দিল্লির বাতাসে এখনও ভয়ানক বিষ ধোঁয়াশার পুরু আস্তরণে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য বিমান পরিষেবায় বড় বিঘ্ন
দিল্লির বাতাসে দূষণের চাপ এখনো ভয়ানক রয়ে গেছে সর্বোচ্চ স্তরের নিয়ন্ত্রণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না সোমবার সকালেও রাজধানীর বাতাসের গুণমানের উন্নতি হয়নি শহরের আকাশ ধোঁয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চলাচল যানবাহন এবং বিমান পরিষেবায়
শীতের মরসুম এলেই দিল্লিতে দূষণ নতুন করে ভয়াবহ হয়ে ওঠে বছরের এই সময়ে বাতাসে ধুলো ধোঁয়া জমে থাকে দীর্ঘ সময় কারণ আবহাওয়ার স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে বাতাস স্থির হয়ে যায় বাতাসের গতিবেগ কমে গেলে দূষণকণা ওপরের দিকে উঠতে পারে না বরং নিচের স্তরে আটকে থাকে ফলে শহরের ওপর একটি ঘন ধোঁয়াশা তৈরি হয় এই ধোঁয়াশার সঙ্গে কুয়াশা যোগ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ধোঁয়া কুয়াশা এবং ক্ষতিকর কণার মিশ্রণে তৈরি হয় বিপজ্জনক আবরণ যা চোখে জ্বালা গলা শুকিয়ে যাওয়া শ্বাসকষ্ট এবং মাথা ভার লাগার মতো সমস্যা বাড়িয়ে দেয়
সোমবার সকাল থেকে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় একিউআই চারশোর উপরে ছিল জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মানদণ্ড অনুযায়ী একিউআই চারশোর বেশি হলে তা ভয়ানক হিসেবে গণ্য হয় শহরের গড় একিউআই ছিল চারশো ছাপিয়ে চারশো ছাপ্পান্নের কাছাকাছি অনেক এলাকাতেই একিউআই পাঁচশোর গণ্ডি স্পর্শ করেছে অশোক বিহার ওয়াজিরপুর এবং রোহিণীর মতো অঞ্চলে একিউআই পাঁচশোতে পৌঁছে যায় যা পরিমাপের সর্বোচ্চ সীমা মানে এই অঞ্চলের বাতাস এতটাই খারাপ যে বাস্তবে তা সীমার বাইরে আরও খারাপ হতে পারে অক্ষরধাম চত্বরে একিউআই প্রায় পাঁচশোর কাছাকাছি উঠে যায় এভাবে একাধিক অঞ্চলে বিষ বাতাসের তীব্রতা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে
দূষণের মূল উৎসগুলো বহুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া শিল্প এলাকা থেকে নির্গত ধোঁয়া নির্মাণ কাজের ধুলো এবং শহরের বাইরে কৃষিজ অবশিষ্ট পোড়ানো থেকে আসা ধোঁয়া সব মিলিয়ে দিল্লির বাতাসে ক্ষতিকর কণা জমে যায় শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে ইনভারশন নামের একটি অবস্থা তৈরি হয় এতে উষ্ণ বাতাস ওপরের স্তরে থেকে যায় এবং ঠান্ডা বাতাস নিচে আটকে পড়ে ফলে ধোঁয়া ওপরে উঠতে পারে না দূষণকণা ঘন হয়ে শহরের ওপর স্থায়ীভাবে থেকে যায় তাই নিয়ন্ত্রণবিধি জারি হলেও প্রকৃতি এবং আবহাওয়ার অনুকূলতা না থাকলে দ্রুত উন্নতি দেখা যায় না
ধোঁয়াশা এবং কুয়াশার ফলে দৃশ্যমানতা একেবারে কমে গেছে দিল্লিবাসী সকালবেলা বাইরে বেরিয়ে কয়েক পা দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পারছেন না রাস্তায় যান চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে বিশেষ করে ভোররাতে এবং সকালবেলায় গাড়ি বাইক এবং বাস চালকদের জন্য পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে হাইবিম আলো ব্যবহার করলেও কুয়াশা এবং ধোঁয়াশা মিশে থাকার কারণে আলো প্রতিফলিত হয়ে আরও সমস্যা তৈরি করে তাই ধীরে চলা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং অযথা লেন বদল না করার মতো সতর্কতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে দৃশ্যমানতা নেমে এসেছে অতি কম মাত্রায় সকাল সাতটার সময় দৃশ্যমানতা মাত্র পঞ্চাশ মিটার পর্যন্ত নেমে যায় এতে উড়ান ওঠানামায় বিলম্ব দেখা দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইটের সময়সূচি বদলাতে হয় কুয়াশা ঘন হলে ক্যাট থ্রি মানের ল্যান্ডিং সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও সব ফ্লাইট সমানভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না কারণ ক্রু রিসোর্স রানওয়ে ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে মানতে হয় ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা বাড়ে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন উড়ান সংস্থা আগেভাগে যাত্রীদের সতর্ক করেছে যাতে তারা সময় নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং ফ্লাইট স্ট্যাটাস নিয়মিত দেখে নেন
