ভারত–যুক্তরাষ্ট্র LPG চুক্তি : জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত ভারতের জ্বালানি বাজারে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন LPG আমদানি চুক্তি সই হওয়ার মধ্য দিয়ে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হার্দীপ সিং পুরি ঘোষণা করেছেন, ভারত আগামী এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ কোস্ট অঞ্চল থেকে প্রায় ২.২ মিলিয়ন টন LPG আমদানি করবে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের LPG সরবরাহ আরও স্থিতিশীল, সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার আওতায় আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। US-India energy partnership-এ এই নতুন পদক্ষেপকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতে LPG হলো ঘরের রান্নাঘরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি। দেশের ৩০ কোটিরও বেশি পরিবার প্রতিদিন যে সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করে, তার বড় অংশই আসে বিদেশ থেকে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার পর LPG ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানির ওপর নির্ভরতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ভারতের LPG-এর ৬০%-এরও বেশি আমদানি করতে হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। হার্দীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে LPG-এর দাম ৬০%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবুও দেশে LPG সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ₹৪০,০০০ কোটি ভর্তুকি প্রদান করেছে। সরকারের উদ্দেশ্য একটাই— ভারতীয় পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী LPG সরবরাহ নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই নতুন চুক্তি সেই উদ্দেশ্যকে আরও শক্তিশালী করল। এই চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— LPG মূল্য নির্ধারণ করা হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Mount Belvieu Benchmark মূল্য অনুযায়ী। ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি— IOC, BPCL, HPCL— যৌথভাবে এই আমদানির দায়িত্ব পালন করবে। এতদিন ভারত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর ছিল LPG সরবরাহে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ধারাবাহিকভাবে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছিল। তাই আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত জরুরি ছিল। এই চুক্তি সেই প্রয়োজন পূরণ করল।
ভারত, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি ভোক্তা দেশ, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে আমদানিনির্ভর শক্তির উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে LPG বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, যা বর্তমানে ভারতের গৃহস্থালির অন্যতম প্রধান জ্বালানি উৎস হয়ে উঠেছে। কোটি কোটি পরিবার প্রতিদিন রন্ধনশালায় যে সিলিন্ডার ব্যবহার করে, তার বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর।
এই বিশাল চাহিদাকে মাথায় রেখে ভারত সরকার সবসময়ই LPG উৎসকে বৈচিত্র্যময় করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি এক বছরের LPG আমদানি চুক্তি ঘোষণা করেছে— যা শুধু আমদানি নয়, বরং দুই দেশের বাণিজ্যিক-কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হার্দীপ সিং পুরি এই চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ কোস্ট অঞ্চল থেকে প্রায় ২.২ মিলিয়ন টন LPG আমদানি করা হবে এই চুক্তির আওতায়।
এটি ভারতের জন্য একটি “Structured Annual LPG Contract” — অর্থাৎ পরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল আমদানির ব্যবস্থা।
চুক্তির ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এই পদক্ষেপ। LPG-এর দাম, আন্তর্জাতিক বাজার, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, দেশীয় ভোক্তা সুরক্ষা, সরকারী ভর্তুকি, জ্বালানি নিরাপত্তা— সবকিছু নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।
এই বিশাল প্রতিবেদন তুলে ধরছে—
চুক্তির বিস্তারিত
কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে LPG আনতে হচ্ছে
ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থায় এর প্রভাব
সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
ভবিষ্যতে LPG নীতির সম্ভাবনা
ভারতের জ্বালানি কূটনীতির নতুন রূপরেখা
হার্দীপ সিং পুরি সংবাদমাধ্যমে জানান—
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক বছরের LPG আমদানি চুক্তি সই হয়েছে।
প্রায় ২.২ মিলিয়ন টন LPG আমদানির ব্যবস্থা করা হবে।
LPG কেনা হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড Mount Belvieu Benchmark মূল্য অনুযায়ী।
সরকারি তেল সংস্থাগুলি (IOC, BPCL, HPCL) যৌথভাবে এই আমদানি পরিচালনা করবে।
এই চুক্তি ভারতের "Energy Security" আরও দৃঢ় করবে।
এটি প্রথমবার যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাবদ্ধ গ্যাস আমদানি চুক্তি করল।
সাধারণত ভারত ওপেন মার্কেট থেকে LPG কেনে— কিন্তু আন্তর্জাতিক দামের অস্থিরতা রোধ করার জন্য এবার আগাম নিশ্চিত চুক্তি।
ভারতের ৩০ কোটির বেশি পরিবার LPG ব্যবহার করে।
উজ্জ্বলা যোজনা আরও ১০ কোটি পরিবারকে LPG পরিষেবার আওতায় এনেছে।
চাহিদা এত বাড়তে থাকায় দেশীয় উৎপাদন দিয়ে তা মেটানো অসম্ভব।
ভারতের প্রয়োজনের ৬০%-এর বেশি LPG আমদানিনির্ভর।
এই আমদানির প্রধান উৎস— সৌদি আরব, কুয়েত, UAE, কাতার।
কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার বাজার রাজনৈতিকভাবে অস্থির।
তাই সরকার চাইছে—
“Diversify the Import Source.”
এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্থিতিশীল, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সরবরাহকারী।
গত বছর বিশ্ববাজারে LPG দামে বিশাল ওঠানামা হয়।
হার্দীপ সিং পুরি জানান—
আন্তর্জাতিক বাজারে LPG দাম ৬০%-এর বেশি বেড়েছে
কিন্তু ভারতীয় জনগণের জন্য দাম স্থিতিশীল রাখা হয়েছে
সরকার ₹৪০,০০০ কোটি ভর্তুকি দিয়েছে LPG মূল্যে স্থিরতা রাখতে
অতএব স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করাই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শেল গ্যাস উৎপাদন বিশ্বকে বদলে দিয়েছে।
দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LPG রপ্তানিকারক।
যুক্তরাষ্ট্রের LPG মূলত রপ্তানি হয়—
• ইউরোপ
• লাতিন আমেরিকা
• এশিয়া
এখন ভারতও সেই তালিকায়।
বিশ্বে LPG মূল্য নির্ধারণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র—
Mount Belvieu (Texas)
Zudio-India ডিলের মতোই এই চুক্তিতেও LPG মূল্য Mount Belvieu সূচকের উপর নির্ভর করবে।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ।
খাদ্য রান্নার জন্য তিনটি প্রধান জ্বালানি উৎস—
LPG
পাইপড গ্যাস
বিদ্যুৎ
এর মধ্যে LPG-ই সবচেয়ে প্রচলিত।
এমন অনেক পরিবার আছে যাদের ঘরে এখনও পাইপড গ্যাস নেই।
তাদের জন্য LPG সিলিন্ডারই একমাত্র সমাধান।
সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকার LPG সরবরাহে বড় গুরুত্ব দেয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম যতই ওঠানামা করুক, এই চুক্তির মাধ্যমে স্থিতিশীল মূল্য নির্ধারণ সহজ হবে।
মধ্যপ্রাচ্য–কেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার রাজনৈতিক ঝুঁকি কমবে।
ভারত সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদি LPG নীতি করতে পারবে—
• সাবসিডি নির্ধারণ
• সিলিন্ডারের দাম
• রেশনিং সিস্টেম
• পর্যাপ্ত স্টক
সবই সহজ হবে।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক শুধু প্রতিরক্ষা বা প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
জ্বালানি আজ আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন ভাষা।
যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে ভারতকে তাদের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী হিসেবে দেখে।
এই চুক্তি সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
ভাল দামে LPG নিশ্চিত
সরবরাহ স্থিতিশীল
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সহজ হবে
অনেকে এটিকে “Game Changer Deal” বলছেন।
কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন—
• এক বছর খুব কম সময়
• চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি করাই ভালো
• পরিবহন খরচ বেশি হতে পারে
• ডলার মূল্য পরিবর্তনে চাপ পড়তে পারে
ভারত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ LPG আমদানিকারক।
তাই ভারত যেকোনো দেশ থেকে যখন LPG কেনে, সেটি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।
এই চুক্তির মাধ্যমে—
ভারতের বাজার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে
আমদানি উৎস আরও বিস্তৃত
বিশ্ববাজারে ভারতের দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বাড়ল
ভারত সরকারের লক্ষ্য—
“প্রতিটি পরিবার নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির আওতায়”।
মেট্রো শহর ছাড়িয়ে এখন জেলার শহরগুলিতে পিএনজি পৌঁছানো হচ্ছে।
আগামী ৫ বছরে ভারতের LPG স্টোরেজ ক্ষমতা ৩ গুণ বাড়ানো হবে।
এই চুক্তি শুধু LPG আমদানির একটি আর্থিক চুক্তি নয়—
এটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিশ্ববাজারে অস্থির LPG দামের বিরুদ্ধে সুরক্ষা
দেশের মানুষের জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ
যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কের নতুন মাইলফলক
ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতির শক্ত ভিত্তি
ভারত আজ বিশ্বের দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি।
