Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সাধারণ মানুষের পকেটে টান: আমুল ও মাদার ডেয়ারির দুধের দাম একধাক্কায় বৃদ্ধি

দেশের দুই প্রধান দুগ্ধ সরবরাহকারী সংস্থা আমুল এবং মাদার ডেয়ারি তাদের দুধের দাম প্রতি লিটারে বৃদ্ধি করার ঘোষণা করেছে। মূলত উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের পকেটে টান: আমুল ও মাদার ডেয়ারির দুধের দাম একধাক্কায় বৃদ্ধি
current affairs

দুধের বাজারে আগুন: আমুল ও মাদার ডেয়ারির মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে সাধারণ মানুষ

ভূমিকা: ভারতের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক অপরিহার্য উপাদান হলো দুধ। শিশুর পুষ্টি থেকে শুরু করে সকালের এক কাপ চা—সবকিছুতেই দুধের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। তবে সম্প্রতি আমুল (Amul) এবং মাদার ডেয়ারি (Mother Dairy) তাদের দুধের দাম বাড়ানোর যে ঘোষণা করেছে, তাতে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বাজারের অন্যতম দুই প্রধান সংস্থা দাম বাড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার দুধের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন বাড়ছে দুধের দাম? সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুধের দাম বাড়ানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, গবাদি পশুর খাদ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়ে গেছে। খড়, ভুষি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যের আকাশছোঁয়া দামের কারণে পশুপালকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের খরচ (Procurement Cost) অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহণ খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। পশুপালকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে এবং সরবরাহের মান বজায় রাখতে এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য ছিল বলে দাবি করছে কোম্পানিগুলো।

মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে প্রভাব: মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট এমনিতেই রান্নার গ্যাস এবং ভোজ্য তেলের দামে নাজেহাল। তার ওপর দুধের দাম বাড়লে মাসিক খরচে বড় পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে যে সমস্ত পরিবারে ছোট শিশু বা বৃদ্ধ মানুষ রয়েছেন, তাদের জন্য দুধ কেনা এখন বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকান—সব জায়গাতেই এই দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দুধের দাম বাড়ার ফলে চায়ের কাপের আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে অথবা চায়ের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদন ও সরবরাহের চ্যালেঞ্জ: ভারতে দুগ্ধ শিল্পের চাকা সচল রাখতে সমবায় ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমুলের মতো সংস্থাগুলো সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে। কৃষকদের লাভজনক মূল্য না দিলে তারা এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই একদিকে যেমন গ্রাহকদের স্বার্থ দেখতে হয়, অন্যদিকে উৎপাদক বা কৃষকদের স্বার্থও রক্ষা করতে হয়। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতেই মূলত এই দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি গো-খাদ্যে ভর্তুকি বা পরিবহণে ছাড় দিত, তবে হয়তো সাধারণ মানুষের ওপর এই বোঝা চাপত না।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশন বর্তমানে একটি বড় সমস্যা। দুধের মতো মৌলিক পণ্যের দাম বাড়লে তা পরোক্ষভাবে পনির, ঘি, দই এবং মাখনের দামকেও প্রভাবিত করে। উৎসবের মরসুমে এই প্রভাব আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন সরকারের দিকে, যাতে এই মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা যায়।

উপসংহার: দুধ কেবল একটি পানীয় নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস। আমুল ও মাদার ডেয়ারির এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করবে। আগামী দিনে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত করে এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে যদি দাম স্থিতিশীল করা যায়, তবেই সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন। আপাতত পকেটের টান সামলেই দুধ কিনতে হবে সাধারণ জনতাকে। 

মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় সাধারণ মানুষ: আমুল ও মাদার ডেয়ারির দুধের দাম বৃদ্ধির বিস্তারিত বিশ্লেষণ

ভূমিকা ভারতের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় দুধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সকালের চা থেকে শুরু করে শিশুদের পুষ্টি এবং রাতের গ্লাস ভর্তি দুধ—সবক্ষেত্রেই এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তবে সম্প্রতি দেশের দুই বৃহত্তম দুগ্ধ সরবরাহকারী সংস্থা আমুল এবং মাদার ডেয়ারি তাদের দুধের দাম প্রতি লিটারে বৃদ্ধি করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে যখন সব জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া তখন দুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটে এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

