Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পাকিস্তান ও দুবাইয়ের মুসলিমদের প্রতি আলাদা মনোভাব কেন? সরব মিকা, বললেন ‘আজও বুঝি না’

  পাকিস্তানি মুসলিম আর দুবাইয়ের মুসলিমদের নিয়ে মানুষের মনোভাব কি আলাদা? প্রশ্ন মিকার

পাকিস্তান ও দুবাইয়ের মুসলিমদের প্রতি আলাদা মনোভাব কেন? সরব মিকা, বললেন ‘আজও বুঝি না’
Bollywood News

 

 

হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক কাজ করলেও দেশাত্মবোধ, বলিউড এবং পাকিস্তানি শিল্পীদের প্রসঙ্গে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন গায়ক মিকা সিং। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে দিলজিৎকে আক্রমণ করার পাশাপাশি এবার পাকিস্তান ও সেখানকার মুসলিমদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করলেন তিনি।

 

মিকার দাবি, পাকিস্তান বা পাকিস্তানের মানুষকে খারাপ হিসেবে দেখার প্রবণতা তিনি এখনও বুঝে উঠতে পারেন না। বিশেষ করে পাকিস্তানি মুসলিম এবং দুবাইয়ের মুসলিমদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিই তাঁর কাছে প্রশ্নের জায়গা।

 

## পাকিস্তান সফরের পুরনো স্মৃতি ভাগ মিকার

 

২০১৯ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন মিকা সিং। সেই সফরের অভিজ্ঞতার কথাই ফের সামনে এনেছেন তিনি। পাকিস্তানে গিয়ে সেখানকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছ থেকে যে উষ্ণতা পেয়েছিলেন, তা তাঁর মনে এখনও দাগ কেটে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গায়ক।

 

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে মিকা জানান, পাকিস্তানে গিয়ে তিনি এমন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা তাঁর পূর্বধারণার সঙ্গে মেলেনি। বিশেষ করে গুরুদ্বারগুলিতে স্থানীয় মুসলিমদের সেবা এবং সহযোগিতা তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।

 

মিকার কথায়, পাকিস্তান সফরের সময় অনেক মুসলিম ভাই গুরুদ্বারে সেবা করেছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও তাঁরা সাহায্য করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর মনে পাকিস্তানের মানুষ সম্পর্কে একটি আলাদা ধারণা তৈরি করেছে।

 

## ‘পাকিস্তান খারাপ নয়, মানুষও খারাপ নন’

 

পাকিস্তান প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মিকা বলেন, পাকিস্তান কিংবা সেখানকার মানুষকে খারাপ বলে মনে করেন না তিনি। বরং সেখানে গিয়ে যে আতিথেয়তা ও সহযোগিতা পেয়েছেন, সেটিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানের মুসলিমদের ক্ষেত্রে কেন অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক, অথচ দুবাইয়ের মুসলিমদের ক্ষেত্রে একই ধরনের মনোভাব দেখা যায় না।

 

মিকার বক্তব্যের মূল প্রশ্নটি হল—একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে কেন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়?

 

তিনি বলেন, পাকিস্তানের মুসলিমদের আমরা খারাপ মনে করি, অথচ দুবাইয়ের মুসলিমদের ভালো হিসেবে দেখি—এই পার্থক্যের কারণ তিনি আজও বুঝতে পারেননি।

 

## গুরু নানক দেবের প্রসঙ্গ

 

পাকিস্তান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গুরু নানক দেবের কথাও উল্লেখ করেন মিকা সিং। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

 

গুরুদ্বারগুলিতে স্থানীয় মুসলিমদের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে একে অপরের ঐতিহ্যকে সম্মান করার যে দৃষ্টান্ত তিনি দেখেছেন, সেটিই তাঁর বক্তব্যের অন্যতম ভিত্তি।

 

মিকার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র একটি বিদেশ সফরের স্মৃতি নয়। বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়েও নতুন করে ভাবিয়েছে তাঁকে।

 

## ২০১৯ সালের পাকিস্তান সফর ঘিরে বিতর্ক

 

তবে মিকার পাকিস্তান সফর একেবারেই বিতর্কমুক্ত ছিল না। ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট পাকিস্তানের করাচিতে একটি প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ভারতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

 

সেই সময় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ফলে পাকিস্তানে গিয়ে মিকার অনুষ্ঠান করা নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে।

 

তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের একাধিক সংগঠনও তাঁর পাকিস্তান সফর নিয়ে আপত্তি জানায়। অভিযোগ ওঠে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের এমন পরিস্থিতিতেও অর্থের বিনিময়ে পাকিস্তানে অনুষ্ঠান করতে রাজি হয়েছেন মিকা।

 

এই বিতর্কের জেরে ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে মিকার কাজ নিয়েও প্রভাব পড়েছিল বলে সে সময় আলোচনা হয়।

 

## পুরনো অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন প্রশ্ন

 

প্রায় সাত বছর আগের সেই সফরের কথা মনে করেই এবার নিজের বর্তমান মতামত প্রকাশ করেছেন মিকা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নেতিবাচক ছিল না।

 

বরং পাকিস্তানে তিনি যে উষ্ণতা পেয়েছেন, তা তাঁর মনে এখনও রয়েছে।

 

সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—কেন পাকিস্তানের সাধারণ মুসলিমদের নিয়ে এক ধরনের ধারণা তৈরি করা হয়, অথচ দুবাইয়ের মুসলিমদের ক্ষেত্রে অন্য ধরনের মনোভাব দেখা যায়?