এমন সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই চুক্তি সেই পথেই বড় পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LPG রপ্তানিকারক। “Shale Gas Revolution” পরে দেশটির LPG উৎপাদন বিপুলভাবে বেড়েছে। ফলে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি শক্তিশালী পার্টনার। ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিয়মিতভাবে তেল ও গ্যাস কিনলেও এ ধরনের এক বছরের কাঠামোবদ্ধ LPG চুক্তি এবারই প্রথম। এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বেশ কিছু বড় সুবিধা নিয়ে আসবে—
১) LPG সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে, ফলে হঠাৎ ঘাটতির আশঙ্কা কমবে।
২) মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমে গিয়ে আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় হবে।
৩) আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামার প্রভাব কমে গিয়ে ভোক্তা মূল্য আরো নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৪) সরকারি সাবসিডি পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদে সমন্বয় করা সহজ হবে।
৫) ভারতের বিশ্ববাজারে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে।
দেশের সাধারণ মানুষের দিক থেকেও এই চুক্তির তাৎপর্য যথেষ্ট। বর্তমানে শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্র LPG-ই প্রধান রান্নার জ্বালানি। পাইপড গ্যাস এখনও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েনি। মিলিয়ন মিলিয়ন পরিবার শুধুমাত্র সিলিন্ডার নির্ভর। তাই LPG সরবরাহে সামান্য সমস্যা হলেই তার প্রভাব পড়ে ঘরোয়া জীবনে। নতুন এই চুক্তি সেই সমস্যার সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
ভারতের অর্থনীতিতেও এই চুক্তি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ থাকলে শিল্প, বাণিজ্য, পরিবেশ, কৃষি— সবক্ষেত্রে উপকার হয়। LPG সরবরাহে স্বচ্ছতা রাখলে রন্ধনশালার বাইরে আরও বিভিন্ন শিল্পেও এর ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তাছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের শক্তি-চাহিদার অবস্থান আরও দৃঢ় হবে।
কূটনৈতিক দিক থেকেও এটি ভারতের সাফল্য। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত উচ্চতায় রয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, জ্বালানি— সবক্ষেত্রেই সহযোগিতা বেড়েছে। এই চুক্তি সেই সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চেয়েছিল ভারত তাদের LPG বাজারের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠুক। এই চুক্তির মাধ্যমে সেই পথ এখন উন্মুক্ত।
তবে সমালোচকরা কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন—
▪ মাত্র এক বছরের মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট নয়
▪ পরিবহন খরচ মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় বেশি হতে পারে
▪ ডলার-টাকার বিনিময়মূল্য বাড়লে ব্যয়ও বাড়বে
▪ চুক্তি শেষে পুনরায় মূল্য নিয়ে দরকষাকষি করতে হতে পারে
তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই চুক্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি দেশের জ্বালানি কৌশলের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরে আরও বেশি LPG স্টোরেজ গড়ে তোলা হবে। পাইপড গ্যাসের প্রসারও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি ব্যবহারের হার ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়— যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন LPG চুক্তি ভারতের জ্বালানি কাঠামো, অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবন— সবকিছুকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। ভারতের জ্বালানি ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী, আরও স্থিতিশীল হওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। এই চুক্তি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে স্থিতিশীল দামে নির্ভরযোগ্য LPG সিলিন্ডার— আর রাষ্ট্রের কাছে এনে দেবে জ্বালানি-নিরাপত্তার এক নতুন নিশ্চয়তা।