অ্যাশেজ সিরিজ চলাকালীন ইংল্যান্ড শিবিরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে দলের কয়েকজন সদস্যের অতিরিক্ত মদ্যপান সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ সময়েই এই অভিযোগ উঠে আসায় ইংল্যান্ড দলের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচ ও অনুশীলনের বাইরে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফ নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ্যে আসেনি, তবে ইসিবি পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে চায়। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দলের অভ্যন্তরীণ আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের পরিবেশ ও মনোবল নষ্ট করার মতো কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না। অ্যাশেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ সিরিজে মাঠের বাইরের বিতর্ক যে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, তা ভালভাবেই জানে ইংল্যান্ড। তাই দ্রুত এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে বোর্ড।
নিজস্ব প্রতিবেদক | স্পোর্টস ডেস্ক ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া
অ্যাশেজ সিরিজ মানেই শুধু ব্যাট-বলের লড়াই নয়; এটি মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের চরম পরীক্ষা। বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এই টেস্ট সিরিজে প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ওপর থাকে প্রবল চাপ। কিন্তু সেই চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল যখন মাঠের খেলায় ধুঁকছে, ঠিক তখনই সামনে এলো মাঠের বাইরের এক বিস্ফোরক অভিযোগ। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ইংল্যান্ড দলের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত মদ্যপান’ এবং ‘শৃঙ্খলার পরিপন্থী আচরণ’-এর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
অ্যাশেজ চলাকালীন কুইন্সল্যান্ডে অবস্থানকালে ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফ নির্ধারিত আচরণবিধি (Code of Conduct) ভেঙে গভীর রাত পর্যন্ত মদ্যপানে লিপ্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো। বিশেষ করে ব্রিসবেন টেস্টের পরবর্তী সময়ে এবং অ্যাডিলেড টেস্টের প্রস্তুতির আগে একটি বিরতি চলাকালীন এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সংবাদসূত্রে খবর, কুইন্সল্যান্ডের নুসা (Noosa) এলাকায় ছয় দিনের এক দীর্ঘ ছুটি কাটিয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। সেখানে প্রশিক্ষণের চেয়ে বিনোদনকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এবং ‘বিবিসি’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, দলের একাংশ এই বিরতিকে একটি ‘গ্লোরিফাইড স্ট্যাগ ডু’ বা আনন্দ ভ্রমণের মতো করে উপভোগ করেছেন। যেখানে দলের শক্তি ও কন্ডিশনিং কোচ পিট সিম সাত সকালে সমুদ্রতীরে দৌড়ানোর জন্য ডাকলেও, দলের মাত্র তিনজন সদস্য (স্মিথ, বশির ও টাঙ) সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। বাকিরা তখন মদ্যপানের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগ শুধু মাঠের বাইরের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং অ্যাশেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ সিরিজে ইংল্যান্ড দলের মানসিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ইসিবির ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট রব কি (Rob Key) ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে মূলত তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে:
আচরণবিধি লঙ্ঘন: খেলোয়াড়রা কি সত্যিই বোর্ডের বেঁধে দেওয়া ‘কারফিউ’ বা মদ্যপান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভেঙেছেন?
জড়িতদের পরিচয়: কতজন সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় কেউ আছেন কি না।
পারফরম্যান্সে প্রভাব: মাঠের বাইরে এই ধরনের বিলাসিতা কি মাঠের শোচনীয় পরাজয়ের অন্যতম কারণ?
