Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের শাসনব্যবস্থায় ঐতিহাসিক পালাবদল নতুন পিএমও সেবা তীর্থ উদ্বোধন এবং বিশ্বের বৃহত্তম মিউজিয়াম যুগে যুগে ভারত গড়ার প্রস্তুতি শুরু

ভারতের শাসনব্যবস্থা এবং ঐতিহ্যের ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন স্বাধীন ভারতের প্রায় আট দশকের পুরনো ঠিকানা সাউথ ব্লক ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাজ শুরু করেছেন সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যাধুনিক অফিস কমপ্লেক্স সেবা তীর্থ থেকে এর পাশাপাশি ঐতিহাসিক নর্থ এবং সাউথ ব্লককে বিশ্বের বৃহত্তম মিউজিয়াম যুগে যুগে ভারত এ রূপান্তরিত করার কাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে যা প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামকেও ছাপিয়ে যাবে

ভারতের শাসনব্যবস্থা এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে আজকের দিনটি এক নতুন এবং অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে স্বাধীন ভারতের প্রায় আট দশকের দীর্ঘ যাত্রায় এই প্রথমবার দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু বা প্রাইম মিনিস্টারস অফিস সম্পূর্ণ নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন ভারতের নতুন এবং অত্যাধুনিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স যার নাম দেওয়া হয়েছে সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবন এর মাধ্যমে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রাইসিনা হিলসের সাউথ ব্লক যা এতকাল ভারতের ক্ষমতার মূল কেন্দ্র ছিল তার প্রশাসনিক ভূমিকার চিরস্থায়ী অবসান ঘটল কিন্তু এই ভবনগুলো বাতিল হয়ে যাচ্ছে না বরং নর্থ এবং সাউথ ব্লকের এই সুবিশাল এবং রাজকীয় ভবন দুটিকে এবার রূপান্তরিত করা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘর বা মিউজিয়ামে যার নাম দেওয়া হয়েছে যুগে যুগে ভারত ন্যাশনাল মিউজিয়াম এই মেগা প্রজেক্ট যেমন একদিকে ভারতের শাসনব্যবস্থাকে একুশ শতকের আধুনিক রূপ দিচ্ছে তেমনি অন্যদিকে ভারতের পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার এক অভূতপূর্ব আয়োজন করছে

নতুন পিএমও সেবা তীর্থ এবং আধুনিক শাসনব্যবস্থার সূচনা

সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত বা বিকশিত ভারত গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা দেশের সামনে রাখা হয়েছে তা পূরণ করতে গেলে সবকিছুর আগে ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে দেশকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে হবে তিনি বলেন ব্রিটিশদের তৈরি করা পুরনো ভবনগুলোতে বসে আধুনিক ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হচ্ছিল না কারণ সেই ভবনগুলো আধুনিক প্রযুক্তির জন্য উপযুক্ত ছিল না নতুন সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবন এক এবং দুই এর উদ্বোধন দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে সেবা তীর্থ এক এ বসবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পিএমও সেবা তীর্থ দুই এ বসবে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয় বা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ তিন এ বসবে ক্যাবিনেট সচিবালয় এতদিন এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে কাজের সমন্বয় সাধনে অনেক সময় নষ্ট হতো এখন এই সমস্ত শীর্ষ প্রশাসনিক দফতরগুলো একই ছাদের নিচে আসার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি এবং স্বচ্ছতা বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে প্রশাসনিক কর্তারা মনে করছেন