মৌসম ভবন কুয়াশার বিষয়ে কমলা সতর্কতা জারি করেছে এর অর্থ পরিস্থিতি গুরুতর এবং সতর্ক থাকা প্রয়োজন বিশেষ করে শিশু বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই সময়ে বাইরে বেরোনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে দূষণের কারণে ফুসফুসে অতি সূক্ষ্ম কণা প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতি করতে পারে অনেকের ক্ষেত্রেই অ্যাজমা বা সিওপিডি সমস্যা বেড়ে যায় চোখের জ্বালা কাশি গলা ব্যথা এবং মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে যারা নিয়মিত বাইরে কাজ করেন যেমন ট্রাফিক পুলিশ ডেলিভারি কর্মী নির্মাণ শ্রমিক তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন
দূষণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ স্তরের নিয়ন্ত্রণবিধি জারি থাকার অর্থ শহরে কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যেমন নির্মাণ কাজ সীমিত করা ধুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য জল ছিটানো কিছু শিল্প কার্যক্রমে বিধিনিষেধ এবং কিছু ক্ষেত্রে যানবাহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এর সঙ্গে স্কুল কলেজের কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও কখনো কখনো বিবেচিত হয় তবে বাস্তবতা হল একদিনের ব্যবধানে একিউআই নাটকীয়ভাবে কমানো সম্ভব নয় কারণ দূষণের উৎস একাধিক এবং আবহাওয়ার বাধা বড় কারণ তাই পরিস্থিতি উন্নত করতে প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি কঠোর বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
দিল্লির বাতাসের মানের সূচকে বিভিন্ন স্তর রয়েছে শূন্য থেকে পঞ্চাশ ভাল একান্ন থেকে একশ সন্তোষজনক একশ এক থেকে দুইশ মাঝারি দুইশ এক থেকে তিনশ খারাপ তিনশ এক থেকে চারশ অত্যন্ত খারাপ এবং চারশ এক থেকে পাঁচশ ভয়ানক এই স্কেলে দিল্লি কয়েক দিন ধরে চারশোর নিচে নামতে পারেনি শনিবার গড় একিউআই ছিল চারশো একত্রিশ রবিবার তা বেড়ে চারশো একষট্টি হয় সোমবার সামান্য কমলেও তা এখনও ভয়ানক সীমায় রয়েছে অর্থাৎ এই উন্নতি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো স্বস্তি আনছে না বরং সতর্ক থাকার প্রয়োজন একইভাবে রয়ে গেছে
বিশেষজ্ঞদের মতে এই অবস্থায় ব্যক্তিগত সতর্কতা জরুরি সকালবেলা এবং রাতে অযথা বাইরে না বেরোনো মাস্ক ব্যবহার করা ঘরের জানালা বন্ধ রাখা প্রয়োজনে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী হতে পারে শিশুদের খেলা এবং দীর্ঘ সময়ের আউটডোর অ্যাক্টিভিটি সীমিত করা ভালো যারা শ্বাসকষ্টের ওষুধ ব্যবহার করেন তাদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা দরকার কোনো উপসর্গ বাড়লে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়া উচিত
দিল্লি এনসিআর অঞ্চলে দূষণের চক্র ভাঙতে হলে একা একটি দপ্তর বা এক দিনের অভিযান দিয়ে কাজ হবে না এখানে প্রয়োজন একসঙ্গে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব কাজ কারণ দূষণ একটি জটিল সমস্যা যা শহরের ভেতরের উৎস থেকে যেমন তৈরি হয় তেমনই শহরের বাইরের উৎস থেকেও এসে জমা হয় শীতের সময়ে আবহাওয়ার কারণে দূষণকণা সহজে ছড়িয়ে যেতে পারে না ফলে ধোঁয়া ধুলো এবং ক্ষতিকর কণা মিশে দীর্ঘ সময় ধরে বাতাসে থেকে যায় তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে প্রতিদিনের ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তা মানুষের চোখে দেখা যাওয়ার মতো কার্যকর হতে হবে
