Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের প্রথম রোবট পুলিশ বাহিনী রক্ষক এর আত্মপ্রকাশ অপরাধ দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং দেশের নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়

ভারতের আইনশৃঙ্খলার ইতিহাসে আজ এক বৈপ্লবিক দিন রাজধানী দিল্লির বুকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল দেশের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট পুলিশ বাহিনী যার নাম দেওয়া হয়েছে রক্ষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা চালিত এই রোবটগুলো মানুষের মতোই দেখতে কিন্তু এদের শক্তি এবং বুদ্ধি মানুষের চেয়ে বহুগুণ বেশি বুলেটপ্রুফ শরীর এবং ৩৬০ ডিগ্রি ভিশন নিয়ে এরা এখন থেকে শহরের রাস্তায় টহল দেবে এবং অপরাধীদের ত্রাস হয়ে উঠবে

ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশিং এর ইতিহাসে আজকের দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এতদিন আমরা হলিউড বা বলিউডের সিনেমায় দেখতাম যে রোবটরা পুলিশের উর্দি পরে চোর ডাকাতদের ধরছে বা বোম নিষ্ক্রিয় করছে আজ সেই সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞান বাস্তবের মাটিতে নেমে এল ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও এবং আইআইটি দিল্লির রোবোটিক্স বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে ভারতের নিজস্ব রোবট পুলিশ যার নাম রক্ষক আজ সকালে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে আয়োজিত এক বিশাল কুচকাওয়াজ বা প্যারেডে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই রোবট বাহিনীর উদ্বোধন করেন

আজকের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এবং বিদেশি অতিথিরা যখন খাকি উর্দি পরা ৬ ফুট লম্বা ৫০টি রোবট একসাথে মার্চ করে বা কুচকাওয়াজ করে মঞ্চের সামনে দিয়ে যায় তখন দর্শকদের করতালিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে এই রোবটগুলো দেখতে হুবহু মানুষের মতো তাদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক স্টান গান এবং শরীরে রয়েছে সেন্সর ও ক্যামেরা তাদের চোখের মনিতে জ্বলছে নীল আলো যা প্রমাণ করে তারা সব সময় সতর্ক বা অ্যালার্ট মোডে আছে

রক্ষক এর গঠন এবং প্রযুক্তি

রক্ষক রোবটগুলো তৈরি করা হয়েছে কার্বন ফাইবার এবং টাইটানিয়াম ধাতু দিয়ে যা ইস্পাতের চেয়েও শক্ত কিন্তু ওজনে হালকা এর ফলে এরা খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে এবং উঁচু দেওয়াল টপকাতে পারে এদের শরীর সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ অর্থাৎ সাধারণ বন্দুকের গুলি এদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না আগুনের তাপ বা অ্যাসিড হামলা থেকেও এরা সুরক্ষিত থাকবে এদের মস্তিষ্কে বসানো হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত কোয়ান্টাম এআই চিপ যা প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ ডেটা প্রসেস করতে পারে

সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এদের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম বা মুখ চেনার ক্ষমতা ভিড়ের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের মুখের ছবি স্ক্যান করে এরা নিমিষের মধ্যে অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারে যদি কোনো ফেরারি আসামি বা ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল ছদ্মবেশ ধরেও থাকে তবুও রক্ষক তাকে ধরে ফেলবে কারণ এটি মানুষের চোখের রেটিনা এবং হাঁটার ভঙ্গি বা গেইট অ্যানালিসিস করতে পারে এদের কানে রয়েছে সুপার সেনসিটিভ মাইক্রোফোন যা ১০০ মিটার দূর থেকেও ফিসফিস করে বলা কথা শুনতে পায় এবং সন্দেহজনক শব্দ যেমন গুলির আওয়াজ বা কাঁচ ভাঙার শব্দ বিশ্লেষণ করতে পারে

নারীদের নিরাপত্তা এবং নির্ভয়া স্কোয়াড

এই রোবট বাহিনী তৈরির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাম্প্রতিক সময়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে রক্ষক রোবটগুলো এখন থেকে দিল্লি মুম্বাই এবং ব্যাঙ্গালুরুর রাস্তায় রাত বিরেতে টহল দেবে এদের সাথে সরাসরি শহরের সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সংযোগ থাকবে যদি কোনো মহিলা বিপদে পড়েন এবং চিৎকার করেন বা তার স্মার্ট ওয়াচ থেকে এসওএস বা বিপদ সংকেত পাঠান তবে সবচেয়ে কাছের রক্ষক রোবটটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যাবে