রব কি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “যদি প্রমাণিত হয় যে খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত মদ্যপান করেছেন, তবে আমরা অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময় এমন আচরণ কাম্য নয়।”
ইংল্যান্ড শিবিরের জন্য এই ধরনের বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০১৭-১৮ সালের অ্যাশেজ সফরের সময়ও একই ধরনের ঘটনায় জর্জরিত ছিল ইংল্যান্ড। সেবার পার্থের একটি বারে জিমি অ্যান্ডারসনের মাথায় পানীয় ঢেলে দেওয়ার অভিযোগে বেন ডাকেটকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আবার জনি বেয়ারস্টোর ‘হেডবাট’ বিতর্কও সেই সফরে ইংল্যান্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছিল। বর্তমান অভিযোগটি যেন সেই পুরনো ক্ষতের পুনরাবৃত্তি।
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং বেন স্টোকসের অধীনে ইংল্যান্ড যে আক্রমণাত্মক ‘ব্যাজবল’ ক্রিকেট খেলছিল, তা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। তিন টেস্টের পর সিরিজ ইতিমধ্যেই হাতছাড়া হয়েছে ইংল্যান্ডের। বিশ্লেষকদের মতে, যখন দল ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে, তখন খেলোয়াড়দের এমন ‘উচ্ছৃঙ্খল’ জীবনযাপন সমর্থকদের মনে ক্ষোভ তৈরি করে।
অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের কটাক্ষ এবং মিডিয়ার তীক্ষ্ণ নজর সামলাতে হলে মানসিক স্থিতিশীলতা জরুরি। অতিরিক্ত মদ্যপান শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক ফোকাসও নষ্ট করে দেয়। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইক আথারটনও এই সফরের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইংল্যান্ড শিবির সূত্রে খবর, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত। একদিকে হারের গ্লানি, অন্যদিকে তদন্তের চাপ—সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের একাগ্রতা ব্যাহত হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য জো রুট অবশ্য এই বিতর্কের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে; তিনি মদ্যপানের আসরে যোগ না দিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তবে দলের সামগ্রিক মনোবলে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট।
ইসিবি’র তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ওপর মোটা অঙ্কের জরিমানা বা পরবর্তী সিরিজগুলো থেকে বাদ পড়ার মতো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। মূলত মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টের আগেই এই তদন্তের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুইন্সল্যান্ডে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল কলঙ্ক। অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের সামনে এখন দু’টি বড় লড়াই—একটি মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের সম্মান বাঁচানোর লড়াই, আর অন্যটি মাঠের বাইরে নিজেদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব প্রমাণ করার লড়াই। ইসিবি যদি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এই বিতর্ক নিরসন করতে না পারে, তবে ‘ব্যাজবল’ যুগের এই পতন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।
অ্যাশেজ সিরিজ মানেই শুধু ব্যাট-বলের লড়াই নয়, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের চরম পরীক্ষা। বিশ্বের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী টেস্ট সিরিজে প্রতিটি মুহূর্তে খেলোয়াড়দের উপর থাকে প্রবল চাপ। ঠিক সেই সময়েই ইংল্যান্ড ক্রিকেট শিবিরে তৈরি হয়েছে বড়সড় অস্বস্তি। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে ইংল্যান্ড দলের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
এই অভিযোগ শুধু মাঠের বাইরের একটি ঘটনা নয়, বরং অ্যাশেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ সিরিজে ইংল্যান্ড দলের মানসিক প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কুইন্সল্যান্ডে থাকা অবস্থায় ইংল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফ নির্ধারিত আচরণবিধি ভেঙে অতিরিক্ত মদ্যপানে জড়িয়ে পড়েন। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ্যে আসেনি, তবে ঘটনার বিবরণ সামনে আসার পর থেকেই ইংল্যান্ড শিবিরে চাপ বেড়েছে।
অস্ট্রেলীয় ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাচ ও অনুশীলনের মাঝামাঝি সময়ে দলের কিছু সদস্য এমন আচরণে লিপ্ত হন যা দলের অভ্যন্তরীণ নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অ্যাশেজ সিরিজ চলাকালীন এমন ঘটনার অভিযোগ উঠতেই বিষয়টি আর গোপন রাখা সম্ভব হয়নি।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, দলের শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তে মূলত তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে—
সত্যিই কি দলের আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে
কতজন সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত
ঘটনার প্রভাব দলের পারফরম্যান্স ও ভাবমূর্তির উপর কতটা পড়তে পারে
