Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর গুজব ভুয়ো; হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা স্থিতিশীল

ধর্মেন্দ্রকে মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে আইসিইউতে এবং ভেন্টিলেশনে রয়েছেন।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিনেতার অবস্থা স্থিতিশীল এবং গুজব এড়িয়ে চলার আহ্বান।ভক্তরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন; ডিসেম্বরেই পূর্ণ করবেন ৯০ বছর।

 

গত মঙ্গলবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিরাট গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। মুহূর্তেই এই খবর ভাইরাল হয় এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত বইতে শুরু করে। টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষ শেয়ার করতে থাকে যে "ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন।" তবে এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই গুজব উড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অভিনেতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আশ্বাস দেওয়া হয়।

ধর্মেন্দ্রের কন্যা এষা দেওল নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, “গুজব ছড়াবেন না। বাবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আমাদের পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন এবং বাবার দ্রুত আরোগ্য কামনা করুন।” এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি ভক্ত এবং মিডিয়াকে অনুরোধ করেছেন গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য।

জানা গিয়েছে, ধর্মেন্দ্রকে বর্তমানে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আইসিইউতে রয়েছেন এবং আপাতত ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যদিও তিনি আইসিইউতে আছেন, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এই খবর ভক্তদের জন্য একটি স্বস্তির বার্তা।

হলিউড বা বলিউডের যেকোনো বড় তারকা যখন হাসপাতালভর্তি হন, তখন গুজব ছড়ানো স্বাভাবিক হলেও, ধর্মেন্দ্রের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে তীব্রভাবে দেখা গেছে। অভিনেতা বয়সে এখন প্রায় ৯০-এ পা দিয়েছেন। ডিসেম্বরেই তিনি এই বিরাট জন্মদিন উদযাপন করবেন। বয়স যথেষ্ট হলেও কাজের প্রতি তাঁর আবেগ ও উৎসাহ অটুট। সাম্প্রতিককালে তিনি ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং দর্শকদের মন জয় করেছেন। এমন একটি অবস্থায় তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছিল, তা একদিকে ভক্তদের ভালোবাসারই প্রতিফলন।

অভিনেতার স্ত্রী হেমা মালিনীও সাম্প্রতিক সময়ের একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ধরমজির স্বাস্থ্যের দিকে চিকিৎসকেরা কড়া নজর রাখছেন। আমরা সবাই তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।” হেমা মালিনীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, পরিবার পুরোপুরি সক্রিয়ভাবে তাঁর চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছেন।

সানি দেওলের টিম থেকেও একই ধরনের আশ্বাস পাওয়া গেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিনেতার অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল এবং চিকিৎসকরা পরিস্থিতি মনিটর করছেন। এই ধরনের তথ্য ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ধর্মেন্দ্র শুধু বলিউডের একজন কিংবদন্তি নন, বরং তাঁকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে দেখা হয়। ১৯৬০-৭০ দশকে তিনি বলিউডে তার অনন্য স্টাইল এবং অভিনয় দক্ষতার জন্য পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। ‘ধরম’ ‘চুপকুচু’, ‘সত্যমেব জয়তে’, ‘রাম লক্ষণ’সহ অনেক ছবি তাঁকে সাড়া জাগিয়েছে। ১৯৬৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফিরোজপুরা’র মাধ্যমে তিনি বলিউডে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে দর্শকদের মন জয় করে চলেছেন।

অভিনেতার স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়ানো সাধারণত সোশ্যাল মিডিয়ার একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে তারকা বা প্রখ্যাত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, সামান্য তথ্যের অভাবও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা এটিকে আরও স্পষ্ট করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রকাশিত তথ্য ভক্তদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দিয়েছে।

ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে সুস্থতার কামনা জানাচ্ছেন। #GetWellSoonDharmendra এবং #Dharmendra নামের হ্যাশট্যাগে ভক্তরা ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। অনেক ভক্ত নিজের ছবি বা ভিডিও পোস্ট করছেন যেখানে তারা তাঁর চলচ্চিত্রের মুহূর্তগুলো স্মরণ করছেন। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ধর্মেন্দ্রের জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব আজও কমেনি।