 

মিকার এই বক্তব্য মূলত তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ। পাকিস্তান নিয়ে ভারতীয় সমাজে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে, তার মধ্যে তাঁর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

 

## দিলজিৎ দোসাঞ্ঝকে নিয়েও মিকার আক্রমণ

 

পাকিস্তান প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানানোর পাশাপাশি দিলজিৎ দোসাঞ্ঝকেও কটাক্ষ করেছেন মিকা সিং।

 

news image
আরও খবর

হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা সত্ত্বেও দেশাত্মবোধক ছবি কিংবা ‘হিন্দুস্তান’ এবং ‘বলিউড’ প্রসঙ্গে দিলজিৎ কেন মুখ খোলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

 

ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মিকার বক্তব্য, বলিউডের দেশাত্মবোধক ছবি নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই, অথচ পাকিস্তানি শিল্পীদের সমর্থনের ক্ষেত্রে উৎসাহ দেখা যায়।

 

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মিকা মূলত দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের অবস্থান নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

## বিতর্কের কেন্দ্রে দুই শিল্পীর অবস্থান

 

মিকা ও দিলজিৎ—দু’জনেই পাঞ্জাবি সংগীত এবং হিন্দি বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। ফলে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসায় তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়েছে।

 

বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনও শিল্পীর মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।

 

মিকার বক্তব্যেও সেই বিতর্কের ছাপ স্পষ্ট। একদিকে তিনি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, অন্যদিকে বলিউডে পাকিস্তানি শিল্পীদের উপস্থিতি বা তাঁদের প্রতি সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

 

## ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বনাম সামগ্রিক ধারণা

 

মিকার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তিনি যে পাকিস্তান সফরের কথা বলছেন, সেটি তাঁর নিজের দেখা ও পাওয়া অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে।

 

একটি দেশের সাধারণ মানুষ এবং সেই দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি—দুটিকে এক করে দেখা উচিত কি না, সেটিও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

 

মিকা তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জানতে চেয়েছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের মানুষের প্রতি মানুষের মনোভাব এতটা আলাদা হয়ে যায়।

 

## ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে মানুষকে দেখার বার্তা?

 

মিকার বক্তব্যের মধ্যে আরও একটি বিষয় উঠে আসে—ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে মানুষকে দেখার প্রয়োজনীয়তা।

 

গুরুদ্বারে মুসলিমদের সেবা করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আসলে সম্প্রীতির একটি অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানে গিয়ে তিনি এমন কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা করেছেন, যাঁরা তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও সহযোগিতা করেছেন।

 

এই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর প্রশ্ন—মানুষকে শুধুমাত্র দেশ, ধর্ম কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

 

## ২০১৯ থেকে ২০২৬—বদলায়নি প্রশ্ন

 

২০১৯ সালের পাকিস্তান সফরের পর মিকা সিংকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার কয়েক বছর পরও পাকিস্তান প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে সেই সফরের স্মৃতি ফিরে এসেছে।

 

তবে এবার তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু শুধু পাকিস্তানে অনুষ্ঠান করা নয়। বরং পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং তাঁদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য।

 

বিশেষ করে পাকিস্তানি মুসলিম ও দুবাইয়ের মুসলিমদের নিয়ে মানুষের মনোভাবের তুলনা করে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন, সেটিই তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ।

 

## মিকার বক্তব্য ঘিরে ফের বিতর্কের সম্ভাবনা

 

মিকার এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতীয় বিনোদন জগতে কাজ করা এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ—এই বিষয়গুলি বরাবরই সংবেদনশীল।

 

তার উপর দিলজিৎ দোসাঞ্ঝকে নিয়ে তাঁর কটাক্ষও এই বিতর্ককে আরও বাড়াতে পারে।

 

তবে মিকার বক্তব্যের অন্য একটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানিয়েছেন, একটি দেশের সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র সেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিচার করা উচিত কি না, তা নিয়ে তাঁর মনে প্রশ্ন রয়েছে।

 

## শেষ কথা

 

মিকা সিংয়ের পাকিস্তান সফরের পুরনো স্মৃতি এবং সাম্প্রতিক মন্তব্য ফের সামনে এনে দিয়েছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়, মানুষের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন।

 

২০১৯ সালে পাকিস্তানের করাচিতে অনুষ্ঠান করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মিকা। সেই সফরের স্মৃতিতে এবার তিনি জানালেন, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ইতিবাচক ছিল। গুরুদ্বারে স্থানীয় মুসলিমদের সেবা ও সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

 

একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন—পাকিস্তানি মুসলিমদের ক্ষেত্রে যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়, দুবাইয়ের মুসলিমদের ক্ষেত্রে তা কেন বদলে যায়?

 

এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মিকা নিজেও জানেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য তাই নিছক কোনও রাজনৈতিক মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা একটি প্রশ্ন হিসেবেই সামনে এসে

ছে—**মানুষকে কি তার দেশ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত, নাকি ব্যক্তিগত আচরণ ও মানবিকতার ভিত্তিতে?**

Preview image