Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শিশুর ত্বকে লালচে উঁচু দাগ হতে পারে হেমানজিয়োমা সাবধান থাকুন

হেমানজিয়োমা একটি ত্বকের সমস্যা, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। এটি ত্বকে লালচে বা গোলাপী উঁচু দাগ সৃষ্টি করে, যা মুখ, মাথার ত্বক, বুক বা পিঠে বেশি দেখা যায়। এটি রক্তনালীজনিত সমস্যা, যেখানে রক্তনালীসমূহ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত এটি জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে দেখা যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সেরে যায়।

হেমানজিয়োমা: শিশুর ত্বকে লালচে উঁচু দাগের রহস্য এবং চিকিৎসা

শিশুদের ত্বকে মাঝে মাঝে লালচে, উঁচু ছোপ দেখা যায় যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকে। এই ধরনের ত্বক পরিবর্তনকে সাধারণত হেমানজিয়োমা বলা হয়। এটি একটি রক্তনালীজনিত সমস্যা, যা সাধারণত শিশুর জন্মের পর প্রথম কিছু মাসে ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। হেমানজিয়োমা শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে, তবে মুখ, মাথার ত্বক, বুক বা পিঠে এর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যদিও এটি সাধারণত একটি benign (বিনাইন) সমস্যা, তবে এটি কখনও কখনও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, তাই চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হেমানজিয়োমা কী এবং কেন হয়?

হেমানজিয়োমা হল রক্তনালীজনিত একটি টিউমার, যা শরীরের যে কোনও জায়গায় হতে পারে, তবে মুখ, মাথা, বুক ও পিঠে বেশি দেখা যায়। এটি সাধারণত জন্মের পরই শনাক্ত হয় এবং মূলত রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে এটি সৃষ্টি হয়। এতে রক্তনালীসমূহ একত্রিত হয়ে একটি উঁচু, লালচে বা গোলাপী দাগ তৈরি করে। কিছু ক্ষেত্রে এই দাগের আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে, আর কিছু ক্ষেত্রে এটি ধীরে ধীরে কমে যায়। হেমানজিয়োমা যখন ত্বকের গভীরে চলে যায়, তখন এটি বাইরের দিক থেকে লক্ষণীয় না হলেও অভ্যন্তরীণভাবে রক্তনালী বৃদ্ধি ঘটতে থাকে।

হেমানজিয়োমার কারণ

হেমানজিয়োমা হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হল রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। সাধারণত এই রোগটি জন্মের পরেই শুরু হয় এবং এতে বংশগতিগত কারণও থাকতে পারে। যদিও অনেক সময় হেমানজিয়োমার কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করা কঠিন, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে কিছু জেনেটিক প্রবণতা, হরমোনের প্রভাব এবং প্ল্যাসেন্টাল অস্বাভাবিকতা এর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। শিশুর শরীরে অতিরিক্ত রক্তনালী উৎপাদন শুরু হলে এটি হেমানজিয়োমা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে, অর্পণ সাহা (শিশুরোগ চিকিৎসক) বলেন, “মায়ের গর্ভকালীন কোনো আচরণ বা ক্রিয়া এই রোগের কারণ নয়।” এটি প্রধানত শিশুর শরীরে স্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার একটি অস্বাভাবিক রূপ হিসেবে দেখা যায়।

হেমানজিয়োমার লক্ষণ

হেমানজিয়োমার প্রধান লক্ষণ হল ত্বকে একটি উজ্জ্বল বা গা dark লাল দাগের উপস্থিতি। এই দাগগুলি সাধারণত একটি গোলাকার আকারে দেখা যায় এবং এটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, এই দাগের আকার এবং আকৃতিতে পরিবর্তন হতে থাকে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এটি ত্বকের উপরিভাগে থাকে এবং বাইরের দিক থেকে সহজেই লক্ষণীয় হয়।

হেমানজিয়োমা যখন ত্বকের গভীরে অবস্থান করে, তখন তা বাইরের দিক থেকে দৃশ্যমান হয় না, তবে এটি অভ্যন্তরীণভাবে বৃদ্ধি পায় এবং রক্তনালীগুলির বৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে ত্বকে লালচে বা গোলাপী ছোপ দেখা যায়, যা ছোট থেকে বড় হতে পারে এবং কখনো কখনো এর আকার বাড়তে থাকে।

হেমানজিয়োমা কীভাবে বেড়ে চলে?

