Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হাওড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ঘনিষ্ঠ প্রসেনজিৎ হাজরাকে জুতোপেটা ক্ষুব্ধ মহিলাদের চার বছরের হাসপাতাল সিন্ডিকেট এবং দাদাগিরির চরম অবসান

সাতাশে মে বিশ ছাব্বিশ হাওড়া জেলার রাজনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আজ এক অভাবনীয় এবং প্রলয়ংকরী গণবিক্ষোভের চিত্র ধরা পড়ল প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দাপুটে নেতা প্রসেনজিৎ হাজরাকে আজ প্রকাশ্য রাস্তায় জুতোপেটা করলেন এলাকার ক্ষুব্ধ মহিলারা অভিযোগ গত চার বছর ধরে হাওড়ার প্রায় সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে চরম দাদাগিরি এবং সিন্ডিকেট চালিয়েছিলেন এই নেতা আজ মাথার ওপর নেতার হাত না থাকায় এবং ক্ষমতা চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আক্ষরিক অর্থেই এক আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল  

হাওড়া সাতাশে মে বিশ ছাব্বিশ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল এবং সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ কীভাবে এক লহমায় একজন দাপুটে নেতার অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে আজ হাওড়া শহর তার এক জ্বলন্ত এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে রইল হাওড়া জেলার একসময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের ডানহাত এবং ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত প্রসেনজিৎ হাজরা আজ সাধারণ মানুষের বিশেষ করে ক্ষুব্ধ মহিলাদের চরম রোষানলে পড়ে প্রকাশ্য রাস্তায় গণধোলাই এবং জুতোপেটার শিকার হলেন যে নেতার অঙ্গুলিহেলনে গত চার বছর ধরে হাওড়ার প্রায় সমস্ত হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অরাজকতা এবং সিন্ডিকেটের রাজত্ব চলত আজ সেই নেতাকেই প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা গেল মাথার ওপর থেকে প্রভাবশালী নেতার ছায়া সরে যাওয়া এবং ক্ষমতার পালাবদল যে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কতটা অসহায় করে তোলে আজকের এই ঘটনা তার এক অত্যন্ত সুস্পষ্ট প্রমাণ

হাওড়া শহরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং হাসপাতালগুলোর দুর্নীতির এক দীর্ঘ এবং অত্যন্ত কলঙ্কিত ইতিহাস রয়েছে সাধারণ গরিব মানুষ যখন রোগযন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তখন তারা আশা করেন একটু সুচিকিৎসা এবং সহানুভূতি কিন্তু হাওড়া জেলার মানুষের অভিযোগ গত চার বছর ধরে এই প্রসেনজিৎ হাজরা এবং তার দলবল হাওড়া জেলা হাসপাতাল সহ আশেপাশের প্রায় সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি নার্সিংহোমে এক অলিখিত জমিদারি প্রথা কায়েম করেছিলেন রোগীদের ভর্তি করা থেকে শুরু করে বেড পাওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করা এমনকি আইসিইউ বা সিসিইউ বেড পাওয়ার জন্যও এই নেতার সিন্ডিকেটকে মোটা অঙ্কের কাটমানি বা ঘুষ দিতে হতো যারা এই টাকা দিতে অস্বীকার করতেন তাদের রোগীদের চরম সংকটের মুহূর্তেও হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হতো এই সিন্ডিকেটের হাত এতই লম্বা ছিল যে হাসপাতালের সুপার থেকে শুরু করে সাধারণ ডাক্তার এবং নার্সরাও এদের ভয়ে সর্বদা তটস্থ থাকতেন কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না কারণ সবারই জানা ছিল যে প্রসেনজিৎ হাজরার মাথার ওপর রয়েছে খোদ দাপুটে মন্ত্রী অরূপ রায়ের আশীর্বাদ এবং পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন

এই চার বছরের দাদাগিরি এবং সিন্ডিকেটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন সমাজের নিম্নবিত্ত এবং খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ অনেক গরিব পরিবার নিজেদের জমিজমা বিক্রি করে বা ঘটিবাটি বন্ধক রেখে এই সিন্ডিকেটের হাতে টাকা তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন নিজেদের প্রিয়জনের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে অনেক মহিলা আজ অভিযোগ করেছেন যে করোনার সময় থেকে শুরু করে ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় পর্যন্ত এই নেতা সাধারণ মানুষের অসহায়তার চরম সুযোগ নিয়েছেন জীবনদায়ী ওষুধের কালোবাজারি এবং অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট চালিয়ে কোটি কোটি টাকা বেআইনিভাবে উপার্জন করেছেন প্রসেনজিৎ হাজরা এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে এই নেতার অনুগামীরা রোগীদের আত্মীয়দের সাথে অত্যন্ত কুরুচিকর আচরণ করতেন এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন সাধারণ মানুষ বারবার স্থানীয় থানা এবং প্রশাসনের কাছে এই চরম দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ জানালেও প্রশাসন সর্বদা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে কারণ শাসক দলের এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা বা সাহস তখন প্রশাসনের ছিল না