ইসিবি’র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “অ্যাশেজের মতো সিরিজে মাঠের বাইরের আচরণও মাঠের পারফরম্যান্সের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অ্যাশেজ শুধুই একটি ক্রিকেট সিরিজ নয়—এটি ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার শতাব্দীপ্রাচীন ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক। এই সিরিজে অংশ নেওয়া মানে দেশের সম্মান কাঁধে তুলে নেওয়া। তাই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শুধু ভালো পারফরম্যান্স নয়, নিখুঁত আচরণও প্রত্যাশিত।
অতীতে বহুবার দেখা গেছে, মাঠের বাইরের বিতর্ক অ্যাশেজে দলের পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। মানসিক অস্থিরতা, দলের ভিতরে বিভাজন এবং মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে ম্যাচের ফলাফল বদলে যেতে পারে।
এই কারণেই বর্তমান অভিযোগকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ইসিবি।
ইংল্যান্ড শিবির সূত্রে খবর, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলের অন্দরে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে। অ্যাশেজের মতো সিরিজে প্রতিটি খেলোয়াড় মানসিকভাবে একে অপরের উপর নির্ভর করে। সেখানে এই ধরনের অভিযোগ দলের ঐক্য ও মনোবল নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠের বাইরে বিতর্ক তৈরি হলে—
খেলোয়াড়দের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়
সংবাদমাধ্যমের চাপ বেড়ে যায়
ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে
ইংল্যান্ড দল ইতিমধ্যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার উপর এমন অভিযোগ দলের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এটি প্রথম নয়, যখন ইংল্যান্ড দলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠল। অতীতেও একাধিকবার মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট।
কখনও নাইট আউট, কখনও কোভিড বিধি লঙ্ঘন, আবার কখনও দলের অভ্যন্তরীণ কোড ভাঙার অভিযোগ—এসব ঘটনা ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছে। ফলে বর্তমান ঘটনার ক্ষেত্রেও বোর্ড যে কড়া অবস্থান নেবে, তা অনেকটাই প্রত্যাশিত।
অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ খেলা মানেই প্রবল চাপ। দর্শকদের কটাক্ষ, মিডিয়ার তীক্ষ্ণ নজর এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক মানসিকতা—সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড দলের জন্য প্রতিটি দিনই চ্যালেঞ্জের।
এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মদ্যপানের মতো অভিযোগ সেই প্রস্তুতির উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন বসায়।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, “অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফল হতে হলে শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এই ধরনের অভিযোগ দলের লক্ষ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।”
ইসিবি’র তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে একাধিক ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—
খেলোয়াড় বা স্টাফদের সতর্কবার্তা
জরিমানা
সাময়িকভাবে দলে নিষেধাজ্ঞা
ভবিষ্যতে কঠোর আচরণবিধি কার্যকর
যদিও বোর্ড এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চায় না। তারা পুরো ঘটনা যাচাই করেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে।
ইংল্যান্ড দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে বোর্ডের নিয়ম মানাই সবার প্রথম দায়িত্ব। কেউ যদি সেই নিয়ম ভেঙে থাকে, তাহলে তার দায় তাকেই নিতে হবে।
এক সিনিয়র সদস্যের কথায়, “অ্যাশেজে খেলতে এসে আমরা সবাই জানি, প্রতিটি কাজ দেশের সম্মানের সঙ্গে জড়িত। এই সিরিজে মাঠের বাইরে কোনও বিতর্ক কাম্য নয়।”
এই মুহূর্তে অ্যাশেজ সিরিজ এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচের ফল সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। তার মধ্যে এই ধরনের বিতর্ক ইংল্যান্ড শিবিরের জন্য বাড়তি চাপ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোর্ড যদি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত শেষ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারে, তাহলে দলের মনোযোগ ফের মাঠের লড়াইয়ে ফিরবে। কিন্তু তদন্ত দীর্ঘায়িত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পারফরম্যান্সে।
কুইন্সল্যান্ডে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগ ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় অস্বস্তির বিষয়। অ্যাশেজের মতো ঐতিহ্যবাহী সিরিজে এই ধরনের বিতর্ক দলের ভাবমূর্তি ও মনোবল—দুটিকেই আঘাত করে।
এখন দেখার, ইসিবি কত দ্রুত ও কতটা কঠোরভাবে এই বিষয়টি সামলায়। কারণ অ্যাশেজে শুধু রান আর উইকেট নয়, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বই শেষ পর্যন্ত দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের সামনে এখন দু’টি লড়াই—একটি মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, আরেকটি মাঠের বাইরে নিজেদের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষা করার।