শহরের ভেতরে প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে তা হল যানবাহনের ধোঁয়া দিল্লিতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ গাড়ি বাইক বাস ট্রাক চলাচল করে এই গাড়িগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া বাতাসে সূক্ষ্ম কণা এবং বিষাক্ত গ্যাস বাড়িয়ে দেয় যাতায়াতের চাপ যত বাড়ে ধোঁয়াও তত বাড়ে তাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম আরও আধুনিক করা প্রয়োজন যাতে অযথা জ্যাম কমে কম জ্যাম মানে কম আইডলিং এবং কম ধোঁয়া একই সঙ্গে কার পুলিং এবং রাইড শেয়ারকে উৎসাহ দেওয়া দরকার যাতে একই রাস্তায় কম গাড়ি চলে অফিস সময় আলাদা করা এবং স্কুল সময়সূচি সামান্য পরিবর্তন করার মতো পদক্ষেপও অনেক ক্ষেত্রে রাস্তায় চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে
গণপরিবহন উন্নত না হলে ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভরতা কমবে না তাই মেট্রো বাস এবং ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি বাস স্টপে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা পরিষ্কার এবং নিরাপদ পরিবেশ রাখা এবং রুট প্ল্যানিং উন্নত করা দরকার মানুষ যদি দেখে বাসে উঠলে দ্রুত পৌঁছানো যায় তাহলে ব্যক্তিগত গাড়ি কম ব্যবহার করবে মেট্রোর সঙ্গে ফিডার বাস অটো এবং সাইকেল সিস্টেমকে আরও সমন্বিত করা প্রয়োজন শেষ মাইল কানেক্টিভিটি ভালো না হলে মানুষ আবার প্রাইভেট গাড়ির দিকে ফিরে যায়
ইলেকট্রিক যান ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এখন সময়ের দাবি চার্জিং স্টেশন বাড়ানো চার্জিং সময় কমানো এবং ব্যাটারি সাপোর্ট সার্ভিস সহজ করা দরকার অনেকেই ইলেকট্রিক গাড়ি নিতে চাইলেও চার্জিং ভয় থাকে তাই পাবলিক পার্কিং মল অফিস এরিয়া এবং আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট তৈরি করতে হবে একই সঙ্গে সরকারি দপ্তর এবং ট্যাক্সি ফ্লিটকে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক রূপান্তর করা গেলে বড় প্রভাব পড়বে কারণ এই গাড়িগুলো বেশি চলে এবং বেশি দূষণও করে
নির্মাণ কাজের ধুলো দিল্লির আরেক বড় সমস্যা রাস্তার পাশে নির্মাণ হলে ধুলো উড়ে আশপাশের বাতাস দ্রুত খারাপ হয়ে যায় তাই নির্মাণ সাইটে নিয়মিত জল ছিটানো ঢেকে রাখা ধুলো আটকানোর নেট ব্যবহার এবং মাটি বালু পরিবহণে কভার বাধ্যতামূলক করা দরকার রাস্তায় যে মাটি পড়ে থাকে সেটাও গাড়ির চাকায় উড়ে ধুলো তৈরি করে তাই রাস্তা পরিষ্কার এবং মেকানাইজড সুইপিং নিয়মিত করা জরুরি শুধু নিয়ম করে দিলে হবে না নিয়ম ভাঙলে দ্রুত জরিমানা এবং কাজ বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে
শিল্প এলাকার নির্গমন নিয়ন্ত্রণও খুব গুরুত্বপূর্ণ অনেক ছোট বড় কারখানা এবং ইউনিট থেকে ধোঁয়া বের হয় অনেক সময় রাতে বা নজরের বাইরে বেশি নির্গমন হয় বলে অভিযোগ থাকে তাই অনলাইনে রিয়েল টাইম এমিশন মনিটরিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা এবং ডেটা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা দরকার যাতে নিয়ম ভাঙা সহজে ধরা পড়ে পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ফিল্টার প্রযুক্তি আপগ্রেড করাতে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে কারণ অনেক ইউনিট খরচের কারণে উন্নয়ন করে না কিন্তু জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি তার চেয়ে অনেক বেশি
শহরের বাইরের একটি বড় উৎস হল কৃষিজ অবশিষ্ট পোড়ানো বিশেষ করে শীতের আগে পরে এই ধোঁয়া বাতাসে ভেসে এসে দিল্লি এনসিআর অঞ্চলে জমা হয় কৃষকেরা অনেক সময় দ্রুত জমি পরিষ্কার করার জন্য এই পথ নেন কারণ তাদের হাতে সময় কম এবং বিকল্প ব্যবস্থা ব্যয়বহুল তাই কেবল নিষেধাজ্ঞা দিলে সমাধান হবে না তাদের হাতে কার্যকর বিকল্প দিতে হবে যেমন অবশিষ্ট সংগ্রহ করে বায়োএনার্জি প্ল্যান্টে দেওয়া পশুখাদ্য বা কম্পোস্টে ব্যবহার অথবা মেশিন দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা এসব ক্ষেত্রে ভর্তুকি এবং দ্রুত লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার যাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং মাঠে আগুন না লাগে
