রক্ষিত শেট্টীর হাত ধরেই নাকি সিনেদুনিয়ায় পা রাখেন রশ্মিকা তবে সেই সম্পর্কই কেন ভেঙে যায় কী কারণে প্রথম বিয়ের আগেই আলাদা হয়ে যান তাঁরা ঘিরে জল্পনা
দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগৎ থেকে বলিউড— একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠেছেন রশ্মিকা মন্দানা। আজ তিনি শুধুমাত্র দক্ষিণের নন, সর্বভারতীয় এক জনপ্রিয় মুখ। কিন্তু ক্যারিয়ারের এই উজ্জ্বল আলোয় পৌঁছনোর পথে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ছিল একাধিক বাঁক, আবেগের ওঠানামা এবং কঠিন সিদ্ধান্ত। তার মধ্যেই অন্যতম আলোচিত অধ্যায়— অভিনেতা রক্ষিত শেট্টীর সঙ্গে তাঁর বাগ্দান ও সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনা।
বর্তমানে আবার নতুন করে শিরোনামে রশ্মিকা। কারণ, দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে তাঁর বিয়ে নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে রাজকীয় অনুষ্ঠানে বিয়ে করতে পারেন এই তারকাযুগল। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা আসেনি। তবে এই জল্পনার আবহে ফের ফিরে আসছে রশ্মিকার প্রথম বাগ্দান ভাঙার প্রসঙ্গ— কী কারণে ভেঙে গিয়েছিল সেই সম্পর্ক?
২০১৬ সাল। কন্নড় ছবির জগতে আলোড়ন তোলে এক ছবি— ‘কিরিক পার্টি’। এই ছবির মাধ্যমেই রশ্মিকা মন্দানার অভিনয়জগতে পা রাখা। ছবিটি শুধু বক্স অফিসেই সাফল্য পায়নি, তৈরি করে দিয়েছিল নতুন প্রজন্মের এক ঝাঁক তারকা। এই ছবির প্রযোজক ছিলেন রক্ষিত শেট্টী— যিনি নিজেও দক্ষিণী ছবির একজন পরিচিত অভিনেতা ও নির্মাতা।
ছবির সেটেই ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে রশ্মিকা ও রক্ষিতের। বয়সের ফারাক থাকলেও (রশ্মিকার বয়স তখন মাত্র ২০, রক্ষিতের ৩৩) তা তাঁদের সম্পর্কে কখনও অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। কাজের সূত্রে আলাপ, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, আর তারপরেই প্রেম— সব কিছুই এগিয়েছিল স্বাভাবিক ছন্দে।
২০১৭ সালে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন রশ্মিকা ও রক্ষিত। দুই পরিবারের উপস্থিতিতে হয় বাগ্দান। সেই অনুষ্ঠান ছিল রীতিমতো জমকালো। প্রায় আড়াই হাজার অতিথি, কেক কাটা, হাসি-আড্ডা— সব মিলিয়ে যেন দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির এক বড় সামাজিক অনুষ্ঠান।
তখন রশ্মিকার বয়স মাত্র ২১। এত অল্প বয়সে বাগ্দান নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, তিনি নিজে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। বহু সাক্ষাৎকারে পরে রশ্মিকা জানান, তখন তিনি সম্পর্কে স্থিরতা খুঁজছিলেন। রক্ষিতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী ছিলেন।
কিন্তু সুখের সেই ছবি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি থেকেই সম্পর্কে টানাপোড়েনের গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে আসে চূড়ান্ত খবর— রশ্মিকা ও রক্ষিতের বাগ্দান ভেঙে গেছে।
দু’পক্ষের তরফেই জানানো হয়, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব এবং ব্যক্তিগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত। রক্ষিত নিজে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা দু’জনেই আলাদা আলাদা পথে হাঁটতে চাইছি। পরস্পরের জন্য শুভকামনা রইল।”
এই সময়েই রশ্মিকার ক্যারিয়ারে আসে বড় মোড়। ২০১৮ সালে মুক্তি পায় ‘গীত গোবিন্দম্’, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বিজয় দেবরকোন্ডা। ছবির বিপুল সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কাড়ে তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন।
