Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের তৈরি বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম গাছ বায়ুশক্তি উদ্বোধন দিল্লির দূষণ টেনে নিয়ে বাতাসে ছড়াবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন

২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতের পরিবেশ রক্ষার ইতিহাসে এক নতুন ভোর দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে আজ উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম গাছ বায়ুশক্তি যা বাতাস থেকে সরাসরি কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেন তৈরি করবে আইআইটি দিল্লি এবং সিএসআইআরের বিজ্ঞানীদের তৈরি এই প্রযুক্তি কেবল দূষণই কমাবে না বরং কার্বনকে গ্রাফাইটে পরিণত করে দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে দূষণে ধুঁকতে থাকা শহরগুলো এবার ফিরে পাবে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার স্বাধীনতা

ভারতের তৈরি বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম গাছ বায়ুশক্তি উদ্বোধন দিল্লির দূষণ টেনে নিয়ে বাতাসে ছড়াবে বিশুদ্ধ অক্সিজেন
Environment Pollution Health Weather Public Safety

ভারতের রাজধানী দিল্লি যা গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর হিসেবে পরিচিত ছিল আজ সেই শহর এক নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করল আজ থেকে দিল্লির আকাশ আর ধোঁয়াশায় ঢাকা থাকবে না আজ থেকে দিল্লির বাতাস আর বিষাক্ত থাকবে না কারণ ভারতের বিজ্ঞানীদের অদম্য চেষ্টায় আজ দিল্লির বুকে স্থাপিত হলো বিশ্বের প্রথম বিশালাকায় কৃত্রিম গাছ যার নাম দেওয়া হয়েছে বায়ুশক্তি আজ সকালে ইন্ডিয়া গেটের সামনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যখন এই বিশাল কৃত্রিম যন্ত্রটি চালু করা হলো তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ এক নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন এই যন্ত্রটি কেবল একটি মেশিনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু এটি হলো মানব সভ্যতার বেঁচে থাকার এক নতুন হাতিয়ার

দিল্লির দূষণ একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা প্রতি বছর শীতকাল এলেই শহরের আকাশ ঘন কালো ধোঁয়াশায় ঢেকে যেত মানুষের শ্বাস নিতে কষ্ট হতো স্কুল কলেজ বন্ধ করে দিতে হতো এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় উপচে পড়ত সাধারণ এয়ার পিউরিফায়ার বা বায়ু শোধক যন্ত্র ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার করতে পারলেও বাইরের বিশাল আকাশের জন্য তা ছিল সম্পূর্ণ অকেজো এই ভয়াবহ পরিস্থিতির হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে আইআইটি দিল্লি এবং সিএসআইআর এর বিজ্ঞানীরা গত সাত বছর ধরে একটি বিশেষ গবেষণা চালাচ্ছিলেন তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা যা প্রকৃতির গাছের মতোই কাজ করবে কিন্তু তার ক্ষমতা হবে প্রাকৃতিক গাছের চেয়ে হাজার গুণ বেশি সেই দীর্ঘ গবেষণার সফল পরিণতি হলো আজকের এই বায়ুশক্তি

বায়ুশক্তি কৃত্রিম গাছটি দেখতে সাধারণ গাছের মতো নয় এটি প্রায় একশো ফুট উঁচু একটি ইস্পাতের টাওয়ার যার চারদিকে অসংখ্য বড় বড় ফ্যানের মতো অংশ লাগানো আছে এই যন্ত্রটি ডাইরেক্ট এয়ার ক্যাপচার বা ডিএসি প্রযুক্তিতে কাজ করে এর ভেতরে রয়েছে বিশেষ ধরনের রেজিন এবং গ্রাফিন ফিল্টার যখন বাতাস এই ফিল্টারগুলোর মধ্য দিয়ে যায় তখন ফিল্টারে থাকা রাসায়নিক পদার্থ বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইডকে স্পঞ্জের মতো শুষে নেয় এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেনকে বাতাসে ফিরিয়ে দেয় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন একটি বায়ুশক্তি গাছ প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিতে পারে তা প্রায় দশ হাজার পূর্ণবয়স্ক প্রাকৃতিক গাছের সমান অর্থাৎ এটি একাই একটি আস্ত জঙ্গলের কাজ করছে