আজকের অনুষ্ঠানে একটি ডেমো বা প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেখানো হয় কীভাবে একজন ইভ টিজার বা উত্ত্যক্তকারীকে রক্ষক রোবট ধরে ফেলছে এবং তাকে স্টান গান দিয়ে অজ্ঞান করে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে রোবটটি ওই মহিলার সাথে কথা বলে তাকে শান্ত করে এবং তার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন রক্ষক হলো আমাদের দেশের মেয়েদের জন্য এক অভেদ্য সুরক্ষা কবচ এখন থেকে ভারতের প্রতিটি নারী নির্ভয়ে রাস্তায় বের হতে পারবেন কারণ তাদের ভাই রক্ষক সব সময় তাদের পাহারায় থাকবে

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় সামলানো

অপরাধ দমন ছাড়াও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে রক্ষক রোবট এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে শহরের ব্যস্ত মোড়গুলোতে যেখানে ট্রাফিক পুলিশকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হয় সেখানে এখন এই রোবটরা কাজ করবে এদের শরীরে থাকা রেডার এবং লিডার প্রযুক্তির মাধ্যমে এরা গাড়ির গতিবেগ মাপতে পারবে এবং কেউ আইন ভাঙলে সঙ্গে সঙ্গে তার ডিজিটাল চালান বা জরিমানা কেটে নেবে ভিড় সামলানো বা ক্রাউড কন্ট্রোল এর ক্ষেত্রেও এদের জুড়ি মেলা ভার দাঙ্গা বা বিক্ষোভের সময় এরা টিয়ার গ্যাস না ছুঁড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে কারণ এদের শরীরে বিশেষ ধরনের সাউন্ড ওয়েভ বা শব্দ তরঙ্গ তৈরির যন্ত্র আছে যা হিংসাত্মক জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেবে কিন্তু কারো শারীরিক ক্ষতি করবে না

মানুষ পুলিশ বনাম রোবট পুলিশ

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে রোবট আসার ফলে কি মানুষের চাকরি চলে যাবে বা পুলিশ কনস্টেবলদের কাজ থাকবে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে রক্ষক রোবট মানুষের বিকল্প নয় বরং মানুষের সহযোগী রোবটরা সেই সব কাজ করবে যা মানুষের জন্য বিপজ্জনক যেমন বোমা নিষ্ক্রিয় করা বা বন্দুকবাজদের সাথে লড়াই করা বা বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে ঢুকে উদ্ধারকাজ চালানো মানবিক দিকগুলো যেমন তদন্ত করা বা জেরা করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ মানুষ পুলিশই করবে রোবটরা কেবল ফিল্ডে বা মাঠে নেমে অ্যাকশন নেবে

তবে পুলিশ ইউনিয়নগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ বলছেন এতে তাদের কাজের চাপ কমবে এবং ঝুঁকি কমবে আবার কেউ কেউ বলছেন ভবিষ্যতে সরকার হয়তো সস্তায় কাজ করানোর জন্য বেশি করে রোবট নিয়োগ করবে কারণ রোবটদের বেতন দিতে হয় না বা পেনশনের চিন্তা নেই তারা ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারে এবং তাদের কোনো ছুটির দরকার হয় না

আইনি এবং নৈতিক প্রশ্ন

news image
আরও খবর

রোবট পুলিশ চালুর সাথে সাথে কিছু আইনি জটিলতাও সামনে এসেছে ভারতের দণ্ডবিধি বা আইপিসি তে রোবটদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা নিয়ে কোনো ধারা নেই তাই সরকার দ্রুত সংবিধান সংশোধন করে রোবোটিক্স অ্যাক্ট বা রোবট আইন প্রণয়ন করছে মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে রোবট যদি ভুল করে কোনো নির্দোষ মানুষকে মারে বা আঘাত করে তবে তার দায় কার হবে রোবট প্রস্তুতকারী সংস্থার নাকি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সরকার জানিয়েছে প্রতিটি রক্ষক রোবটের কাজের ভিডিও রেকর্ড করা হবে এবং তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অ্যালগরিদম বা গাণিতিক সূত্র এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে তারা মানুষের প্রাণহানি এড়িয়েই কাজ করবে তাদের প্রথম লক্ষ্য হবে অপরাধীকে নিষ্ক্রিয় করা মেরে ফেলা নয়