হেমানজিয়োমার দুটি পরিণতি হতে পারে। প্রথমত, এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এটি ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে এবং একসময় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, হেমানজিয়োমা ৬ মাস থেকে ১ বছর পর কমে যেতে শুরু করে এবং শিশুর বয়স ৩-৪ বছর হওয়ার পর এটি পুরোপুরি সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘকাল পর্যন্ত অবস্থিত থাকতে পারে এবং কিছু জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

হেমানজিয়োমা এবং রক্তক্ষরণ

হেমানজিয়োমা ত্বকে লালচে ছোপ সৃষ্টি করে, তবে এই দাগে যদি কোনো ধরনের আঘাত লাগে, তবে এতে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা থাকে। অর্পণ সাহা বলেন, “হেমানজিয়োমা যদি আঁচড় লাগলে গলগল করে রক্ত বের হয়, তবে তা দ্রুত থামানোর জন্য পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে চেপে ধরে এবং সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

হেমানজিয়োমার চিকিৎসা

হেমানজিয়োমার চিকিৎসা নির্ভর করে এর আকার, অবস্থান এবং জটিলতার উপর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, এই রোগটি সময়ের সাথে সেরে যায় এবং কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। তবে যদি এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় বা কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

  1. অষুধের ব্যবহার: অনেক ক্ষেত্রে ৬ মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট ধরনের অষুধ খেলে হেমানজিয়োমা ধীরে ধীরে কমে যায়। এই চিকিৎসা বিশেষত ছোট আকারের হেমানজিয়োমার জন্য কার্যকরী।

  2. লেসার থেরাপি: যদি হেমানজিয়োমা বড় আকারে হয়ে থাকে বা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তবে লেসার থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। এটি রক্তনালিগুলির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ত্বকের উপরিভাগে দাগের আকার ছোট করতে সাহায্য করে।

    news image
    আরও খবর
  3. অস্ত্রোপচার: যদি হেমানজিয়োমা ত্বকের গভীরে চলে গিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে, তবে অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। তবে এটি সাধারণত তখনই করা হয় যখন অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি কার্যকরী না হয়।

হেমানজিয়োমা বিনাইন সমস্যা

হেমানজিয়োমা সাধারণত বিনাইন, অর্থাৎ এটি ক্যানসারের ইঙ্গিতবাহী নয়। এটি সাধারণত স্বাভাবিকভাবে সেরে যায় এবং এতে দীর্ঘমেয়াদী কোনো ঝুঁকি থাকে না। তবে একে অবহেলা না করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

হেমানজিয়োমা এবং জটিলতা

যদিও হেমানজিয়োমা সাধারণত একটি বিনাইন সমস্যা, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যদি এটি চোখের কাছাকাছি থাকে, তবে এটি দৃষ্টি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া যদি এটি মুখের আশেপাশে থাকে, তবে এটি শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই, হেমানজিয়োমার জন্য যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরোধ এবং সাবধানতা

হেমানজিয়োমা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কারণ এটি সাধারণত জেনেটিক প্রবণতা বা গর্ভকালীন কারণের ফলস্বরূপ ঘটে। এটি শিশুদের জন্মের পরই ঘটে এবং নির্দিষ্ট কোন বাহ্যিক কারণে এটি হয় না। যদিও হেমানজিয়োমার কারণের মধ্যে অনেক সময় বংশগতির প্রভাব এবং হরমোনের ওঠানামা থাকে, তবে কোনো প্রকার আচরণ বা আচরণগত পরিবর্তন যেমন মায়ের খাবার, ওষুধ বা জীবনযাত্রার কারণে এটি হয় না। এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই, কিন্তু রোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সঠিক চিকিৎসা ও মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যেহেতু হেমানজিয়োমা সাধারণত অস্বাভাবিক রক্তনালির বৃদ্ধির কারণে ঘটে, এটি প্রাথমিকভাবে ত্বকে ছোট লাল বা গোলাপী দাগ তৈরি করে। যদি কখনো এই দাগে কোনো আঘাত বা চাপ লাগে, বা যদি দাগ থেকে রক্ত বের হতে থাকে, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হেমানজিয়োমা বাড়তে থাকলে বা জটিলতা তৈরি হলে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে লেসার থেরাপি বা চিকিৎসা পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে, যা চিকিৎসক নির্দেশনা দেবেন।