ছবি মুক্তির পর থেকেই শুরু হয় গুঞ্জন— পর্দার বাইরেও নাকি ঘনিষ্ঠ এই জুটি। ঠিক এই সময়েই রশ্মিকার বাগ্দান ভাঙার খবর সামনে আসায়, অনেকে দু’টি ঘটনাকে একসূত্রে গাঁথতে শুরু করেন। শোনা যায়, রশ্মিকা-বিজয়ের ঘনিষ্ঠতাই নাকি রক্ষিতের সঙ্গে দূরত্বের কারণ।
তবে এই বিষয়ে কখনওই সরাসরি মুখ খোলেননি রশ্মিকা, রক্ষিত বা বিজয় কেউই। ফলে বিষয়টি আজও রয়ে গেছে জল্পনার স্তরেই।
বাগ্দান ভাঙার পর রশ্মিকাকে কম কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়নি। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘অবিশ্বস্ত’, ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। কিন্তু এই কঠিন সময়েও রশ্মিকা নিজের কাজেই মন দেন।
পরপর তেলুগু, তামিল এবং পরে হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ‘পুশ্পা’ তাঁকে পৌঁছে দেয় সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, সম্পর্ক ভাঙলেও রশ্মিকা ও রক্ষিত কেউই প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে কোনও তিক্ত মন্তব্য করেননি। বরং একাধিকবার রক্ষিত বলেছেন, রশ্মিকার সাফল্যে তিনি খুশি। এই পরিণত মনোভাবই তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার পরেও সম্মান বজায় রেখেছে।
বর্তমানে রশ্মিকা ও বিজয় দেবরকোন্ডার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে। একই হোটেলে থাকা, ছুটি কাটানো— নানা সূত্রে খবর সামনে এসেছে।
শোনা যাচ্ছে, উদয়পুরের ৪০০ বছরের পুরনো এক প্রাসাদে রাজকীয় বিয়ের পরিকল্পনা চলছে। যদিও এই খবর সত্যি কি না, তা নিয়ে এখনও রহস্য রয়ে গেছে।
রশ্মিকা মন্দানার জীবনের গল্প শুধুই প্রেম বা বিয়ে নয়। এটি একজন তরুণীর বেড়ে ওঠার গল্প— যেখানে ভুল আছে, শিক্ষা আছে, আবার নতুন করে শুরু করার সাহসও আছে। রক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা ছিল তাঁর জীবনের এক কঠিন অধ্যায়। কিন্তু সেই অধ্যায় পেরিয়েই আজ তিনি দাঁড়িয়ে এক নতুন সম্ভাবনার মুখোমুখি।
বিজয়ের সঙ্গে বিয়ে হোক বা না হোক— রশ্মিকা মন্দানা আজ নিজের শর্তে নিজের জীবন বাঁচতে জানেন। আর সেটাই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
বাগ্দান ভাঙার পর রশ্মিকা মন্দানার জীবনে নেমে আসে কঠিন এক সময়। আলোঝলমলে ক্যামেরার বাইরে তখন তাঁকে মোকাবিলা করতে হচ্ছিল কটাক্ষ, প্রশ্ন আর সন্দেহের দৃষ্টি। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ঘিরে শুরু হয় নানা রকম মন্তব্য। ‘অবিশ্বস্ত’, ‘সুযোগসন্ধানী’— এই ধরনের শব্দও ছুড়ে দেওয়া হয় তাঁর দিকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাঙার দায় যেন একাই বইতে হচ্ছিল তাঁকে। অথচ সেই সময় কোনও ব্যাখ্যা দিতে বা পাল্টা জবাব দিতে দেখা যায়নি রশ্মিকাকে। নীরব থেকেছেন, নিজের মতো করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।
এই চাপের মধ্যেই রশ্মিকা বেছে নেন কাজকে আঁকড়ে ধরার পথ। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনকে তিনি কখনওই ক্যারিয়ারের পথে বাধা হতে দেননি। বরং একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে নিজের জায়গা আরও পোক্ত করেছেন। তেলুগু এবং তামিল ছবিতে তাঁর উপস্থিতি ক্রমেই নজর কাড়ে। দর্শক যেমন তাঁকে গ্রহণ করেন, তেমনই নির্মাতাদের কাছেও ভরসার নাম হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর হিন্দি ছবিতে পা রেখে সর্বভারতীয় পরিচিতি তৈরি করেন রশ্মিকা।
