উত্তর ভারতের আকাশে ফের ঘন কুয়াশা ও স্মগের দাপট জনজীবনকে কার্যত বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের বিস্তীর্ণ এলাকায় দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বিমান, রেল ও সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক উড়ান বাতিল ও বিলম্বিত হচ্ছে, একই সঙ্গে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত। শীতের শুরুতেই দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছনোর ফলে দিল্লিতে কার্যকর করা হয়েছে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের সর্বোচ্চ স্তর জিআরএপি ৪। একিউআই ৪৫০ থেকে ৫০০ ছুঁয়ে ফেলায় পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিয়েছে। এই স্মগের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প দূষণ, নির্মাণকাজের ধুলো, আবর্জনা পোড়ানো এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ফসলের খড় পোড়ানোর ঘটনা। শীতকালে থার্মাল ইনভার্সনের কারণে দূষিত কণা বাতাসে আটকে পড়ছে, ফলে শ্বাসজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালগুলিতে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিবেশগত অব্যবস্থাপনার ফল, যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
উত্তর ভারতের আকাশ আবারও কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা পড়েছে। শীতের শুরুতেই এই কুয়াশা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বরং জনজীবনের জন্য এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত নিয়ে এসেছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের বিস্তীর্ণ এলাকায় দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় ফের ব্যাহত হয়েছে বিমান ও রেল পরিষেবা। ভোরের দিক থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক উড়ান বাতিল ও বিলম্বিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে রাজধানী দিল্লিতে কার্যকর করা হয়েছে চতুর্থ ও সর্বোচ্চ স্তরের গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা জিআরএপি ৪। শীতের মরশুমে উত্তর ভারতে কুয়াশা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই অঞ্চলে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার আবির্ভাব ঘটে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কুয়াশার তীব্রতা এবং তার সঙ্গে যুক্ত দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কুয়াশা আর শুধুই প্রাকৃতিক নয়, বরং এটি স্মগে পরিণত হয়েছে, যার মূল কারণ বায়ুদূষণ। শিল্পাঞ্চল, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো, ফসলের খড় পোড়ানো এবং আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে উত্তর ভারতের আকাশে। দিল্লিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, একিউআই বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স একাধিক এলাকায় ৪৫০ থেকে ৫০০-র ঘরে পৌঁছেছে, যা 'গুরুতর' বা 'সিভিয়ার' শ্রেণির মধ্যে পড়ে। এই অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, মাথাব্যথা, বুকে চাপ ধরা এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই শ্বাসজনিত রোগে ভোগা মানুষদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ মিটারে। আনন্দ বিহার, রোহিণী, দ্বারকা, নরেলা, বাওয়ানার মতো এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। সকালের দিকে ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে যায় পুরো শহর, যেন কোনো ধূসর পর্দা টেনে দেওয়া হয়েছে আকাশ ও মাটির মধ্যে। রাস্তায় যানবাহন চলাচলে গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিদিন। বাইরে বের হওয়া মানুষজন মাস্ক পরে চলাফেরা করছেন, কিন্তু সাধারণ মাস্কে এই ধরনের সূক্ষ্ম কণা থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের মতে, পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০-এর মতো সূক্ষ্ম কণা বায়ুতে ভাসমান থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করে। এই কণাগুলি এতটাই ছোট যে রক্তপ্রবাহেও মিশে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। দিল্লির হাসপাতালগুলিতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং অন্যান্য শ্বাসজনিত রোগের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি বিভাগে ভিড় বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড প্রায় পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি সরকার এবং কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (সিএকিউএম) জিআরএপি ৪ কার্যকর করেছে। গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান হল একটি জরুরি পদক্ষেপ, যা বায়ুর গুণমান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। জিআরএপি ৪ হল সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে কঠোর স্তর, যা একিউআই ৪৫০-এর বেশি হলে কার্যকর করা হয়।জিআরএপি ৪-এর আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে ভারী যানবাহনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা, স্কুল-কলেজ অনলাইন মোডে পরিচালনা, বিএস তিন পেট্রোল এবং বিএস ফোর ডিজেল গাড়ির চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সরকারি কর্মচারীদের ৫০ শতাংশকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ। এছাড়াও, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানোর জন্য জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে। ট্রাক এবং অন্যান্য ভারী যানবাহন দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারছে না, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। তবে এই পদক্ষেপগুলি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ দূষণের উৎস শুধুমাত্র দিল্লির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি থেকে আসা দূষণও দিল্লির বায়ুমানকে প্রভাবিত করে। বিশেষত পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় ফসলের খড় পোড়ানোর ঘটনা দিল্লির দূষণ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। প্রতি বছর ধান কাটার পর কৃষকরা পরবর্তী ফসল রোপণের জন্য তাড়াতাড়ি জমি প্রস্তুত করতে খড় পুড়িয়ে ফেলেন। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও ক্ষতিকারক কণা বাতাসে মিশে যায়, যা বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে দিল্লিতে এসে পৌঁছায়। কুয়াশা ও দূষণের এই মিশ্র প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরেও। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত উড়ান যাতায়াত করে। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় অনেক উড়ান বাতিল বা বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষত ভোর এবং সকালের দিকে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ থাকে। বিমান চালকরা ক্যাট থ্রি আইএলএস (ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম) ব্যবহার করে অবতরণ করার চেষ্টা করছেন, তবে সব বিমান এই প্রযুক্তি সজ্জিত নয়। ফলে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন, অনেকের সংযোগ উড়ান মিস হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। রেল পরিষেবাও ভুগছে একই সমস্যায়। উত্তর ভারতের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্বিত হচ্ছে। কিছু ট্রেন ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে পৌঁছাচ্ছে। কুয়াশার কারণে ট্রেন চালকদের গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছে এবং সংকেত দেখতে অসুবিধা হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে, খাবার ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিচ্ছে এবং অনেকে খোলা প্ল্যাটফর্মে ঠান্ডা ও দূষিত বাতাসে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক এবং রাজ্য সড়কগুলিতে দৃশ্যমানতা এতটাই কম যে দুর্ঘটনার ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষত রাতে এবং ভোরবেলা যানবাহন চালকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। গাড়ির গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছে, যার ফলে জ্যাম বাড়ছে এবং যাতায়াতে সময় দ্বিগুণ-তিনগুণ লাগছে। ট্রাক চালকরা, যারা মালপত্র পরিবহনের জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন, তারা বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই কুয়াশা এবং স্মগকে একই মনে করেন, কিন্তু এই দুটি ভিন্ন প্রাকৃতিক ঘটনা। কুয়াশা হল জলীয় বাষ্পের ঘনীভূত রূপ, যা তাপমাত্রা কমে গেলে এবং আর্দ্রতা বেশি থাকলে তৈরি হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এবং সাধারণত ক্ষতিকারক নয়। অন্যদিকে, স্মগ হল ধোঁয়া ও কুয়াশার মিশ্রণ, যা দূষণকারী উপাদান থেকে তৈরি হয়। স্মগে রয়েছে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক যেমন সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং সূক্ষ্ম কণা পদার্থ। উত্তর ভারতে যা দেখা যাচ্ছে তা মূলত স্মগ, যেখানে প্রাকৃতিক কুয়াশার সঙ্গে মিশে আছে বায়ুদূষণের বিভিন্ন উপাদান। শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে এবং বাতাসের গতি কম থাকলে দূষণকারী কণাগুলি নিচু স্তরে আটকে থাকে এবং ছড়িয়ে যেতে পারে না। এই অবস্থাকে বলা হয় থার্মাল ইনভার্সন। সাধারণত উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠে যায় এবং দূষিত বাতাসকে সঙ্গে নিয়ে যায়। কিন্তু শীতকালে ওপরের স্তরের বাতাস বেশি উষ্ণ থাকে এবং নিচের ঠান্ডা বাতাস আটকে যায়, যার ফলে দূষণের ঘনত্ব বেড়ে যায় উত্তর ভারতে বায়ুদূষণের একাধিক উৎস রয়েছে। যানবাহনের ধোঁয়া। দিল্লিতেই প্রায় এক কোটিরও বেশি নিবন্ধিত যানবাহন রয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই পেট্রোল বা ডিজেল চালিত। এই যানবাহনগুলি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সূক্ষ্ম কণা নির্গত হয়। পুরোনো যানবাহনগুলি আরও বেশি দূষণ ছড়ায়। যদিও সরকার পুরোনো গাড়ি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবায়ন পুরোপুরি হয়নি। শিল্পাঞ্চল। দিল্লির চারপাশে অসংখ্য ছোট-বড় শিল্প রয়েছে, যেগুলি থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক ও কণা নির্গত হয়। অনেক শিল্প পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং পর্যাপ্ত দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। বিশেষত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি যেখানে কয়লা পোড়ানো হয়, সেখান থেকে প্রচুর সালফার ডাই-অক্সাইড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। নির্মাণকাজ। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে প্রতিনিয়ত নতুন বিল্ডিং, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে। এই কাজগুলি থেকে প্রচুর ধুলো ও কণা বাতাসে ছড়িয়ে যায়। যদিও নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণ স্থানে জল ছিটিয়ে ধুলো কমানোর কথা, কিন্তু অনেক জায়গায় তা মানা হয় না।ফসলের খড় পোড়ানো। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ধান কাটার পর কৃষকরা পরবর্তী ফসলের জন্য দ্রুত জমি প্রস্তুত করতে খড় পুড়িয়ে ফেলেন। এই পদ্ধতি দ্রুত এবং কম খরচের, কিন্তু এর ফলে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও দূষণকারী কণা তৈরি হয়। নাসার স্যাটেলাইট চিত্রে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় কীভাবে হাজার হাজার আগুনের বিন্দু এই অঞ্চলগুলিতে জ্বলে ওঠে। সরকার কৃষকদের বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বনের জন্য অনুরোধ করছে এবং যন্ত্রপাতি সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু অনেক কৃষক আর্থিক সমস্যার কারণে সেই যন্ত্র কিনতে পারছেন না বা ব্যবহার করতে আগ্রহী নন। আবর্জনা পোড়ানো। শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন টন টন আবর্জনা পোড়ানো হয়। এই আবর্জনায় প্লাস্টিক, রাবার এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা পোড়ালে বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হয়। দিল্লির ভালসোয়া, গাজীপুর এবং ওখলার মতো ল্যান্ডফিলগুলি থেকে মাঝে মাঝে আগুন লাগে, যা দূষণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। ঘরোয়া দূষণ। শীতকালে অনেক মানুষ উষ্ণতার জন্য কাঠ, কয়লা বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ান। বিশেষত দরিদ্র এলাকায় এবং ঝুগি-ঝোপড়িতে এই প্রথা বেশি দেখা যায়। এছাড়া দিওয়ালির সময় পটকা-আতশবাজি ফোটানোর ফলে হঠাৎ করে দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট এবং সরকার পটকা ফোটানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল থাকায় প্রতি বছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে।য়ুদূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক। স্বল্পমেয়াদে মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি, গলা ব্যথা, চোখে জ্বালা, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তি অনুভব করেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই দূষণ আরও গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফুসফুসের ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), হাঁপানি, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং এমনকি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।