সাইবার ক্রাইম এবং হ্যাকিং এর ভয়

যেহেতু এই রোবটগুলো ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত তাই হ্যাকাররা কি এদের হ্যাক করে উল্টো পুলিশকেই আক্রমণ করতে পারে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না ডিআরডিও এর সাইবার সিকিউরিটি প্রধান বলেন রক্ষক রোবটগুলোর জন্য একটি আলাদা এবং সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে যার নাম পুলিশ নেট বা পোলনেট এটি বাইরের ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত নয় এবং এতে মিলিটারি গ্রেড বা সামরিক মানের এনক্রিপশন ব্যবহার করা হয়েছে তবুও কোনো প্রযুক্তির ১০০ শতাংশ নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় তাই প্রতিটি রোবটের ভেতরে একটি কিল সুইচ বা জরুরি বন্ধ করার বোতাম রাখা হয়েছে যা একমাত্র পুলিশ কমিশনার বা উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ব্যবহার করতে পারবেন

রক্ষণাবেক্ষণ এবং খরচ

একটি রক্ষক রোবট তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা যা একটি পুলিশ গাড়ির দামের সমান কিন্তু এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই কম এটি সোলার পাওয়ার বা সৌরশক্তিতে চলে এবং একবার চার্জ দিলে ৪৮ ঘণ্টা টানা কাজ করতে পারে এদের শরীরের যন্ত্রাংশগুলো মডিউলার অর্থাৎ কোনো অংশ খারাপ হলে তা সহজেই বদলে ফেলা যায় সরকার জানিয়েছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ভারতে আরও ১০ হাজার রক্ষক রোবট নামানো হবে এবং মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় এদের দাম আরও কমানো হবে বিদেশেও এই রোবট রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে যেখানে নিরাপত্তা একটি বড় সমস্যা

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

দিল্লির রাস্তায় যখন প্রথম রক্ষক রোবট টহল দিতে বের হয় তখন তাকে দেখার জন্য মানুষের ঢল নামে বাচ্চারা রোবটের সাথে সেলফি তোলার জন্য ভিড় করে এক কলেজ ছাত্রী বলেন আমি রাতে টিউশন থেকে ফিরতে ভয় পেতাম কিন্তু আজ মেট্রো স্টেশনের বাইরে এই রোবটটাকে দেখে খুব সাহস পাচ্ছি মনে হচ্ছে কেউ একজন শক্তিশালী মানুষ আমাদের পাশে আছে এক দোকানদার বলেন এই রোবট থাকলে চোরেরা আর সাহস পাবে না কারণ এরা ঘুষ খায় না এবং এদের সাথে খাতির জমানো যায় না আইন সবার জন্য সমান হবে

আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা

ভারতের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে আমেরিকা এবং চিনেও রোবট পুলিশ আছে কিন্তু তারা মূলত শপিং মল বা এয়ারপোর্টে কাজ করে ভারতের রক্ষক রোবট সরাসরি রাজপথে এবং অপরাধ দমনে নামানো হয়েছে যা বিশ্বে প্রথম বিবিসি এবং সিএনএন এর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো একে রোবোকপ মোমেন্ট অফ ইন্ডিয়া বা ভারতের রোবোকপ মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে তারা ভারতের এই মডেল পর্যবেক্ষণ করছে এবং যদি এটি সফল হয় তবে শান্তিরক্ষা মিশনে বা পিসকিপিং ফোর্সে ভারতীয় রোবট ব্যবহার করা হতে পারে

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

সরকার জানিয়েছে রক্ষক ১.০ বা প্রথম সংস্করণ সফল হলে এর পরবর্তী সংস্করণ রক্ষক ২.০ আনা হবে যা আরও উন্নত হবে তাতে উড়ন্ত ড্রোন যুক্ত থাকবে অর্থাৎ রোবটের পিঠ থেকে ড্রোন উড়ে গিয়ে ওপর থেকে নজরদারি চালাবে এছাড়াও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ এবং সেনাবাহিনীতেও এই ধরনের রোবট বা সৈনিক রোবট নিয়োগ করার পরিকল্পনা চলছে সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে রোবটরা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হবে কারণ তাদের মৃত্যুভয় নেই এবং তারা দুর্গম এলাকাতেও পাহারা দিতে পারে

উপসংহার

২০২৬ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল রক্ষক রোবট কেবল একটি যন্ত্র নয় এটি এক নতুন যুগের বার্তা যেখানে প্রযুক্তি এবং মানবতা মিলেমিশে কাজ করবে অপরাধমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষে এটি এক বিশাল পদক্ষেপ অবশ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব রোবট যেন কখনো মানুষের প্রভু না হয়ে ওঠে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে তবে এটুকু নিশ্চিত যে আজ থেকে ভারতের অপরাধীরা আর শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না কারণ তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে এক বিনিদ্র প্রহরী যার নাম রক্ষক জয় হিন্দ

Preview image