Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

তেলাপিয়া মাছের ঝোল আর ফুচকার আবদার বোনঝির সঙ্গে আড্ডায় কী বললেন দেবশ্রী রায়?

রানিকে ফুচকা খাওয়ানোর ইচ্ছে ছিল দেবশ্রীর  কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে উঠল না  সেই অপূর্ণ ইচ্ছের আক্ষেপই ধরা পড়ল তাঁর কথায়।

কলকাতার সকালটা যেন একটু আলাদা ছিল। শহরে এসেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও এ বার তাঁর সফর একান্ত ব্যক্তিগত। কারণ, এই সফরের কেন্দ্রে ছিল শুধুই ‘মাসি আর বোনঝি’—দেবশ্রী রায় ও রানি মুখোপাধ্যায়।

রানি শহরে পা রাখতেই তাঁকে নিয়ে সোজা কালীঘাটের মন্দিরে ছুটলেন দেবশ্রী। বছরের শুরুটা খুব একটা সুখকর যায়নি—সে কথা নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ চাওয়া, মনের শান্তি খোঁজা—এই ভাবনা থেকেই পুজো দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

দেবশ্রী বলেন,
“২০২৫ সালটা তো খুব একটা ভাল যায়নি, তাই পুজো দিতে গিয়েছিলাম। ওর কাজের খুব চাপ। তাই তার পরেই গাড়ি ঘুরিয়ে হোটেলে চলে এলাম।”

কালীঘাটের মায়ের সামনে প্রার্থনায় যেন ছিল অনেক না বলা কথা। ব্যক্তিগত জীবন, পেশার চাপ, সময়ের টানাপোড়েন—সবকিছুর মধ্যেও পরিবারই যে শেষ আশ্রয়, সেই অনুভূতিই ধরা পড়ল এই সফরে।


? ফুচকা আর ভাঁড়ের চা: অপূর্ণ ইচ্ছে

কলকাতা মানেই ফুচকা, ভাঁড়ের চা, রাস্তার ধারের আড্ডা। দেবশ্রীর ইচ্ছে ছিল রানিকে নিয়ে এই ছোট ছোট আনন্দগুলো উপভোগ করবেন। কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর। কাজের চাপ আর সময়ের অভাবে সেই পরিকল্পনা পূর্ণ হল না।

দেবশ্রীর কণ্ঠে স্পষ্ট আক্ষেপ—
“ভাঁড়ে চা খাওয়ার ইচ্ছা ছিল, সেটাও হল না। তবে রানি বলেছে মার্চে এসে তেলাপিয়া মাছের ঝোল খাবে আর ফুচকা খাবে।”

এই ছোট্ট প্রতিশ্রুতিই যেন বড় সান্ত্বনা। মার্চ মাসে আবার দেখা হবে, আবার জমবে খাওয়াদাওয়া, আবার পূরণ হবে অপূর্ণ ইচ্ছে—এই আশাতেই মন ভরালেন দেবশ্রী।

ফুচকা খাওয়ানো হয়নি—কিন্তু সেই অপূর্ণতা সম্পর্কের উষ্ণতাকে আরও গভীর করে দিল। কারণ কখনও কখনও না-পাওয়া মুহূর্তই সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।


? ছোটবেলার রানি: কান্না থেকে ব্যক্তিত্ব

আজকের বলিউডের সফল নায়িকা রানি মুখোপাধ্যায়কে দেখলে বোঝার উপায় নেই, ছোটবেলায় তিনি নাকি খুব কাঁদতেন। সেই স্মৃতি আজও স্পষ্ট দেবশ্রীর মনে।

তিনি বলেন,
“ছোটবেলায় রানি যা কাঁদত। ভাবতেই পারিনি বড় হয়ে এমন এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে ও।”

