Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

১৬ হাজার কোটি টাকাতেও নয় সন্তুষ্ট রাজস্থান মালিকরা বৈভবদের দলে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন দাবি উঠল

আইপিএলের অন্যতম জনপ্রিয় দল Rajasthan Royals-কে কেনার জন্য বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব আসলেও তাতে রাজি নয় বর্তমান মালিকপক্ষ। আগে প্রায় ১১,৯৫৬ কোটি টাকার অফার ফিরিয়ে দেওয়ার পর এবার ১৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা দলের ভবিষ্যৎ মূল্য আরও বেশি বলে ইঙ্গিত করছে।

ভারতের ক্রিকেট মানচিত্রে আইপিএল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে কেবল খেলার উত্তেজনা নয় বরং অর্থনীতি ব্যবসা এবং ব্র্যান্ড ভ্যালুর এক বিশাল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি আজ শুধুমাত্র একটি ক্রিকেট দল নয় বরং একটি শক্তিশালী কর্পোরেট ব্র্যান্ড। এই প্রেক্ষাপটে রাজস্থান রয়্যালসের বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

বর্তমান মালিকপক্ষ রাজস্থান রয়্যালসের অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বিনিয়োগকারী সংস্থা এই দলটি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই আগ্রহের মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত নাম হল কলুম্বিয়া প্যাসিফিক ক্যাপিটাল পার্টনার্স। তারা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রস্তাব দেয় রাজস্থান রয়্যালস কিনতে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল এত বড় অঙ্কের প্রস্তাবও গ্রহণ করেননি বর্তমান কর্ণধারেরা। বরং তারা এই প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে ঠিক কত টাকায় বিক্রি করতে চান রাজস্থান রয়্যালসের মালিকেরা।

আইপিএলের দলগুলির মূল্যায়ন গত কয়েক বছরে যে হারে বেড়েছে তা নজিরবিহীন। মিডিয়া রাইটস চুক্তি স্পনসরশিপ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে প্রতিটি দলের আয় এবং বাজারমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজস্থান রয়্যালসের মালিকেরা মনে করছেন তাদের দলের প্রকৃত মূল্য আরও অনেক বেশি।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমান মালিকপক্ষের ধারণা যে ভবিষ্যতে দলটির মূল্য আরও বাড়বে। সেই কারণেই তারা তাড়াহুড়ো করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না। বরং আরও বড় বিনিয়োগকারী বা উচ্চ দর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

রাজস্থান রয়্যালস আইপিএলের অন্যতম প্রাচীন দল। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মরশুমেই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই সময় দলটির ব্র্যান্ড ভ্যালু আজকের মতো ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছে। তরুণ প্রতিভা তুলে আনা এবং স্মার্ট ক্রিকেট খেলার জন্য রাজস্থান রয়্যালস আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

এই দলটির বর্তমান মালিকানার কাঠামোও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৬৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে ইমার্জিং মিডিয়া স্পোর্টিং হোল্ডিংস লিমিটেডের হাতে। এই সংস্থার কর্ণধার মনোজ বাদালে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে যুক্ত এবং দলটির ব্যবসায়িক দিক পরিচালনা করছেন।

এছাড়া এই দলে অংশীদার হিসেবে রয়েছে রেডবার্ড ক্যাপিটাল এবং ল্যাচলান মার্ডক। তাদের হাতে যথাক্রমে ১৫ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এই বহুজাতিক বিনিয়োগ কাঠামোই প্রমাণ করে যে দলটি শুধুমাত্র একটি স্পোর্টস ইউনিট নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

আইপিএলের অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় যে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ব্র্যান্ড ভ্যালু অনেক বেশি। আরসিবি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়তা এবং ফ্যান বেসের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। বিরাট কোহলির মতো তারকা খেলোয়াড় এই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের মার্কেট ভ্যালু আরও বেড়েছে।

তবুও রাজস্থান রয়্যালসের মালিকেরা আরসিবির সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতে চাইছেন না। তারা নিজেদের দলকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন এবং বিশ্বাস করছেন যে সঠিক সময় এলে তারা আরও বড় অঙ্কের প্রস্তাব পাবেন।

বর্তমান সময়ের ক্রীড়া অর্থনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি এখন স্টার্টআপ বা টেক কোম্পানির মতোই মূল্যায়ন পাচ্ছে। ডিজিটাল কনটেন্ট স্ট্রিমিং সোশ্যাল মিডিয়া এনগেজমেন্ট এবং ব্র্যান্ড পার্টনারশিপের কারণে একটি দলের আয় বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজস্থান রয়্যালস এই ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই। তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে এবং নিজেদের ব্র্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে তাদের আয় এবং মূল্য আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই মালিকপক্ষ মনে করছে যে ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব এখনও যথেষ্ট নয়। তারা বিশ্বাস করছেন যে বাজার পরিস্থিতি আরও অনুকূল হলে এই মূল্য আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে আইপিএল দলগুলির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করে। যেমন দলের পারফরম্যান্স ফ্যান বেস স্পনসরশিপ চুক্তি এবং মিডিয়া ভিজিবিলিটি। এই সব দিক থেকে রাজস্থান রয়্যালস একটি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে।

