Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী রাষ্ট্রপুঞ্জে পাশ হলো ঐতিহাসিক গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক নতুন ভোরের অঙ্গীকার

৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে এবং পৃথিবীকে প্লাস্টিকের বিষাক্ত গ্রাস থেকে বাঁচাতে আজ রাষ্ট্রপুঞ্জে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত সহ ১৯০টি দেশ গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি বা বিশ্ব প্লাস্টিক চুক্তিতে সই করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল পরিবেশ নয় অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এক আমূল পরিবর্তন আনবে।

প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী রাষ্ট্রপুঞ্জে পাশ হলো ঐতিহাসিক গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক নতুন ভোরের অঙ্গীকার
Environment Pollution Health Weather Public Safety

আজ নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দপ্তরে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম হলো। যখন বিশ্বের ১৯০টি দেশের প্রতিনিধিরা উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন তখন বোঝা যাচ্ছিল যে এই মুহূর্তটির জন্য পৃথিবী কত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিল। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির পর এটিই পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় এবং কঠোর পদক্ষেপ। আজ স্বাক্ষরিত গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি বা বিশ্ব প্লাস্টিক চুক্তি অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক মুক্ত করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে।

এই চুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। গত এক শতাব্দী ধরে প্লাস্টিক আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। টুথব্রাশ থেকে শুরু করে জলের বোতল খাবারের প্যাকেট থেকে বাজারের থলি প্লাস্টিক ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারতাম না। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে যে ভয়াবহ বিপদ আমরা ডেকে এনেছিলাম আজ বিশ্বনেতারা তা স্বীকার করে নিলেন। মহাসাগরে ভাসমান প্লাস্টিকের দ্বীপ মাছের পেটে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং মানুষের রক্তে মিশে যাওয়া বিষাক্ত রাসায়নিক আজ সভ্যতার অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চুক্তির মূল বিষয়বস্তু

এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো প্লাস্টিক দূষণের ট্যাপ বন্ধ করা। এর অর্থ হলো কেবল প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করা নয় বরং প্লাস্টিকের উৎপাদন কমানো। চুক্তিতে বলা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে সমস্ত সদস্য দেশকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যেমন স্ট্র প্লাস্টিকের চামচ থালা গ্লাস পাতলা ক্যারিব্যাগ এবং অনাবশ্যক প্যাকেজিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

এছাড়াও প্লাস্টিক উৎপাদনের ওপর একটি বৈশ্বিক সীমা বা গ্লোবাল ক্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নতুন বা ভার্জিন প্লাস্টিকের উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা রিসাইকেলড প্লাস্টিক এবং বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীল বিকল্পের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

ভারতের ভূমিকা এবং অবস্থান

ভারত এই চুক্তিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এই চুক্তি সফল হওয়া অসম্ভব ছিল। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রী আজ রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন ভারত তার প্রাচীন ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলায় বিশ্বাসী। আমরা ইতিমধ্যেই স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনেক দূর এগিয়েছি। আজকের এই চুক্তি আমাদের সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। ভারত বিশ্বের দরবারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ২০৩০ সালের আগেই তারা দেশ থেকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বিদায় করবে।

ভারত সরকার জানিয়েছে তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোকে বা এমএসএমই সাহায্য করবে যাতে তারা প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্য তৈরি করতে পারে। পাটের ব্যাগ বাঁশের তৈরি জিনিস এবং মাটির পাত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। এটি ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মতো পাট উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর জন্য।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন হঠাৎ এত কঠোর সিদ্ধান্ত কেন। উত্তরটি লুকিয়ে আছে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এবং পরিসংখ্যানের মধ্যে। ২০২৫ সালের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের শরীরে গড়ে সপ্তাহে এক ক্রেডিট কার্ডের সমপরিমাণ প্লাস্টিক প্রবেশ করছে জল এবং খাবারের মাধ্যমে। মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মানুষের ফুসফুস এমনকি মায়ের গর্ভস্থ ভ্রূণের রক্তেও পাওয়া গেছে। এর ফলে ক্যানসার বন্ধ্যত্ব এবং হরমোনের সমস্যার মতো রোগ মহামারী আকার ধারণ করছে।

অন্যদিকে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম ধ্বংসের মুখে। প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি টন প্লাস্টিক সমুদ্রে গিয়ে মেশে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিলেন যে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মাছের চেয়ে প্লাস্টিকের ওজন বেশি হবে। এই ভয়াবহ ভবিষ্যৎ এড়াতেই আজ বিশ্বের দেশগুলো একজোট হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব এবং চ্যালেঞ্জ

এই চুক্তির ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ লাগবে। পেট্রোলিয়াম এবং পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিগুলো যারা প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করে তারা বড় ধাক্কা খাবে। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন এটি নতুন অর্থনীতির জন্ম দেবে। সার্কুলার ইকোনমি বা বৃত্তাকার অর্থনীতির প্রসার ঘটবে যেখানে কোনো কিছুই বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হবে না।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন সহজ হবে না। প্লাস্টিক সস্তা এবং সহজলভ্য। এর বিকল্পগুলো প্রায়শই দামী হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য চুক্তিতে একটি বিশেষ তহবিল বা গ্লোবাল প্লাস্টিক ফান্ড গঠন করা হয়েছে। উন্নত দেশগুলো এই তহবিলে অর্থ জমা দেবে যা দিয়ে উন্নয়নশীল এবং গরিব দেশগুলোকে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ভারতও এই তহবিলের সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিকল্পের সন্ধান এবং উদ্ভাবন