কিন্তু রাজনীতিতে ক্ষমতা চিরকাল কারও একচেটিয়া থাকে না রাজ্যে এবং হাওড়া জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে যে বিশাল পরিবর্তন এসেছে তার ফলে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায় তার পুরোনো ক্ষমতা এবং প্রভাব সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছেন মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পর এবং দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে তিনি আজ সম্পূর্ণ কোণঠাসা তার এই পতনের সাথে সাথেই তার ঘনিষ্ঠ অনুগামী প্রসেনজিৎ হাজরার মাথার ওপর থেকেও রাজনৈতিক সুরক্ষার ছাতাটি চিরতরে সরে গেছে যে প্রশাসন এতদিন এদের বেআইনি কাজে মদত দিত বা চোখ বন্ধ করে থাকত আজ সেই প্রশাসনও এদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষও খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের এখন আর কোনো ক্ষমতা নেই এবং তাদের ভয় পাওয়ারও কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল সাহসের সঞ্চার করে যা আজ এক প্রলয়ংকরী গণবিস্ফোরণের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করল

আজ সকাল বেলা যখন প্রসেনজিৎ হাজরা হাওড়ার একটি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং জনবহুল এলাকা দিয়ে নিজের কয়েকচার অনুগামীকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন তখন তিনি হয়তো ভাবতেও পারেননি যে তার জন্য কী ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে পুরোনো অভ্যাসবশত তিনি রাস্তা দিয়ে অত্যন্ত দম্ভের সাথে হাঁটছিলেন কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে দেখে চিনতে পারেন স্থানীয় কিছু মহিলা এই মহিলাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা গত কয়েক বছরে হাসপাতালে নিজেদের আত্মীয়দের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এই নেতার চরম দুর্ব্যবহার এবং কাটমানির শিকার হয়েছিলেন প্রথমে দুই একজন মহিলা এগিয়ে এসে তার রাস্তা আটকান এবং তাকে গত চার বছরের দুর্নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন প্রসেনজিৎ প্রথমে তাদের ধমক দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুরোনো মেজাজে হুমকি দেন কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে পরিস্থিতি এখন আর তার অনুকূলে নেই তার এই দম্ভ এবং ঔদ্ধত্য দেখে মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের এলাকা থেকে শত শত সাধারণ মানুষ এবং ক্ষুব্ধ মহিলারা ছুটে আসেন এবং তাকে চারদিক থেকে সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলেন

শুরু হয় এক ঐতিহাসিক এবং অভাবনীয় গণবিক্ষোভ মহিলারা নিজেদের পায়ের জুতো এবং চটি খুলে অত্যন্ত রুদ্রমূর্তিতে প্রসেনজিৎ হাজরার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন চোখের পলকে প্রকাশ্য রাস্তায় শুরু হয় জুতোপেটা এবং চড় থাপ্পড়ের বন্যা মহিলারা চিৎকার করে বলতে থাকেন যে এই মানুষটা আমাদের রক্ত চুষে খেয়েছে গরিব মানুষের চোখের জলের অভিশাপ আজ এর গায়ে লাগবেই এক বয়স্ক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে নিজের জুতো দিয়ে তাকে প্রহার করার সময় বলেন আমার ছেলের চিকিৎসার সময় এই লোকটা আমার কাছে দশ হাজার টাকা চেয়েছিল টাকা দিতে পারিনি বলে আমার ছেলেকে বিনা চিকিৎসায় মরতে হয়েছে আজ আমি এর চরম প্রতিশোধ নেব আরেকজন গৃহবধূ চিৎকার করে বলেন যখন ক্ষমতা ছিল তখন তো খুব দাদাগিরি দেখিয়েছিস এখন তোর সেই দাদা কোথায় গেল ডাক তোর দাদাকে আজ তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না মহিলাদের এই চরম রোষ এবং ক্ষোভের আগুনে প্রসেনজিৎ হাজরার সমস্ত অহংকার মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে যায় যে নেতা এতদিন সাধারণ মানুষকে পায়ের ভৃত্য মনে করতেন আজ তিনি নিজের প্রাণ বাঁচাতে রাস্তার ধুলোয় লুটিয়ে পড়ে দুই হাত জোড় করে মহিলাদের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতে শুরু করেন কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তখন এতটাই তীব্র ছিল যে কোনো ক্ষমাই তাদের শান্ত করতে পারছিল না

