ এবং অপরিকল্পিত নির্মাণের বিরুদ্ধে এবার একযোগে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। সকাল হতেই বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে বুলডোজার, জেসিবি, পুরসভার সাফাইকর্মী এবং বিশাল পুলিশবাহিনীর তৎপরতা। কোথাও রাস্তার ধারের অবৈধ দোকান সরানো হচ্ছে, কোথাও আবার বছরের পর বছর জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। বহু জায়গায় নর্দমা পরিষ্কার থেকে শুরু করে রাস্তা প্রশস্ত করার কাজও শুরু হয়েছে। আর এই পুরো দৃশ্য ঘিরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা—“সুধু সরকার বদলায়নি, বদলে যাচ্ছে এলাকার চেহারাও।”দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ অভিযোগ করে আসছিলেন যে ফুটপাত বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। বাজার এলাকা, স্টেশন চত্বর, বাসস্ট্যান্ড কিংবা ব্যস্ত রাস্তার দু’ধার—সব জায়গাতেই ধীরে ধীরে গজিয়ে উঠেছিল অস্থায়ী ও স্থায়ী দোকান। কোথাও চায়ের দোকান, কোথাও ফলের স্টল, কোথাও আবার টিন-তাঁবু দিয়ে তৈরি স্থায়ী কাঠামো। এর জেরে সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গা কমে গিয়েছিল। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, বয়স্ক মানুষ, অফিসযাত্রী—প্রত্যেককেই প্রতিদিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। বাধ্য হয়ে অনেক সময় মানুষকে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হতো, যার ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছিল।

 

 

Preview image