শুধু তাই নয়, তখন দেবশ্রী নিজেও ছিলেন বাচ্চা। বাড়ির সবাই যখন ছোট রানিকে কোলে নিত, তখন তাঁরও ইচ্ছে হত। সেই সরল আবেগ আজও মনে পড়লে হাসি পায় অভিনেত্রীর।

মুম্বইয়ে গেলে রানির হাত টেনে টেনে ঘোরানোর স্মৃতিও ভাগ করে নেন তিনি।
“মুম্বইয়ে গেলে ওর হাত টেনে টেনে নিয়ে আমি ঘুরতাম। আর দিদি বকত আমাকে, ‘ওর হাত যে খুলে যাবে’।”

এই স্মৃতিচারণ শুধু হাসির নয়—এ যেন সময়ের স্রোতে ভেসে যাওয়া এক অমূল্য অধ্যায়। আজকের সুসংহত, আত্মবিশ্বাসী রানি—কখন যে সেই কান্নাকাটি করা শিশুটি থেকে এই জায়গায় পৌঁছেছেন, তা ভাবলে অবাক হন দেবশ্রী।


? ‘ঝুমা থাকলে…’: না বলা কষ্ট

আনন্দের মাঝেও এ দিন ছিল খানিক মনখারাপের সুর। দেবশ্রী বলেন,
“আজ একটু মনখারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল, ঝুমা থাকলে আমাদের সঙ্গে ও-ও যেত।”

এই এক বাক্যেই ধরা পড়ে আবেগের গভীরতা। পারিবারিক স্মৃতি, হারানো মানুষ, অসম্পূর্ণতা—সব মিলিয়ে দিনটা ছিল আবেগে ভরা।


? মুম্বই সফর ও পরিবারের বন্ধন

কয়েক দিন আগেই দেবশ্রী গিয়েছিলেন মুম্বইয়ে। উপলক্ষ—রানির মা অর্থাৎ তাঁর দিদির জন্মদিন। পরিবার যে তাঁদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই সফরেই স্পষ্ট।

তারকা জীবনের ঝলকানি, ব্যস্ততা, আন্তর্জাতিক পরিচিতি—সব কিছুর পরেও পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন অটুট। দেবশ্রী ও রানি—দু’জনেই নিজেদের কাজের জায়গায় সফল। কিন্তু যখন দেখা হয়, তখন তারা শুধু মাসি আর বোনঝি।


? মার্চের অপেক্ষা: তেলাপিয়া মাছের ঝোল ও ফুচকার প্রতিশ্রুতি

মার্চ মাসে আবার কলকাতায় আসবেন রানি—এই খবরেই উচ্ছ্বসিত দেবশ্রী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, বোনঝির সব পছন্দের খাবার সাজিয়ে রাখবেন।

তেলাপিয়া মাছের ঝোল—একেবারে ঘরোয়া স্বাদ। আর ফুচকা—কলকাতার আবেগ। এই দুই খাবার যেন হয়ে উঠেছে তাঁদের সম্পর্কের প্রতীক।

news image
আরও খবর

মার্চের সেই দিনটি যেন এখন থেকেই পরিকল্পনার খাতায়। হয়তো তখন ভাঁড়ের চাও হবে, রাস্তার ধারে একটু হাঁটাও হবে, আর অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো পূরণ হবে একসঙ্গে।


❤️ সম্পর্কের সরল সৌন্দর্য

তারকা জীবনের বাইরে এই গল্প একেবারেই অন্যরকম। এখানে নেই কোনও সিনেমার প্রচার, নেই কোনও গ্ল্যামার ইভেন্ট। আছে শুধু পারিবারিক টান, ছোট ছোট ইচ্ছে, আর স্মৃতির উষ্ণতা।

দেবশ্রী রায়ের কণ্ঠে যে আক্ষেপ ধরা পড়ল—তা আসলে ভালবাসারই অন্য নাম। কারণ যাকে নিয়ে আক্ষেপ, তাকেই তো সবচেয়ে বেশি যত্ন করা হয়।

