বিয়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পরেও অনেক সময় দেখা যায়, বিশেষ দিনটিতে চুল বা ত্বক মনের মতো হয়ে উঠছে না। বিশেষ করে বিয়ের সাজে চুলের রুক্ষতা বা ত্বকের জেল্লা কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েন অনেকেই।
বিয়ের দিন জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত। এই দিনে নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে চান প্রত্যেক কনেই। পোশাক থেকে গয়না, মেকআপ থেকে হেয়ারস্টাইল—সব কিছুই হতে হয় মনের মতো। বিয়ের সাজের প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। ত্বকের যত্ন, চুলের পরিচর্যা, পছন্দের পোশাক বেছে নেওয়া, মেকআপের পরিকল্পনা—কোনও কিছুই বাদ রাখতে চান না হবু কনেরা। তবুও কখনও কখনও দেখা যায়, এত প্রস্তুতির পরেও বিশেষ দিনটিতে চুল বা ত্বক ঠিক মনের মতো দেখাচ্ছে না।
বিশেষ করে শুষ্ক ও রুক্ষ চুল নিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেক কনেই। মাসের পর মাস চুলে তেল মাখা, কন্ডিশনার ব্যবহার, হেয়ার মাস্ক লাগানো কিংবা পার্লারে গিয়ে পরিচর্যা করানোর পরেও বিয়ের দিন চুল নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। চুলের ডগা ফেটে যাওয়া, জট পড়া, অতিরিক্ত ফুলে থাকা কিংবা আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল কুঁকড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা কনের সাজের পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তার উপর বিয়ের দিন থাকে নানা রকম ব্যস্ততা। মেকআপ, পোশাক পরা, গয়না পরা, ছবি তোলা এবং অনুষ্ঠানের বিভিন্ন নিয়মকানুন সামলাতে গিয়ে বারবার চুল ঠিক করার সময় পাওয়া যায় না। তাই শুধু সুন্দর হেয়ারস্টাইল বেছে নিলেই হবে না, এমনভাবে চুলের যত্ন নিতে হবে যাতে দীর্ঘক্ষণ চুল পরিপাটি থাকে।
তবে চুল রুক্ষ দেখালেই যে পুরো সাজ নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। চুলের ধরন বুঝে হেয়ারস্টাইল বেছে নেওয়া, সঠিক হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার এবং আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে অনেকটাই সামাল দেওয়া যায় এই সমস্যা। বিয়ের দিনের সাজ নিখুঁত করে তুলতে জেনে নিন কয়েকটি সহজ ও কার্যকর পরামর্শ।
বিয়ের দিন সকলের নজর থাকে কনের দিকে। তাই পোশাক ও মেকআপের পাশাপাশি হেয়ারস্টাইলও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু ফ্যাশন দেখে চুলের স্টাইল বেছে নেওয়া ঠিক নয়। নিজের চুলের ধরন, দৈর্ঘ্য, ঘনত্ব এবং চুলের স্বাভাবিক গঠন বুঝে হেয়ারস্টাইল নির্বাচন করা প্রয়োজন।
যাঁদের চুল স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক, তাঁরা চুল সম্পূর্ণ খুলে রাখতে চাইলে সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে চুলের ডগা ফেটে গেলে কিংবা চুলের উপরিভাগ রুক্ষ হলে খোলা চুলে সেই অংশগুলি আরও স্পষ্ট দেখাতে পারে। আর্দ্র আবহাওয়ায় চুল ফুলে যাওয়া বা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘক্ষণ কাটাতে হলে এই বিষয়গুলি আগে থেকেই মাথায় রাখা দরকার।
এ ক্ষেত্রে নিচু খোঁপা, পরিপাটি বান, বিনুনি কিংবা অর্ধেক চুল বেঁধে রাখার মতো হেয়ারস্টাইল বেছে নেওয়া যেতে পারে। নিচু খোঁপা বা সুন্দর করে বাঁধা চুলের সঙ্গে ফুল, পাথর বসানো হেয়ারপিন কিংবা টিকলি ব্যবহার করলে সাজে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব। অন্য দিকে, অর্ধেক চুল বেঁধে রাখলে খোলা চুলের সৌন্দর্যও বজায় থাকে, আবার সামনের দিকের চুল বারবার মুখে এসে পড়ার আশঙ্কাও কমে।
যাঁরা খোলা চুল রাখতে পছন্দ করেন, তাঁরাও চাইলে নরম ওয়েভ বা হালকা কার্লের হেয়ারস্টাইল বেছে নিতে পারেন। তবে এই ধরনের স্টাইল করার আগে চুলের স্বাস্থ্য এবং তাপ সহ্য করার ক্ষমতা বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করলে শুষ্ক চুল আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই হেয়ারস্টাইলিস্টকে আগে থেকেই নিজের চুলের সমস্যার কথা জানিয়ে রাখা ভাল।
