বিশ্ব দাবার প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনের এক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার ডি গুকেশ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কার্লসেন স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর দৃষ্টিতে গুকেশ এখনো একজন ইয়াংস্টার বা তরুণ দাবাড়ুই। আন্তর্জাতিক দাবা মহলে এই মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মাত্র অল্প বয়সেই গুকেশ যেভাবে বিশ্ব দাবার মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। একাধিক শক্তিশালী গ্র্যান্ডমাস্টারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সাফল্য, আত্মবিশ্বাসী চাল এবং ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁকে বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম উজ্জ্বল দাবাড়ু হিসেবে তুলে ধরেছে। তবুও কার্লসেনের মতে, অভিজ্ঞতার দিক থেকে গুকেশ এখনও শেখার পর্যায়ে রয়েছেন এবং তাঁর সামনে রয়েছে আরও দীর্ঘ পথ। কার্লসেনের এই মন্তব্যে একদিকে যেমন গুকেশের প্রতিভার স্বীকৃতি মিলেছে, তেমনই ভবিষ্যতের জন্য প্রত্যাশার ইঙ্গিতও স্পষ্ট। দাবা বিশ্লেষকদের মতে, গুকেশের মতো তরুণ প্রতিভার উত্থান বিশ্ব দাবার ভবিষ্যৎকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | দোহা ও চেন্নাই
বিশ্ব দাবার মঞ্চে এখন এক সন্ধিক্ষণ। একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমান দুনিয়ার এক নম্বর খেলোয়াড় ম্যাগনাস কার্লসেনের একচ্ছত্র আধিপত্য, অন্যদিকে ডি গুকেশের মতো তরুণ তুর্কিদের বিশ্বজয়ের স্পর্ধা। সম্প্রতি দোহার অনুষ্ঠিত ফিডে ওয়ার্ল্ড র্যাপিড অ্যান্ড ব্লিটজ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাক্কালে কার্লসেনের একটি মন্তব্য দাবা দুনিয়ায় নতুন করে ঝড় তুলেছে। গুকেশকে নিয়ে কার্লসেন সরাসরি বলেছেন, “আমার বইয়ে গুকেশ অবশ্যই একজন ইয়াংস্টার (তরুণ)।” এই মন্তব্যের গভীরে লুকিয়ে আছে বর্তমান দাবার এক জটিল সমীকরণ—যেখানে বয়স বনাম অভিজ্ঞতা আর আবেগ বনাম স্থিতিশীলতার লড়াই চলছে।
সাধারণভাবে মনে হতে পারে ১৮ বছর বয়সে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া একজনকে ‘তরুণ’ বলায় দোষের কিছু নেই। কিন্তু দাবার পরিভাষায় কার্লসেনের এই মন্তব্যের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কার্লসেন ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমি যখন দুনিয়ার সেরা ৫০ জন খেলোয়াড়ের একজন ছিলাম, তখন গুকেশ জন্মায়নি। তাই আমার কাছে ও অবশ্যই একজন ইয়াংস্টার।” বিশ্লেষকদের মতে, কার্লসেন এখানে দুটি বিষয় বোঝাতে চেয়েছেন:
স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার পাহাড়: কার্লসেন প্রায় দেড় দশক ধরে দাবার শিখরে বসে আছেন। তাঁর কাছে গুকেশ এখনও এমন একজন খেলোয়াড়, যার শৈশব থেকে কৈশোর—পুরোটাই কার্লসেনের দাপটের সাক্ষী।
উত্থানের গতি: কার্লসেন স্বীকার করেছেন যে নতুন প্রজন্মের উন্নতি এতটাই দ্রুত যে তাদের ‘অ্যাসেস’ বা মূল্যায়ন করা কঠিন। তিনি বলেন, “কয়েক মাস না খেললে বোঝা যায় না এই তরুণরা কতটা ভালো হয়ে উঠেছে। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের বিবর্তন ঘটাচ্ছে।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরের মাটিতে ইতিহাস গড়েছেন ডি গুকেশ। চিনের ডিং লিরেনকে হারিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি দাবার ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ‘আনডিস্পিউটেড’ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। গ্যারি কাসপারভ ও ম্যাগনাস কার্লসেনের মতো কিংবদন্তিদের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে গুকেশ এখন দাবার নতুন অধিপতি।
কার্লসেনের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে গুকেশের এই জয় আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কার্লসেন আগে গুকেশকে একজন ‘অত্যন্ত আশাবাদী খেলোয়াড় যে ব্লফ দেয় না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে নরওয়ে চেসে কার্লসেনকে হারিয়ে গুকেশ প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল আশাবাদী নন, তিনি ঘাতকও হতে পারেন।
দাবা এমন একটি খেলা যেখানে কেবল চাল দিয়ে জেতা যায় না, প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করাও বড় কৌশল। কার্লসেন বরাবরই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে পারদর্শী। গুকেশকে বারবার ‘তরুণ’ বা ‘শিক্ষানবিশ’ হিসেবে উল্লেখ করা কি তবে কার্লসেনের কোনও চাল?