জনতার এই রুদ্রমূর্তি প্রমাণ করে দিল যে ক্ষমতার দম্ভ দিয়ে চিরকাল সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা যায় না যখন কোনো মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় এবং প্রশাসনের ওপর থেকে বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে উঠে যায় তখন মানুষ এভাবেই আইন নিজেদের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয় যদিও একটি গণতান্ত্রিক এবং সভ্য সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা প্রকাশ্য রাস্তায় কাউকে জুতোপেটা করা আইনিভাবে সমর্থনযোগ্য নয় কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে যখন সমাজ এবং রাষ্ট্র দিনের পর দিন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ভুলুণ্ঠিত হতে থাকে তখন এই ধরনের গণপিটুনির ঘটনা অনিবার্য হয়ে ওঠে প্রসেনজিৎ হাজরার আজকের এই পরিণতি আসলে হাওড়া জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চলা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতির প্রতি সাধারণ মানুষের চরম অনাস্থা এবং ঘৃণারই এক প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এক অত্যন্ত কড়া এবং স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে চিরকাল রাজত্ব করা যায় না একদিন না একদিন মানুষের এই ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়বেই

news image
আরও খবর

এই গণধোলাই এবং জুতোপেটার খবর পেয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের এক বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কিন্তু হাজার হাজার ক্ষুব্ধ জনতার সামনে পুলিশও প্রথমদিকে রীতিমতো অসহায় বোধ করতে থাকে পুলিশ বারবার মহিলাদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানায় এবং প্রসেনজিৎ হাজরাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন করে কিন্তু মহিলারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পুলিশকে জানিয়ে দেন যে যখন এই লোকটা হাসপাতালে বসে সাধারণ গরিব মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা তোলা আদায় করত তখন পুলিশ কোথায় ছিল পুলিশ কি কেবল দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের পাহাড়াদার সাধারণ মানুষের কি কোনো দাম নেই দীর্ঘক্ষণ ধরে পুলিশের সাথে জনতার এই বচসা এবং ধাক্কাধাক্কি চলতে থাকে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশকে রীতিমতো বেগ পেতে হয় শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টার পর পুলিশ প্রসেনজিৎ হাজরাকে মহিলাদের হাত থেকে উদ্ধার করে এবং তাকে চরম নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং প্রসেনজিৎ হাজরার বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত পুরোনো দুর্নীতির অভিযোগগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে

এই অভাবনীয় ঘটনার খবর আধুনিক ডিজিটাল যুগে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সমগ্র রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলোতে আজ সকাল থেকেই এই জুতোপেটার ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সাধারণ মানুষ এই ভিডিও শেয়ার করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন এবং মহিলাদের এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেটিজেনদের মধ্যে এক বিশাল আলোচনা শুরু হয়েছে অনেকেই লিখছেন যে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতাদের এভাবেই প্রকাশ্য রাস্তায় শাস্তি দেওয়া উচিত কারণ আইনি পথে গেলে এরা টাকার জোরে এবং রাজনৈতিক প্রভাবে সহজেই পার পেয়ে যায় আবার অনেক বুদ্ধিজীবী মনে করছেন যে এই ধরনের মব জাস্টিস বা গণপিটুনি সমাজের জন্য এক অত্যন্ত বিপজ্জনক দিক নির্দেশ করে প্রশাসনকে অবিলম্বে এই দুর্নীতির চক্রগুলোকে আইনগতভাবে ধ্বংস করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষকে আর এইভাবে রাস্তায় নামতে না হয় ডিজিটাল মিডিয়ার এই প্রসার আজ সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের মনে এক বিশাল ভয়ের জন্ম দিয়েছে

হাওড়া জেলার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিরোধী দলের নেতারা জানিয়েছেন যে এই জুতোপেটার ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ডুবে আছেন এবং সাধারণ মানুষের তাদের ওপর থেকে সমস্ত বিশ্বাস উঠে গেছে তারা দাবি করেছেন যে অবিলম্বে প্রসেনজিৎ হাজরাকে গ্রেপ্তার করে তার সমস্ত বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের সাথে তার সমস্ত দুর্নীতির যোগসূত্র তদন্ত করে দেখতে হবে তারা আরও দাবি করেছেন যে হাওড়া জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গত দশ বছরে যে বিশাল টাকার দুর্নীতি হয়েছে তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে বিরোধী দলের এই রাজনৈতিক আক্রমণের ফলে পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তবে সাধারণ মানুষ এই রাজনৈতিক তরজায় খুব একটা কান দিতে রাজি নন তারা কেবল নিজেদের হকের চিকিৎসা এবং সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরে পেতে চান

হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো হলো সাধারণ মানুষের কাছে এক মন্দিরের মতো যেখানে মানুষ জীবন ফিরে পাওয়ার আশায় ছুটে আসেন কিন্তু যখন সেই মন্দিরেই একদল দুর্নীতিগ্রস্ত দালাল এবং রাজনৈতিক নেতা টাকার খেলা শুরু করেন তখন তা সমগ্র মানবজাতির জন্য এক চরম লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় হাওড়ার হাসপাতালগুলোতে বেড বিক্রির চক্র ওষুধের কালোবাজারি এবং মৃতদেহ ছাড়ার জন্য টাকা নেওয়ার যে সমস্ত অমানবিক অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরে উঠে আসছিল আজকের এই ঘটনা সেই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে দিল ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও আজ এই নেতার পতনে এক বিশাল স্বস্তি অনুভব করছেন কারণ তারা এতদিন চরম আতঙ্কের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন এখন তারা আশা করছেন যে প্রশাসন হাসপাতালগুলো থেকে এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করবে এবং একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলবে

সরকার এবং প্রশাসনের শীর্ষ মহলকেও এই ঘটনা থেকে এক বিশাল শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে কেবল নতুন নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করলেই হবে না সেই প্রকল্পগুলো যাতে সাধারণ মানুষ কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই উপভোগ করতে পারেন তা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকার পরেও কেন সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে বেড পাওয়ার জন্য দালালদের টাকা দিতে হবে এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকে অবশ্যই খুঁজতে হবে হাসপাতাল চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো দালাল চক্র দমনে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা এবং রোগীদের অভিযোগ জানানোর জন্য সরাসরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করার মতো আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা আজ অত্যন্ত জরুরি প্রশাসন যদি এই দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটগুলোকে সমূলে উৎপাটন করতে না পারে তবে আগামী দিনে হাওড়ার মতো ঘটনা সমগ্র রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ঘটবে

শিক্ষাব্যবস্থা এবং ছাত্রসমাজের ওপরও এই ধরনের দুর্নীতির খবরের এক গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যে সমস্ত মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা দিনরাত এক করে পড়াশোনা করে ডাক্তার বা নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তারা যখন দেখেন যে হাসপাতালগুলো রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে তখন তারা চরম হতাশায় ভোগেন আমাদের সমাজের আগামী প্রজন্মকে এক সুস্থ এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য এই সিন্ডিকেট রাজের অবসান হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন তরুণ সমাজ আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন এবং এক স্বচ্ছ সমাজ গঠনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করছেন তারা চাইছেন এমন এক প্রশাসন যা রাজনৈতিক নেতাদের নয় বরং সাধারণ মানুষের কথা শুনবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে

পরিশেষে এটা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে সাতাশে মে তারিখের আজকের এই গণবিক্ষোভ এবং জুতোপেটার ঘটনা হাওড়া জেলার তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং সতর্কতামূলক অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে চার বছর ধরে হাসপাতালে দাদাগিরি এবং সিন্ডিকেট চালিয়ে সাধারণ মানুষের চোখের জল নিয়ে খেলা করার চরম পরিণতি আজ প্রসেনজিৎ হাজরাকে নিজের চোখেই দেখতে হলো মাথার ওপর ক্ষমতা বা নেতার আশীর্বাদ না থাকলে দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষগুলো যে কতটা একা এবং অসহায় আজকের এই চিত্র তা প্রমাণ করে দিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যখন একবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে তখন তাকে কোনো রাজনৈতিক দম্ভ বা পুলিশের লাঠি দিয়ে আর আটকানো যায় না আমরা লেন্সপেডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত জোরালো আবেদন জানাচ্ছি যে অবিলম্বে হাওড়ার হাসপাতালগুলোতে চলা সমস্ত সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করা হোক সাধারণ মানুষ যেন আর কোনোদিন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নেতার কাছে হাত পাততে না বাধ্য হন আসুন আমরা সবাই মিলে এক দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ সমাজের স্বপ্ন দেখি যেখানে গরিব মানুষের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না বিস্তারিত খবরের জন্য এবং প্রকাশ্য রাস্তায় প্রসেনজিৎ হাজরাকে জুতোপেটার লেটেস্ট গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও ভাইরাল ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায় সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আমাদের এই সংবাদ পরিবেশনা অবিরাম চলতে থাকবে

Preview image