এই উত্থানের অন্যতম বড় মাইলফলক হয়ে ওঠে ‘পুশ্পা’। ছবির সাফল্য শুধুমাত্র বক্স অফিসে সীমাবদ্ধ ছিল না, রশ্মিকাকে পৌঁছে দেয় দেশের প্রতিটি প্রান্তের দর্শকের কাছে। একসময় যাঁকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনিই হয়ে ওঠেন জাতীয় স্তরের তারকা। সমালোচনার জায়গায় জায়গা নেয় প্রশংসা। সময় যেন ধীরে ধীরে তাঁর জবাব নিজেই দিয়ে দেয়।
রক্ষিত শেট্টীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর তাঁদের বর্তমান সমীকরণ নিয়েও কৌতূহল কম নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্পর্ক শেষ হলেও দু’জনের কেউই প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে তিক্ততা ছড়াননি। কোনও অভিযোগ, কোনও আক্রমণ— কিছুই শোনা যায়নি। বরং একাধিক সাক্ষাৎকারে রক্ষিত শেট্টী স্পষ্টভাবে বলেছেন, রশ্মিকার সাফল্যে তিনি খুশি। তাঁর মতে, প্রত্যেকের জীবনেই আলাদা আলাদা পথ থাকে, আর সেই পথে এগিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিণত মনোভাবই তাঁদের সম্পর্কের শেষ অধ্যায়টিকে মর্যাদার সঙ্গে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে রশ্মিকার সম্পর্ক। ‘গীত গোবিন্দম্’ ছবির পর থেকেই তাঁদের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হতে শুরু করে। পর্দার রসায়ন বাস্তব জীবনেও কি ছড়িয়ে পড়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর আজও স্পষ্ট নয়। তবে একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়া, একই জায়গায় ছুটি কাটানোর খবর— সব মিলিয়ে জল্পনা যে দানা বাঁধবে, তা অস্বাভাবিক নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে বিয়ের খবরে। শোনা যাচ্ছে, রাজস্থানের উদয়পুরে ৪০০ বছরের পুরনো এক প্রাসাদে নাকি রাজকীয় বিয়ের পরিকল্পনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। রশ্মিকা বা বিজয়— কেউই প্রকাশ্যে এই খবরের সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। ফলে রহস্য থেকেই যাচ্ছে এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট— রশ্মিকা মন্দানার জীবনের গল্প শুধুই প্রেম বা বিয়েকে ঘিরে আবর্তিত নয়। এটি একজন তরুণীর বেড়ে ওঠার গল্প, যেখানে ভুল আছে, ভাঙন আছে, আবার সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিও আছে। অল্প বয়সে নেওয়া সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা এবং তারপর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার লড়াই— সব মিলিয়ে তাঁর জীবন এক পরিণত অভিজ্ঞতার দলিল।
রক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা ছিল নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের এক কঠিন অধ্যায়। কিন্তু সেই অধ্যায়ই তাঁকে শিখিয়েছে আত্মনির্ভরতা, ধৈর্য এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে। আজ তিনি দাঁড়িয়ে এক নতুন সম্ভাবনার মুখোমুখি— পেশাগত সাফল্যে আত্মবিশ্বাসী, ব্যক্তিগত জীবনে আরও সচেতন।
বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে বিয়ে হোক বা না হোক, রশ্মিকা মন্দানা আজ নিজের শর্তেই নিজের জীবন বাঁচতে জানেন। আর সেই আত্মসম্মানবোধ, সেই স্বাধীনতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে অন্য অনেকের থেকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রমাণ করেছেন— কোনও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া শেষ নয়, বরং কখনও কখনও সেটাই নতুন করে শুরু করার সবচেয়ে বড় প্রেরণা হয়ে ওঠে