ভারতের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল লিগ আইএসএল (ইন্ডিয়ান সুপার লিগ) এখন বড় সংকটে। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) নির্ধারিত কঠোর শর্তে কোনও বিনিয়োগকারী বা সংগঠন এগিয়ে আসছে না। একসময় দেশের ফুটবলের গর্ব বলে পরিচিত এই লিগ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে।
ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কোনও বিনিয়োগকারী বা পার্টনার চূড়ান্ত হয়নি পরবর্তী মরসুমের জন্য
নয়াদিল্লি: ভারতের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) বর্তমানে গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। দেশের ফুটবলের উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই লিগ এখন এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে যেখানে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) নির্ধারিত কঠোর শর্তে অংশগ্রহণ বা দায়িত্ব নিতে কেউই এগিয়ে আসছে না।
২০১৪ সালে বিশাল বাজেট ও আন্তর্জাতিক তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল আইএসএল। সেই সময়ে এই লিগ ভারতীয় ফুটবলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বলিউড তারকা, শিল্পপতি ও বিশ্বখ্যাত খেলোয়াড়দের সক্রিয় অংশগ্রহণে লিগটি দ্রুতই দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
তবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়, দর্শক সংখ্যা হ্রাস, সম্প্রচার সংক্রান্ত জটিলতা এবং আর্থিক অস্থিরতা লিগের পুরো কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে।
সম্প্রতি এআইএফএফ লিগের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও বাণিজ্যিক অধিকার সংক্রান্ত নতুন শর্তাবলী ঘোষণা করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে—লিগে বিনিয়োগ করতে চাইলে কঠোর আর্থিক মানদণ্ড মেনে চলা, সম্প্রচার অধিকার যথাযথভাবে বণ্টন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগের দায়িত্ব নিতে হবে।
কিন্তু এই কঠোর শর্তাবলীতে কোনও বড় কর্পোরেট গোষ্ঠী বা ক্রীড়া সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেনি। ফলশ্রুতিতে, আইএসএল-এর পরবর্তী মরসুমের জন্য আয়োজক বা বাণিজ্যিক পার্টনার এখনও চূড়ান্ত হয়নি—যা লিগের জন্য এক বড় হুমকি।
এআইএফএফের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটি লিগকে দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। খেলোয়াড়দের বেতন পরিশোধ, ক্লাবগুলির নিয়মিত পরিচালন ব্যয় এবং স্পনসরশিপ ঘাটতির চাপে লিগটি গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।
এমনকি বেশ কয়েকটি ক্লাব ইতিমধ্যেই তাদের বাজেট সংকোচনের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে কিছু ক্লাবের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ভারতীয় ফুটবলের সমর্থকদের মধ্যে এখন গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ আইএসএল শুধুমাত্র একটি ফুটবল লিগ নয়—এটি ভারতীয় ফুটবলের প্রতীক, যা দেশের উদীয়মান প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।
যদি এই লিগ বন্ধ হয়ে যায় অথবা আকারে সংকুচিত হয়, তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমগ্র ভারতীয় ফুটবল ব্যবস্থাপনায়। তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়ন, ফুটবলের তৃণমূল বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলা প্রদর্শনের সুযোগ—সবকিছুই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বর্তমানে এআইএফএফ বিকল্প প্রস্তাব অনুসন্ধান করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনও সুনির্দিষ্ট সমাধান সামনে না আসা পর্যন্ত আইএসএল-এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
একসময়ের গর্ব ও আশার প্রতীক ছিল এই লিগ, আজ তা প্রশ্নবিদ্ধ। এখন প্রশ্ন উঠছে—ভারতীয় ফুটবল কি আবার তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে পেতে পারবে? নাকি আইএসএলের পতনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ফুটবলের স্বপ্নও ম্লান হয়ে যাবে?