বিয়ের কয়েক দিন আগে পছন্দের হেয়ারস্টাইলটি এক বার ট্রায়াল করে নিলে সুবিধা হয়। এতে কোন স্টাইলটি আপনার মুখের গড়ন, পোশাক ও গয়নার সঙ্গে মানানসই হচ্ছে, তা বুঝতে পারবেন। পাশাপাশি কতটা সময় লাগছে এবং স্টাইলটি কতক্ষণ ঠিক থাকছে, সেটিও পরীক্ষা করা যাবে। বিয়ের দিন নতুন কোনও স্টাইল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই ভাল।
বিয়ের সাজে চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে অনেকেই হেয়ার সিরাম ব্যবহার করেন। বিশেষ করে শুষ্ক ও রুক্ষ চুলে উপযুক্ত সিরাম চুলের উপরিভাগ মসৃণ দেখাতে, জট কমাতে এবং চুলের ফ্রিজ়ি ভাব সামলাতে সাহায্য করতে পারে। তবে সব সিরাম সব ধরনের চুলের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই নিজের চুলের প্রয়োজন বুঝে পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি।
চুলে ব্লো ড্রাই, স্ট্রেটনার বা কার্লার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত তাপের কারণে চুল আরও শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। তাপের প্রভাবে চুলের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুলের স্বাভাবিক মসৃণতা কমে যায় এবং ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা আরও চোখে পড়তে পারে। তাই বিয়ের দিন হিট স্টাইলিং করার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই চুলের যত্নের বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
তাপ প্রয়োগের আগে চুলের জন্য তৈরি হিট প্রোটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সাধারণ স্মুদিং সিরাম এবং হিট প্রোটেক্ট্যান্ট সব সময় একই পণ্য নয়। যে পণ্যটি ব্যবহার করছেন, সেটি তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য তৈরি কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। পণ্যের নির্দেশিকা মেনে ব্যবহার করাই ভাল।
চুলে সিরাম ব্যবহারের সময় অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন। সাধারণত চুলের মাঝের অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত সিরাম লাগালে ভাল ফল পাওয়া যায়। গোড়ায় অতিরিক্ত সিরাম লাগালে চুল তেলতেলে বা চিটচিটে দেখাতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প করে পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
বিয়ের আগে নতুন কোনও সিরাম বা হেয়ার প্রোডাক্ট প্রথম বার ব্যবহার না করাই ভাল। আগে থেকে ব্যবহার করে দেখে নিলে বোঝা যায়, সেটি চুলে মানাচ্ছে কি না। কোনও পণ্য ব্যবহারের পর মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালা বা অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
বিয়ের দিন চুলের রুক্ষতা পুরোপুরি সামলানো সম্ভব না হলেও সঠিক হেয়ার অ্যাকসেসরিজের সাহায্যে সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। ফুল, মুক্তো, পাথর বসানো হেয়ারপিন, অলংকারযুক্ত খোঁপার কাঁটা কিংবা সাজের সঙ্গে মানানসই হেডপিস ব্যবহার করে চুলের স্টাইলকে বিশেষ করে তোলা সম্ভব।
যাঁদের চুলের ডগা কিছুটা রুক্ষ, তাঁরা এমন হেয়ারস্টাইল বেছে নিতে পারেন যাতে ডগাগুলি পরিপাটিভাবে সাজানো থাকে। সুন্দর খোঁপা বা বিনুনির সঙ্গে ফুল ব্যবহার করলে সাজে ঐতিহ্যবাহী ছোঁয়া আসে। আবার মিনিমাল হেয়ারপিন বা ছোট অলংকার ব্যবহার করলে আধুনিক ও মার্জিত লুক পাওয়া যায়।
তবে অ্যাকসেসরিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। পোশাক, গয়না এবং মেকআপ যদি ভারী হয়, তা হলে চুলে অতিরিক্ত অলংকার না ব্যবহার করাই ভাল। অন্য দিকে, সাধারণ সাজের সঙ্গে একটু নজরকাড়া হেয়ার অ্যাকসেসরিজ সুন্দর মানিয়ে যেতে পারে।
চুল ঠিক রাখতে হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করার কথা ভাবতে পারেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি স্প্রে ব্যবহার করলে চুল শক্ত, আঠালো বা অস্বাভাবিক দেখাতে পারে। তাই চুলের ধরন এবং হেয়ারস্টাইল অনুযায়ী উপযুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া দরকার। স্প্রে ব্যবহারের সময় চোখ ও মুখ থেকে দূরে রাখতে হবে এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
