Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ট্রাম্পকে খুশি করতেই কি ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ পাকিস্তানের, শাহবাজ় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সে দেশের বিরোধীরা

বুধবার পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়, গাজ়ায় শান্তি ফেরানোর জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ তারা যোগ দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। কিন্তু ইসলামাবাদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তানের অন্দরমহলেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সে দেশের বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আইনসভায় কোনও রকম আলোচনা ছাড়াই ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহবাজ় শরিফের সরকার। বুধবার পাকিস্তানের বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়, গাজ়ায় শান্তি ফেরানোর জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ তারা যোগ দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর উদ্যোগকে সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়। এই প্রসঙ্গে পাক আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটের বিরোধী নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এই সিদ্ধান্ত নৈতিক ভাবে ঠিক নয়। নীতিগত কিংবা আদর্শগত থেকেও এটা ঠিক নয়।” আরও পড়ুন:

‘বোর্ড অফ পিস’-এ পাকিস্তানের যোগদানের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পাক সেনেটের বিরোধী নেতার সংযোজন, “এটি বাস্তবায়িত হলে গাজ়ায় প্যালেস্টাইনিরা প্রশাসন পরিচালনার অধিকার হারাবেন। বাইরে থেকে সবটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।” প্রায় একই সুরে পাকিস্তানের আর এক বিরোধী দল তেহরিক-ই-তাহাফুজ়-ই-আয়িন-ই-পাকিস্তানের নেতা মুস্তাফা নওয়াজ খোখর অভিযোগ করেন যে, বোর্ড অফ পিস-এ যোগদান নিয়ে আইনসভায় আলোচনা না-করে স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস করেছে শাহবাজ় সরকার। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘বোর্ড অফ পিস’-এ নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে ট্রাম্প এবং আমেরিকার হাতে। এর ফলে যে কোনও বিষয়ে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেন তিনি।

পাকিস্তানের লেখক তথা সাংবাদিক জ়াহিদ হুসেনও পাক সরকারের এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-কে তিনি জানান, বোর্ড অফ পিস-এ যোগদানের বিষয়ে আরও একটু চিন্তাভাবনা করতে পারত পাকিস্তান। অন্য দেশগুলি কী করছে, তা আগে দেখে নিতে পারত। পাক সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে নিয়ে আমরা কি তাঁর সুনজরে থাকার চেষ্টা করছি?”

প্রাথমিক ভাবে গাজ়া শান্তি ফেরানোর জন্য তৈরি হলেও ‘বোর্ড অফ পিস’-এর নেপথ্যে ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে। আসলে সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নতুন আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করতে চাইছেন ট্রাম্প। প্রাথমিক ভাবে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর কাজ শুরু হবে গাজ়া দিয়ে। সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সফল হলে বিশ্বের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও এই বোর্ড কাজ করবে। ইতিমধ্যেই ভারত-সহ ৫০টিরও বেশি দেশকে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমেরিকা। ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিলে তিন বছরের সদস্যপদ পাবে দেশগুলি। ১০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা) দিলে মিলবে স্থায়ী সদস্যপদ।

‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি ও কূটনৈতিক মহলে বিতর্ক দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। গাজ়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার আবহে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে ঘিরে পাকিস্তানে যে দ্বিধা ও সংশয় তৈরি হয়েছে, তা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সরকার যেখানে এটিকে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, সেখানে বিরোধী শিবির একে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, নীতিগত অবস্থান এবং প্যালেস্টাইন প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে।

পাক সেনেটের বিরোধী দলনেতার বক্তব্যে এই আশঙ্কাই সবচেয়ে স্পষ্ট। তাঁর মতে, ‘বোর্ড অফ পিস’ কার্যকর হলে গাজ়ায় প্যালেস্টাইনিদের নিজস্ব প্রশাসনিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। স্থানীয় নেতৃত্ব, হামাস বা অন্য রাজনৈতিক শক্তির জায়গায় বাইরের শক্তি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেবে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজ়ার মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনও প্রশাসনিক কাঠামো শেষ পর্যন্ত আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, শান্তি নয়।

এই সুরেই কথা বলেছেন তেহরিক-ই-তাহাফুজ়-ই-আয়িন-ই-পাকিস্তানের নেতা মুস্তাফা নওয়াজ খোখর। তাঁর অভিযোগ, ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাকিস্তানের সংসদে কোনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে শাহবাজ় শরিফ সরকার তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই তাঁর দাবি। খোখরের মতে, এই বোর্ডে প্রকৃত ক্ষমতা থাকবে আমেরিকা এবং ট্রাম্পের হাতেই। ফলে সদস্য দেশগুলির মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