এছাড়া ভারতের ক্রিকেট বাজার বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ। প্রতি বছর কোটি কোটি দর্শক আইপিএল দেখেন। এই বিপুল দর্শকসংখ্যা স্পনসর এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে। ফলে একটি আইপিএল দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানে বিশাল বাজারে প্রবেশ করা।

রাজস্থান রয়্যালসের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনাই সবচেয়ে বড় শক্তি। যদিও দলটি আরসিবি বা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মতো বড় ব্র্যান্ড নয় তবুও তাদের গ্রোথ পটেনশিয়াল অনেক বেশি।

news image
আরও খবর

বর্তমানে স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট একটি লাভজনক ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন বড় বিনিয়োগকারী সংস্থা এখন ক্রীড়া দলে বিনিয়োগ করছে। আইপিএল সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজস্থান রয়্যালসের মালিকেরা সময় নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। তারা জানেন যে একবার দল বিক্রি হয়ে গেলে আর সেই সুযোগ ফিরে আসবে না। তাই তারা সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলিও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চাইছে না। তারা জানে যে আইপিএলের একটি দল কিনতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে বিশাল লাভ সম্ভব।

সব মিলিয়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিক্রি এখন একটি বড় ব্যবসায়িক ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও নতুন তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে মালিকেরা তাদের প্রত্যাশিত মূল্য পান কিনা। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে আইপিএলের দলগুলি এখন শুধুমাত্র খেলাধুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

রাজস্থান রয়্যালসের এই সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন যেখানে একটি ক্রিকেট দলকে একটি বহুমাত্রিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও বড় চুক্তি দেখা যেতে পারে যা ক্রীড়া জগতের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দেবে।

রাজস্থান রয়্যালসের বিক্রিকে ঘিরে এই যে আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে তা শুধুমাত্র একটি দলের সীমাবদ্ধ বিষয় নয় বরং এটি পুরো আইপিএল কাঠামোর ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের একটি ইঙ্গিত বহন করে। বর্তমান সময়ে আইপিএল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টি টোয়েন্টি লিগ এবং এর প্রতিটি দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিশাল আর্থিক সম্ভাবনা।

রাজস্থান রয়্যালসের মালিকেরা যে ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তা প্রমাণ করে যে তারা নিজেদের সম্পদের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তারা বুঝতে পারছেন যে ভবিষ্যতে আইপিএলের বাজার আরও বড় হবে এবং সেই সঙ্গে প্রতিটি দলের মূল্যও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষ করে ডিজিটাল সম্প্রচার এবং অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রসার আইপিএলের জনপ্রিয়তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও এই লিগের দর্শকসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে স্পনসরশিপ এবং বিজ্ঞাপন থেকে আয়ও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজস্থান রয়্যালসের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত দলকে কম দামে বিক্রি করা মালিকদের কাছে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে হচ্ছে না। বরং তারা অপেক্ষা করতে চাইছেন এমন একজন ক্রেতার জন্য যিনি দলটির প্রকৃত সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করতে পারবেন।

অন্যদিকে এই ঘটনাটি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির জন্যও একটি বার্তা বহন করছে। তারা বুঝতে পারছে যে আইপিএলের দল কিনতে হলে আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ এই বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

এছাড়া ভবিষ্যতে আইপিএলে নতুন দল যোগ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে যা পুরো লিগের আর্থিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। সেই ক্ষেত্রে পুরনো দলগুলির মূল্য আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাজস্থান রয়্যালস বরাবরই একটি স্মার্ট এবং পরিকল্পিত ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে পরিচিত। তারা কম খরচে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে সফলতা অর্জন করেছে। এই কৌশলই তাদের ব্র্যান্ডকে একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এই সমস্ত কারণ মিলিয়েই বর্তমান মালিকেরা সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। তারা নিশ্চিত করতে চাইছেন যে দলের ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক স্বার্থ দুটোই সুরক্ষিত থাকে।

সবশেষে বলা যায় রাজস্থান রয়্যালসের বিক্রির এই ঘটনা আইপিএলের অর্থনৈতিক শক্তির একটি বড় উদাহরণ। এটি দেখিয়ে দেয় যে ক্রিকেট এখন শুধু একটি খেলা নয় বরং একটি বিশাল ব্যবসায়িক শিল্পে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত কোটি কোটি টাকার সঙ্গে যুক্ত।

আগামী দিনে এই ধরনের আরও বড় ডিল এবং বিনিয়োগের খবর সামনে আসতে পারে যা ভারতীয় ক্রিকেটের আর্থিক চেহারাকে আরও বদলে দেবে।

Preview image