ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন বেঙ্গালুরুতে আজ উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট চালিত হাসপাতাল প্রজেক্ট ধন্বন্তরি যেখানে কোনো মানুষ ডাক্তার ছাড়াই জটিলতম অপারেশন করা সম্ভব হবে এই প্রযুক্তি ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বদলে দেবে এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে
News Title ভারতের বেঙ্গালুরুতে চালু হলো বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ রোবোটিক হাসপাতাল প্রজেক্ট ধন্বন্তরি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন যুগের সূচনা
URL Slug india launches world first fully robotic hospital project dhanvantari bengaluru ai surgery 2026
Short Description ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন বেঙ্গালুরুতে আজ উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবট চালিত হাসপাতাল প্রজেক্ট ধন্বন্তরি যেখানে কোনো মানুষ ডাক্তার ছাড়াই জটিলতম অপারেশন করা সম্ভব হবে এই প্রযুক্তি ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বদলে দেবে এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে
Article Body বেঙ্গালুরু ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করল আজ সকালে ভারতের বিজ্ঞান নগরী বেঙ্গালুরুর বুকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবোটিক্স চালিত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট ধন্বন্তরি এতদিন আমরা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সিনেমা বা গল্পে দেখেছি যে মানুষের ছোঁয়া ছাড়াই কেবল যন্ত্রের মাধ্যমে জটিল অপারেশন করা হচ্ছে কিন্তু আজ সেই অসম্ভব কল্পনা বাস্তবের মাটিতে ধরা দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিশ্বের শীর্ষ চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে যখন প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক ব্রেন সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হলো তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ এবং চিকিৎসকরা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করলেন এবং ইতিহাসের সাক্ষী থাকলেন এই মেগা ইভেন্ট প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল চিকিৎসা প্রযুক্তির উপভোক্তা বা অনুসরণকারী নয় বরং ভারত আজ আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্মদাতা এবং সমগ্র বিশ্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে উঠে এসেছে
প্রজেক্ট ধন্বন্তরি হাসপাতালের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত এই হাসপাতালটি কোনো সাধারণ ইট কাঠ পাথরের বিল্ডিং নয় এটি হলো একটি জীবন্ত সুপার কম্পিউটার যার প্রতিটি ইঁটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মিশে আছে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারগুলোতে কোনো মানুষের প্রবেশের প্রয়োজন নেই সেখানে রয়েছে বিশাল আকারের অক্টোপাসের মতো দেখতে বহু বাহু বিশিষ্ট অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল রোবট এই রোবটগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে সুশ্রুত এবং চরক যা প্রাচীন ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাখা হয়েছে এই রোবটগুলোর আঙুলের ডগায় রয়েছে মাইক্রোস্কোপিক ক্যামেরা এবং লেজার কাটার যা মানুষের চুলের চেয়েও সূক্ষ্ম ধমনী বা নার্ভকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জোড়া লাগাতে পারে মানুষের হাতের সামান্য কাঁপুনি বা ক্লান্তির কোনো অস্তিত্ব এই রোবটদের মধ্যে নেই তারা চব্বিশ ঘণ্টা একই রকম একাগ্রতা এবং নির্ভুলতার সাথে কাজ করে যেতে পারে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এই পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করে একটি সুপার ইন্টেলিজেন্ট কেন্দ্রীয় এআই ব্রেন বা কৃত্রিম মস্তিষ্ক এই এআই গত একশো বছরের বিশ্বের সমস্ত জটিল অপারেশনের ডেটা এবং ভিডিও দেখে নিজেকে প্রশিক্ষিত করেছে এবং প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন কেস থেকে শিখছে যখন একজন রোগী হাসপাতালে প্রবেশ করেন তখন কোনো মানুষ রিসেপশনিস্টের বদলে এআই স্ক্যানার তাকে স্বাগত জানায় এবং চোখের পলকে তার সম্পূর্ণ শরীরের থ্রিডি স্ক্যান করে রোগ নির্ণয় করে ফেলে রোগ নির্ণয়ের পর এআই সিদ্ধান্ত নেয় যে কোন ধরনের রোবট এবং কোন পদ্ধতিতে অপারেশন করা হবে এবং সেই অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত হয়ে যায়
