Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মঞ্চে দাপট বজায় রাখতে ৫২ বছরেও কীভাবে ফিট থাকেন সোনু নিগম? তাঁর ফিটনেস রুটিনের গোপন রহস্য

৫২ বছর বয়সেও প্রাণবন্ত উপস্থিতি Sonu Nigam-এর। মঞ্চে উঠলেই তাঁর কণ্ঠ আর এনার্জিতে আবেগে ভেসে যান অনুরাগীরা। তবে এর পেছনে রয়েছে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই গায়ক ফিট থাকতে মেনে চলেন ব্যালান্সড ডায়েট, নিয়মিত ব্যায়াম, যোগ ও মেডিটেশন—যা তাঁকে প্রতিটি পারফরম্যান্সে সেরা দিতে সাহায্য করে।

বয়স ৫২, তবুও তাঁর গলায় ক্লান্তির লেশমাত্র নেই। মঞ্চে উঠলেই যেন নতুন করে জন্ম নেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে কখনও উচ্ছ্বাস, কখনও আবেগ, কখনও বা গভীরতার স্পর্শ—সব মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সেই মানুষটি হলেন Sonu Nigam।

আজকের দিনে যখন অনেকেই চল্লিশ পেরোলেই ক্লান্তির কথা বলেন, সেখানে সোনু নিগম যেন এক ব্যতিক্রম। তাঁর লাইভ পারফরম্যান্সে শক্তি, স্ট্যামিনা আর নিখুঁত সুর ধরে রাখার ক্ষমতা দেখে অবাক হন অনুরাগীরা। আট থেকে আশি—সব বয়সের শ্রোতাই তাঁর গানে ডুবে যান। কিন্তু এই এনার্জির পেছনে রয়েছে কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়মিত অনুশীলন এবং সুপরিকল্পিত জীবনযাপন।


? মঞ্চে পারফেকশন—শুধু প্রতিভা নয়, প্রস্তুতির ফল

অনেকে মনে করেন, একজন গায়কের মূল শক্তি শুধুই কণ্ঠস্বর। কিন্তু বাস্তবে মঞ্চে টানা পারফরম্যান্স দিতে গেলে প্রয়োজন ফিট শরীর, শক্তিশালী ফুসফুস এবং স্থির মানসিকতা।

সোনু নিগম নিজেই জানিয়েছেন, গান গাওয়া তাঁর কাছে শুধু শিল্প নয়—এটি এক ধরনের শারীরিক অ্যাক্টিভিটি। লাইভ শো-তে কখনও ২-৩ ঘণ্টা ধরে গান গাইতে হয়, তার সঙ্গে থাকে হাঁটা, নাচ, দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ—সব মিলিয়ে এটি প্রায় একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্কআউটের মতো।


?‍♂️ ফিটনেসের মূল মন্ত্র: যোগ ও সূর্য নমস্কার

সাম্প্রতিক একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সোনু নিগম নিয়মিত সূর্য নমস্কার করছেন।

সূর্য নমস্কারের উপকারিতা:

  • পুরো শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা উন্নত করে
  • স্ট্যামিনা বৃদ্ধি করে
  • মানসিক চাপ কমায়

একজন গায়কের জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শ্বাস নিয়ন্ত্রণই ভালো গানের মূল ভিত্তি।


?‍♂️ যোগাসন ও পিলাটেস: শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখা

যোগাসনের পাশাপাশি তিনি পিলাটেস-এর ওপরও জোর দেন।

পিলাটেসের মাধ্যমে—

  • কোর মাংসপেশি শক্তিশালী হয়
  • শরীরের ব্যালান্স উন্নত হয়
  • দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে পারফর্ম করার ক্ষমতা বাড়ে

যোগ ও পিলাটেস একসঙ্গে করলে শরীর যেমন নমনীয় থাকে, তেমনই ইনজুরির সম্ভাবনাও কমে।


?️‍♂️ জিম রুটিন: কণ্ঠের জন্য শরীরচর্চা

অতীতে সোনু নিগম জানিয়েছিলেন, কোনও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডিংয়ের আগে তিনি টানা ৫-৬ দিন জিমে যান।

কেন?
কারণ তাঁর মতে—

“নিয়মিত ব্যায়াম করলে মনে হয় ফুসফুসের জড়তা কেটে যায়।”

জিম ওয়ার্কআউটের সুবিধা:

  • ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  • রক্তসঞ্চালন ভালো হয়
  • স্ট্যামিনা বাড়ে
  • শরীর হালকা ও সক্রিয় থাকে

একজন গায়কের জন্য এগুলো অত্যন্ত জরুরি, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁত সুরে গান গাওয়া সহজ নয়।


? শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন: গানের মূল চাবিকাঠি

গান গাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ব্রিদিং কন্ট্রোল

সোনু নিগম নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন:

  • ডিপ ব্রিদিং
  • প্রণায়াম
  • কণ্ঠের স্কেল অনুশীলন

এগুলো তাঁর কণ্ঠকে দীর্ঘ সময় স্থির রাখতে সাহায্য করে।


? ডায়েট: ফিটনেসের অদৃশ্য স্তম্ভ

শুধু ব্যায়াম নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাসও তাঁর ফিটনেসের বড় কারণ।

সম্ভাব্য ডায়েট অভ্যাস:

  • হালকা ও পুষ্টিকর খাবার
  • অতিরিক্ত তেল-মশলা এড়িয়ে চলা
  • পর্যাপ্ত জলপান
  • কণ্ঠের জন্য ক্ষতিকর ঠান্ডা খাবার সীমিত রাখা

গায়কদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস সরাসরি কণ্ঠের উপর প্রভাব ফেলে, তাই এতে তিনি বিশেষ যত্নশীল।


? মানসিক ফিটনেস: পারফরম্যান্সের গোপন শক্তি

শুধু শরীর নয়, মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

news image
আরও খবর

সোনু নিগম নিয়মিত—

  • মেডিটেশন করেন
  • নিজের সঙ্গে সময় কাটান
  • মানসিক চাপ কম রাখার চেষ্টা করেন

মঞ্চে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে এই বিষয়গুলো অত্যন্ত কার্যকর।


? অনুশীলনই সাফল্যের চাবিকাঠি

তিনি যত বড় শিল্পীই হন না কেন, নিয়মিত রেওয়াজ (practice) কখনও বাদ দেন না।

রেওয়াজের মাধ্যমে—

  • কণ্ঠের ধার বজায় থাকে
  • সুরের নিখুঁততা বাড়ে
  • নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়

? কেন আজও এত জনপ্রিয়?

৫২ বছর বয়সেও সোনু নিগমের জনপ্রিয়তার রহস্য লুকিয়ে আছে তাঁর—

  • শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন
  • নিয়মিত ফিটনেস রুটিন
  • কণ্ঠের প্রতি যত্ন
  • দর্শকদের সঙ্গে আবেগী সংযোগ

তিনি শুধু গান গাইছেন না, প্রতিটি পারফরম্যান্সে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।

কেন আজও এত জনপ্রিয়?

৫২ বছর বয়সেও Sonu Nigam-এর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি—বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও পরিণত, গভীর এবং বিস্তৃত হয়েছে। এই জনপ্রিয়তার পেছনে কেবল তাঁর সুমধুর কণ্ঠই দায়ী নয়, রয়েছে একাধিক স্তরের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং শিল্পের প্রতি অটল নিষ্ঠা।

প্রথমত, তাঁর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। একজন শিল্পীর ক্ষেত্রে প্রতিভা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকেও বেশি জরুরি নিয়ম মেনে চলা। সোনু নিগম নিজের দৈনন্দিন জীবনে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন—ঘুম, খাওয়া, অনুশীলন এবং বিশ্রাম—সবকিছুর মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখেন। এই ধারাবাহিকতা তাঁর শরীর ও কণ্ঠ—দুটোকেই দীর্ঘদিন ধরে সেরা অবস্থায় রাখতে সাহায্য করেছে।

দ্বিতীয়ত, তাঁর নিয়মিত ফিটনেস রুটিন। লাইভ পারফরম্যান্স মানেই শুধু দাঁড়িয়ে গান গাওয়া নয়—এতে থাকে চলাফেরা, দর্শকদের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন, কখনও নাচ, কখনও আবেগের বিস্ফোরণ। এই সবকিছু সামলাতে প্রয়োজন অসাধারণ স্ট্যামিনা। নিয়মিত যোগ, সূর্য নমস্কার, জিম এবং পিলাটেসের মাধ্যমে তিনি নিজের শরীরকে সেই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত রাখেন। ফলে দীর্ঘ সময় মঞ্চে থেকেও তাঁর এনার্জি কমে না।

তৃতীয়ত, তাঁর কণ্ঠের প্রতি যত্ন। একজন গায়কের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর কণ্ঠস্বর। সোনু নিগম এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি নিয়মিত রেওয়াজ করেন, শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন করেন এবং খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন থাকেন। ঠান্ডা বা ক্ষতিকর খাবার এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত জলপান—এই ছোট ছোট অভ্যাসই তাঁর কণ্ঠকে বছরের পর বছর সতেজ রেখেছে।