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এই যন্ত্রটি কেবল কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিয়েই থেমে থাকে না এটি সেই ক্ষতিকারক গ্যাসকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদে পরিণত করে যন্ত্রের ভেতরের একটি বিশেষ চেম্বারে উচ্চ তাপ এবং চাপে কার্বন ডাই অক্সাইডকে রাস প্রক্রিয়া এবং মেটালার্জির সাহায্যে ভেঙে কঠিন গ্রাফাইটে পরিণত করা হয় আমরা জানি গ্রাফাইট হলো কার্বনের একটি রূপ যা ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয় বর্তমানে ভারতকে বিদেশ থেকে প্রচুর গ্রাফাইট আমদানি করতে হয় কিন্তু বায়ুশক্তি চালু হওয়ার ফলে এখন বাতাস থেকে সরাসরি গ্রাফাইট তৈরি হবে যা দেশের ব্যাটারি শিল্পে এক বিশাল বিপ্লব আনবে এটি মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের এক অন্যতম বড় সাফল্য এবং কার্বন ফিক্সিং এর চূড়ান্ত উদাহরণ

গ্রাফাইট ছাড়াও এই যন্ত্রের মাধ্যমে কৃত্রিম হীরা বা ল্যাব গ্রোন ডায়মন্ড তৈরি করা সম্ভব কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে পাওয়া কার্বনকে যদি আরও বেশি চাপ এবং তাপে রাখা হয় তবে তা হীরায় পরিণত হয় বিজ্ঞানীদের এই প্রযুক্তি বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে কারণ এতদিন দূষণকে কেবল একটি সমস্যা হিসেবেই দেখা হতো কিন্তু ভারত আজ প্রমাণ করল যে দূষণকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব এই কৃত্রিম হীরাগুলো গয়না তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পে কাটার যন্ত্র বা লেজার তৈরিতে ব্যবহৃত হবে ফলে বায়ুশক্তি গাছটি কেবল পরিবেশই রক্ষা করবে না বরং এটি নিজের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নিজেই তুলে নিতে পারবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক চক্র তৈরি করেছে

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে অভাবনীয় দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমস এর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বায়ুশক্তি চালু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্ডিয়া গেট চত্বরের বাতাসের মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স এক ধাক্কায় অনেক নিচে নেমে গেছে যে বাতাস আগে শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য ছিল তা এখন পাহাড়ি এলাকার বাতাসের মতো সতেজ হয়ে উঠেছে চিকিৎসকরা আশাবাদী যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শহরে হাঁপানি ফুসফুসের ক্যানসার এবং অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা যারা দূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতেন তারা এখন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে মুক্ত বাতাসে খেলাধুলা করতে বা হাঁটতে পারবেন এটি মানুষের আয়ু অন্তত পাঁচ বছর বাড়িয়ে দেবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন মানুষের চিকিৎসা খরচ বহুগুণ কমে যাবে

news image
আরও খবর

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে এত বড় একটি যন্ত্র চালাতে তো প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে এবং সেই বিদ্যুৎ যদি কয়লা পুড়িয়ে তৈরি হয় তবে তো আবার দূষণ বাড়বে এই প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন বায়ুশক্তি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বা জিরো এমিশন প্রযুক্তিতে চলে এই যন্ত্রের ওপরের অংশে বিশাল সৌর প্যানেল বা সোলার প্যানেল বসানো আছে যা সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে এই যন্ত্রকে চালায় এছাড়াও এতে বায়োগ্যাস এবং উইন্ড টারবাইনের সুবিধাও রাখা হয়েছে অর্থাৎ এটি বাইরের কোনো বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল নয় এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ইকোসিস্টেম যন্ত্রের ভেতরের সেন্সরগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ঠিক করে কখন বাতাসে দূষণের মাত্রা বেশি এবং সেই অনুযায়ী তারা নিজেদের কাজের গতি বাড়ায় বা কমায়