প্লাস্টিক চলে গেলে আমরা কী ব্যবহার করব এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। বিজ্ঞানীরা এবং উদ্যোগপতিরা ইতিমধ্যেই এর উত্তর খুঁজতে শুরু করেছেন। আজ রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রদর্শনীর এক কোনায় দেখা গেল মাশরুম বা ছত্রাক দিয়ে তৈরি প্যাকেজিং যা ব্যবহারের পর মাটিতে ফেলে দিলে সার হয়ে যায়। দেখা গেল সামুদ্রিক শৈবাল বা সি উইড দিয়ে তৈরি জলের বোতল যা জল খাওয়ার পর খেয়ে ফেলা যায়।

news image
আরও খবর

ভারতে কলাগাছের তন্তু এবং নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। সরকার স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহ দিচ্ছে নতুন নতুন বায়োডিগ্রেডেবল মেটেরিয়াল উদ্ভাবন করার জন্য। ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের বাজারগুলো প্লাস্টিকের প্যাকেটের বদলে হয়তো কাপড়ের থলি এবং কাগজের ঠোঙায় ভরে যাবে যা আমাদের ছোটবেলার স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে।

কর্পোরেট দুনিয়ার দায়িত্ব

এই চুক্তির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি বা ইপিআর। এর মানে হলো কোকা কোলা পেপসি বা ইউনিলিভারের মতো বড় কোম্পানিগুলো যে প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করছে তা ফিরিয়ে নেওয়ার এবং রিসাইকেল করার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। এতদিন তারা এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেত কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তারা বাধ্য থাকবে। যদি কোনো কোম্পানি তাদের টার্গেট পূরণ করতে না পারে তবে তাদের বিশাল অংকের জরিমানা দিতে হবে।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরিবেশকর্মী এবং তরুণ প্রজন্ম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের উত্তরসূরিরা আজ রাষ্ট্রপুঞ্জের বাইরে বিশাল ব্যানার নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে। তাদের মতে এটি তাদের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াইয়ে প্রথম বড় জয়।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে কিছু আশঙ্কাও রয়েছে। জিনিসের দাম বাড়বে কিনা বা দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধা হবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। দিল্লির এক গৃহবধূ বলেন প্লাস্টিকের ব্যাগ ছাড়া আবর্জনা ফেলা বা বাজার করা খুব কঠিন। সরকারকে সস্তা এবং মজবুত বিকল্প দিতে হবে। তবে অধিকাংশ মানুষই মানছেন যে সাময়িক অসুবিধা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের জন্য মঙ্গলজনক।

বাস্তবায়নের পথে বাধা

চুক্তি সই করা সহজ কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা কঠিন। অতীতেও অনেক পরিবেশ চুক্তি হয়েছে যা পুরোপুরি মানা হয়নি। প্লাস্টিক মাফিয়া এবং অবৈধ প্লাস্টিক উৎপাদনকারী কারখানাগুলো বন্ধ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিশেষ করে এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে যেখানে নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল সেখানে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।

রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে তারা একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করবে যা প্রতিটি দেশের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে দেখা হবে কোথাও অবৈধভাবে প্লাস্টিক পোড়ানো বা ডাম্পিং করা হচ্ছে কিনা।

২০৩০ এর ভিশন

কল্পনা করুন এমন এক পৃথিবীর কথা যেখানে সমুদ্র সৈকতে হাঁটলে পায়ে প্লাস্টিকের বোতল লাগবে না। যেখানে নর্দমাগুলো প্লাস্টিকের প্যাকেটে জ্যাম হবে না। যেখানে পশু পাখিরা প্লাস্টিক খেয়ে মারা যাবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে এই স্বপ্নকেই সত্যি করতে চায় গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই চুক্তি যদি সফল হয় তবে তা কেবল পরিবেশ রক্ষা করবে না বরং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতেও সাহায্য করবে। কারণ প্লাস্টিক উৎপাদনের সময় প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। প্লাস্টিক উৎপাদন কমলে কার্বন নিঃসরণও কমবে।

উপসংহার

৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিনটি প্রমাণ করল যে মানুষ চাইলে ভুল শুধরে নিতে পারে। আমরা যে জঞ্জাল তৈরি করেছি তা পরিষ্কার করার দায়িত্ব আমাদেরই। প্লাস্টিক আমাদের আরাম দিয়েছে কিন্তু কেড়ে নিয়েছে জীবনের নিরাপত্তা। আজ আমরা সেই আরাম বিসর্জন দিয়ে নিরাপত্তার পথ বেছে নিলাম।

এই চুক্তি কেবল একটি আইনি নথি নয় এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার রক্ষা করার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয় প্রতিটি নাগরিকের। আমরা যখন বাজারে যাব তখন যেন সঙ্গে একটি কাপড়ের ব্যাগ রাখি। আমরা যখন জল খাব তখন যেন প্লাস্টিকের বোতল না কিনি। ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনই এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।

আগামী প্রজন্ম যখন ইতিহাসের বই পড়বে তখন তারা জানবে যে ২০২৬ সালে তাদের পূর্বপুরুষরা একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারা পৃথিবীকে প্লাস্টিকের মোড়ক থেকে মুক্ত করে আবার শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। গ্লোবাল প্লাস্টিক ট্রিটি তাই কেবল একটি নিষেধাজ্ঞা নয় এটি একটি নতুন এবং সবুজ পৃথিবীর সূচনা। রাষ্ট্রপুঞ্জের হলঘর থেকে যে হাততালির শব্দ আজ ভেসে এল তা যেন সারা বিশ্বের প্রতিটি কোণায় প্রতিধ্বনিত হয় এবং আমাদের মনে করিয়ে দেয় পৃথিবী একটাই এবং তাকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের সবার।

Preview image