যদিও ধর্মেন্দ্র বয়সে প্রবীণ, তবে তিনি এখনও কর্মব্যস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে, চলচ্চিত্র এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নিয়েছেন। ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ তার সাম্প্রতিক কাজগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বয়স কখনোই তার আবেগ ও কর্মস্পৃহাকে হ্রাস করতে পারেনি।

news image
আরও খবর

অভিনেতার পরিবারও সবসময় তাঁর সুস্থতা এবং নিরাপত্তার দিকে যত্নশীল। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পরেও, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা এবং পরিবারের সাপোর্ট সিস্টেম ভক্তদের জন্য বড় আশা জাগাচ্ছে। এছাড়া, পরিবারের পক্ষ থেকে গুজবের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান ভক্তদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণের উদাহরণ তৈরি করছে।

ধর্মেন্দ্রের অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং পরিবারের সাপোর্টের কারণে, গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ভক্ত লিখেছেন যে, তারা ধর্মেন্দ্রকে সুস্থ দেখতে চাইছেন এবং তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করছেন।

বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা মনিটর করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে কারণ এটি তার শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয়। তবে চিকিৎসকেরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

ধর্মেন্দ্রের ৯০তম জন্মদিনও আর বেশি দূরে নেই। ভক্তরা আশা করছেন যে, জন্মদিনের আগে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবারও সক্রিয় জীবনে ফিরে আসবেন। জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি সবার জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস হবেন, কারণ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বয়স কখনো বাধা নয়, আবেগ এবং প্রেরণা হল মূল চাবিকাঠি।

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মেন্দ্রের জীবন এবং কর্মের প্রতি মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে যে, তিনি শুধুমাত্র একজন অভিনেতা নন, বরং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র। তারকা হিসেবে তাঁর অবদান, চলচ্চিত্রে অভিনয়, এবং ভক্তদের প্রতি আন্তরিকতা আজও সকলের মনে গভীরভাবে বিরাজমান।

শেষ পর্যন্ত, ধর্মেন্দ্রের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে ভুয়ো গুজব ছড়ানো হয়েছিল, তা পরিবারের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং হাসপাতালের নিশ্চিত তথ্যের মাধ্যমে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। ভক্তরা তাঁকে সুস্থতা কামনা করছেন এবং তাঁর দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ জীবন প্রত্যাশা করছেন।

ধর্মেন্দ্রের জীবন ও কর্ম আমাদের শিখিয়েছে যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নামকরা তারকাদের প্রতিভা এবং শ্রমই তাঁদের স্থায়ী পরিচয় গড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব যত দ্রুত ছড়ায়, সত্য তথ্যও তত দ্রুত আসছে। ধর্মেন্দ্রের জন্য শুভকামনা জানানো এখন শুধু ভক্তদের নয়, সমগ্র চলচ্চিত্র প্রেমিক সমাজের একটি দায়িত্ব।

এই মুহূর্তে সমস্ত দৃষ্টি এবং প্রার্থনা ধর্মেন্দ্রের সুস্থতা এবং দ্রুত আরোগ্যের দিকে কেন্দ্রীভূত। ৯০ বছরে পা রাখতে চলা এই কিংবদন্তি অভিনেতা আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, বয়স কখনোই উৎসাহ, আবেগ বা কাজের প্রতি ভালোবাসা বন্ধ করতে পারে না।

ধর্মেন্দ্র সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন—এই প্রত্যাশা আর প্রার্থনা ভক্তদের মনে অবিচল। গুজবের যুগেও, সত্য তথ্য এবং পরিবারের সাপোর্ট ভক্তদের মধ্যে শিথিলতা এবং শান্তি নিয়ে আসে। আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই ধর্মেন্দ্র আবারও দর্শকদের সামনে উপস্থিত হবেন এবং তার অনন্য উপস্থিতি ও অভিনয় দিয়ে সবাইকে আনন্দিত করবেন।

Preview image