দিল্লির সাধারণ মানুষের মধ্যে আজ উৎসবের মেজাজ এক গৃহবধূ বলেন আমি গত দশ বছর ধরে শীতকালে আমার বাচ্চাদের বাইরে খেলতে দিইনি ভয়ে থাকতাম কখন ওদের শ্বাসকষ্ট শুরু হবে আজ সকালে আমি যখন ওদের নিয়ে ইন্ডিয়া গেটে এলাম এবং ওরা প্রাণভরে শ্বাস নিল তখন আমার চোখে জল চলে এল এক কলেজ ছাত্র বলেন আমরা এতদিন শুধু শুনেছি যে ভারত একদিন বিশ্বগুরু হবে আজ আমরা নিজের চোখে সেটা দেখতে পাচ্ছি আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা যা করেছেন তা আমেরিকা বা চিনও করতে পারেনি আমরা এখন গর্ব করে বলতে পারি যে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং পরিচ্ছন্ন শহরের বাসিন্দা এটি একটি সামাজিক পরিবর্তন আনবে যেখানে মানুষ খোলা আকাশের নিচে আরও বেশি সময় কাটাবে

আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের এই সাফল্য ব্যাপক সাড়া ফেলেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ বা ইউনাইটেড নেশনস এর পরিবেশ কর্মসূচির প্রধান ভারতকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন জলবায়ু পরিবর্তন এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং রোধে বায়ুশক্তি এক গেম চেঞ্জার বা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে আমেরিকা ইউরোপ এবং চিনের মতো দেশগুলো যারা শিল্পায়নের ফলে প্রচুর দূষণ ছড়াচ্ছে তারা এখন ভারতের এই প্রযুক্তি কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিজ্ঞানীরা বলছেন যদি পৃথিবীর বড় বড় শহরগুলোতে এরকম কয়েকটি বায়ুশক্তি গাছ বসানো যায় তবে আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলা বন্ধ হবে আইসল্যান্ডে এর আগে ছোট আকারে এমন কাজ হলেও ভারতের বায়ুশক্তি আকার এবং ক্ষমতায় তার চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে

সরকার জানিয়েছে দিল্লি হলো এই প্রকল্পের পাইলট সিটি বা পরীক্ষামূলক শহর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মুম্বাই কলকাতা চেন্নাই এবং কানপুরের মতো ভারতের সমস্ত বড় এবং দূষিত শহরগুলোতে বায়ুশক্তি গাছ বসানো হবে প্রতিটি গাছের খরচ প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা হলেও এর থেকে যে পরিমাণ গ্রাফাইট এবং হীরা উৎপাদিত হবে তা দিয়ে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এই খরচ উঠে আসবে সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং রিলায়েন্স ও টাটা গ্রুপ ইতিমধ্যেই এতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এর ফলে লক্ষ লক্ষ তরুণের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে যারা এই যন্ত্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কৃত্রিম হীরা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করবেন

কৃত্রিম গাছের পাশাপাশি সরকার প্রাকৃতিক গাছ লাগানোর প্রকল্পও সমান তালে চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছে কারণ কৃত্রিম গাছ কেবল কার্বন কমায় এবং অক্সিজেন দেয় কিন্তু প্রাকৃতিক গাছ পাখিদের আশ্রয় দেয় মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে তাই প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম গাছের এই যৌথ অবস্থান পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে এটি প্রকৃতির সাথে বিজ্ঞানের এক অপূর্ব মেলবন্ধন যেখানে বিজ্ঞান প্রকৃতির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করার জন্য এই প্রযুক্তি আগামী শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে গণ্য হবে

২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি দিনটি প্রমাণ করল যে মানুষের মেধা এবং সদিচ্ছা থাকলে কোনো সমস্যাই অজেয় নয় যে কার্বন ডাই অক্সাইড আমাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল আজ বিজ্ঞান তাকেই আমাদের বেঁচে থাকার উপাদানে পরিণত করল দিল্লির আকাশ আজ নীল এবং বাতাস সতেজ বায়ুশক্তি কেবল একটি প্রযুক্তি নয় এটি হলো ভারতের কোটি কোটি মানুষের সুস্থভাবে বাঁচার অঙ্গীকার আমরা এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে দূষণ কেবল ইতিহাসের বইতেই লেখা থাকবে বাস্তব জীবনে আমরা পাব এক দূষণমুক্ত এবং সুন্দর পৃথিবী ভারত আজ বিশ্বকে শিখিয়ে দিল কীভাবে ধ্বংসের কিনারা থেকে ফিরে এসে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করতে হয় জয় বিজ্ঞান জয় ভারত

Preview image