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কার্লসেন আসলে নিজেকে এখনও ‘সবচেয়ে সেরা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে চান। যদিও গুকেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কিন্তু রেটিং তালিকায় কার্লসেন এখনও এক নম্বরে। গুকেশ নিজেও বিনম্রভাবে স্বীকার করেছেন, “বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া মানেই আমি সেরা নই, সেরা এখনও ম্যাগনাসই।” এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সূক্ষ্ম প্রতিদ্বন্দ্বিতা দাবা খেলাকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।
গুকেশ আজ একা নন। ভারতীয় দাবার এই জোয়ারে তাঁর সঙ্গে আছেন আর প্রজ্ঞানানন্দা, অর্জুন এরিগাইসি এবং নিহাল সারিনের মতো তরুণরা। ২০২৪ সালের দাবার অলিম্পিয়াডে ভারত যেভাবে সোনা জিতেছে, তাতে স্পষ্ট যে দাবার কেন্দ্রবিন্দু এখন ইউরোপ-রাশিয়া থেকে সরে এসে ভারতের দিকে ঝুঁকছে।
কার্লসেনের ভাষায় এই প্রজন্মটি কেবল ১৬ থেকে ২২ বছর বয়সীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তার চেয়েও কম বয়সী ছেলেমেয়েরা এখন গ্র্যান্ডমাস্টারদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে এখন এমন কেউ একজন উঠে আসে যাকে কেউ আগে থেকে কল্পনাও করতে পারে না।
দোহার সংবাদ সম্মেলনে কার্লসেন ও গুকেশের মধ্যে দাবার ভবিষ্যৎ নিয়েও মতপার্থক্য দেখা যায়। কার্লসেনের মতে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) দাবাকে কিছুটা ‘বোরিং’ বা একঘেয়ে করে দিচ্ছে কারণ সবাই এখন কম্পিউটারের তৈরি চাল মুখস্থ করে আসছে।
তবে গুকেশ এখানেও ইতিবাচক। তিনি বলেন, “আমি কম্পিউটারের সাথে কাজ করতে ভালোবাসি। এর ফলে প্রস্তুতি সহজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখন শারীরিক ফিটনেস এবং মানসিক দৃঢ়তা জয়ের জন্য বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।” এটিই প্রমাণ করে যে গুকেশ কেবল একজন তরুণ নন, তিনি একজন আধুনিক যুগের পেশাদার ক্রীড়াবিদ।
ম্যাগনাস কার্লসেনের “আমার চোখে ও একজন ইয়াংস্টার” মন্তব্যটি আসলে গুকেশের সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের পাহাড় খাড়া করে দিয়েছে। কার্লসেন যেন প্রচ্ছন্নভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছেন—বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া বড় কথা নয়, এই সিংহাসন বছরের পর বছর ধরে রাখাটাই আসল লড়াই।
গুকেশের বয়স কম হতে পারে, কিন্তু তাঁর ঠান্ডা মস্তিষ্ক এবং দাবার প্রতি একনিষ্ঠ সাধনা তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। ২০২৫ এবং তার পরবর্তী সময়গুলো দেখাবে—এই ‘তরুণ’ কি একদিন কার্লসেনের সাম্রাজ্যেও হানা দিতে পারবেন? বিশ্ব দাবার সমর্থকরা এখন সেই মহাযুদ্ধের অপেক্ষায়।
বিশ্ব দাবার মঞ্চে এক প্রজন্ম বদলের সময় চলছে—এ কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা বিশ্ব দাবার শীর্ষে আধিপত্য বজায় রেখেছেন, তাঁদের জায়গায় ধীরে ধীরে উঠে আসছেন একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। সেই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনের একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ভারতীয় তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার ডি গুকেশকে নিয়ে কার্লসেন বলেন, “আমার বইয়ে গুকেশ অবশ্যই একজন ইয়াংস্টার।” এই মন্তব্য শুধু একটি সাধারণ মন্তব্য নয়—বরং এতে লুকিয়ে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব দাবার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর ইঙ্গিত।
ডি গুকেশ আজ ভারতীয় দাবার অন্যতম উজ্জ্বল নাম। অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক দাবার কঠিন মঞ্চে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন তিনি। টিনএজ বয়সেই গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া, পরপর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানো এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে গুকেশকে অনেকেই ভবিষ্যতের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন।
তাঁর খেলার ধরন আক্রমণাত্মক হলেও গভীর কৌশলগত চিন্তায় ভরপুর। কঠিন অবস্থাতেও শান্ত থাকা, দীর্ঘ এন্ডগেমে ধৈর্য ধরে চাল দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগানো—এই গুণগুলিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