কর্তব্য ভবন কমপ্লেক্সে অর্থ প্রতিরক্ষা স্বাস্থ্য শিক্ষা সংস্কৃতি তথ্য ও সম্প্রচার কৃষি এবং কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক একসাথে বসবে এই নতুন ভবনগুলো সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে যুক্ত বা ডিজিটালি ইন্টিগ্রেটেড এখানে অত্যাধুনিক ই গভর্ন্যান্সের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে যেখানে কাগজের ব্যবহার প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং সমস্ত সরকারি ফাইল ব্লকচেইন এবং ক্লাউড সার্ভারের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে চলে যাবে পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখে এই ভবনগুলোকে ফোর স্টার গৃহ বা ফোর স্টার জিআরআইএইচএ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে এই ভবনগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং জিরো ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে যা এর পরিবেশগত প্রভাব একদম কমিয়ে দিয়েছে সেবা তীর্থ থেকে কাজ শুরু করার প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের কৃষক মহিলা এবং যুব সমাজের কল্যাণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে স্বাক্ষর করে এক নতুন কর্মসংস্কৃতির বার্তা দিয়েছেন

সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লকের ফেলে আসা ইতিহাস

সেবা তীর্থের এই আধুনিক রূপের কথা বলার পাশাপাশি আমাদের ফিরে তাকাতে হবে নর্থ এবং সাউথ ব্লকের সেই আট দশকের দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চকর ইতিহাসের দিকে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ রাজা যখন ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের কথা ঘোষণা করেন তখন নতুন দিল্লির নকশা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লুটিয়েন্স এবং হারবার্ট বেকারকে লুটিয়েন্স তৈরি করেছিলেন ভাইসরয় হাউস বা বর্তমান রাষ্ট্রপতি ভবন আর হারবার্ট বেকার ডিজাইন করেছিলেন নর্থ এবং সাউথ ব্লক ১৯৩১ সালে এই সুবিশাল এবং প্রতিসম ভবন দুটির নির্মাণ শেষ হয় বেকার এই ভবনগুলোতে ইউরোপীয় ধ্রুপদী স্থাপত্যের সাথে ভারতীয় সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন রাজস্থানের ঢোলপুর থেকে আনা লাল এবং ক্রিম রঙের বেলেপাথর বিশাল বিশাল গম্বুজ ঝুলন্ত বারান্দা সূক্ষ্ম জালির কাজ এবং ঝরোকায় ঘেরা এই ভবনগুলোকে সাধারণ মানুষ রাইসিনার কেল্লা বা ফোর্ট অফ রাইসিনা বলে ডাকত

স্বাধীনতার পর এই ব্রিটিশ শাসকদের তৈরি ভবনগুলোই স্বাধীন ভারতের নতুন ভাগ্য নির্ধারণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু সাউথ ব্লক থেকে কাজ শুরু করেন এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল নর্থ ব্লক থেকে ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে ভারতের সাথে যুক্ত করার ঐতিহাসিক কাজ পরিচালনা করেন এই করিডোরগুলো সাক্ষী থেকেছে ভারতের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিভিন্ন যুদ্ধ ও শান্তি চুক্তির এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সময়কালে এই পিএমও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং ইন্দিরা গান্ধীর সময় এটি ক্ষমতার এক বিশাল কেন্দ্রে পরিণত হয় রাজীব গান্ধীর আমলে এই অফিসে প্রথম কম্পিউটারের প্রবেশ ঘটে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ভবনগুলোর পরিকাঠামো পুরনো হতে থাকে এবং আধুনিক বিশ্বের ডিজিটাল চাহিদার সাথে তাল মেলাতে পারছিল না তাই নতুন পিএমও তৈরির সিদ্ধান্ত ছিল সময়ের এক অত্যন্ত জরুরি দাবি

বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘর যুগে যুগে ভারত ন্যাশনাল মিউজিয়াম