রানি মুখোপাধ্যায়ের কলকাতা সফর হয়তো ছিল স্বল্প সময়ের। কিন্তু এই অল্প সময়েই তৈরি হল অনেক নতুন স্মৃতি—আর ফিরে এল বহু পুরনো স্মৃতিও।


? উপসংহার

কালীঘাটের পুজো, ভাঁড়ের চা না খাওয়া, ফুচকার অপূর্ণ ইচ্ছে, ছোটবেলার স্মৃতি আর আগামী মার্চের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে রইল আবেগঘন।

দেবশ্রী ও রানির সম্পর্ক প্রমাণ করে—তারকা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে পরিবার। আর সেই পরিবারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সবচেয়ে সহজ, অথচ গভীর সুখ।

মার্চে যখন রানি আবার আসবেন, হয়তো তখন সত্যিই জমবে ফুচকার আসর। তেলাপিয়া মাছের ঝোলের গন্ধে ভরে উঠবে দুপুর। আর এই অপূর্ণতার গল্প তখন হয়ে উঠবে পূর্ণতার স্মৃতি।


আপনি চাইলে আমি এটির জন্য আলাদা সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন, ইউটিউব ডেসক্রিপশন বা ওয়েব পোর্টালের হেডিং স্ট্রাকচার (H1, H2, H3 ফরম্যাট) করে দিতে পারি।

? উপসংহার (বিস্তৃত বিশ্লেষণ ও আবেগঘন পরিসর)

কালীঘাটের পুজো দিয়ে শুরু, তারপর হোটেলে ফেরা—শুনতে সাধারণ এক দিনের গল্প। কিন্তু দিনের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে ছিল অগণিত আবেগ, স্মৃতি আর অপূর্ণ ইচ্ছে। ভাঁড়ের চা আর রাস্তার ধারের ফুচকা—এই ছোট ছোট পরিকল্পনাগুলোই যেন দিনটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। যদিও সেগুলো পূরণ হল না, তবু সেই না-পাওয়াতেই তৈরি হল এক অন্যরকম অনুভূতি। কারণ অনেক সময় পূর্ণতার চেয়ে অপূর্ণতাই বেশি মনে থাকে, বেশি নাড়া দেয়।

দেবশ্রী রায়ের কণ্ঠে যে আক্ষেপ শোনা গেল, তা আসলে গভীর স্নেহের বহিঃপ্রকাশ। একজন মাসি হিসেবে তিনি চেয়েছিলেন বোনঝিকে নিয়ে কলকাতার সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দগুলো উপভোগ করতে। তারকা জীবনের আড়ম্বর নয়—চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মতো একটু হাঁটা, একটু আড্ডা, এক প্লেট ফুচকা ভাগ করে খাওয়া। কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতা সব পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত হতে দিল না। তবু এই ব্যর্থতাও সম্পর্কের উষ্ণতাকে কমাতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে।

কালীঘাটের মায়ের কাছে পুজো দেওয়ার মধ্যে ছিল এক ধরনের আত্মিক নির্ভরতা। ২০২৫ সাল খুব ভাল যায়নি—এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের ওঠাপড়ার গল্প। তারকা হলেও মানুষ তো মানুষই। ব্যর্থতা, চাপ, মানসিক ক্লান্তি—সবকিছুর মধ্যেও পরিবারই হয়ে ওঠে নিরাপদ আশ্রয়। তাই রানির কলকাতা সফর শুধুই একটি শহর ভ্রমণ নয়; এটি ছিল আবেগের পুনর্মিলন, আত্মার বিশ্রাম।