ম্যাগনাস কার্লসেন এমন একজন দাবাড়ু, যাঁর মতামত বিশ্ব দাবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। বহু বছর ধরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখা এই নরওয়েজিয়ান তারকা যখন কাউকে ‘ইয়াংস্টার’ বলে উল্লেখ করেন, তখন সেটি শুধু বয়সের নিরিখে নয়—বরং অভিজ্ঞতা ও পরিণত হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হয়।
কার্লসেনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, গুকেশের প্রতিভা নিয়ে তাঁর কোনও সন্দেহ নেই। তবে তিনি মনে করেন, এত সাফল্যের পরও গুকেশ এখনও শেখার পর্যায়ে রয়েছেন। বিশ্ব দাবার শীর্ষে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে হলে অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যা সাধারণত বয়স ও সময়ের সঙ্গে আসে।
গুকেশ একা নন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আরও একঝাঁক তরুণ ভারতীয় দাবাড়ু—আর প্রজ্ঞানানন্দা, নিহাল সারিন, বিদিত গুজরাটি, আর জুনিয়র প্রজন্মের আরও অনেকেই। ভারতীয় দাবা বর্তমানে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে একাধিক তরুণ মুখ নজর কাড়ছে।
বিশ্ব দাবার দিক থেকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কার্লসেন, কারুয়ানা, ডিঙ্গ লিরেনদের মতো অভিজ্ঞ দাবাড়ুদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। এই প্রজন্ম বদলের সময়েই কার্লসেনের মন্তব্যকে অনেকেই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
দাবা এমন একটি খেলা, যেখানে কেবল প্রতিভা থাকলেই শীর্ষে পৌঁছানো যায় না। অভিজ্ঞতা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ম্যাচ, চাপের পরিস্থিতি, টাইব্রেক, বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় মঞ্চ—সব ক্ষেত্রেই মানসিক দৃঢ়তা বড় ভূমিকা নেয়।
কার্লসেন নিজে এই পথ পেরিয়ে এসেছেন। অল্প বয়সে প্রতিভা হিসেবে পরিচিত হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে পরিণত করেছেন এক অনন্য দাবাড়ুতে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো তিনি গুকেশকে ‘ইয়াংস্টার’ হিসেবে দেখছেন—একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যাঁর সামনে রয়েছে আরও দীর্ঘ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
গুকেশ নিজেও বরাবরই নিজের শেখার মানসিকতার কথা বলে থাকেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বসেরা দাবাড়ুদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কার্লসেনের মন্তব্যকে তিনি নেতিবাচক হিসেবে নেননি; বরং এটিকে অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখছেন।
তাঁর মতে, নিজেকে এখনও উন্নত করার অনেক জায়গা রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচ থেকেই শেখার চেষ্টা করছেন তিনি। এই মানসিকতাই তাঁকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দাবা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কার্লসেনের মন্তব্যে কোনও অবমূল্যায়ন নেই। বরং এটি গুকেশের সম্ভাবনার স্বীকৃতি। তাঁরা মনে করছেন, গুকেশ যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি বিশ্ব দাবার শীর্ষ সারিতে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেন।
অনেকেই তুলনা করছেন কার্লসেনের শুরুর দিনের সঙ্গে গুকেশের বর্তমান অবস্থার। সেই তুলনায় গুকেশ অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বড় হচ্ছেন—যা তাঁর জন্য ইতিবাচক দিক।
গুকেশকে ঘিরে এই আলোচনা আসলে ভারতীয় দাবার সামগ্রিক উত্থানের প্রতিফলন। বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন দাবার অন্যতম শক্তিশালী দেশ। তরুণ প্রতিভা, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে ভারতীয় দাবা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
কার্লসেনের মতো তারকার মন্তব্য এই উত্থানকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে, বিশ্ব দাবার শীর্ষ মহলও ভারতীয় তরুণ দাবাড়ুদের দিকে গভীর নজর রাখছে।
“আমার চোখে গুকেশ অবশ্যই একজন তরুণ”—ম্যাগনাস কার্লসেনের এই মন্তব্য শুধুমাত্র একটি উক্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের এক ইঙ্গিত। এটি গুকেশের প্রতিভার স্বীকৃতি, আবার একই সঙ্গে তাঁর সামনে থাকা দীর্ঘ পথের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশ্ব দাবার মঞ্চে গুকেশের যাত্রা এখনও শুরু মাত্র। অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার সঙ্গে যদি তিনি এগিয়ে চলেন, তাহলে একদিন তিনিই হতে পারেন এমন একজন দাবাড়ু, যাঁকে নিয়ে ভবিষ্যতে অন্য কেউ বলবে—“আমার বইয়ে ও আর তরুণ নয়, ও একজন কিংবদন্তি।”