খোখর আরও বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই প্যালেস্টাইনের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কথা বলে এসেছে। কিন্তু ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিলে সেই অবস্থান দুর্বল হতে পারে। কারণ এই বোর্ডের কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। যদি গাজ়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্যালেস্টাইনিদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তা হলে পাকিস্তানের নৈতিক অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক জ়াহিদ হুসেন। পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এ দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, পাকিস্তান চাইলে কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারত। অন্য মুসলিম দেশগুলি বা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলি কী অবস্থান নেয়, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। তাঁর প্রশ্ন, “ট্রাম্পের প্রস্তাব এত দ্রুত গ্রহণ করে আমরা কি আসলে তাঁর সুনজরে থাকার চেষ্টা করছি?” হুসেনের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি মহল অবশ্য এই সমালোচনা মানতে নারাজ। তাদের যুক্তি, ‘বোর্ড অফ পিস’ পাকিস্তানের জন্য একটি কূটনৈতিক সুযোগ। গাজ়া সংকটের সমাধানে যদি পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে, তা হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে ইসলামাবাদ। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের কাছে এই কূটনৈতিক সেতুবন্ধন ভবিষ্যতে আর্থিক বা রাজনৈতিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারে বলেও সরকারের একটি অংশ মনে করছে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই যুক্তির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সমস্যার মূল। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে যদি পাকিস্তান নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসে, তা হলে দীর্ঘমেয়াদে তার মূল্য দিতে হতে পারে। বিশেষ করে প্যালেস্টাইন প্রশ্নে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক অবস্থান মুসলিম বিশ্বে পরিচিত। সেই জায়গায় আপস করলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কয়েকটি সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে।

news image
আরও খবর

‘বোর্ড অফ পিস’-এর কাঠামো নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক ভাবে গাজ়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এই বোর্ডের লক্ষ্য। সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি এবং প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ করতে পারে এই বোর্ড। কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে গাজ়ার উপর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়বে এবং প্যালেস্টাইনিদের নিজস্ব রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা খর্ব হবে।

ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, গাজ়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সফল হলে এই বোর্ড বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও হস্তক্ষেপ করতে পারে। অর্থাৎ এটি শুধু একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ নয়, বরং একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সূচনা। সেই ব্যবস্থায় আমেরিকার প্রভাব কতটা থাকবে এবং ছোট বা উন্নয়নশীল দেশগুলির ভূমিকা কতটা সীমিত হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকেরা।

ইতিমধ্যেই ভারত-সহ ৫০টিরও বেশি দেশকে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমেরিকা। সদস্যপদের শর্তও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিন বছরের সাধারণ সদস্যপদ এবং ১০০ কোটি ডলার দিয়ে স্থায়ী সদস্যপদ—এই আর্থিক কাঠামো অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। সমালোচকদের মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো মানবিক উদ্যোগে অর্থের ভিত্তিতে ক্ষমতা নির্ধারণ নৈতিক ভাবে প্রশ্নযোগ্য।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই আর্থিক বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশের পক্ষে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য এত বড় অঙ্ক দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে পাকিস্তান যদি সাধারণ সদস্য হিসেবেই থাকে, তা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব সীমিতই থাকবে—এমন আশঙ্কা করছেন বিরোধীরা।

সব মিলিয়ে, ‘বোর্ড অফ পিস’ পাকিস্তানের সামনে এক জটিল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দিকে আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে অংশগ্রহণের সুযোগ, অন্য দিকে সার্বভৌমত্ব, নীতিগত অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার চাপ। এই টানাপোড়েনের মধ্যে পাকিস্তান সরকার কোন পথে এগোয়, তা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। আপাতত স্পষ্ট, ‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে বিতর্ক পাকিস্তানে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহলেও বিভক্ত মতামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগদানের আগে পাকিস্তানের উচিত ছিল এর কার্যপ্রণালি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এবং ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পর্কে স্পষ্ট লিখিত নিশ্চয়তা চাওয়া। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে অংশ নেওয়া অবশ্যই ইতিবাচক, কিন্তু তা যেন দেশের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানকে দুর্বল না করে—এই বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসছে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব, ইরান, তুরস্কের মতো শক্তিশালী দেশগুলি যদি ‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়, তা হলে পাকিস্তানের একক ভাবে এগিয়ে যাওয়া কৌশলগত দিক থেকে কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, মুসলিম বিশ্বে সমন্বিত অবস্থান না থাকলে গাজ়ার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন।

এ দিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ইস্যু ভবিষ্যতে সরকার-বিরোধী আন্দোলনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত হলে তা সরকারের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। ফলে শুধু আন্তর্জাতিক নয়, এই সিদ্ধান্তের ঘরোয়া রাজনৈতিক ফলও শাহবাজ় শরিফ সরকারকে সতর্ক ভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে।

সব দিক মিলিয়ে, ‘বোর্ড অফ পিস’ নিয়ে পাকিস্তানের সামনে এখন সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো এক কঠিন সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত যে শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের কূটনৈতিক দিশাও নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে আর কারও সন্দেহ নেই।

Preview image