Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভাতাড়েতে বাস-টোটোর সংঘর্ষে মহিলা যাত্রী নিহত !

কাটোয়া যাওয়ার পথে ভাতাড়ে এলাকায় এক বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় যাত্রীবাহী টোটোর মহিলা যাত্রী নিহত হন। দুর্ঘটনায় টোটোতে থাকা অন্যান্য যাত্রী আহত হন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে এবং বাস চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন

কাটোয়া, ভাতাড়ে: গতকাল সন্ধ্যায় কাটোয়া যাওয়ার পথে ভাতাড়ে এলাকায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক মহিলা যাত্রী নিহত হয়েছেন। বেপরোয়া গতিতে চলা একটি বাস যাত্রীবাহী টোটোর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মহিলার পরিচয় কোকো নামে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাসটি অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে চলছিল। সাধারণ রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সামনে আসা যাত্রীবাহী টোটোর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে টোটো সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং ভিতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। "বাসটি অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে চলছিল। সড়কটি সংকীর্ণ এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে," জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী।

ধাক্কার শব্দ শুনে আশেপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ছোট টোটোটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা জানান, সংঘর্ষে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যান্য আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর থাকলেও তাদের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে।

স্থানীয় থানায় এই ঘটনার প্রতিবেদন দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বাস চালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে বাসের অতিরিক্ত গতি এবং সড়কের অনিয়মিত অবস্থা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে হচ্ছে। এছাড়াও টোটো চালক যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন কিনা সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।

"আমরা সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত করছি। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে," জানিয়েছেন স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, সড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা এবং সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে যেখানে বড় এবং ছোট যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করে, সেখানে চালকদের অতিরিক্ত সাবধানতা প্রয়োজন।

news image
আরও খবর

নিহত  পরিবার গভীর শোকে মুহ্যমান। পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমকে জানান, "আমাদের প্রিয়জনের হঠাৎ চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক অসহনীয় ধাক্কা। আমরা চাই দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি হোক যাতে আর কোনো পরিবারকে এই বেদনা সহ্য করতে না হয়।" স্থানীয় সমাজকর্মীরা শোকাহত পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাটোয়া রাস্তায় প্রায়ই বাস এবং টোটোর মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ ঘটে। যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, চালকদের অসাবধানতা এবং সড়কের খারাপ অবস্থা এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। "প্রতিদিন আমরা এখানে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চলতে দেখি। কর্তৃপক্ষের উচিত কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা," বলেন এক স্থানীয় দোকানদার।

যানবাহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যাত্রীবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং তার যথাযথ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। চালক এবং যাত্রী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে প্রতিদিন এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে টোটো, রিকশার মতো ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা মান উন্নত করা এবং বড় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা অতীব জরুরি।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং সড়কে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। জেলা পরিবহন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "আমরা সড়ক নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ অভিযান চালাব। নিয়ম লঙ্ঘনকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এই দুর্ঘটনা শুধু কাটোয়া এলাকার জন্য নয়, বরং সমগ্র রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে এবং মূল্যবান জীবন হারাচ্ছে। কোকোর আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সকলের জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে—জীবন অপ্রত্যাশিত এবং সড়কে সচেতনতাই পারে অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু রোধ করতে।

Preview image