উপসংহার

হেমানজিয়োমা একটি সাধারণ রক্তনালীজনিত সমস্যা, যা শিশুর ত্বকে দেখা যায়। এটি প্রধানত একটি বিনাইন (benign) সমস্যা, অর্থাৎ এটি ক্যানসারের লক্ষণ নয় এবং সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী কোনো ক্ষতি করে না। হেমানজিয়োমা হলে শিশুর ত্বকে লাল বা গোলাপী উঁচু দাগ দেখা যায়, যা অনেক সময় নির্দিষ্ট সময় পর নিজে থেকেই সেরে যায়। এই দাগের আকার বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে এটি ছোট হয়ে আসে এবং একসময় সম্পূর্ণভাবে সেরে যায়। যেহেতু এটি এক ধরনের রক্তনালীজনিত সমস্যা, তাই তা শরীরের অস্বাভাবিক রক্তনালী বৃদ্ধির ফলস্বরূপ ঘটে, কিন্তু এটি সাধারণত শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বড় কোনো বিপদ সৃষ্টি করে না।

যদিও হেমানজিয়োমা একটি বিনাইন সমস্যা, তবে এটি কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত বাড়তে পারে বা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যদি এটি ত্বকের এমন জায়গায় থাকে যেখানে আঘাত বা চাপ পড়তে পারে, যেমন চোখের আশেপাশে, মুখের উপর বা শরীরের অন্যান্য সংবেদনশীল জায়গায়। এই ধরনের ক্ষেত্রে দাগটি বড় হয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন দৃষ্টি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসককে দ্রুত পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হেমানজিয়োমার চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ভর করে এর আকার, অবস্থান এবং বৃদ্ধি বা পতনের গতি অনুযায়ী। কিছু ক্ষেত্রে, এটি ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে কমে যেতে থাকে এবং কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে যদি দাগটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় বা কোনো জটিলতা তৈরি করে, যেমন রক্তক্ষরণ বা শ্বাসকষ্ট, তাহলে চিকিৎসকের কাছে দ্রুত পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে, চিকিৎসক ঔষধের মাধ্যমে সমস্যা কমিয়ে দিতে পারেন, এবং কিছু ক্ষেত্রে লেসার থেরাপি বা অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে।

হেমানজিয়োমার উন্নতি পর্যবেক্ষণ করতে অনেক সময় শিশুর ত্বকে মনিটরিং করা দরকার। যদি দাগটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে বা কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়, তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে, এবং চিকিৎসক শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হলে হেমানজিয়োমার উন্নতি সম্ভব। ত্বকে কোনো রকমের আঘাত বা চাপ পড়লে, যেমন আঁচড় লেগে রক্ত বের হলে, পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হেমানজিয়োমা সাধারণত ক্যানসারের সাথে সম্পর্কিত নয় এবং এটি একটি বিনাইন সমস্যা। এর জন্য আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে এটি কোনো সময়ে নিজে থেকেই সেরে যাবে এমন ভাবনা রাখা ঠিক নয়। সাবধানতা অবলম্বন করে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিয়েই এটি নিরাময় করা সম্ভব।

এছাড়া, এই সমস্যা ত্বকের একটি সাধারণ অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও, এটি অবহেলা করার বিষয় নয়। বিশেষত যদি শিশুর শরীরের এমন জায়গায় হেমানজিয়োমা হয় যেখানে এটি আঘাত প্রাপ্ত হতে পারে বা এর আকার বাড়তে থাকে, তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Preview image