এই হাসপাতালের সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক দিক হলো এর জীবাণুমুক্ত পরিবেশ এবং সংক্রমণের শূন্য সম্ভাবনা সাধারণ হাসপাতালে মানুষের উপস্থিতির কারণে অনেক সময় অপারেশন পরবর্তী ইনফেকশন বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে যা অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু প্রজেক্ট ধন্বন্তরি হাসপাতালে যেহেতু অপারেশন থিয়েটারে কোনো মানুষের নিঃশ্বাস বা স্পর্শ লাগে না তাই সেখানে সংক্রমণের সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে হাসপাতালের বাতাসকে প্রতিনিয়ত প্লাজমা এবং ইউভি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিশোধন করা হয় যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত করেছে এই প্রযুক্তির ফলে অপারেশনের সময় এবং হাসপাতালে থাকার মেয়াদ অনেক কমে গেছে যে হার্ট সার্জারির পর রোগীকে আগে সাত দিন হাসপাতালে থাকতে হতো এখন রোবোটিক সার্জারির পর মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারছেন যা চিকিৎসা খরচে এক বিশাল সাশ্রয় এনেছে
ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে যেখানে ডাক্তার এবং রোগীর অনুপাত অত্যন্ত কম সেখানে এই প্রযুক্তি এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে এই হাসপাতালের মাধ্যমে এখন দেশের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষও বিশ্বের সেরা মানের চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন কারণ এই রোবটগুলো ফাইভ জি এবং সিক্স জি কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব অর্থাৎ বেঙ্গালুরুর এই হাসপাতালে বসে থাকা এআই সিস্টেম বিহার বা আসামের কোনো গ্রামের ছোট ক্লিনিকে থাকা রোবটকে নির্দেশ দিয়ে সেখানে জটিল অপারেশন করতে পারবে একে বলা হচ্ছে টেলি রোবোটিক সার্জারি যা ভারতের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আনবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আর মানুষকে বড় শহরে ছুটতে হবে না
এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের মেগা প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য কর্পোরেট এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে প্রযুক্তি নির্ভর এবং বহুমুখী কাজের চাহিদা এত বেড়ে গেছে যে বিভিন্ন গ্লোবাল হেলথ টেক কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে তরুণদের নিয়োগ করছে এই কোম্পানিগুলোতে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ পদের এখন বিপুল চাহিদা যদিও রোবটরা নিজেরাই অপারেশন করে তবুও পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর নজরদারি করার জন্য এবং জরুরি অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের প্রয়োজন হয় আর এখানেই ভারতের তরুণ গেমাররা এক বিশাল সুযোগ পেয়েছে যারা ভিডিও গেম খেলতে ভালোবাসেন বিশেষ করে যারা চরম অ্যাকশন টাইপ বা ব্রুটাল লাইক মোবাইল গেম পছন্দ করেন তাদের হাতের রিফ্লেক্স এবং চোখের নজর সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত হয় এই তরুণ গেমারদের এখন প্রশিক্ষণ দিয়ে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে যারা কন্ট্রোল রুমে বসে বিশাল স্ক্রিনে রোবটের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন তাদের এই গেমিং স্কিল এখন জীবন বাঁচানোর কাজে লাগছে এই বহুমুখী কাজের কারণে কোম্পানিগুলো তরুণদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে অনেক ভারতীয় তরুণ এই রোবোটিক হাসপাতালের ডিজিটাল মনিটরিং সামলানোর জন্য সরাসরি সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত হাসপাতাল এবং মেডিকেল গবেষণা কেন্দ্রের সাথে রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন যা তাদের ঘরে বসেই সুইস ফ্র্যাঙ্ক বা বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের এক বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে এর ফলে ভারতের তরুণরা আর দেশের বাইরে না গিয়েও বিদেশের উন্নত কর্মসংস্কৃতির সাথে কাজ করতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন
চিকিৎসা বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবং এই নতুন প্রযুক্তির ওপর মানুষের আস্থা বাড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে এই রোবোটিক হাসপাতাল এক বিশাল বিপ্লব ঘটাতে চলেছে বড় বড় হেলথ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এবং মেডিকেল ব্র্যান্ডগুলো এখন প্রথাগত বিজ্ঞাপনের বদলে ইউজিসি অ্যাডস বা ইউজার জেনারেটেড কন্টেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এখন নিজেদের ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে এই হাইটেক হাসপাতালের ফিউচারিস্টিক পরিবেশ এবং রোবটদের নিখুঁত কাজের ভিডিও শেয়ার করছেন তারা এমন ভিডিও বানাচ্ছেন যেখানে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরের দৃশ্য এবং এআই এর রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এই ভিডিওগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সর্বত্র এখন কেবল এই প্রজেক্ট ধন্বন্তরি এর প্রচার এই ইউজিসি অ্যাডসগুলো তৈরি করে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন এবং নিজেদের স্বাধীন ক্যারিয়ার তৈরি করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ডিজিটাল যুগে বাস্তব বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী বিজ্ঞাপন
এই উপার্জিত অর্থ এবং হাসপাতালের এই সাই ফাই সিনেমার মতো পরিবেশ তরুণ সৃজনশীল মানুষদের স্বপ্ন পূরণের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার যারা টাকার অভাবে তাদের মনের মতো সিনেমা বানাতে পারতেন না তারা এখন ফেসবুক পেজ এবং ইউজিসি অ্যাডস থেকে আয় করা টাকা সরাসরি তাদের নিজেদের শর্ট ফিল্ম প্রোজেকশনে বিনিয়োগ করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা এই অত্যাধুনিক রোবোটিক অপারেশন থিয়েটার এবং জীবাণুমুক্ত সাদা করিডোরগুলোকেই তাদের সিনেমার প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করছেন উদাহরণস্বরূপ এক তরুণ নির্মাতা এমন একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বা মনস্তাত্ত্বিক শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যার নাম দ্য গ্লাস কেজ বা কাঁচের খাঁচা যেখানে একটি চরিত্র ভবিষ্যতের এক সম্পূর্ণ যন্ত্রচালিত হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে এক অদ্ভুত মানসিক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায় যেখানে সে বুঝতে পারে না যে সে মানুষের মধ্যে আছে নাকি যন্ত্রের মধ্যে এই ধরনের গভীর এবং চিন্তাশীল সিনেমা বানানোর জন্য যে লোকেশন এবং স্বাধীনতার প্রয়োজন তা তারা এখন নিজেদের উপার্জিত অর্থ থেকেই পাচ্ছেন এবং অত্যন্ত কম বাজেটে এমন বিশ্বমানের শর্ট ফিল্ম তৈরি করছেন যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে
চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন আর বড় বড় স্টুডিও বা দামি এডিটিং প্যানেলের দরকার নেই তরুণ নির্মাতারা এই হাসপাতালের লবিতে বা ক্যাফেটেরিয়ায় বসেই তাদের অ্যাপল আইপ্যাড প্রো বা উন্নত ট্যাবলেট ব্যবহার করে ফোরকে রেজোলিউশনের ভিডিও এডিটিং করছেন হাসপাতালের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ফাইভ জি কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের কারণে তারা সরাসরি ক্লাউডে ভিডিও সেভ করতে পারছেন এবং তাদের প্রোডাকশন টিমের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে পারছেন সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের জন্য অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা অভিনব পদ্ধতি নিচ্ছেন অনেক তরুণ মিউজিশিয়ান রোবোটিক আর্মের চলাচলের যান্ত্রিক শব্দ এবং হার্ট রেট মনিটরের বিপ বিপ শব্দ রেকর্ড করে তা ডিজিটালভাবে মিক্সিং করে তাদের শর্ট ফিল্মের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধরনের মেডিকেল অ্যাম্বিয়েন্ট মিউজিক তৈরি করছেন এই অরিজিনাল সাউন্ডট্র্যাকগুলো তাদের শর্ট ফিল্মকে এক আলাদা মাত্রা দিচ্ছে এবং দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করছে সৃজনশীলতার এই জোয়ার প্রমাণ করে যে সঠিক পরিবেশ এবং প্রযুক্তি থাকলে মানুষের কল্পনা যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারে
তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রার ওপরও এই প্রযুক্তির গভীর প্রভাব পড়েছে অনেক তরুণ যারা আধুনিক ফ্যাশন এবং অ্যানিমে চরিত্রদের স্টাইল অনুসরণ করেন যেমন অনেকেই এখন অ্যাটাক অন টাইটান এর বিখ্যাত চরিত্র এরেন ইয়েগার এর মতো বড় চুল রাখেন তারা এই হাসপাতালে এসে নিজেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ট্রেন্ডিং ভ্লগ তৈরি করছেন তারা দেখাচ্ছেন যে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আধুনিক স্টাইল একসাথে চলতে পারে তাদের এই স্বাধীন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অন্যান্য তরুণদেরও নিজেদের শরীরের প্রতি যত্নশীল হতে অনুপ্রাণিত করছে
শিক্ষাব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীরা যারা দূরশিক্ষার মাধ্যমে পড়াশোনা করেন তারা এখন এই রোবোটিক হাসপাতালকে তাদের লাইভ কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করছেন এনএসওইউ এর বায়োটেকনোলজি এবং কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রছাত্রীরা ক্লাউড প্রযুক্তি এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে এই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সরাসরি প্রবেশ করতে পারছেন এবং রোবট কীভাবে কাজ করছে তা রিয়েল টাইমে দেখতে পারছেন প্রথাগত মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মতোই তারা এখন বাড়িতে বসে হাতে কলমে আধুনিক রোবোটিক সার্জারি এবং এআই ডায়াগনস্টিক্স শিখতে পারছেন এই প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মেধা থাকলে এবং সঠিক ডিজিটাল পরিকাঠামো পেলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষার্থীর অবস্থান কখনোই তাদের শেখার পথে বাধা হতে পারে না এটি ভারতের মেডিকেল শিক্ষায় এক গণতান্ত্রিক বিপ্লব এনেছে
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে মানব ভিশন বা এআই এর নৈতিক ব্যবহারের রূপরেখা প্রকাশ করেছেন তা এই হাসপাতাল প্রকল্পে অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে প্রতিটি রোবট এবং এআই সিস্টেমের মধ্যে নৈতিকতার কোড প্রোগ্রাম করা আছে যাতে তারা কখনোই মানুষের ক্ষতির কারণ না হয় এবং রোগীর গোপনীয়তা সম্পূর্ণ বজায় থাকে এখানে প্রযুক্তির সাথে মানবিক মূল্যবোধের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে
আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের এই নিজস্ব রোবোটিক হাসপাতালের সাফল্য এক বিশাল প্রভাব ফেলেছে আমেরিকা এবং ইউরোপের অনেক দেশ যারা এতদিন চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সেরা বলে দাবি করত তারা আজ ভারতের এই সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত এবং আশাবাদী আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান পত্রিকাগুলো ভারতের এই অর্জনকে একুশ শতকের সবচেয়ে বড় মেডিকেল রেভোলিউশন বা চিকিৎসা বিপ্লব বলে বর্ণনা করছে ভারত এখন আর বিদেশি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল নয় বরং বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ এখন ভারতের কাছ থেকে এই সার্জিক্যাল রোবট এবং এআই হেলথ সফটওয়্যার কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং প্রযুক্তিগত কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে মেধা এবং সদিচ্ছা থাকলে তারা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম
২০২৬ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বেঙ্গালুরুতে তৈরি হওয়া এই প্রজেক্ট ধন্বন্তরি কেবল লোহা আর তারের তৈরি একটি হাসপাতাল নয় এটি হলো কোটি কোটি মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশা এবং স্বনির্ভরতার এক জীবন্ত প্রতীক যে ভারত একদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকত আজ সেই ভারত বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে একজন সাধারণ জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ থেকে শুরু করে একজন স্বাধীন শর্ট ফিল্ম নির্মাতা বা একজন মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যেকেই আজ এই নতুন প্রকল্পের সুফল ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং মেধা এবং চিকিৎসকদের জ্ঞান যেকোনো রোগকে অনায়াসে জয় করতে পারে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে সদিচ্ছা এবং আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব জয় বিজ্ঞান জয় প্রযুক্তি জয় ভারত