ছোটবেলার স্মৃতিগুলোও দিনটিকে বিশেষ করে তুলেছে। এক সময়ের কান্নাকাটি করা ছোট্ট রানি আজ বলিউডের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব। সময় কীভাবে মানুষকে বদলে দেয়, পরিণত করে, তা ভাবলে অবাক লাগে। দেবশ্রীর স্মৃতিচারণে উঠে আসে সেই শৈশবের সরলতা—কোলে নেওয়া, হাত টেনে নিয়ে ঘোরা, দিদির বকা খাওয়া। এই ছবিগুলো যেন এক অ্যালবামের পুরনো পাতা, যা উল্টালেই মনের ভেতর নরম আলো জ্বলে ওঠে।

এ দিনের আর এক আবেগঘন মুহূর্ত ছিল ‘ঝুমা থাকলে…’ কথাটি। একটি নাম, একটি অসমাপ্ত অনুভূতি—যা পুরো দিনের আবহকে আরও গভীর করেছে। আনন্দের মধ্যেও থাকে শূন্যতা; হাসির মাঝেও কখনও কখনও চোখ ভিজে ওঠে। এই অনুভূতিগুলোই দিনটিকে বাস্তব করে তোলে, মানবিক করে তোলে।

রানি মার্চ মাসে আবার আসবেন—এই প্রতিশ্রুতি যেন এক নতুন অপেক্ষার সূচনা। তেলাপিয়া মাছের ঝোল আর ফুচকা—এই দুই সাধারণ খাবারই হয়ে উঠেছে সম্পর্কের প্রতীক। একটিতে ঘরের স্বাদ, অন্যটিতে শহরের প্রাণ। এই দুইয়ের মিলনেই তৈরি হবে আবার একটি দিন, হয়তো আরও নির্ভার, আরও দীর্ঘ, আরও পূর্ণ।

এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—তারকা পরিচয়, আলো, ক্যামেরা, সাফল্য—সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে পারিবারিক বন্ধন। যাদের সঙ্গে শৈশব কেটেছে, যারা জীবনের শুরু থেকে পাশে থেকেছে, তাদের সঙ্গে কাটানো সময়ের মূল্য আলাদা। সেখানে কোনও অভিনয় নেই, কোনও সাজানো সংলাপ নেই—আছে কেবল নির্ভেজাল ভালোবাসা।

দেবশ্রী ও রানির সম্পর্ক সেই ভালোবাসারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। একজন প্রতিষ্ঠিত টলিউড অভিনেত্রী, অন্যজন বলিউডের জনপ্রিয় মুখ—তবু দেখা হলে তাঁরা শুধু মাসি আর বোনঝি। এই সরল পরিচয়ই সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই সম্পর্কের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সহজ অথচ গভীর সুখ।

মার্চে যখন রানি আবার কলকাতায় আসবেন, হয়তো তখন সত্যিই জমবে ফুচকার আসর। হয়তো ভাঁড়ের চাও হবে, একটু সময় নিয়ে রাস্তা হাঁটা হবে। তেলাপিয়া মাছের ঝোলের গন্ধে ভরে উঠবে দুপুরের টেবিল। আর এই বার হয়তো কোনও ইচ্ছে অপূর্ণ থাকবে না।

তবে যদি কিছু অপূর্ণ থাকেও, তাতেও ক্ষতি নেই। কারণ সম্পর্কের সৌন্দর্য পূর্ণতায় নয়—একসঙ্গে অপেক্ষা করার ক্ষমতায়। সেই অপেক্ষাই ভালোবাসাকে দীর্ঘস্থায়ী করে, স্মৃতিকে গভীর করে।

সব মিলিয়ে, এই দিনের গল্প শুধু একটি তারকা সাক্ষাৎ নয়। এটি এক পরিবারের, এক সম্পর্কের, এক আবেগের গল্প। যেখানে কালীঘাটের পুজো, ভাঁড়ের চা, ফুচকা আর তেলাপিয়া—সবকিছু মিলেমিশে তৈরি করেছে এক নরম, উষ্ণ, মানবিক মুহূর্ত। আর সেই মুহূর্তই প্রমাণ করে—জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে ছোট ঘটনাগুলোর মধ্যে।

Preview image