বায়ু মান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে সিদ্ধান্ত তত দ্রুত নেওয়া যাবে রিয়েল টাইম ডেটা থাকলে কোন এলাকায় দূষণ বেশি হচ্ছে তা বোঝা যায় এবং সেখানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায় যেমন কোনো এলাকায় হঠাৎ একিউআই খুব বেড়ে গেলে সেখানে নির্মাণ থামানো ট্রাফিক ডাইভার্সন করা বা শিল্প ইউনিটে বিশেষ নজরদারি চালানো সম্ভব হয় তাই আরও বেশি মনিটরিং স্টেশন বসানো এবং ডেটা বিশ্লেষণ টিমকে সক্রিয় রাখা জরুরি শুধু সংখ্যা জানলেই হবে না সেই সংখ্যার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে
দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় বায়ুদূষণ শুধু পরিবেশের সমস্যা নয় এটি জনস্বাস্থ্যের বড় সংকট যখন একিউআই ভয়ানক পর্যায়ে থাকে তখন শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিকর কণা শরীরে ঢুকে যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস হৃদযন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে পারে শিশুদের ফুসফুস তৈরি হওয়ার সময় এই দূষণ ক্ষতি বাড়িয়ে দেয় বয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট এবং হার্টের ঝুঁকি বেড়ে যায় তাই এই পরিস্থিতিতে মানুষের সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত সতর্কতাও প্রয়োজন বাইরে বের হলে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার করা খুব সকালে বা রাতে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকা ঘরের ভেতর ধুলো কম রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এসব বিষয় গুরুত্ব পায়
সরকার প্রশাসন এবং নাগরিক সবারই দায়িত্ব রয়েছে কারণ দূষণ একা কেউ কমাতে পারে না প্রশাসনকে নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে শিল্প এবং নির্মাণ খাতে নিয়ম ভাঙলে শাস্তি দিতে হবে নাগরিকদেরও অপ্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার কমাতে হবে আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ করতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে স্কুল কলেজ অফিস এবং গণমাধ্যমকে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা নিতে হবে
আবহাওয়া অনুকূল হলে কিছুদিনের জন্য সামান্য স্বস্তি আসতে পারে কিন্তু স্থায়ী সমাধান শুধু আবহাওয়ার উপর নির্ভর করলে হবে না স্থায়ী সমাধানের জন্য চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যেমন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তর শহরের সবুজায়ন বাড়ানো রাস্তার ধুলো নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিক্ষেত্রে আগুন না লাগানোর কার্যকর ব্যবস্থা এসব কাজ ধারাবাহিকভাবে চলতে হবে এবং প্রতিবার শীত আসার আগেই আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে
সবশেষে বলা যায় দিল্লির আকাশে ধোঁয়াশার চাদর আর বিষ বাতাসের আতঙ্ক দূর করতে হলে দিল্লি এনসিআর অঞ্চলে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি ট্রাফিক গণপরিবহন ইলেকট্রিক যান নির্মাণ ধুলো নিয়ন্ত্রণ শিল্প নির্গমন এবং কৃষিজ অবশিষ্ট ব্যবস্থাপনা সব ক্ষেত্রেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে তখনই একিউআই ভয়ানক পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে নেমে আসবে এবং মানুষ আবার স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারবে যতদিন এই সমন্বিত উদ্যোগ নিয়মিত বাস্তবায়িত না হবে ততদিন শীত এলেই একই সংকট ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যাবে