দুধের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট আমুল এবং মাদার ডেয়ারি উভয় সংস্থাই জানিয়েছে যে পশুপালকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। মূলত পশুখাদ্যের দাম গত এক বছরে অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গরুর খাবারের মধ্যে খড় এবং ভূষির দাম প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি ডিজেল এবং পেট্রোলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহণ খরচও অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমস্ত বাড়তি খরচ সামাল দিতে গিয়ে পশুপালকরা এখন দুধের ন্যায্য মূল্য দাবি করছেন। সমবায় সংস্থাগুলো যদি পশুপালকদের বেশি দাম না দেয় তবে তারা দুগ্ধ উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারেন অথবা এই পেশার প্রতি অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। তাই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতেই মূলত এই দাম বাড়ানো হয়েছে।

news image
আরও খবর

উৎপাদন খরচের খুঁটিনাটি দুগ্ধ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পশুপালকদের লড়াই এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। দুধ উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ দানাদার খাবার বা ফিড ব্যবহার করা হয় তার উপাদানগুলোর দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে। ভুট্টার মতো উপাদানের দাম বাড়ার ফলে পশুদের সুষম আহার দেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পশুদের স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহৃত ওষুধের দামও পূর্বের তুলনায় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিগুলো দাবি করছে যে তারা গ্রাহকদের থেকে যে বাড়তি টাকা নিচ্ছে তার সিংহভাগই সরাসরি পশুপালকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন।

মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি প্রভাব মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচের একটি বড় অংশ যায় খাদ্যদ্রব্যের পেছনে। চাল ডাল এবং সবজির দাম বাড়ার পর এখন দুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়া মানে হলো ডমিনো এফেক্ট শুরু হওয়া। দুধের দাম বাড়ার অর্থ হলো দুধ থেকে তৈরি অন্যান্য উপজাত পণ্য যেমন পনির দই ঘি এবং মাখনের দামও খুব শীঘ্রই বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা কারণ অনেক পরিবারে শিশুদের পুষ্টির প্রধান উৎস হলো দুধ। দাম বাড়ার ফলে অনেক পরিবার হয়তো তাদের মাসিক দুধের বরাদ্দের পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হবে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

মিষ্টি এবং বেকারি শিল্পের ওপর প্রভাব বাঙালির মিষ্টির প্রতি দুর্বলতা বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ছানা এবং দুধ ছাড়া মিষ্টি তৈরি অসম্ভব। দুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে মিষ্টির দোকানের মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। তারা হয় মিষ্টির দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন অথবা মিষ্টির আকার ছোট করে দিচ্ছেন। একইভাবে বেকারি শিল্পে বিস্কুট কেক এবং পেস্ট্রির দামও এর ফলে প্রভাবিত হতে পারে। দুধ এবং মাখন এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। তাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল এক গ্লাস দুধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি পুরো খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষক ও পশুপালকদের দৃষ্টিভঙ্গি দুধের দাম বাড়লে যে কেবল সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয় তা নয় বরং এই সিদ্ধান্তের অপর পিঠে রয়েছেন কৃষকরা। সমবায় ব্যবস্থা অনুযায়ী গ্রাহকরা যে টাকা দেন তার একটি বড় অংশ সরাসরি দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকদের কাছে যায়। ভারতের অধিকাংশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকই প্রান্তিক এবং দরিদ্র। পশুখাদ্যের দাম বাড়ার ফলে তাদের লাভের অংশ অনেক কমে গিয়েছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের মতে যদি তারা সঠিক মূল্য না পান তবে গবাদি পশু পালন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং এর ফলে বাজারে দুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

পরিবহণ ও লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ দুধ একটি পচনশীল দ্রব্য। তাই এটি দ্রুত সংগ্রহ করে প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে পাস্তুরাইজ করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দুধের পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ওপর। কোল্ড স্টোরেজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ খরচও আগের চেয়ে অনেকটা বেড়ে গেছে যা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সরকারি ভূমিকা এবং প্রত্যাশা এই সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে সরকার যদি গো খাদ্যের ওপর ভর্তুকি প্রদান করত অথবা পরিবহণের ক্ষেত্রে কর ছাড় দিত তবে হয়তো কোম্পানিগুলোকে দাম বাড়াতে হতো না। এছাড়া দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষকদের জন্য কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মতো প্রকল্পগুলোর আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন যাতে তারা ঋণের দায়ে না পড়ে। খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার যদি দুধকে একটি নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকায় রাখে তবে হয়তো ঘন ঘন এই দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

দুগ্ধ সমবায়ের ভবিষ্যৎ আমুল এবং মাদার ডেয়ারি উভয়ই ভারতের সফল সমবায় আন্দোলনের প্রতীক। এই সংস্থাগুলো কেবল লাভের জন্য কাজ করে না বরং তারা উৎপাদক এবং ক্রেতার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। তবে বিশ্বায়ন এবং মুক্ত বাজারের যুগে এই সংস্থাগুলোকেও তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আগামী দিনে যদি উৎপাদনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করা যায় তবে হয়তো খরচ কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

উপসংহার দুধের দাম বৃদ্ধি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন মাত্র। উৎপাদন খরচ এবং সরবরাহের খরচের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে কোম্পানিগুলো এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এই মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন। পশুপালকদের স্বার্থরক্ষা এবং গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দুধের দাম রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আপাতত বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা ছাড়া সাধারণ মানুষের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। আগামী দিনে সরকার এবং দুগ্ধ সরবরাহকারী সংস্থাগুলো মিলে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Preview image