সাউথ এবং নর্থ ব্লক খালি হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো যুগে যুগে ভারত ন্যাশনাল মিউজিয়াম প্রকল্প বর্তমান ন্যাশনাল মিউজিয়াম যা জনপথ রোডে অবস্থিত তা ১৯৪৯ সালে তৈরি হয়েছিল এবং ১৯৬০ সালে বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছিল কিন্তু ভারতের বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় ইতিহাসকে মাত্র কয়েকটি গ্যালারির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হচ্ছিল না তাই প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০২৩ সালের মে মাসে যুগে যুগে ভারত মিউজিয়ামের কথা ঘোষণা করেন যা হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদুঘর বর্তমানে প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদুঘর হিসেবে ধরা হয় কিন্তু যুগে যুগে ভারত মিউজিয়াম আয়তন এবং সংগ্রহের দিক থেকে লুভরকেও অনেক পেছনে ফেলে দেবে

news image
আরও খবর

এই বিশাল মিউজিয়ামটি নর্থ এবং সাউথ ব্লক মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হচ্ছে যেখানে একটি বেসমেন্ট এবং তিনটি তলা মিলিয়ে মোট নয়শো পঞ্চাশটি ঘর থাকবে এই মিউজিয়ামে ভারতের পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস সভ্যতা সংস্কৃতি এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে সর্বমোট আটটি মূল পর্যায়ে বা থিমে ভাগ করে প্রদর্শন করা হবে সংস্কৃতি মন্ত্রক জানিয়েছে যে এই আটটি থিমের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে আধুনিক ভারতের এক রোমাঞ্চকর টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন মিউজিয়ামের ডিজাইন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য গত ডিসেম্বর মাসে ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সাথে ভারতের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এই ইন্দো ফ্রেঞ্চ বা ভারত ফরাসি যৌথ উদ্যোগ প্রমাণ করে যে ভারত তার ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি এবং দক্ষতা ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর

আটটি ঐতিহাসিক পর্যায় এবং বিশাল সংগ্রহ

মিউজিয়ামের আটটি থিমের মধ্যে প্রথম পর্যায়টি হলো প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান বা এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান নলেজ যেখানে বেদ উপনিষদ প্রাচীন ভারতের নগর পরিকল্পনা জ্যোতির্বিদ্যা এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রের নিদর্শন তুলে ধরা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকবে প্রাচীন থেকে মধ্যযুগীয় ভারত যেখানে মৌর্য গুপ্ত চোল এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্যের স্থাপত্য সাহিত্য এবং ধর্মের বিকাশ দেখানো হবে তৃতীয় পর্যায়ে থাকবে মধ্যযুগীয় ভারত যেখানে মারাঠা সাম্রাজ্য এবং দিল্লি সুলতানির ইতিহাস স্থান পাবে চতুর্থ পর্যায়ে থাকবে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে উত্তরণ যেখানে মহীশূর রাজ্য এবং শিখ সাম্রাজ্যের কথা বলা হবে পঞ্চম পর্যায়টি আধুনিক ভারতের ইতিহাস নিয়ে তৈরি ষষ্ঠ পর্যায়ে থাকবে ভারতে ব্রিটিশ ডাচ এবং পর্তুগিজদের ঔপনিবেশিক শাসন এবং তার বিরুদ্ধে ভারতীয়দের প্রতিরোধ সপ্তম পর্যায়টি সম্পূর্ণভাবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদ এবং বিভিন্ন আন্দোলনের জন্য উৎসর্গ করা হবে এবং অষ্টম ও শেষ পর্যায়টি হলো ১৯৪৭ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত স্বাধীন ভারতের একশো বছরের যাত্রা যেখানে ভারতের গণতন্ত্র অর্থনীতি মহাকাশ গবেষণা এবং খেলাধুলার অগ্রগতি তুলে ধরা হবে