চতুর্থত, তাঁর দর্শকদের সঙ্গে আবেগী সংযোগ। এটাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। তিনি শুধু গান শোনান না—গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের অনুভব করান। কখনও হাসান, কখনও কাঁদান, কখনও নস্টালজিয়ায় ভাসান। এই ইমোশনাল কানেকশনই তাঁর লাইভ শো-কে করে তোলে অনন্য। দর্শকরা মনে করেন, তিনি শুধু পারফর্ম করছেন না—তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন, তাঁদের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—Sonu Nigam নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার এই ক্ষমতাই তাঁকে অন্য অনেক শিল্পীর থেকে আলাদা করে তোলে। সংগীতজগত এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে ট্রেন্ড প্রতিনিয়ত বদলায়—শ্রোতাদের রুচি বদলায়, প্রযুক্তি বদলায়, গানের ধরন বদলায়। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভেতরেও নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে নিজেকে আপডেট করতে পারা খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব। সোনু নিগম সেই বিরল উদাহরণগুলির মধ্যে অন্যতম।

ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি যে ধরনের গান গেয়েছেন, আজকের দিনে তাঁর গানের ধরণে এসেছে পরিণত পরিবর্তন। একসময় রোমান্টিক গান দিয়ে তিনি শ্রোতাদের মন জয় করেছিলেন, আবার কখনও ক্লাসিক্যাল ঘরানার গানে তাঁর দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আধুনিক সংগীত, ফিউশন, এমনকি লাইভ এক্সপেরিমেন্টেশনেও নিজেকে যুক্ত করেছেন। ফলে তাঁর প্রতিটি পারফরম্যান্সে থাকে এক নতুন চমক—যা দর্শকদের কৌতূহল ধরে রাখে।

শুধু গান নির্বাচন নয়, তাঁর পারফরম্যান্স স্টাইলেও রয়েছে ক্রমাগত বিবর্তন। আগে যেখানে একজন গায়ক মূলত মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে গান গাইতেন, এখনকার লাইভ শো অনেক বেশি ইন্টারঅ্যাকটিভ। সোনু নিগম এই পরিবর্তনকে খুব সহজে গ্রহণ করেছেন। তিনি মঞ্চে হাঁটেন, দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের অনুরোধে গান গেয়ে ওঠেন, কখনও আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেন, কখনও আবার পুরো পরিবেশকে উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তোলেন। এই গতিশীলতা তাঁর শো-কে করে তোলে জীবন্ত এবং স্মরণীয়।

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও তাঁর জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ। বর্তমান সময়ের তরুণ শ্রোতারা দ্রুত পরিবর্তনশীল কনটেন্ট পছন্দ করেন। তারা বৈচিত্র্য চায়, নতুনত্ব চায়। সোনু নিগম সেই চাহিদা বুঝতে পেরেছেন এবং নিজের সংগীতে সেই উপাদানগুলো যুক্ত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া, লাইভ ভিডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—সব জায়গাতেই তিনি নিজের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। ফলে তরুণ প্রজন্মও তাঁকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করতে পেরেছে।

অন্যদিকে, পুরনো শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর। তাঁর গলায় যে নস্টালজিয়া, যে আবেগ, তা বহু মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। প্রেম, বিচ্ছেদ, আনন্দ, বেদনা—জীবনের নানা মুহূর্তে তাঁর গান সঙ্গী হয়েছে অসংখ্য মানুষের। তাই বয়স বাড়লেও তাঁর প্রতি সেই টান একটুও কমেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আবেগ আরও গভীর হয়েছে।

সবশেষে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিজের স্টাইল, গান নির্বাচন, এমনকি পারফরম্যান্সের ধরনও বদলান। ফলে তিনি কখনও একঘেয়ে হয়ে ওঠেন না। নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়, আবার পুরনো শ্রোতাদের কাছেও প্রিয়।

এই সবকিছুর সমন্বয়েই ৫২ বছর বয়সেও সোনু নিগম শুধু একজন গায়ক নন—তিনি এক অভিজ্ঞতা, এক আবেগ, এক অনুপ্রেরণা।

উপসংহার

সোনু নিগম প্রমাণ করে দিয়েছেন, বয়স শুধুই একটি সংখ্যা। সঠিক জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক ভারসাম্য থাকলে যেকোনও বয়সেই নিজের সেরাটা দেওয়া সম্ভব।

তাঁর ফিটনেস রুটিন শুধু শিল্পীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণা। সুস্থ থাকতে চাইলে শরীর ও মনের যত্ন—দুটোই সমান জরুরি।

মঞ্চে তাঁর কণ্ঠ যখন ভেসে ওঠে, তখন বোঝা যায়—এটা শুধু প্রতিভা নয়, এর পেছনে আছে বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা এক শক্ত ভিত।

Preview image