বিয়ের দিন চুল খারাপ দেখাচ্ছে বলে বারবার চিরুনি চালানো বা অতিরিক্ত স্প্রে লাগানোর প্রয়োজন নেই। এতে কোনও কোনও ক্ষেত্রে চুল আরও এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। বরং হেয়ারস্টাইলিস্টের সাহায্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা ঠিক করে নিলেই অনেক সময় যথেষ্ট।
বিয়ের দিন চুলের যত্নের ক্ষেত্রে শ্যাম্পু করার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, কনের সাজ শুরুর ঠিক আগে শ্যাম্পু করলে চুল পরিষ্কার, সতেজ ও ঝলমলে দেখাবে। কিন্তু সব ধরনের চুলের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি সমান কার্যকর নয়।
কিছু চুল সদ্য ধোয়ার পর খুব মসৃণ ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে খোঁপা, বিনুনি বা অন্য কোনও হেয়ারস্টাইল তৈরি করতে হেয়ারস্টাইলিস্টের অসুবিধা হতে পারে। আবার কিছু চুল ধোয়ার পর ফুলে যায় বা জট পড়ে। তাই বিয়ের দিন ঠিক কখন শ্যাম্পু করা উচিত, তা চুলের ধরন এবং পরিকল্পিত হেয়ারস্টাইলের উপর নির্ভর করে।
সাধারণভাবে, বিয়ের আগের দিন চুল ধুয়ে নেওয়া অনেকের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। এতে চুল শুকনো করার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় এবং পরের দিন সাজের সময় তাড়াহুড়ো কমে। তবে আপনার চুল যদি শ্যাম্পু করার পর খুব তেলতেলে হয়ে যায় বা বিশেষ ধরনের হেয়ারস্টাইলের জন্য সদ্য ধোয়া চুল প্রয়োজন হয়, তা হলে হেয়ারস্টাইলিস্টের সঙ্গে আলোচনা করে সময় ঠিক করা ভাল।
চুল ধোয়ার সময় নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। মাথার ত্বক পরিষ্কার করার দিকে বেশি নজর দিন এবং চুলের দৈর্ঘ্য ও ডগায় অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না। শ্যাম্পুর পর প্রয়োজন অনুযায়ী কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল আঁচড়ানো সহজ হতে পারে। কন্ডিশনার সাধারণত চুলের মাঝের অংশ থেকে ডগায় লাগানো সুবিধাজনক।
চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে শুকানোর বদলে আলতো করে জল শুষে নেওয়া ভাল। ভেজা চুল তুলনামূলক বেশি ভঙ্গুর হতে পারে, তাই জোরে আঁচড়ানো বা টানাটানি এড়িয়ে চলুন। চুলের জট ছাড়াতে প্রয়োজন হলে চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিয়ের আগের দিন নতুন কোনও শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করে পরীক্ষা করা ঠিক নয়। আগে থেকে পরিচিত পণ্য ব্যবহার করলে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া বা চুলের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
বিয়ের দিনের চুলের সৌন্দর্য শুধু শেষ মুহূর্তের পরিচর্যার উপর নির্ভর করে না। তার জন্য কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই চুলের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চুল শুষ্ক, রুক্ষ বা ভঙ্গুর হলে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে চুলকে তুলনামূলক ভাল অবস্থায় রাখা যায়।
প্রথমেই চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার বেছে নিন। চুলের ডগা বেশি শুষ্ক হলে কন্ডিশনার বা উপযুক্ত লিভ-ইন কন্ডিশনার কাজে লাগতে পারে। তবে মাথার ত্বকে খুশকি, চুলকানি বা অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব থাকলে সেই সমস্যার উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়া দরকার।
সপ্তাহে এক বার চুলের ধরন অনুযায়ী হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি তা আপনার চুলে মানায়। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের পণ্য ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে চুল ভারী বা চিটচিটে হয়ে যেতে পারে। যে পণ্যটি ব্যবহার করছেন, তার নির্দেশিকা অনুসরণ করাই ভাল।
চুলে বারবার স্ট্রেটনার, কার্লার বা অতিরিক্ত গরম ব্লো ড্রায়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে সম্ভব হলে কম তাপমাত্রা বেছে নিন এবং চুলের খুব কাছে ধরে রাখবেন না। তাপ প্রয়োগের আগে উপযুক্ত হিট প্রোটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করুন।