এই সুবিশাল মিউজিয়ামে সারাদেশের বিভিন্ন সংগ্রহালয় থেকে আনা প্রায় এক লক্ষ অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং শিল্পকর্ম স্থান পাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত রাজ্যসভায় জানিয়েছেন যে দেশের বিভিন্ন এএসআই সাইট মিউজিয়াম এবং বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা চুরি যাওয়া মূর্তি ও প্রাচীন জিনিসপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এখানে সংরক্ষণ করা হবে প্রতিটি প্রাচীন নিদর্শন এখানে আনার আগে তার কন্ডিশন অ্যাসেসমেন্ট বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হবে এবং প্রয়োজনে রেমিডিয়াল ট্রিটমেন্ট বা রাসায়নিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা দীর্ঘস্থায়ী করা হবে এই মিউজিয়ামের প্রথম গ্যালারিটি ২০২৬ সালের শেষের দিকেই সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে পুরো মিউজিয়ামটি সম্পূর্ণভাবে কাজ শুরু করবে

পর্যটন অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানে বিশাল জোয়ার

যুগে যুগে ভারত মিউজিয়াম ভারতের পর্যটন অর্থনীতিতে এক বিশাল এবং অকল্পনীয় বিপ্লব আনতে চলেছে সরকারের অনুমান অনুযায়ী এই মিউজিয়াম সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর প্রতি বছর প্রায় এক কোটি দেশি ও বিদেশি পর্যটক এখানে আসবেন এটি কেবল দিল্লির নয় সমগ্র ভারতের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে পর্যটকদের এই বিপুল ভিড় সামলানোর জন্য মিউজিয়ামের ভেতরে এবং বাইরে এক বিশাল আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ রুট এবং নর্থ ও সাউথ ব্লকের মধ্যে যাতায়াতের জন্য একটি আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল বা সুড়ঙ্গ তৈরি করার প্রস্তাব রয়েছে পর্যটকদের এই আগমন দিল্লির হোটেল ট্রান্সপোর্ট এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ব্যবসায় এক বিশাল জোয়ার আনবে

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই বিশাল প্রজেক্ট ইতিহাসবিদ কিউরেটর আর্ট রিস্টোরার এবং মিউজিয়াম গাইডের মতো প্রচুর নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে পাশাপাশি আধুনিক পর্যটকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এবং মিউজিয়াম অ্যাপ ম্যানেজমেন্টের মতো নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত কাজেরও সৃষ্টি হবে যারা ইতিহাস ভালোবাসেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত তারা এই মিউজিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এক উজ্জ্বল ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবেন বিদেশের অনেক পর্যটক যারা ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তারা এই একটি জায়গাতেই পুরো ভারতের ইতিহাস চাক্ষুষ করার সুযোগ পাবেন যা বিদেশের মাটিতে ভারতের সফট পাওয়ার এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে

উপসংহার

২০২৬ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের শেখায় যে পরিবর্তনই হলো জীবনের এবং একটি দেশের অগ্রগতির একমাত্র নিয়ম যে নর্থ এবং সাউথ ব্লক একদিন ব্রিটিশদের রাজকীয় অহংকার এবং ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতীক হিসেবে তৈরি হয়েছিল আজ সেই ভবনগুলোই স্বাধীন ভারতের গৌরবময় ইতিহাস এবং পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন জ্ঞানভাণ্ডার সংরক্ষণ করার পবিত্র মন্দিরে পরিণত হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেবা তীর্থ থেকে কাজ শুরু করা প্রমাণ করে যে ভারত এখন আর তার অতীতের ভারে আটকে নেই ভারত এখন সম্পূর্ণ নতুন পরিকাঠামো নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন কর্মসংস্কৃতি নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে কিন্তু একই সাথে ভারত তার শিকড়কে ভুলে যায়নি যুগে যুগে ভারত মিউজিয়াম আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে যে এই দেশ একদিনে তৈরি হয়নি এর পেছনে রয়েছে হাজার হাজার বছরের সংগ্রাম ত্যাগ এবং অপরিসীম জ্ঞানের সাধনা আধুনিক প্রশাসনিক দক্ষতা এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের এই অপূর্ব মেলবন্ধন ভারতকে আগামী দিনে বিশ্বের বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে এক নতুন ভারতের স্বপ্ন আজ রাইসিনা হিলস থেকে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করল জয় ভারত

Preview image