Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক: তদন্তে উঠবে নিরাপত্তার প্রশ্ন

রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট এক ঘণ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। কোনো প্রাণহানি না হলেও যন্ত্রপাতি ও নথিপত্র পুড়ে গেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যারা সাত কার্যদিবসে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবে।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার সকালে আগুন লাগার ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ  তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হঠাৎ আগুন লাগলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ধোঁয়া দেখা দিলে বিমানবন্দরে অবস্থানরত যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সময়মতো জরুরি সেবা পৌঁছানোয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ছয়টি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অগ্নিনির্বাপণ কাজ চালানো হয়। সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং পরবর্তীতে কুলিং অপারেশন চালানো হয় যাতে পুনরায় আগুন জ্বলে না ওঠে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত কারণ নির্ণয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে আগুনের সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগুন লাগার পর তারা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, আগুন নেভানোর সময় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তারা প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবেন। এই প্রতিবেদনে আগুনের উৎস, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে বিস্তারিত সুপারিশ থাকবে। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সার্বিক তদন্ত পরিচালনা করবে। এছাড়া বৈদ্যুতিক সিস্টেম, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রোটোকলেরও মূল্যায়ন করা হবে। কমিটি বিশেষভাবে দেখবে যে বিমানবন্দরের বর্তমান অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যাপ্ত কিনা এবং কোথায় কোথায় উন্নতি প্রয়োজন। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেশ কিছু যন্ত্রপাতি, অফিস সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বেশ কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং অফিস আসবাবপত্র সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সিস্টেম, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করা হবে। বিমানবন্দরের সব ভবন ও স্থাপনায় ফায়ার সেফটি অডিট পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং যাত্রীদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সংস্কার ও পুনর্বাসন কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আশ্বস্ত করে বলেছে যে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে

news image
আরও খবর
Preview image