চুলের ডগা যদি খুব বেশি ফেটে যায়, তা হলে বিয়ের বেশ কিছু দিন আগে সামান্য ট্রিম করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ফাটা ডগা এক বার তৈরি হলে প্রসাধনী দিয়ে সেটিকে সাময়িকভাবে মসৃণ দেখানো সম্ভব হলেও স্থায়ীভাবে জোড়া লাগানো যায় না। তাই প্রয়োজন হলে চুলের সামান্য অংশ কেটে ফেলা চুলকে পরিপাটি দেখাতে সাহায্য করতে পারে।
চুলের যত্নের জন্য শুধু বাইরে থেকে পণ্য ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। সামগ্রিক পুষ্টি ও জীবনযাপনও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের তালিকায় ডাল, ডিম, মাছ, দুধ বা দই, বাদাম, শাকসব্জি এবং বিভিন্ন ফল রাখা যেতে পারে। তবে চুলের সমস্যা হলেই নিজের সিদ্ধান্তে ভিটামিন বা মিনারেলের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ভাল।
পর্যাপ্ত জল পান করা এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি। বিয়ের প্রস্তুতির সময় অনেকের ঘুম কমে যায়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং খাওয়াদাওয়ার সময় অনিয়মিত হয়ে পড়ে। যতটা সম্ভব এই অভ্যাসগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখলে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকবে।
চুল যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শুষ্ক থাকে, অস্বাভাবিক ভাবে ভাঙতে থাকে কিংবা চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়, তা হলে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তন না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কখনও কখনও মাথার ত্বকের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনও শারীরিক কারণেও চুলের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বিয়ের দিন নিখুঁত দেখানোর তাড়নায় অনেকে একসঙ্গে অনেকগুলি হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে সব সময় ভাল ফল পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত সিরাম, স্প্রে বা স্টাইলিং ক্রিম ব্যবহার করলে চুল ভারী, তেলতেলে কিংবা আঠালো দেখাতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে পণ্য ব্যবহার করাই ভাল।
দ্বিতীয়ত, বিয়ের ঠিক আগে নতুন কোনও রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করানো এড়িয়ে চলুন। চুলে রং করা, স্ট্রেটেনিং বা অন্য কোনও রাসায়নিক প্রক্রিয়া করানোর পরিকল্পনা থাকলে অনেক আগে থেকেই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করুন। নতুন ট্রিটমেন্টে চুল বা মাথার ত্বকে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।
তৃতীয়ত, চুলের স্বাভাবিক গঠন পুরোপুরি বদলে ফেলার চেষ্টা করবেন না। আপনার চুল যদি স্বাভাবিকভাবে ঢেউখেলানো হয়, তা হলে সেই গঠনকে কাজে লাগিয়েও সুন্দর হেয়ারস্টাইল করা যায়। সব সময় একেবারে সোজা বা নিখুঁত মসৃণ চুলই যে সবচেয়ে সুন্দর দেখাবে, এমন নয়।
সবশেষে, হেয়ারস্টাইলিস্টের সঙ্গে আগে থেকেই কথা বলে রাখুন। চুলের শুষ্কতা, চুলের দৈর্ঘ্য, পছন্দের স্টাইল এবং অনুষ্ঠানের সময়কাল সম্পর্কে জানালে তিনি সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারবেন। বিয়ের দিনের সাজের একটি ট্রায়াল করে নিলে শেষ মুহূর্তের অপ্রত্যাশিত সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
বিয়ের দিন চুলের রুক্ষতা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক হেয়ারস্টাইল, চুলের ধরন অনুযায়ী সিরাম ও অন্যান্য পণ্য ব্যবহার, উপযুক্ত সময়ে শ্যাম্পু করা এবং মানানসই হেয়ার অ্যাকসেসরিজ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে চুলকে অনেক বেশি পরিপাটি দেখানো সম্ভব।
তবে মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের চুলের ধরন আলাদা। যে পদ্ধতি একজনের চুলে ভাল কাজ করে, তা অন্যের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। তাই বিয়ের আগে থেকেই নিজের চুলের প্রয়োজন বুঝে যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভাল উপায়। সাজের প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিন। আত্মবিশ্বাসী হাসি আর নিজের সঙ্গে মানানসই সাজই বিয়ের দিনে কনেকে সবচেয়ে সুন্দর করে তোলে।